Powered By Blogger

Friday, January 31, 2014

একেই বলে বীরত্ব! একেই বলে ত্যাগ!




আইসিসি ট্রফি জেতার পড়ে প্রাইম মিনিস্টার সবাইকে একটা করে জমি আর একটা করে গাড়ি গিফট করছিলো। একজন ক্রিকেটার জমিটা দিয়ে দিছিলো এলাকায় স্কুলের জন্যে আর গাড়িটা বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে স্কুল ঘর তুলে দিছিলো। ব্যাপারটা আমাদের মিডিয়াতে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায়নি। অল্প কয়েকটা পেপারে ছাপা হইছিলো। সেই ক্রিকেটার বলছিলো- ভাই আমি তো পড়া লেখা কিছু শিখিনাই। খুব গরীব ঘরের ছেলে। আমার মহল্লার ছেলে মেয়েরা যেন পড়াশুনাটা শিখে। সেই ক্রিকেটারের নাম মোহাম্মদ রফিক।

সেলাম! মোহাম্মদ রফিক তোমায় সেলাম! একেই বলে বীরত্ব! একেই বলে ত্যাগ! প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল The greatest phenomenon of the world Sri Sri Thakur Anukul Chandra-এর কথা, "কথায় আছে "বীরভোগ্যা বসুন্ধরা" ! তা' ঠিক, বিশ্বাস, নির্ভরতা আর আত্মত্যাগ এই তিনটিই বীরত্বের লক্ষণ।" ঠাকুরের কথা অনুযায়ী একজন গরীব ঘরের ছেলে সম্পদ পেয়েও তা'তে অভিভূত না 'য়েও তা' হাত থেকে ছেড়ে দিল তাঁর অতীতকে স্মরণ 'রে। গরীব ঘরের ছেলের পক্ষেই বোধহয় এটা সম্ভব যদি সে অতীত বিস্মৃত না হয়। কারণ ঠাকুরের "বীরভোগ্যা বসুন্ধরা"- তিনটি মন্ত্রের ওপর দাড়িয়েই তাঁর আজকের এই উত্থান। এই তিনটি মন্ত্রের ওপর দাড়িয়েই তাঁর এই ত্যাগ। এই তিনটি মন্ত্র ' এক, নিজের কর্মের ওপর, নিজের শক্তির ওপর "বিশ্বাস নির্ভরতা" এবং দুই দেশের জন্য, দেশের গরীব মানুষের জন্য "আত্মত্যাগ" তাঁকে সত্যিকারের দেশের রত্ন 'রে তুলেছে। তাঁর নিজের পরিশ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে, আত্মবিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে সে আজ যা' অর্জন করেছে, দেশ দেশের মানুষ আজ তাঁকে যা' দিয়েছে, যে অর্থ, যে মান, যে যশ তাঁকে দিয়েছে তা' সে ফিরিয়ে দিয়েছে দেশকে, দেশের মানুষকে!!! সেলাম রফিক তোমায় সেলাম!! এপার বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের পক্ষ থেকে তোমায় জানাই সেলাম!! তুমি বাংলা তথা বাঙ্গালীর মাথা উচু করে দিলে। শেখালে পরের জন্য, দেশের জন্য বেঁচে থাকাটাই জীবন! তুমি শ্রী শ্রী ঠাকুরের বলা "বীরভোগ্যা বসুন্ধরা" ব্যখ্যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত! তুমি বাংলাদেশের রত্ন! তোমায় সরকারিভাবে প্রকৃতপক্ষে দেশের পক্ষ থেকে "বাংলাদেশ রত্ন" দান করা উচিত। যাতে আগামীতে অন্য সকলের এই কাজে এগিয়ে আসার প্রেরণা হয়ে থাকো তুমি। যাই হোক সরকারী ভাবে না'হোক বেসরকারি ভাবে "বাংলাদেশ রত্ন" 'য়ে গেছ তুমি। কারণ তোমার এই আত্মত্যাগ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দিক থেকে দিগন্তে! আজকের এই তীব্র ভোগবাদের যুগে তোমার এই ত্যাগ আবার আমাকে Living Supreme Being শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র-এর আর একটা কথাকে মনে করিয়ে দিল। ঠাকুর ত্যাগ সম্পর্কে বলেছেন, "ভোগের বস্তু নিকটে রাখিয়া ত্যাগের নামই ত্যাগ" 
সত্যি বাণিটা আজ জীবন্ত 'য়ে ধরা দিল আমাদের কাছে, মানুষের কাছে, শ্রীশ্রীঠাকুরের তামাম ভক্তকুলের কাছে। বাণী কিভাবে জীবন্ত হয় তা' প্রমাণ 'রে দিলে তুমি। প্রমাণ করে দিলে তুমি গরীব 'য়েও ভোগের বস্তু হাতে আসার পর তাকে নিজের ভোগের জন্য না রেখে কিভাবে তুলে দিতে হয় অন্যের হাতে। এর জন্য যে হিম্মতের প্রয়োজন হয় তা' ' বীরত্ব! আর এই বীরত্বই তোমাকে আজ সত্যিকারের 'বাংলার বাঘে' পরিণত করল!!! তুমিই দেশের প্রকৃত রত্ন, প্রকৃত বাঘ!!! বাকি সব করে রব 'য়ে কাঁচের গুলি। তোমায় সেলাম, আবার, বারবার সেলাম!!!!!!!




