Powered By Blogger

Monday, September 30, 2024

আমার সোনামা আর সোনাবাবা।



আমার সোনামা আর সোনাবাবার মিষ্টি মধুর ছবি দ্যাখো।
এমন মধুর ভালোবাসার সম্পর্ক আর কোথায় গেলে পাবো!?
এখানেতেই আছে স্বর্গ এখানেতেই যাবো।
এখানেতেই জ্বলে আলো এখানেতেই শ্বাস
দয়াল প্রভু করে আমার এদের মাঝেই বাস
এ আমার গভীর বিশ্বাস।
প্রবি।


Monday, September 23, 2024

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরঃ

কয়েকজন অজানা ছদ্মনামধারী ও নাম-পরিচয় ও ছবিহীন মানুষ আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন! তাদের করা প্রশ্নগুলি পড়লাম। প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার আগে তাদের কয়েকটা প্রশ্ন করে নিয়ে তারপরে প্রশ্নগুলির উত্তর দেবো।

হে ছদ্মনামধারী! হে নাম-পরিচয় ও ছবিহীন জীব!

আপনি কে? আপনারা কারা? আপনাদের কারও অদ্ভুত নাম, কারও বা নাম আছে অথচ ছবি নেই এইরকম অদ্ভুত কিছু মানুষ আমার সঙ্গে কথা বলছেন!? আপনার/ আপনাদের পরিচয় কি!? বিনা পরিচিত রহস্যময় আনজান কারও সঙ্গে কোনও ভদ্রলোক কথা বলে!? না বলবে!? নাম লুকিয়ে কথা বলছেন কেন!? আপনি/আপনারা কে তা না আপনার/আপনাদের ছবি আছে, না নাম আছে; কোনও কিছু দিয়েই আপনাকে/আপনাদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না! তা কিসের ভয়ে মুখ লুকিয়ে, নাম লুকিয়ে সত্য রক্ষার লড়াইয়ে নেবেছেন!? কিসের ভয়ে নাম উহ্য রেখে একটা অদ্ভুত হাস্যকর বিকৃত নাম ব্যবহার করে শ্রীশ্রীঠাকুরকে অবিকৃত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন আমাকে!? আপনারা যারা মূল কেন্দ্র বিরোধী লড়াইয়ে নেবেছেন, আপনারা যারা শ্রীশ্রীবড়দাকে, শ্রীশ্রীবড়দা পরিবারকে কলঙ্কিত করার মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, আপনারা যারা মানুষ নামের কলঙ্ক একশ্রেণীর অদিক্ষিতদের মাঝে ঠাকুরকে কলঙ্কিত করার জন্য ঘৃণ্য, নোংরা, অশ্লীল শব্দাবলীর হাতিয়ার তুলে দিচ্ছেন, ঠাকুরকে ও ঠাকুরের জীবন দর্শনকে, ঠাকুরের মিশনকে বলাৎকার করার জন্য তাদের জন্য ফুলের বিছানা বিছিয়ে দিয়েছেন ও দিচ্ছেন আপনাদের পূর্বপুরুষদের হাত ধ'রে ৫০বছর ধ'রে ঠাকুরের দেহ রাখার কিছুদিন আগে থেকে ও দেহ রাখার অব্যবহৃত পরে পরেই আর ফেসবুককে করেছেন এর জন্য হাতিয়ার তা সেই আপনারা শ্রীশ্রীঠাকুরকে অবিকৃত রাখার লড়াইয়ে নামা বীরপুঙ্গবরা নারীপুরুষ সবাই মুখ লুকিয়ে রাখেন কেন!? কিসের ভয়ে এমন করেন!? কি সেই দুঃস্বপ্ন যার জন্য আপনারা সবাই এমন আচরণ করেন!? এটা কি আপনাদের পথপ্রদর্শকদের নির্দেশ, স্ট্র্যাটেজি!? এই স্ট্র্যাটেজি, এই নির্দেশ কার বা কাদের!? আপনাদের পথপ্রদর্শক শ্রদ্ধেয় দাদারা নাকি তাদের পরবর্তী শ্রদ্ধেয় বংশধরদের!? তাঁরা কি আদৌ জানেন আপনাদের এই কুকর্ম, কুকীর্তি!? তাঁদের চোখে কি পড়ে এই পাপ প্রবৃত্তি, ঘৃণ্য পদক্ষেপ!?

এর পরে আপনার/আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেবো। একটু অপেক্ষা করুন।
ক্রমশ:
( ২৩শে সেপ্টেম্বর'২০১৯)

Sunday, September 22, 2024

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর:

প্রশ্ন ৭) জানা, লেখনী শক্তি ও সত্য!

আমাকে প্রশ্নকর্তারা লিখেছেন, "আমি কত জানি! প্রবল লেখনী শক্তি! অথচ প্রকৃত সত্য স্বীকার করতে পারছি না।"
এর উত্তরে তাদের জানাই যে, আপনি/আপনারা আমার জানা নিয়ে ব্যঙ্গ করতে পারেন, প্রবল লেখনী শক্তিকে হিংসা করতে পারেন কিন্তু প্রকৃত সত্যের কথা স্বীকার করার কথা বলেছেন সেই প্রশ্ন আপনাদেরও আমি করছি,
১) আপনি/আপনারা প্রকৃত সত্য জানেন?


২) কত সালে আপনার/ আপনাদের জন্ম হ'য়েছিল?


৩) জন্মাবার পর কত সালে কত বছর বয়সে আপনাদের দীক্ষা হয়েছিল?


৪) আপনারা ঠাকুরকে দেখেছেন?


৫) আপনারা শ্রীশ্রীবড়দাকে দেখেছেন?


৬) আপনারা শ্রীশ্রীকাজল দাদাকে দেখেছেন?


৭) শ্রীশ্রীকাজল দাদার সঙ্গে কথা বলেছেন কখনো?


৮) আপনি/আপনারা কি জানেন শ্রীশ্রীঠাকুর দেহ রাখার পর কে বা কারা শ্রীশ্রীবড়দার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যে ও অপরিপক্ক অদূরদর্শী দৃষ্টি নিয়ে অভিযোগের লিফলেট ছেপে বিলি করেছিল?


৯) কি ছিল সেই লিফলেটে তা কি আপনি/আপনারা জানেন?


১০) আপনারা আদৌ কি জানেন শ্রীশ্রীবড়দার বিরুদ্ধে অন্যায় লিফলেট ছেপে বিলি হয়েছিল সৎসঙ্গ জগতে সৎসঙ্গীদের কাছে?


১১) সৎসঙ্গ জগতে এমন কাজ ঠাকুর কোনোদিন কল্পনাতেও ভেবেছিলেন?


