Powered By Blogger

Wednesday, September 10, 2025

প্রবন্ধঃ মনুষ্যত্ব আজ তলানিতে।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা তোমায় ভালোবাসি' নিয়ে এবং গানের রচয়িতাকে নিয়ে এতটা নীচে নামতে পারে বাংলাদেশের সম্প্রতি অবৈধ উপায়ে পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনকারী ছাত্র, নাগরিক সমাজ তা ভাবলে অবাক হ'য়ে যাই, মনে প্রশ্ন জাগে, এ আমরা কোন পৃথিবীতে আছি?

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল দুজনেই ভারতীয়। ১৯৭১ সালে কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের সম্পত্তি হ'য়ে যায়। যা আজও আছে। আর, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হ'য়ে যান তাদের কাছে সমালোচনা, নিন্দা, কুৎসার বস্তু। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে এত কুৎসা, এত গালাগালি, এত নিন্দা, এত অপমান, এত অপবাদ, এত লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, এত ঘৃণা, এত চরিত্র হনন সোশ্যাল মিডিয়ায়, ফেসবুকে যে মাটির নীচে ঘুমিয়ে থাকা দুই কবিরই আত্মা কেঁপে কেঁপে উঠছে। আজ দিনের পর দিন স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হ'য়ে উঠছে বাংলাদেশের বাঙালিদের একজন বাঙালির প্রতি ঘৃণা ও আরেকজন বাঙালির প্রতি ভালোবাসার কারণ। গোটা দুনিয়াকে দেখিয়ে দিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনে জড়িত বাঙ্গালীরা বাঙ্গালীর মুখের ভাষা, আচার, আচরণ, সভ্যতা, ভদ্রতা কোন স্তরের। এর সঙ্গে প্রশ্ন তুলে দিল, তারা অর্থাৎ বাংলাদেশের পট পরিবর্তনের পক্ষ অবলম্বনকারীরা বাঙালী না, তারা মুসলমান।

"বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয় ও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়।"----- কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের বর্তমান অবৈধ শাসক ও আপামর বাংলাদেশীদের কাছে পেলে ভালো লাগবে।

১) কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে কেন নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ?

২) ভারতের প্রতি এত ঘৃণা অথচ ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া, ভারতের মাটি যার কর্মভূমি, ভারতীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতি যার চেতনায়, যিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, যিনি ভারতীয় হিন্দু নারীকে বিবাহ করেছিলেন, যিনি তাঁর চার সন্তানের নাম রেখেছিলেন যথা: কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ। সেই আপাদমস্তক ভারতীয় ঘরানার নাগরিককে কেন তাঁর শেষ বয়সে বাংলাদেশে নিয়ে গিয়েছিল তদানীন্তন সরকার?

৩) প্রমিলা দেবীর শেষ ইচ্ছা ছিল তার স্বামীকে যেন তার কবরের পাশে (চুরুলিয়ায় নজরুলের পৈতৃক বাড়িতে) সমাধিস্থ করা হয়। কিন্তু প্রমিলার শেষ ইচ্ছাটি আর পূরণ হয়ে উঠে নি। কেন কবিকে কবি পত্নী প্রমিলা দেবীর শেষ ইচ্ছামত তাঁর স্বামী নজরুল ইসলামকে তাঁর কবরের পাশে (চুরুলিয়ায় নজরুলের পৈতৃক বাড়িতে) সমাধিস্থ করা হয়নি?

৪) যখন তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তিনি সুস্থ ও চেতনায় ছিলেন? ১৯৭২ সালে বাকশক্তিহীন ও মানসিক ভারসাম্যহীন পিক্‌স ডিজিজ নামক একটি নিউরনঘটিত ভয়ংকর সমস্যায় ভুগতে থাকা কবিকে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শেষ জীবনে তাঁর দেশ থেকে অন্য দেশে? কি ছিল সেই ঘৃণ্য রাজনীতি? তিনি যদি সুস্থ থাকতেন তাহ'লে কি তিনি নিজের জন্মভুমি, নিজের মাতৃভূমি, নিজের কর্মভূমি ত্যাগ ক'রে জাতীয় কবি হওয়ার লোভে অন্য দেশে যেতেন?