Thursday, January 30, 2014

২৩শে জানুয়ারী' ১৮৯৭, ভারতের স্বপ্নের জন্মদিন !!!!!!



The individual must die, so that the nation may live.

আজ ২৩শে জানুয়ারি। পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের এক করুণ দুঃখময় আনন্দের দিন! আজকের এই দিনে তুমি এসেছিলে মায়ের কোলে খাঁটি আর্য রক্ত শরীরে নিয়ে আমাদের পরাধীনতার হাত থেকে মুক্তি দেবে বলে। ত্যাগের মধ্যেই ছিল তোমার ভোগের উপকরণ, ছিল আর্য রক্তের শুদ্ধতার পরিচয়! বহুদিন পর গোটা বিশ্ব দেখেছিল আর্য শোণিত ধারার অবদমিত প্রবল পরাক্রম! বিশ্বজুড়ে আর্য রক্তধারা বয়ে যাওয়া পবিত্র শুদ্ধ আত্মাদের এক বলিষ্ট বজ্র নির্ঘোষ কণ্ঠ শুনিয়েছিল, " বল বল বল তোরা সবে বল? কেমন করে হ'লি হতবল? আর্য তোরা রুদ্রবেগে আবার দাঁড়া ঝঞ্ঝা রাগে, রক্তে তোদের প্রলয় নাচন, বুকে ঝড়ের ভীষণ কাঁপন! রদ্ররোষে তপন তেজে বল তোরা বল আর্যের জয়!" শুধু দেবে বলে এসেছিলে আমাদের মত নরাধমদের মাঝে। বিনিময়ে পেলে শুধু বেইমানি, বিশ্বাসঘাতকতা, অপমান, লাঞ্ছনা। যে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য তুমি অর্থ, মান, যশ, সুখ-সমৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠা সমস্ত কিছু অবহেলায় অবলীলায় ছেড়ে স্ব-ইচ্ছায় বেছে নিয়েছিলে কঠিন, দুর্গম, অজানা-অচেনা অন্ধকারময় বিপদ সঙ্কুল ভবিষতের পথ শুধুমাত্র দেশকে, দেশের মানুষকে পরাধীনতার লজ্জা, অপমান, অত্যাচার-এর হাত থেকে চিরদিনের মত মুক্তি দেবে বলে বিনিময়ে সেই দেশ, দেশের মানুষ তোমায় ভুলে গেছে! ভুলে গেছে তোমায় লজ্জা, অপমান, লাঞ্ছনার হাত থেকে মুক্তি দেবার কথা! আজ ৬৬বছর পরেও আমরা তোমার দেশে ফিরতে না পারার ব্যথা, তোমার চোখের জল মুছে দিতে পারিনি! কোথায় তুমি নীরবে নিভৃতে হারিয়ে গেলে! একা একা  তোমার প্রিয় স্বাধীন দেশের আকাশ, ভুমি, আলো আর স্বাধীন মানুষের হাসি-কান্না মেশানো মুখ দেখতে না পারার এক আকাশ কষ্ট-ব্যথা-যন্ত্রণা বুকে নিয়ে কোথায়কাটিয়ে দিলে এতগুলি যন্ত্রণাময় বছর জানি না। জানার জন্য কোন চেষ্টাও করলো না তোমার প্রিয় দেশের প্রিয় মানুষ!!!! স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে স্বাধীনতা ভোগ করার জন্য আমরা তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। তুমি আমাদের ক্ষমা ক'র। আমরা ভারতবাসী কিছু করতে পারিনি, পারিনি বাঙ্গালী হিসাবে তোমায় মাথার মণি ক'রে রাখতে। শুধু এ-কথা বলতে পারি, আবার এস ফিরে, কিন্তু এই বাংলায় নয়, অন্য কোনোখানে অন্য কোনো বেশে!!!!!