১২) প্রকাশ্যে পরম প্রেমময়ের পতাকার তলায় এমন ঘৃণ্য কাজ, ঠাকুরের অপছন্দ যা সেই পদক্ষেপ গ্রহণের বিরুদ্ধে শ্রীশ্রীবড়দা কি কোনও ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ কোনও পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?
তারা কবিগুরুর কথা টেনে এনেছেন! লিখেছেন সত্য স্বীকার করার জন্য চাই সাহস ও অনাসক্তি।


আমার প্রশ্ন তাদের:
১) কবিগুরুর কথামত আপনার/আপনাদের আছে তো প্রকৃত সত্যকে জানার ও স্বীকার করার মত সাহস ও অনাসক্তি?
২) মিথ্যেকে সত্য ব'লে জেনে প্রকৃত সত্য থেকে এতদিন বঞ্চিত হননি তো?


৩) প্রকৃত সত্য জানার পর মাথা ঠিক রাখতে পারবেন তো? অন্যদের মত পাগল হ'য়ে যাবেন নাতো?
এর থেকে না জানাই ভালো। আপনারা যা জানেন তাই-ই নিয়েই থাকুন! সুখে থাকুন, ভালো থাকুন! অহেতুক চুলকে ঘা করবেন না! বরং নিজের বিবেকের আয়নায় দেখুন সাহস ও অনাসক্তি কোনটা আপনাদের আছে! নইলে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে! আর যে বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে ঠাকুর আত্মজদের বিরুদ্ধে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে অন্যের মুখে ঝাল খেয়ে বিরোধীতার পাপ কাজ করেছেন সেই বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হ'য়ে গিয়ে মস্তিস্ক বিকৃতি ঘটতে পারে! সাধু সাবধান! ইচ্ছে করলেই ঠাকুর বাড়ি তা করতে পারতো! সেই শিক্ষা শ্রীশ্রীবড়দা দেননি, দেন না আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদা, কোটিকোটি সৎসঙ্গীদের প্রেরণাদাতা শ্রীশ্রীবাবাইদাদা, লক্ষ লক্ষ ইয়ং জেনারেশনের আইডল শ্রীশ্রীঅবিনদাদা ও অন্যান্য পূজনীয় দাদারা!
ক্রমশ:
এরপরে পরবর্তী প্রশ্ন।
( লেখা ২৩শে সেপ্টেম্বর'২০১৯)

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর:

প্রশ্ন: ৮) সত্য স্বীকার ও গ্রহণ এবং তার পরিণতি!

এই অদ্ভুত বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন ছদ্মনামধারী, ছবিহীন ভিনগ্রহের জীবের মত প্রাণীরা আমাকে লিখেছেন, তাদের সত্যকে যদি স্বীকার করি, স্বীকার ক'রে নিয়ে ঠাকুরের নির্দেশ মত প্রার্থনা, ইষ্টভৃতি আর শুধুমাত্র ঠাকুরকে আচার্য হিসেবে বিবেচনা করি তাহ'লে ঠাকুর বাড়ির আশ্রয় ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবো আর্থিক দৈন্যতার শিকার হবো যেমন নাকি ঘটেছে বহু মানুষের জীবনে!
তাদের কাছে আমার প্রশ্ন:

১) কোন সত্যের কথা বলছেন? সমুদ্রের বালুচরের উপর গড়ে ওঠা সত্য?
২) সমুদ্রের বালুচরের উপরে গড়ে ওঠা সত্যের উপর দাঁড়িয়ে কি পার্মানেন্টলি কিছু গড়া যায়? বাস্তব কি বলে? আপনারা গড়তে পেরেছেন না পারছেন? বালি দিয়ে তৈরি ঘর প্রকৃতির নিয়মে সমুদ্রের জলে গলে গিয়ে সমুদ্রে মিশে যাবে না তো? এ সমুদ্র মানুষের সমুদ্র কিন্তু! দেখেছেন মানুষের সমুদ্র!? চোখ মেলে দেখুন! ঠাকুরের কথামতো পদ্মার ভাঙনের মত ধীরে ধীরে গোটা পৃথিবী সৎসঙ্গের পেটের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে! দেখার চোখ আছে? মিথ্যাচারে অবসেসড হ'য়ে নেই তো!!!!!!
৩) কারা কারা ঠাকুর বাড়ির আশ্রয় ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হ'য়েছেন আর কারা আর্থিক দৈন্যতার শিকার হয়েছেন তাদের নামগুলো বলবেন?
৪) আজ শৈশব থেকে এই প্রৌঢ়ত্বের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ঠাকুরবাড়ির আশ্রয় ও ভালোবাসার যে রূপ দেখেছি সেই রূপ কি আপনারা দেখেছেন?
৫) কুয়োর ব্যাঙের মত কুয়োয় থেকে অন্তহীন আকাশের পরিমাপ করতে এসেছেন?
৬) কোন আর্থিক দৈন্যতার শিকার হবার কথা আমায় বলছেন?

৭) ঠাকুরবাড়ি আমার ও আমার সংসারের আর্থিক দায় নিয়েছেন এই বালখিল্য খবর আপনাদের কে দিল?

৮) কোন প্রার্থনা, ইষ্টভৃতি ও আচার্যের কথা বলছেন? আপনারা যে প্রার্থনার কথা বলেন সেই প্রার্থনা করতে কেউ বারণ করেছে নাকি আপনাদের? ইষ্টভৃতির মন্ত্র আপনাদের মনের অভিভূত অবস্থাকে ত্রাণ করতে পেরেছে কি ৫০বছরে? আচার্য কথার মানে জানেন? 'আচার্য'-এই বিষয়ের উপর বাছা বাছা বাণী যেগুলি আপনাদের বৃত্তি-প্রবৃত্তির সঙ্গে খাপ খায় সেই কয়েকটি ছাড়া বাকি বাণী পড়েছেন?

৯) আপনারা আপনাদের সত্যকে স্বীকার ক'রে নিয়ে ঠাকুরের নির্দেশ মত প্রার্থনা, ইষ্টভৃতি আর ঠাকুরকে শুধুমাত্র আচার্য বিবেচনা ক'রে কতদূর ঠাকুরের মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন সেটা ভেবে দেখেছেন?

১০) ঠাকুরের কোন নির্দেশের কথা বলছেন? কোন নির্দেশ শুধু আপনাদের পথপ্রদর্শকরা জানেন, আপনারা জানেন আর ঠাকুরের আত্মজ পরমপ্রিয় আদরের বড়খোকা, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সৎসঙ্গীদের লক্ষ্য শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে পৌঁছবার সেতু, ঠাকুর পরবর্তী নিশ্চিন্ত নিরাপদ পরম আশ্রয়, ঠাকুর সৃষ্ট 'সৎসঙ্গ'-কে রক্ষা করার এক এবং একমাত্র কঠিন কঠোর বর্ম, ঠাকুরের জীবন্ত চলমান সত্যানুসরণ, প্রানের বড়ভাই ও এ যুগের হনুমান শ্রীশ্রীবড়দা জানতেন না, শ্রীশ্রীদাদা জানেন না, জানেন না শ্রীশ্রীবাবাইদাদা ও ঠাকুরবাড়ির সদস্যরা এমনকি মূল কেন্দ্রের কোটি কোটি প্রায় ৫ কোটি অনুগামী জানেন না!? শুধু আপনারা কুয়োর ব্যাঙের দল জানেন?
তারা শ্রদ্ধেয় বিবেকদা ও কাজলদার কথা লিখেছেন। লিখেছেন, শ্রদ্ধেয় বিবেকদা ও শ্রদ্ধেয় কাজলদা কেউই উনাদের আরাধ্য ও নন, আচার্যও নন!