৫) তখন মনে হয়নি ভারতের কাছে হাত পেতে ধার করতে হচ্ছে একজন বিদেশীকে, তাও তাঁর অজান্তে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায়, নিজের দেশের জাতীয় কবি ঘোষণা ক'রে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করবেন?

৬) যে মানুষটি মুসলিম হয়েও কালী ও কৃষ্ণ প্রেমে মেতেছিলেন, প্রচুর শ্যামা ও কৃষ্ণ সঙ্গীত লিখেছিলেন তখন তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় মনে হয়নি এই মানুষটি বিধর্মী ও কাফের?

৭) ১৯৭১ সালের রাষ্ট্রনায়ক, দেশ স্বাধীন করার রূপকার মুজিবর রহমান আজ যে বর্তমান ছাত্র আন্দোলনকারী, সাম্প্রতিক পটপরিবর্তনকারী জনগণ ও উপদেষ্টামন্ডলীদের কাছে চরম অপমানিত, অবহেলিত, লাঞ্ছিত, কলঙ্কিত এবং সম্পূর্ণ্রূপে ব্রাত্য সেই মানুষটির আনা কাজী নজরুল ইসলাম এখন রবীন্দ্র বিরোধীদের কাছে 'বাংলাদেশের কবি' ও তাঁর অর্জনগুলি এখন বাংলাদেশের অর্জন!? কি অদ্ভ্যুত নীচ, ঘৃণ্য, নোংরা মানসিকতা। এ তো নেপোয় মারে দই-এর মানসিকতা! আর, যে আনলো কবিকে দেশে দেশের অলংকার করবে ব'লে তাঁকেই পিছনে লাথি মেরে কবিকে এখন মাথায় নিয়ে নাচানাচি? এতটা ধূর্ততা!?

৮) বর্তমান আন্দোলনকারীদের কাছে ভারতের কাছে ধার করা জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের গানগুলি কি হারাম? কারণ তাঁর গানগুলি তো বাদ্যযন্ত্র সহযোগে তাহ'লে তাঁর গানগুলি কি ক'রে জায়েজ হবে?

৯) বর্তমান ভারত বিরোধী বাংলাদেশের শাসক ও জনগণের কথামত "আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত একজন "ভারতীয় কবি"র লেখা" যদি হয় তাহ'লে আপনাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম তো আপাদমস্তক শরীরে, মনে, আত্মায় ভারতীয় নাগরিক, এই কথায় আপনাদের ঈমানে ঝাঁকি লাগবে না? আপনাদের ক্ষেত্রে এটা সত্য ও বাস্তব নয়?

১০) বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ভারত থেকে ধার করা জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের যদি লেখা হ'তো তখন কি বলতেন, অকপটভাবে স্বীকার করতেন, মেনে নিতেন এই সত্য ও বাস্তব যে কবি নজরুল ইসলাম আদপেই ভারতীয়? তখন তাঁর গান পরিবর্তন করতেন?
১১) বাংলাদেশে বলা হচ্ছে, "বাংলাদেশ একটা আধুনিক জাতিরাষ্ট্র"। তা এই জাতিরাষ্ট্রটা কি? জাতিরাষ্ট বলতে কি বোঝাচ্ছে? রবীন্দ্রনাথ যেহেতু হিন্দু সেইহেতু তাঁকে সমূলে উৎখাত করতে হবে কারণ তিনি বিধর্মী। আর নজরুল ইসলাম যতই অন্য দেশে জন্মাক ও ভারতীয় হ'ক, যতই সে আপাদমস্তক খাঁটি বাঙালী ও যতই সে পশ্চিবংগের বাঙালি হ'ক, যতই সে হিন্দু ভারতীয় নারীকে বিবাহ করুক, যতই সে মা কালী ও কৃষ্ণপ্রেমী হ'ক আর মা কালী ও কৃষ্ণের গান রচনা করুক, যতই ছেলেদের নাম বাংলা তথা হিন্দু নামের সঙ্গে মিলিয়ে আরবি/ফার্সিতে রাখুক কাজি নজরুল ইসলাম বিধর্মী নন তিনি খাঁটি মুসলিম ও ইসলামপন্থী। আর, রবীন্রনাথের বেলায় দুনিয়ার গাত্রদাহ, দুনিয়ার তকমা?