এই কি জীবন???




এই কি জীবন???

কুড়িতে বুড়োবুড়ি!!! ছাব্বিসে বনবাসী!!!!!সাতাশে হা-হুতাশ!!!!!তিরিশ বিষ!!!!!! পঞ্চাশ শেষ শ্বাস!!!!!
এই কি জীবন???
জীবনে চলার পথে নানা ঘটনায় মনটা নাড়া খেয়ে যায়। ঘটনার টানাপোড়েনে আমরা derail হ’য়ে পড়ি। আর তার খেসারত দিতে দিতে স্বল্প সময়ের জন্য আসা এই জীবনটা শেষ হ’য়ে যায়। না বলা কথা, না বলা ব্যথা বুকের মাঝেই থেকে যায়। সেই derailed হ’য়ে যাওয়া মনটাকে railed করার চেষ্টায় বা তাগিদে এবং জীবনের অভিজ্ঞতা গুলি share করার জন্য এসো একটু গল্প করি। মনটা ভালো হয়ে যাবে।
মনটা পিং পং বল!!!!!!!! কোথাও নির্দিষ্ট ভাবে থাকে না। এটা সাধনার ব্যাপার!! আমরা সত্যিই কেউ জানি না বা জানার চেষ্টাও করিনা কেন আমাদের মাঝে মাঝে ভালো লাগে না! কাছের মানুষরা কেউ চিরদিন কাছে থাকে না। আবার আজ যে কাছের মানুষ সময়ের চাবুকে সে দুরের মানুষ হয়ে যায়। যে কাছের মানুষ সে বা আমি যেমন জানি না আজ কেন সে কাছের মানুষ ঠিক তেমনি জানি না কেন সে আজ দুরের মানুষ!!! সবটাই Superficial thought-র মত Superficial relation!!! আমাদের জীবন ও জীবনের চারপাশটা সত্যিই এলোমেলো আর এলোমেলো বলেই তার প্রতিফলন মনের গভীরে প্রতিফলিত হয়! আর সেই প্রতিফলনের তীব্রতা এতটাই গভীর ছাপ ফেলে যায় নিজের অজান্তে যে আমরা সেই রঙ্গে রাঙ্গিয়ে যায় আর Identity Crisis-এর শিকার হয়ে পড়ি! তাই ফেসবুক ছেড়ে যারা চলে যাবার কথা বলে বা চলে যায় তারা কোথায় চলে যাবে! একবারই তো আসা আর একবারই তো যাওয়া! আর এর মাঝে তো শুধু কলুর বলদের মত সংসার ঘানির চারিদিকে ঘোরা আর ঘোরা! তাই না! কাউকে কি ছেড়ে যাওয়া যায়? ছেড়ে যতই যেতে চায়, সে যে ততই আদুরে নরম হাতে আঁকড়ে ধরে, ধরতে চায়! বড় মায়া জাগে! পিছন ফিরে দেখি জুলজুল চোখে সে যে আমায় মায়াবী হাতছানি দেয়! আর তখন বড় আলুনি লাগে!!!!! তুমি কাউকে ছেড়ে যেও না, সে তোমায় সবাই ছেড়ে চলে গেলেও!! তুমি সবার বন্ধু হয়ে থাকো, তা সে সবাই তোমাকে বন্ধু ভাবুক আর না ভাবুক! তুমি কাকে ছেড়ে যাবে!!!! তোমার শরীরের মাঝে যে অন্য তুমি আছো সে তোমায় ছাড়তে চাই না আর তোমার শরীরও তাকে ছাড়তে চাই না যে!!! কি করবে এখন? কখনো ভেবে দেখেছো কি? ঝড় আসবে , তুফান আসবে, আসবে মহাপ্রলয়! তোমাকে অটল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে গাছের মত ঝড়, জল, তুফান, হীমশীতল বাতাস, প্রখর রৌদ্রকিরণ ছটা সহ্য করে! বন্ধু, পারবে না? গাছের দিকে তাকিয়ে দেখো তো! কত কষ্ট সহ্য করে সে! আর তা সহ্য করে আমাদের জন্যই! তাই ছেড়ে যাওয়ার কথা ভুলে যাও। ভুলে যাও কে এল আর না এল, কে কাছে থাকলো আর না থাকলো! শুধু তুমি দূরে চলে যেও না সবার কাছে থেকে। কেউ তোমায় ছেড়ে যাক এটা তুমি যদি না ভালোবাসো, তাহ'লে তুমি ছেড়ে চলে যাবে সবাইকে, এ-কথা কেন ভাবছো!!!! কথাপ্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ে গেল The greatest phenomenon of the world Sri Sri Thakur Anukul chandra-এর বহু ব্যবহৃত একটা কথা------"DO UNTO OTHERS AS YOU WISH TO BE DONE BY" -----...যে কথা তিনি বারবার বলতেন তার প্রিয় মানুষদের! যে কথার বাংলা অনুবাদ করে বলতেন, "অপরের প্রতি কর সে আচরণ, নিজে যাহা পেতে তুমি কর আকিঞ্চন।"  তাই বলি থেকে যাও, কিছুদিনের জন্য নয়, সারাজীবনের জন্য সবার মাঝে! পালিয়ে গিয়ে বাঁচা যায় নাকি! আর কার জন্য পালাবে? এই লুকোচুরির খেলা খেলতে খেলতে একদিন হাঁপিয়ে উঠবে আর সেদিন দেখবে জীবনে সব থেকেও কিছু নেই। শুধু ভাবো তুমি কেন এসেছো? কেন এসেছো এই ধরাধামে? কান পেতে শোনো, মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ভেসে আসছে, ভেসে আসছে কি সঙ্গীত! তমসার পার অচ্ছেদ্য বর্ণ মহাণ পুরুষ ইষ্টপ্রতিক রুপে বারবার আবির্ভুত হ’য়ে তোমায় বলছে, “I have come to fulfill, not to destroy! Don’t worry about everything around you. That’s my job! Love HIM” কান পেতে শোনো, বলছেঃ তুমি কেন জন্মেছ, মোটাভাবেও কি দেখেছো? থাকাটাকে কি উপভোগ করতে নয়----চাহিদা ও কর্মের ভিতর দিয়ে......পারস্পরিক সহবাসে...... প্রত্যেক রকমে? ঠিক তেমনি বুঝছো না, ভগবান কেন সৃষ্টি করেছেন? উত্তর কি এখন? নিজেকে অনুভব করতে......বিশ্বে প্রত্যেক অনুপাতে, দেওয়ায়, নেওয়ায়, আলিঙ্গনে, গ্রহণে, কর্ম্ম বৈচিত্রে! নয় কি?” তাই যখনই মনে হবে “আমি নেই, আমি নেই, ব্যাথায় ব্যাথায় মন ভরে যায়" তখনই জোর করে গভীর অবসাদের তলদেশ থেকে ভেসে ওঠ, ভেসে উঠে বল "আদি নেই, অন্ত নেই! তুমি আর আমি! প্রশ্ন নেই, উত্তর নেই; শুধু তুমি আর আমি!” আনন্দধারা বহিছে ভুবনে, আমি আছি, আমি আছি, আছি সবার মাঝে! আনন্দে আনন্দে মন ভরে যায়!