আমার প্রশ্ন:
১) শ্রীশ্রীঠাকুর ছাড়া আরাধ্য আবার কেউ আছেন নাকি!? থাকলে সে কে!? বোকাবোকা আর মনগড়া বালখিল্য কথা বলেন কেন!? আর ব'লে নিজেকে নিজে মূর্খ আর ছোট প্রমাণ করেন কেন!?

২) 'আচার্য' শব্দে আপনাদের ছোট বড় সকলের এলার্জি আছে! কেন? আর এই এলার্জি ইনফিউরিরিটি কমপ্লেক্স থেকে। আপনাদের বিক্ষুব্ধদের, মূল কেন্দ্র ও শ্রীশ্রীবড়দা বিরোধীদের কে পরিচালনা করেন? কেউ একজন আছেন তো? নাকি যে যেমন ইচ্ছা চলেন? তাঁকে মেনে চলেন তো? তাঁকে কি বলেন? কি ব'লে সম্বোধন করেন? কিছু একটা তো বলেন? আচার্য না বলুন অধ্যক্ষ, মহারাজ বা প্রধান কিম্বা ইংরেজিতে প্রিন্সিপ্যাল, প্রেসিডেন্ট বা চেয়ারম্যান একটা কিছু তো বলেন, নাকি? তা নিয়ে মূল কেন্দ্র বা মুলকেন্দ্রের বৈধ দীক্ষিত সৎসঙ্গীরা কোনোদিন কিছু বলেছে? বলেনি তো? তা আপনাদের এত গায়ের জ্বালা কেন? আপনারাও শ্রদ্ধেয় কাজলদাদাকে আচার্য বলুন না, কে বারণ করেছে? কেউ করেছে? করেনি তো? তা হ'লে এত গাত্রদাহ কেন!? যিনি আপনাদের প্রধান তিনি কি আপনাদের সকলকে ৫০বছর ধ'রে আচরণ ক'রে ক'রে এইসব আচরণ শিখিয়েছেন নাকি!? তাঁকে বা তাঁদের এইভাবে সমাজের বুকে নেকেড করছেন কেন? তাঁদের প্রতি এই আপনাদের ভালবাসা? এই আপনাদের শ্রদ্ধা-সম্মান জ্ঞাপনের নমুনা, বোধ!?

৩) 'আচার্য' শব্দ অর্থের ভিন্নতা, ব্যাপকতা ও বিশালতা কতদূর বিস্তৃত, কত গভীরে নিহিত তা জানেন কি? জেনে নিন আগে তারপরে আসবেন আলোচনার টেবিলে।

৪) আপনার আমার ইচ্ছেমত যাকেতাকে সংঘ প্রধান করা যায় নাকি!? শাস্ত্রমতে ঠাকুর পরবর্তী ঠাকুর সৃষ্ট 'সৎসঙ্গ' পরিচালনার দায়িত্ব কার ওপর বর্তায়, কার অধিকার তা জানেন কি? না জানলে পড়াশুনা করুন কিংবা আপনাদের প্রধানদের কাছ থেকে জেনে নিন।
উনারা লিখেছেন কোনও উদ্দেশ্য সাধনের জন্য উনারা আমাকে প্রশ্ন করেননি অথচ ব্যঙ্গাত্মক কটু প্রশ্নের পর প্রশ্ন ক'রে ক'রে বিব্রত করার, উত্যক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে গ্যাছেন! তা তাদের কোনও উদ্দেশ্য সাধন করার ইচ্ছা থাকুক আর না থাকুক তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না আর এইভাবে কাউকে ডিরেইল্ড করা যায় না, নিজেরাই ডিরেইল্ড হ'য়ে অবশেষে দুর্দশার গভীর খাদে নিমজ্জিত হয়, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সমূলে হবে।
ক্রমশ:
পরবর্তী প্রশ্ন এরপরে। 
(লেখা ২৩শে সেপ্টেম্বর'২০১৯)

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর।

প্রশ্ন ৯) স্তাবক বৃত্তি!

প্রশ্নকর্তারা আমাকে আমার স্তাবক বৃত্তি নিয়ে কথা তুলেছেন আর লিখেছেন আমি ঠাকুর বাড়ির স্তাবকতা করছি! আর কারা বলছেন!? যারা বলছেন তারা নাকি ঠাকুরের দীক্ষিত ও অবিকৃত পথের অনুসারী! তাদের নাকি কারও কোনোরকম স্তাবকবৃত্তির ইচ্ছে নেই তারা তাদের পথপ্রদর্শক শ্রদ্ধেয় কাজলদা, শ্রদ্ধেয় বিবেকদা ও তাঁদের শ্রদ্ধেয় দাদাদের পক্ষে কোনও স্তাবক বৃত্তি পোষণ করেন না ও পছন্দ করেন না। তাদের কারও স্তাবক বৃত্তি আছে কি নেই সেই প্রসঙ্গে তার সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে যিনি বা যারা আমার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসবেন তাদের সঙ্গে কিন্তু যাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা হচ্ছে না, আলোচনা করিনি, করছি না বা করতে চাই না তাদের সঙ্গে স্তাবক বৃত্তি নিয়ে আলোচনায় আমি রাজি নই।
আমার প্রশ্নকর্তাদের কাছে আমি বলতে চাই, অন্যের হ'য়ে স্তাবক বৃত্তি, অন্যের কুৎসা, সমালোচনা আপনাদের থাকতে পারে আমার সেই রুচি নেই। অন্যের কাজের প্রশংসা করতে পারি, আলোচনা করতে পারি কিন্তু স্তাবক বৃত্তি পালন-পোষণ নয়; অবশ্য প্রশংসা আর স্তাবক বৃত্তিকে আপনি ও আপনারা এক চোখে দেখেন কারণ প্রশংসা আপনাদের কালচারে ও রক্তে নেই, থাকলে অন্ততঃ ঠাকুর আত্মজদের বিরুদ্ধে কুৎসার দামামা বাজাতেন না! মুখ, জিভ সহ সমস্ত শরীর আপনাদের পাপে নীল হ'য়ে গ্যাছে আর সেই ভয়ে মুখ দেখাতে পারেন না, নাম প্রকাশে আপনারা ভীত, সন্ত্রস্ত!