১২) যে দেশের নাগরিক কোনো দেশে বিদেশে যখন কোনও সম্মানে পুরস্কৃত হন তা সে হিন্দু হ'ক, মুসলমান হ'ক, খ্রীষ্টান বা বৌদ্ধ হ'ক আর যে ধর্ম সম্প্রদায়ের হ'ক তা'কে সেই দেশের নাগরিক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়। এটা তো আন্ডারস্টুড! এই নিয়ে আবার কমেন্ট হয় নাকি? এটাই তো বাস্তব। আর, বাংলাদেশের বর্তমান শাসকদের এর উল্টো কথা বা যুক্তিটা তো ১০০ ভাগ অবাস্তব, যাকে জোর ক'রে বাস্তব করতে চাইছেন কথার জাগলারিতে। তাই নয় কি?

১৩) ২০০৬ সালে ডাঃ মহম্মদ ইউনুস শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে পুরস্কৃত হন তা'তে তিনি বাংলাদেশী নাগরিক হ'লেও ১৯৪০-১৯৪৭ ব্রিটিশ ভারতের নাগরিক ছিলেন তাই ভারতীয়রা ও বিশেষ ক'রে পশ্চিমবাংলার বাঙ্গালীরা ডাঃ ইউনুসকে নিজেদের লোক বলেই মনে ক'রে নোবেল প্রাপ্তির আনন্দ উপভোগ করেছিল। এবং ভারত বিভিন্ন বিষয়ে মহম্মদ ইউনুসকে ১০ বার পুরস্কৃত করেছিল। একথা ইউনুস সাহেব ভুলে গেছেন। তাই তিনি সেই ভারতের এখন সবচেয়ে বড় শত্রু, ভারত ভাঙ্গার কারিগর। আপনাদের মত নিম্ন রুচির পরিচয় দিয়ে ইউনুসের গায়ে বাংলাদেশী স্ট্যাম্প ফেলে দিয়ে ও নোবেল পুরস্কারকে ও মহম্মদ ইউনুসকে বাংলাদেশের নোবেল ও বাংলাদেশের নাগরিক ব'লে দূরে ঠেলে দেয়নি সেদিন ভারত। আপনারা সেই নিকৃষ্ট পথ দেখালেন, নিম্ন রুচির কৃষ্টি-সংস্কৃতি, শিক্ষার পরিচয় দিলেন।

আর, ভারত চিরকাল জগত সভায় শ্রেষ্ঠ ছিল, আছে ও থাকবে। আপনারা ও পাকিস্তানও ছিল সেই গৌরবের অংশীদার একদিন ভারতের অংশ হ'য়ে কিন্তু নোংরা রাজনীতির নোংরা খেলা, ক্ষমতা দখলের ও নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের জন্য নিজেদের মধ্যে ভাঙ্গার খেলা, বিদেশী শক্তির ডিভাইড এন্ড রুল প্রয়োগ করার ঘৃণ্য মানসিকতার খেলা আজ ভারতকে তিন টুকরো করেছে আরো আগামীতে ভারতকে হয়তো বা আরও টুকরো করার চেষ্টা করবে।
যাই হ'ক, যদিও জানি সেই চেষ্টা হ'লে আগামী ভয়ংকর পৃথিবীতে কেউ ভালো থাকবো না, শুধু ভারত সেদিন একা শ্ত্রুদের দ্বারা টুকরো বা ধ্বংস হবে না সেইসংগে যারা যারা এই টুকরো করার বা ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত থাকবে তারাও টুকরো টুকরো হয়ে ধ্বংস হ'য়ে যাবে।

তবুও প্রার্থনা করি হে ঈশ্বর সবাইকে সুমতি দাও, সবাই তোমার আশীর্বাদে মিলেমিশে ভালো থাকুক। আর যদি তা' না হয় তোমার অঙ্গুলিহেলনে আবার মহাভারত নয়, এবার হ'ক মহাবিশ্ব। শেষ হ'য়ে যাক, লুপ্ত হ'য়ে যাক মানবজাতি, মানব সভ্যতা। কারণ মানুষের মনুষ্যত্ব আজ তলানিতে। 
( লেখা ১০ই সেপ্টেম্বর' ২০২৪ )

প্রবন্ধঃ কে কার শত্রু?