আর স্তাবক বৃত্তি?
তা আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন, আপনারা যারা শ্রীশ্রীবড়দা ও তাঁর পরিবারের বিরোধিতা করছেন ৫০বছর ধ'রে কুৎসা, নিন্দা, গালাগালি, অপমান, অশ্রদ্ধা, সমালোচনাকে হাতিয়ার ক'রে আর যাদের হ'য়ে করছেন সেটা তাদের হ'য়ে স্তাবকতা নয়!?

আপনারা আমার লেখনীর উপর কটাক্ষ করেছেন। লিখেছেন, আমার লেখনী শক্তি দিয়ে আপনাদের প্রভাবিত করতে পারবো না। আমি বলি, এই একটা কথা একদম ঠিক বলেছেন, খাঁটি বলেছেন! কারণ যাদের স্বয়ং ঠাকুর পারেননি তাঁর লেখনী শক্তি দিয়ে প্রভাবিত করতে, তাঁর অসীম অনন্ত মনোমুগ্ধকর প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি দিয়ে তাদের প্রভাবিত করতে যে আমি পারবো না এই কথাটা সমস্ত সৎসঙ্গী সমাজ এককথায় মেনে নেবে। কারণ রামায়ণ, মহাভারতের যুগেও স্বয়ং রাম, কৃষ্ণও পারেননি রাবণ, রাবণের বংশধর, অনুগামী এবং কৌরব ও কৌরবপক্ষদের শেষদিন পর্যন্ত বোঝাতে, যেমন পারেননি আপনাদের পূর্বসূরিদের এই ঘোর কলিযুগে স্বয়ং শ্রীশ্রীঠাকুর! যে পাপের বোঝা ব'য়ে চলেছেন আপনারা উত্তরসূরীরা!!!!!

আপনারা প্রশ্নকর্তারা এও লিখেছেন আপনারাও লেখনী শক্তিতে ও কথনে প্রবল দক্ষ! এই কথাটাও ঠিক লিখেছেন। তার প্রমাণ গোটা বাঙালি সমাজ ও যারা বাংলা পড়তে ও বুঝতে পারে সেই সমাজ পাচ্ছে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে ফেসবুক নামক মিডিয়ার মধ্যে দিয়ে; যে মহান সুযোগ পায়নি আপনাদের পূর্বসূরীরা। কিন্তু ভুলে যাবেন না আপনাদের থেকেও প্রবল পরাক্রমশালী লেখক ও বক্তা ছিলেন সেই ঠাকুরের সময়ে! জানেন তো তাদের নাম? ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে সেই বিখ্যাতদের নাম! আপনারা জানেন তবুও নামগুলো বলি, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হ'লেন স্বনামধন্য কেষ্ট দাস ও শনিবারের চিঠির শক্তিশালী কলমচি সজনীকান্ত দাস! তাঁরা কি পেরেছিলেন তাঁদের প্রবল লেখনী শক্তি ও কথনে ঠাকুরের জয়রথ ঠেকাতে!? তাঁদের পিছনে যে প্রবলপরাক্রম শক্তি মদদ দিয়েছিল তারা কি পেরেছিল শ্রীশ্রীঠাকুরকে কলঙ্কিত করতে? সেসময়ের অনেক অনেক বড় বড় জ্ঞানী পন্ডিত বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব ছিলেন যারা সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন ঠাকুর আত্মজ, ঠাকুরের প্রথম সন্তান আদরের বড়খোকা শ্রীশ্রীবড়দাকে !!!! কি হয়েছিল তার পরিণতি? আপনারা ব্যক্তিস্বার্থে, ক্ষমতার দখল নিতে, কায়েমী স্বার্থ বজায় রাখতে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের নিজের হাতে তৈরি 'সৎসঙ্গ'-এর পাল্টা সংগঠন তৈরি ক'রে যে মরণ পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন আজ থেকে ৫০ বছর আগে আপনারা ঠাকুরের সেই পরমভক্তকুল ও তাদের উত্তরসূরীরা শ্রীশ্রীবড়দাকে শ্রীশ্রীঠাকুরের মত কলঙ্কিত ক'রে তাঁর বিজয়রথকে থামাতে পারেন কিনা সেই চেষ্টা ক'রে দেখতে পারেন।
ক্রমশঃ।
পরবর্তী প্রশ্ন এর পরে।
( লেখা ২৩শে সেপ্টেম্বর'২০১৯)

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরঃ

প্রশ্ন: ১০) পেশীশক্তি ও যুক্তিবাদ।

এই প্রশ্নকর্তারা আমাদের পেশীশক্তির কথা তুলেছেন। কেন মুখ লুকিয়ে ছদ্মনামে কটু প্রশ্নের পর কটু প্রশ্নের বাণ ছুঁড়ছেন আর ঠাকুরবাড়ির বিরুদ্ধে গালাগালির বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন তা জানতে চাইলে এদের মধ্যে একজন লিখেছেন, আমাদের নাকি নেটওয়ার্ক খুব স্ট্রং আর তাই কোন গুরুভাইদের দ্বারা নাকি নিগৃহিত হ'তে হ'তে বেঁচে গ্যাছেন! তাই আত্মরক্ষার্থে ও সত্য প্রচারের স্বার্থে তারা নাকি ফেসবুকে নিজেদের ছবি পোস্ট করেন না, পরিচয় গোপন রাখেন! কি অদ্ভুত! পরম প্রেমময়ের প্রেমের দরবারে এরা কতটা নীচে নাবতে পারেন ও চরম হতাশাগ্রস্থ তার প্রমান এই পেশীশক্তির কথা উচ্চারণ!
প্রশ্ন জাগে,
* ঠাকুরের দরবারে পেশীশক্তি!?
* কেন আপনারা নিগৃহীত হয়েছিলেন গুরুভাইদের হাতে?
* কি কারণ? এমনি এমনি অকারণে নিগৃহীত!?
* এক হাতে তালি বেজেছিল?
* আপনার/আপনাদের কোনও দোষ ছিল না?
* দীর্ঘ দিন ধ'রে আপনাদের ঠাকুরবাড়ির বিরুদ্ধে ঘৃণ্য বিরোধিতা কি প্রকাশ্য রাস্তায় নাবিয়ে এনেছিলেন যার পরিণতিতে পেশীশক্তি প্রসঙ্গ উত্থাপন?
* পেশীশক্তি প্রসঙ্গ উত্থাপন আজ আপনাদের ঠাকুরবাড়ির বিরোধীতার নতুন নোংরা হাতিয়ার?
* কেষ্ট দাস ও সজনীকান্ত মহোদয়দের কোন পেশীশক্তি কাবু করেছিল!?
* পেশীশক্তিতে তারা শেষ হয়েছিল নাকি কর্মফলে!?
* কর্মফলে বিশ্বাস হারিয়েছেন?
বিশ্বাস হারাবেন না। আপনাদের জন্যও কর্মফল অপেক্ষা করছে।
এরপরে আপনি বলবেন আমাদের কর্মফলের কথা। হ্যাঁ! আমরাও কর্মফলের অপেক্ষায় আছি।
প্রশ্নকর্তারা যুক্তিবাদের চর্চা করেন লিখেছেন। তারা আমাকে লিখেছেন তারা যুক্তির উপর দাঁড়িয়ে আলোচনা করেন ও রেফারেন্স সহ যুক্তি প্রয়োগ করেন!
প্রশ্নকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন:
* ক্ষমতা দখল, মিথ্যের গালাগালি কবে থেকে যুক্তিবাদের ভিত্তিভূমি হ'লো!?
মনে পড়ে গেলো সেই কথা, "একি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!?"
ঠাকুরের দেহ রাখার সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুরের পরমপ্রিয় আদরের বড়খোকা সৎসঙ্গীদের চোখের মণি এ যুগের হনুমান শ্রীশ্রীবড়দার নেতৃত্বে যখন 'সৎসঙ্গ'-এর জয়যাত্রা শুরু হ'লো তখন আপনাদের পূর্বসূরী ক্ষমতালোভীরা ক্ষমতা দখলের লোভে, 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠানকে কুক্ষিগত করার বাসনায়, শ্রীশ্রীবড়দাকে নিজেদের ইচ্ছেমত পিছন থেকে চালাবার দুঃসাহসিক প্রচেষ্টায় নিজেদের কায়েমী স্বার্থকে বজায় রাখার জন্য জোট বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন সাধারণ সৎসঙ্গীদের বিভ্রান্ত করার জন্য আপনাদের এই বস্তাপচা উপরি চকচকে যুক্তিবাদকে সামনে রেখে!


প্রশ্নকর্তারা আমাকে লিখেছেন, "এমন বহু গুরুভ্রাতা আছেন যাদের জীবনযাপন, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব তথা আলোচনায় ঠাকুর পরিবারের বহু ব্যক্তিত্বকে হার মানায়"।


তাদের উদ্দেশ্যে বলি,
হে প্রশ্নকর্তা! যে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বদের কথা বলছেন, যাদের বড় করতে গিয়ে ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের ছোট করছেন ভুলে যাবেন না আপনাদের সেই আজকের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বদের চেয়েও জাঁকজমকপূর্ণ অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সেদিনও ছিল! ভুলে যাবেন না সেদিন যে সমস্ত শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন তাঁদের তুলনায় আজকে আপনাদের যারা আছেন যাদের কথা গর্বভরে বলছেন তাঁরা নগন্য। সেদিন শ্রীশ্রীবড়দাকে যারা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেক ঠাকুরের লীলাসঙ্গী তো ছিলই এমনকি যতি ঋত্বিকও ছিলেন! এসব তথ্য জেনে নেবেন আপনাদের পথ প্রদর্শকদের কাছ থেকে। কোথা থেকে জানবেন!? কেউ আছে নাকি আপনাদের আশেপাশে!? আছে তো "কাল কা যোগী, ভাতকে বলে অন্ন" প্রবাদের মত মানুষ যারা দুঃসাহস দেখায়, অস্পর্ধা রাখে ঠাকুর আত্মজদের বিরুদ্ধে শুধু ফেসবুকে কুৎসা, নিন্দা, গালাগালি, অশ্লীল শব্দে সমালোচনা করার!
আমার সবিনয় প্রশ্ন আপনাদের,


কারা সেই অসাধারণ ব্যক্তিত্ব যারা ঠাকুর পরিবারের ব্যক্তিত্বদেরও হার মানায়!? নামগুলি বলবেন!? তাঁরা নিজেরা কি আপনাকে এই ঔদ্ধত্বপূর্ণ অহংকারী কথা বলেছেন না বলতে বলেছেন!? ঠাকুরের রক্ত বাহিত ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের থেকেও নিজেদের স্বঘোষিত আচার্য ও উচ্চমার্গীয় ব'লে যদি কোনও কেউ দাবী করেন বা করতেন কিংবা আপনার/আপনাদের মত কোনও গুরুভ্রাতা(?) তাদের মনে করেন বা করতেন অথচ তাদের সেই আসনে বসাননি তাহ'লে এটা জেনে রাখুন যদি তেমন কেউ বসতেন প্রধান হ'য়ে তাহ'লে এতদিন যাও বা টিমটিম ক'রে টিকেছিল তার সলিল সমাধি ঘটতো সেই শুরুতেই, মুখ থুবড়ে হাঁটু ভেঙে 'দ' হ'য়ে পরে থাকতো ঘোর অন্ধকার শ্মশানে। ভাগ্যিস শ্রদ্ধেয় পূজ্যপাদ বিবেকদাদা ও কাজলদাদা ছিলেন মাথার ওপরে!!!!!! আর এখন আপনারা দায়িত্ব নিয়ে তাঁদেরও সলিল সমাধিতে পাঠাবার জন্য কোমর বেঁধে উঠে পড়ে লেগেছেন শ্রীশ্রীবড়দা, শ্রীশ্রীঅশোকদাদা, শ্রীশ্রীবাবাইদাদা ও অবিনদাদা এবং এমনকি ঠাকুর পরিবারের মায়েদেরও বিরুদ্ধে নানারকমের বিভিন্ন ধরণের কুৎসিত গালাগালি, কুৎসা, নিন্দার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে!!!!!!!!
কথায় আছে, মহাজ্ঞানী মহাজন যে পথে করে গমন, ঠিক সেরকম হে আমার প্রশ্নকর্তা! আপনারাও আপনাদের মহাজ্ঞানী মহান জনদের পথ অনুসরণ ক'রে চলুন।
ক্রমশ:। ( লেখা ২৩শে সেপ্টেম্বর'২০১৯)

প্রবন্ধঃ শ্রীশ্রীঠাকুরের ১৩৭ তম জন্মদিবস উৎযাপন ও কেক কাটা প্রসঙ্গ।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৭তম জন্মদিন পালনে সম্প্রতি কোচবিহার সৎসঙ্গ মন্দিরে কেক কাটা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বেশ কিছু ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গী। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গীদের অকারণ এই কেক কাটা নিয়ে বিতর্ক সৎসঙ্গীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কেক কাটা বিষয়টাকে কিছু ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গী ঠাকুর পরিবারের রীতি বিরুদ্ধ অনুষ্ঠান ব'লে চিহ্নিত করেছেন। ঠাকুর পরিবারের অভ্যন্তরে এইসব কেক কাটার রীতি নেই। অথচ কোন রীতিটা ঠাকুর পরিবারে আছে আর কোন রীতিটা নেই আর, ঠাকুর পরিবারের অভ্যন্তরে কোন রীতি পালন হচ্ছে আর কোন রীতি পালন হচ্ছে না সেটা তুলে ধরছেন না ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গী সমালোচকরা।।