বাংলাদেশীদের সাম্প্রতিক লেখা ও কমেন্ট পড়ে হ'লো ভারত বাংলাদেশীদের শত্রু। পড়ে মনে হ'লো সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে যখন পাকিস্তানের দানবীয় অত্যাচারে পূর্ব পাকিস্তান নরকে পরিণত হয়েছিল তখন ভারতের সাহায্য করাটা অন্যায় হয়েছে।

বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য ভারত শুধু সাহায্য করেনি সেদিন, পাকিস্তানের সৈন্যদের দ্বারা নারকীয় ৩০,০০,০০০ লক্ষ নাগরিকের হত্যা যজ্ঞ ও ৩-৪ লক্ষ বাংলাদেশী মা-বোনেদের ওপর নারকীয় যৌন অত্যাচার, দানবীয় নৃশংসভাবে বলাৎকার ও হত্যার বিরুদ্ধে মানবিকতাকে সর্বাগ্রে সবকিছুর ওপরে গুরুত্ব দিয়েছিল, ইজ্জৎ দিয়েছিল, শ্রদ্ধা সম্মান জানিয়েছিল, মায়েদের ইজ্জত ও জীবন রক্ষা এবং বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ নাগরিকদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিল সেদিন ভারত। ১ কোটি বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিক ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল সেদিন, তিন কোটি বাংলাদেশী বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হয়।
এইটা যেন ভুলে না যায় বাংলাদেশ সেই দিন ভারত যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিত তাহ'লে পৃথিবীর মানচিত্রে আজকের বাংলাদেশের মানচিত্র থাকতো না, আজকের ৫৩ বছর পরের সাজানো নিরাপদ বাংলাদেশে বসে এই কথা বলতে পারতো না আজকের বাংলাদেশের শাসক ও জনগণ। ভারত আজ বাংলাদেশের শত্রু! আর, পাকিস্তান বাংলাদেশের মিত্র!!!! যে যে দেশ সেদিন পাকিস্তানের সীমাহীন অত্যাচারের পক্ষে ছিল, পাকিস্তানের মদতদাদা ছিল, বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে ছিল, বাংলাদেশকে সেদিন সাহায্য করার অপরাধে ভারতের বিরুদ্ধে ভয়ংকর রক্তচক্ষু দেখিয়েছিল সেই সেই দেশ আজ আপনাদের বন্ধু!!!!!!?

বেঈমানি, নেমকহারামী, অকৃতজ্ঞতা; এর থেকে ঈশ্বরের রাজ্য বড় অপরাধ আর কি হ'তে পারে? ঈশ্বর বা আল্লা বা গডের রাজ্য বেঈমানি, নেমকহারামী, অকৃতজ্ঞতা সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ঘৃণ্য ও ক্ষমাহীন অপরাধ এই কথা যেন ভুলে না যায় বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের শাসক।

আজ বাংলাদেশের শাসক ভারতের বিরুদ্ধে মণিপুরের আন্দোলন নিয়ে মানবতা ধ্বংসের কথা ব'লে বিচ্ছিন্নতাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদদ দিতে চাইছে এবং একইসঙ্গে নিজের দেশের অভ্যন্তরে ঘটে চলা ঘটনা থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে চাইছে। ফলে বিশ্বের কাছে নিজেদের দেশকে ও নিজেদের হাস্যকর দেশে ও হাস্যকর মেধার অধিকারীতে পরিণত করেছে।

ভারত মণিপুরের ওপর সেদিনের পাকিস্তানের মত বাংলাদেশের ওপরে চালানো ঐতিহাসিক নারকীয় কোনও যৌন অত্যাচার ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়নি। এই সমস্ত আন্দোলন বাংলাদেশে সদ্য ঘটে যাওয়া গভীর ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলনের মত ভারতকে টুকরো টুকরো করার আন্দোলন, ষড়যন্ত্র ছিল। এরকম বহু আন্দোলন ষড়যন্ত্র বৈদেশিক শক্তির সাহায্যে ভারতে আগেও হয়েছে, এখনও হ'য়ে চলেছে। এবং বর্তমান বাংলাদেশের অবৈধ শাসক মহম্মদ ইউনুস ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্সকে ছিন্ন করার কথা প্রকাশ্যেই বলেছিল ৮ই আগষ্ট'২৪ বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা অন্যায়, অনৈতিক ও অবৈধভাবে গ্রহণ করার দিনে। ভারত জানে কি ক'রে এইসব শক্তির মোকাবিলা করতে হয়। ১৯৭১ সালে সেইদিনের বিদেশী শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি বাংলাদেশের ভিতরে তলে তলে যেমন পাকিস্তানকে সাহায্য করেছিল ঠিক তেমন এবং আজ যেমন বাংলাদেশের ৫৪ বছরের স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস ক'রে ছদ্ম ছাত্র রাজনীতি, ছদ্ম ছাত্র আন্দোলন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে যে ষড়যন্ত্র সংগঠিত হ'লো এবং পরিবর্তন হ'লো ঠিক একইরকম ছিল ভারতের বুকে বহু আন্দোলন রাজ্যে রাজ্যে।

তাই কে কার শত্রু তা' সময় দেখিয়ে দেয়, দেখিয়ে দেবে। সময় সবসে বড়া বলবান। ( লেখা ১০ই সেপ্টেম্বর' ২০২৪ )

Tuesday, September 9, 2025

প্রবন্ধঃ এটাই বোধহয় ভবিতব্য।

আমরা ঘুমিয়ে আছি!

পুরুষোত্তম আর দেবদেবী কি একই হ'লো? অন্যান্য পুরুষোত্তমের সঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুরের সম্পর্কটা কি?

কিছু সৎসঙ্গী নিজেই জানে না কখন কি লিখছে, পরস্পর বিরোধী মন্তব্য করছে আর কখন কোথায় কার কথায় কি সমর্থন করছে ও বিতর্কের সৃষ্টি করছে। একেই বলে ব্যভিচারী ভক্তি।

যারা পুরুষোত্তমদের নিয়েও বহুনৈষ্ঠিকতার কথা তোলেন তারা দেখাতে পারবেন পূর্ব রূপের পুরুষোত্তমদের নিয়ে বহুনৈষ্ঠিকতার উদাহরণ স্বরূপ শ্রীশ্রীঠাকুরের কোনও বাণী আছে?

কিছু সৎসঙ্গী কি যে বলতে চাইছে আর কিছু পাঠক কি বুঝতে পারছে সেটা আজ দুর্ভাগ্যের বিষয় হ'য়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ তারা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে দেবদেবতার সঙ্গে একই আসনে বসানোর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখাকে সমর্থন করছে এবং ঠাকুরঘরেও শ্রীশ্রীঠাকুরের পাশে পূর্ব পূর্ব পুরুষোত্তমের ছবি রাখা মানেই শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতি ভক্তির গাঢ়ত্ব কমে যায় ও বহুনৈষ্ঠিকতার চর্চা হয় এ বক্তব্যকে স্বীকার করছেন, প্রতিষ্ঠা করছেন জোরালোভাবে। শ্রীশ্রীঠাকুরকে নিয়ে কিছু কিছু সৎসঙ্গীদের অদ্ভুত এক উগ্র ভক্তি।

পুরুষোত্তম আর দেবদেবীদের অবস্থান নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন তাদের উদ্দেশ্যে আরও সহজভাবে যদি বলা যায় তাহ'লে বলা যেতে পারে পরম প্রেমময় পুরুষোত্তম পরমপিতা জীবন্ত ঈশ্বর শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীহজরত মহম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ও সর্বশেষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র যদি হন সূর্য তাহ'লে সূর্যের যেমন কিরণ আছে ঠিক তেমনি সূর্যের কিরণ স্বরূপ দেবদেবীরা হ'লো জীবন্ত ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণাবলীর বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিফলন। তাই পুরুষোত্তম আর দেবদেবীদের একই আসনে বসানোর ব্যাপারে এই সূক্ষ্ম সতর্কতা জরুরী। সূর্যের মধ্যে কিরণের যেমন অবস্থান ঠিক তেমনি পুরুষোত্তম পরমপিতা জীবন্ত ঈশ্বরের মধ্যে মুনি ঋষিদের তপস্যাসঞ্জাত উপলব্ধি থেকে উদ্ভূত এক ও অদ্বিতীয়ের শক্তি ও গুণাবলী সমৃদ্ধ বিভিন্ন দেবদেবীর অবস্থান।