কেউ কেউ বলছেন, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই কেক কাটা অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে। এই পাশ্চাত্য সংস্কৃতি শ্রীশ্রীঠাকুর যে আর্য্য কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ধারক বাহক তার একেবারে বিপরীত সংস্কৃতি। এই সব পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য শ্রীশ্রীঠাকুর বিধান দিয়ে যান নি তাই এই সংস্কৃতি বর্জনীয়। এভাবেই বিকৃতি জন্ম নেয়। ভাবের ঘোরে সৎসঙ্গে আমরা এমন কিছু কাজ করি যা অনেক সময়ই বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়!!! তাই ইষ্টপ্রাণ সৎসঙ্গীদের আবেদন, সৎসঙ্গে সৎসঙ্গী প্রজ্ঞাবান মানুষ নিশ্চয়ই আছে যারা এই কাজকে কোনোভাবেই ঠাকুরের ভাবধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মনে করবেন না।

এই নিয়ে বিতর্ক এমন জায়গায় চলে যায় যে সৎসঙ্গীরা একে অপরকে জ্ঞান দেবেন না, আমরা সপরিবারে সৎসঙ্গী, কেউ বা নিজেকে স্বস্ত্যয়নী ব্রতধারী সৎসঙ্গী উল্লেখ করে বিতর্ককে আরো উসকে দিচ্ছেন। কেউ বা অতি উৎসাহে এই কেক কাটার তীব্র বিরোধীতা ক'রে নিজেকে আচার্যদেবের খুবই ঘনিষ্ঠ উল্লেখ করে বলছেন, যান আমার নাম নিয়ে আচার্যদেবকে বলুন। আবার পরমুহুর্তে বলছেন, আচার্যদেব এই কেক কাটা সংস্কৃতি অনুমোদন করলে আমি মানবো এই কেক কাটা অনুষ্ঠান।
কেক কাটা বিষয়ে দীর্ঘ কমেন্টে বিরোধীতার ঝড় তুলে পরমূহুর্তে আবার আমি স্বল্প জ্ঞানী, আমি ঋত্ত্বিক নই বলে কমেন্ট করছে অনেকেই। আচ্ছা, ঋত্বিক হলেই সব জানবেন? কেউ কেউ শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশিকা সম্পর্কে বলছেন কিন্তু সেই নির্দেশিকা কি তা তুলে ধরছেন না। নির্দেশিকাটা তুলে ধ'রে এই কেক কাটার সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশিকাটা কি তুলনামূলক আলোচনা করলে সমস্ত পাঠকের কাছে বিষয়টা ক্লিয়ার হয়। বিতর্কের সুষ্ঠ অবসান ঘটে। নতুবা শুধুই বকোয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু সেই রাস্তায় কেউ হাঁটছেন না, হাঁটবেন না, হাঁটতে চান না। শুধু নোতুন কিছু দেখলেই তার পিছনে আপাদমস্তক যতই লজিক থাকুক তা' না ভেবেই, বিশ্লেষণ না করেই, বিষয়ের গভীরতা অনুধাবন না করেই উপলব্ধিহীন ভিত্তিহীন অর্থহীন মন্তব্যের ঝড় তুলে, কখনও ঠাকুরের বলা কথাকে প্রয়োগ ক'রে জোর ক'রে যৌক্তিক ক'রে তুলে ধ'রে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোতুন বিষয়কে ঘেঁটে দেওয়ার একটা অসুস্থ প্রবণতা তীব্র হ'য়ে দেখা দিয়েছে আমাদের সৎসঙ্গীদের। প্রচলিত যে কোনও বিষয় থেকে একটু সরে এসে সময়োচিত আধুনিক নোতুন কিছু দেখলেই শুরু হ'য়ে যাচ্ছে তীব্র বিরোধী মানসিকতা সম্পন্ন ইষ্টপ্রাণতার বহির্প্রকাশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেসবুকে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আর্য্য কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ধারক বাহক তাই এইসমস্ত স্রোতের বিপরীত নোতুন কিছু চলবে না, গ্রহণ যোগ্য নয়।

এই প্রবণতা দেখা দিয়েছিল শ্রীশ্রীঠাকুরের দেহ রাখার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রীশ্রীবড়দা বিরোধীদের, যা আজও বহমান। সেই নোতুন কিছুর বিরোধীতার ট্রাডিশান এখন দেখা দিয়েছে মূল সৎসঙ্গীদের মধ্যে।
শ্রীশ্রীঠাকুরের আর্য্যকৃষ্টি, আর্য সংস্কৃতি এইসব কথা শুধু মুখে নামমাত্র ব'লে ফেসবুকে অকারণ বিতর্কের ঝড় তুলে বিরোধীতা সৃষ্টি না করে আর্য কৃষ্টি ও আর্য্য সংস্কৃতির কি পরিচয় তা' তুলে ধরা যেতে পারে। আর্য কৃষ্টি ও সংস্কৃতির রূপ কি তা' বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে তুলনামূলক আলোচনা করা যেতে পারে, তা'তে সৎসঙ্গীরা উপকৃত হবে। পাশ্চ্যত্য সংস্কৃতি মানেই তা খারাপ ও পরিত্যাজ্য? জন্মদিনে কেক কাটার রীতিটা কেন সমর্থন যোগ্য নয় তার একটা যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ ক'রে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করলে মানুষের বুঝতে সুবিধা হয়। কেক কাটার রীতি পাশ্চাত্য রীতি তাই সেটা খারাপ এটাই একমাত্র স্ট্রং লজিক? তাই তা' পালন করা যাসবে না? এছাড়া পালন না করার স্বপক্ষে কোনও লজিক থাকবে না? আর বহু পাশ্চাত্য রীতি তো আমাদের কালচারে মিশে গেছে তার সবটাই খারাপ? আমাদের বহু রীতিও তো পাশাত্য সংস্কৃতির অন্তভুক্ত হয়েছে তাহ'লে সেগুলিও তারা বলবে প্রাচ্য সংস্কৃতি তাই তা' গ্রহণ করা যাবে না, খারাপ। এতটাই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী? তাও আবার সৎসঙ্গীদের? দেওঘরে কোনও দিনই হয়নি তাই আর কোথাও হ'তে পারবে না? ভালো জিনিস প্রথমে দেওঘরে যদি না হয় তাহ'লে কোথাও করা যাবে না? ভালো জিনিস কেউ কোথাও করলে তা দেওঘরে যদি প্রথমে না হয় তাহ'লে তা দেওঘর অনুমোদন করবে না? এমন কোনও বিধি নিষেধ আছে ঠাকুরবাড়ি থেকে? তাহ'লে কেন শুধু শুধু কথায় কথায় 'ঠাকুরবাড়িতে হয়েছে?' আচার্যদেব অনুমোদন করেছে? এই কথাগুলি আসে? এর মধ্যেও কেন জোর ক'রে অকারণ আচার্য বিরোধীতার গন্ধ খুঁজে বের করা হয়?