আর, পুরুষোত্তমদের নিয়ে বহুনৈষ্ঠিকতার বিষয়ে যারা যে পোষ্ট করেছেন ও করছেন সেটার ওপর আমার যে বক্তব্য ছিল সেই বক্তব্যের মধ্যে আমার বোঝার ভুল আছে ব'লে সৎসঙ্গী কেউ কেউ আমার বক্তব্যের বিরোধীতা করেছেন। তাদের কাছে আমার অনুরোধ ছিল ও আছে যে, কোনওরকম অপ্রাসঙ্গিক কথা না টেনে আমার বক্তব্যের মধ্যে বোঝার ভুল আছে শুধু একথা না ব'লে বক্তব্যের মধ্যে ভুলটা কোথায় আছে সেই ভুলটা যুক্তি দিয়ে ধরিয়ে দিন। আর, যিনি বা যারা শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের পাশে পূর্ব পূর্ব পুরুষোত্তমদের ফটো রাখা নিয়ে বহুনৈষ্ঠিকতার প্রশ্ন তুলে অকারণ বিতর্ক সৃষ্টি করছেন ও এই লেখার বিষয় নিয়ে পোষ্ট করেছেন তার বা তাদের যদি বোঝার ও বোঝানোর ভুল হ'য়ে থাকে ব'লে মনে করেন পাঠক, যিনি আমার বক্তব্যের বিরুদ্ধতা ক'রে তাদের পক্ষে মন্তব্য করেছেন, তাহ'লে তার দায় পোষ্টদাতার পক্ষ অবলম্বনকারী পাঠক কি অন্যের ঘাড়ে চাপাতে পারেন? যিনি পুরুষোত্তমদের নিয়েও বহুনৈষ্ঠিকতার কথা তুলে পোষ্ট করতে পারেন সেই তিনি বোঝাতে যদি ভুল করেন তাহ'লে অনেকেই তাঁর মতো বুঝতে ভুল শিক্ষা পাবে, আবার অনেকে তার ভুলটাকে ভুল ব'লে ধরিয়ে দেবে এটাই তো স্বাভাবিক; তাই নয় কি? নাকি উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেবো সৎসঙ্গীরা?