বিতর্কিত বিষয় ঠাকুরকে নিয়ে সৎসঙ্গীরাই শুরু করেছে ঠাকুরের দেহ রূপে থাকার সময় থেকে। এখন মূল ধারার সৎসঙ্গীদের মধ্যে যে কোনও নোতুন বিষয় নিয়ে সৎসঙ্গীরা বিতর্ক তুলে দেয়, বিতর্ক তুলে দিয়ে জল ঘোলা ক'রে দিয়ে পরে আচার্যদেবের নির্দেশ মেনে নেবার কথা তোলে। তা' এতটাই যখন আমরা আচার্যপ্রাণ তখন আচার্যদেবের নির্দেশ মেনে আমরা মন্দিরে কেন্দ্রে ঠিক ঠিক চলি তো? আচার্যদেবের নির্দেশ মেনে আমরা ঠাকুরকে মুখ্য ক'রে জীবন গড়ে তুলেছি ও তুলছি তো? শ্রীশ্রীআচার্যদেব আর কোনটা কোনটা অনুমোদন করবেন? আজ পর্যন্ত যতগুলি অনুমোদন করেছেন সেগুলি ঠিক ঠিক পালন হয়েছে ও হচ্ছে সমস্ত মন্দির আর কেন্দ্রগুলিতে কিংবা নিজ নিজ ব্যক্তিগত জীবনে?
এই কেক কাটা নিয়ে কেউ কেউ বলছেন, এটা ঠিক, কেক দিয়ে কিন্ত ভোগ দেওয়া হয়নি। কেক কেটে ভক্তদের বিতরণ করা হয়েছে মাত্র।

কেক ভোগ হিসেবে দিলে কি ক্ষতি হ'তো আর ভোগ হিসেবে দিয়েই বা কি লাভ হয়েছে? মানুষ ভালোবেসে তার ভালো লাগার জিনিস ঠাকুরকে দেয়। কেকের মধ্যে এমন কি আছে যা ঠাকুরকে ভোগ হিসেবে দেওয়া যাবে না? যারা এই কেক কাটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন ফেসবুকে, তারা কেক অমৃত নাকি কেক বিষ, এগুলি নিয়ে বিস্তৃত যুক্তিসংগত আলোচনা থাকলে সৎসঙ্গীদের উপকার হ'তো। ঠাকুর কি সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে কুলুঙ্গিতে ফুলচন্দন ধূপধুনো দিয়ে নানা দেবদেবীর ভিড়ে শুধু ফটো ক'রে তুলে রাখার জন্য? ঠাকুরকে কি নিজের জীবন থেকে দূরে দূরে সরিয়ে রেখে ভয়ে ভয়ে নিরাপদে শুধু নিজের স্বার্থে, সন্তান, পরিবার, পরিজনের স্বার্থে পূজা করার জন্য? ঠাকুর কি অমূর্ত ভগবান, আকাশের ভগবান, বোবা মাটির ভগবান ছিলেন? তাঁর কেক খেতে নেই? নাকি শাস্ত্রে নিষেধ আছে? তা' কেন ঠাকুরের কেক খেতে নেই, কেন কেক খাওয়া নিষেধ, কেন অশাস্ত্রীয়, কেন পাপ তা লজিকের ওপর দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে না? কেন ফেসবুক জুড়ে শুধু ভিত্তিহীন, অর্থহীন, ফালতু সস্তা অজ্ঞানতায় ভরা বালখিল্য ভক্তি ও কথার স্রোতে ভাসা? তাহলে ঠাকুর কি খাবে? শুধু জল আর ভাঙ্গা গুড়ো পিঁপড়ে খাওয়া বাতাসা, নকুলদানা? সেই অমূর্ত ভগবানদের প্রসাদ দেওয়ার মতো?

ঠাকুর যদি কেক খেতে না পারেন রক্তমাংসের শরীরের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তাহ'লে তো আমাদেরও খাওয়া উচিৎ নয়। তাই নয় কি? আর ঠাকুরকে কি আমিষ কেক দেওয়া হয়েছে? যা ঠাকুর খেতেন না তা' আমার খাওয়া উচিৎ নয়? বহু সৎসঙ্গী তো মাছ, মাংস, ডিম, রসুন, পেঁয়াজ, আরও কত কত কত কি যেমন জর্দা, সিগারেট, মদ ইত্যাদি ইত্যাদি খান যা ঠাকুর খেতেন না। শুধু নিজে খেতেন না তা' নয় খেতে পছন্দ করেন না এবং তাঁর এসব খাওয়ায় নিষেধ আছে, তাঁর বিধানে আছে। তা' আমরা সৎসঙ্গীরা খাই কেন? কেন আমি স্বস্ত্যয়নীব্রতধারী সৎসঙ্গী এই ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজেকে সাধারণ সৎসঙ্গীদের সামনে বড় ক'রে তুলে ধরে রাজসিক এবং তামসিক নিরামিষ খায়? শ্রীশ্রীঠাকুর কি রাজসিক ও তামসিক নিরামিষ খেতেন? কেউ কেউ আমরা স্বস্ত্যয়নীধারীরা লুকিয়ে চুরিয়ে মাছ, মাংস, অ্যালকোহল গ্রহণ করি। কেউ কেউ ইষ্টপ্রাণতার ঝড় তুলে ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার জন্য ছুটে বেড়ায় আর, বৃত্তি প্রবৃত্তিতে ডুবে থেকে এমন এমন কাজ আমরা বহু সৎসঙ্গীরা করি যা ঠাকুর পছন্দ করেন না, এবং তা তিনি কঠোরভাবে নিষেধ ক'রে গেছেন। আমরা সৎসঙ্গীরা কেন তা' করি?

ঠাকুরের জন্মোৎসব এ ঋত্বিক দের কেক কাটা অনেকের ভালো লাগেনি, কারণ তাদের বক্তব্য ঋত্বিকরা ভগবান নন।

এই বক্তব্যের পিছনে লজিকটা কি একটু বুঝিয়ে বললে চোখটা খোলে। কারণ, শ্রীশ্রীঠাকুরের কেক কাটা, কেক কেটে জন্মদিন পালন করা ও সেই কেক শিষ্য অনুগামীদের, উপস্থিত ভক্তমন্ডলীর মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করার মধ্যে ঋত্ত্বিকদের দোষ বা অন্যায়টা কোথায়? আর, ঋত্ত্বিকরা ভগবান নয় এটা ঠিক। কিন্তু কে বলতে পারে সমগ্র ঋত্ত্বিকদের মধ্যে একজনও ভগবান নয়? ভগবান অর্থ কি?
অনেকে বলছেন, ঠাকুরবাড়ির পরিবারের কারও জন্মদিনে কেক কাটা হয়নি। আমার জিজ্ঞাস্য কেক কাটা অনুষ্ঠান কি পাপ? ঠাকুরবাড়ির পরিবারে কোনওদিনও কেক কাটা হয়নি এ ব্যাপারে সমালোচকরা স্থির নিশ্চিত? ঠাকুরবাড়ির পরিবারের লোকেরা কি সাধারণ মানুষ নয়? সাধারণ মানুষের মত তাদের কোনও ইচ্ছা থাকতে পারে না যা অস্তিত্ববিরোধী নয়? সাধারণ জনজীবন থেকে ঠাকুর পরিবার ও পরিবারের সদস্যদের জীবন বিচ্ছিন্ন? নাকি আমরা নিজেরা ঠাকুরের বলা কথা পালন না করা, ঠাকুরের নিয়ম না মানা, দীক্ষা, স্বস্ত্যয়নী অর্থ কি না জানা, না মানা, অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে থাকা অতিবোদ্ধা তথাকথিত সৎসঙ্গীরা ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের একটা কড়া নিয়মের শেকলের গেড়োয় বেঁধে রেখে তাদের স্বাভাবিক সাধারণ সহজ সরল জীবন থেকে দূর ক'রে রেখে দেবো? এ তো মানসিক অত্যাচার ।
তাই বলি, নোতুন নোতুন সংযোজন তো সময়ের দাবী। এই সময়ের দাবী মেনে আগামীদিনে অনেক কিছুই হবে। তবে তা' যেন কখনই বিকৃত না হয়, বাঁচা ও বাড়ার বিরুদ্ধ না হয়। সেই নোতুনত্ব থেকে যেন জীবনবাদের, অস্তিত্ববাদের, আদর্শবাদের ও জীবন্ত আদর্শের স্মেল উবে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, জ্ঞান রাখতে হবে।

তবে বর্ত্মান ঘোর কলি যুগে কোনটা বিকৃত আর কোনটা বিকৃত নয় সেই বোধটাই হারিয়ে গেছে। তাই সুন্দরের মধ্যে মানুষ অসুন্দর দেখে আবার অসুন্দরের মধ্যে সুন্দর দেখে। তাই দেখার চোখ চাই। দেখতে গেলে চাই জ্ঞান, চাই বোধ, চাই বুদ্ধি, চাই আগ্রহ, চাই একাগ্রতা, চাই তীব্র ভালোবাসা। চাই নিরবচ্ছিন্ন নামধ্যান, নামধ্যানের প্রতি অনুরাগ। চাই শয়নে, স্বপনে, জাগরণে, চলতে, ফিরতে, কাজ করতে করতে, অফিসে, ব্যবসায়, হাটেবাজারে, বাথরুমে মুখ ধুতে, পায়খানা করতে, স্নান করতে, বেডরুমে, ভোজনে দিন শুরু থেকে রাতে ঘুমতো যাওয়া পর্যন্ত এবং ঘুমের মধ্যেও সর্ব্বক্ষণ, সবসময় তার সঙ্গে যুক্ত থাকা। আর এই যুক্ত থাকা তাঁর নামের মধ্যে দিয়ে, তাঁর নাম করার মধ্যে দিয়ে।

আর, দয়ালের ধ্বনি দিয়ে আবার কেক কাটা হচ্ছে এটাও একটা অভিযোগ। দয়ালের ধ্বনি দিয়ে কেক কাটায় অন্যায় বা দোষ কোথায়, জানি না?

"বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষের জন্মদিন পালন করার পর সেই কেক নাকে মুখে মেখে একাকার করার মত যেন ঠাকুরের জন্মদিনে কেক কাটার পর সেই কেক নিয়ে যেন পরস্পরের মধ্যে তা' না করা হয় এটা খেতাল রাখতে হবে উদ্যোক্তাদের। কারণ সেই কেক শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রসাদ, কেক শ্রীশ্রীঠাকুরে নিবেদিত প্রসাদ, মহাপ্রসাদ। এটা যেন সৎসঙ্গীরা মনে রাখে।

যাই হ'ক, আজ ফেসবুকের মত স্ট্রং মিডিয়ার দৌলতে আমরা অনেক কিছু ভালো মন্দ জানতে পারছি। তবে ভালো গঠনমূলক সিরিয়াস কিছু থাকলেও তা কম ও অনালোচিত ও অনালোকিত অবস্থায় পড়ে থাকে। তার কোনও পাঠক থাকে না। লাইক, লাভ ইত্যাদি সাইন আর কমেন্টের সংখ্যা তার প্রমাণ। এছাড়া একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা, গালাগালি, কুৎসা, নিন্দা, অপপ্রচার, অপমান, অসম্মান, অশ্রদ্ধা, অপবাদ ইত্যাদির বান ডাকে ফেসবুক। আর চটজলদি হালকা বিষয়, সুড়সুড়ি দেওয়া বিষয়, উস্কানিমূলক লেখা, ছবি, ভিডিওর মজবুত প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে ফেসবুক।

এই ফেসবুকের মধ্যে দিয়েও ঠাকুরের বিরুদ্ধে আমরা অশ্লীল বাক্যবাণের প্রমাণ পেয়েছি। আর, আমরা সৎসঙ্গীরা এরকম কেক কাটার মত নোতুন কিছু বিষয় সামনে দেখতে পেলেই রে রে ক'রে ছুটে এসেছি সৎসঙ্গীর বিরুদ্ধে আর ঝাঁপিয়ে পড়েছি দলবদ্ধভাবে। আজ কোচবিহারের মন্দিরে বিশাল সৎসঙ্গী সমাবেশে কেক কাঁটাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসার ফলে এটা চোখে পড়েছে। এরকম শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মদিনে, শ্রীশ্রীআচার্যদেবের জন্মদিনে এবং আমার গুরুভাইদের জন্মদিন উপলক্ষে সৎসঙ্গ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে কেক কাটা অনুষ্ঠান করার জন্য তীব্র সমালোচিত, অপমানিত হয়েছি আমার ইষ্টপ্রাণ গুরুভাইবোনেদের কাছে। যেন বিরাট অন্যায় ও পাপ কাজ হ'য়ে গেছে জন্মদিনে কেক কাটা ও শ্রীশ্রীঠাকুরকে নিয়ে সমবেতভাবে গুরুভাইদের জন্মদিন পালন করার জন্য। গুরুভাইবোনেদের কাছে কেক কাটা বিষয় নিয়ে বিতর্কের মতো এরকম কয়েকটা বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আমি পরবর্তী ভিডিওতে আপনাদের সামনে আসবো আমার বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে। জয়গুরু।

( লেখা ২১শে সেপ্টেম্বর' ২৪)