আর এখানে চোখে আঙ্গুল দাদা হওয়ার বিষয়টা কি প্রাসঙ্গিক? পাঠক যদি একজন সমাজ সচেতন শিক্ষিত মানুষ হন তাহ'লে তিনি কি তাঁর চারপাশে যদি ভুল কিছু দেখেন তাহ'লে তার গঠনমূলক প্রতিবাদ করবেন না? ঠাকুর কি আমাদের ভুল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গঠনমূলক প্রতিবাদ না করার শিক্ষা দিয়েছিলেন নাকি? তার উপর যদি সে আমার গুরুভাই হয়, একজন সৎসঙ্গী হয় তখন কি আমার কোনও দায়দায়িত্ব থাকে না তাকে যাজন করার? ঠাকুর কি এরকম 'আমার গায়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা' মানসিকতার অধিকারী হ'তে শিখিয়েছিলেন দীক্ষা নেওয়ার সময়? কারও ভুল ধরিয়ে দিলেই নিজেকে কি মহাপন্ডিত ভাবা হয়? তাঁকে মহাপন্ডিত ব'লে ব্যাঙ্গ করতে হবে সৎসঙ্গীদের? আমার ভুল কথার জন্য যদি ঠাকুরের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, ঠাকুরের দর্শন বিকৃত হয়, সর্বোপরি আমার ক্ষতি হয় আর পাঠক যদি ঠাকুরের দীক্ষিত হন, সৎসঙ্গী পাঠক যদি বুঝতে পারেন আমার ভুলটা কোথায়, তাহ'লে সেটা যদি পাঠক আমায় ধরিয়ে দেয় আমি পাঠককে মহাপন্ডিত ভাববো? আমার যদি কোনও ভুল সত্যি সত্যিই থাকে আর তা যদি পাঠক ধরিয়ে দেন তাহ'লে তো পাঠক আমার হিতাকাঙ্খী। পাঠক আমার পরম বন্ধু। কেন 'ভুল শোধরাতে ব্যস্ত ব'লে' পাঠককে ব্যঙ্গ করবো? পাঠক যদি আমার তাঁর জ্ঞানের আলো দিয়ে আমার অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর ক'রে দেন তাহ'লে কেন তাঁকে খোঁচা মেরে বলবো, প্রদীপের নীচে অন্ধকার? এটা তো সত্যকে অস্বীকার করা। সচেতন ইষ্টপ্রাণ পাঠকের প্রতি ইর্ষা করা। এটা তো স্ট্রং ইগোর ব্যাপার। আর প্রদীপ যে আলো দেখায় সেই আলোতে তো সামনের অন্ধকার দূর হয় আর মানুষ সামনে এগিয়ে যায়; তার নীচে অন্ধকার তো প্রদীপের শিখার নয়, সেই অন্ধকার তো প্রদীপের। একথা শ্রীশ্রীআচার্যদেব পরিষ্কার ক'রে ব'লে বুঝিয়ে আমাদের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর ক'রে দিয়েছেন। এটা অনেকের জানা নাই থাকতে পারে। আর, একটা বাজে লোকও তো কখনো কখনো ভালো কথা বলে। তাই ব'লে কি তার ভালো কথাটা বাজে হ'য়ে যায় বাজে লোকটার মতো?

এবার আসি অকারণ দোষারোপ করা প্রসঙ্গে। পুরুষোত্তমদের নিয়েও বহুনৈষ্ঠিকতার কথা তোলা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে আমার উত্তেজিত হওয়া কোথায় দেখতে পেলেন আমার বিরুদ্ধ সমালোচক? আলোচনা বিস্তার লাভ করলেই তার মধ্যে উত্তেজনা দেখতে পান? কারও ব্যক্তিগত ব্যাপারে আমি যদি নাক গলায় সেখানে সেই ব্যক্তি আমাকে বলতে পারেন আমায়, 'আপনি বিচার করার কে, আপনি বলার কে?' কিন্তু যখন শ্রীশ্রীঠাকুর নিয়ে কেউ কথা বলবেন তখন আমার ঠাকুর নিয়ে যদি কোনও কথার মধ্যে দিয়ে ভুল বার্তা যায়, যে কথায় আমার ঠাকুরের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় তখন আমার অধিকার থাকে সেখানে ভুল বক্তব্যকে খন্ডন ক'রে আমার ঠাকুরকে ডিফেন্ড করার। এটা আমার নৈতিক দায় ও কর্তব্য।

আবেগ থাকা ভালো, নিশ্চয়ই ভালো। কিন্তু আবেগের বশে ভেসে গিয়ে ভুল বলা ভালো নয়। আবেগের বশে ঠাকুরকে ভুল ভাবে তুলে 
ধরা, পরিবেশন করা ঠিক নয়। মহাপন্ডিত, মহাযোগী, মহাজ্ঞানী, ঈশ্বরকোটি পুরুষরা শ্রীশ্রীঠাকুরকে, শ্রীশ্রীঠাকুরের ব'লে যাওয়া কথাকে বুঝতে পারেনি ও পারছে না, বুঝতে হিমশিম খেয়েছে ও খাচ্ছে সেখানে আমাদের মতন সাধারণ, অতি সাধারণ জীবকোটি মানুষের তাঁর সম্পর্কে কোনও কথা বলার আগে হাজারবার ভাবা উচিত, হাজারবার জন্ম নিতে হবে।

আমি যদি জানি আমার ঠাকুরই শ্রীশ্রীরাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ তাহ'লে কেন আমার মন বিচলিত হবে, কেন আমি সত্যের মার্গ থেকে সরবো? সত্য যদি শ্রীশ্রীঠাকুর হন তাহ'লে সত্য তো শ্রীশ্রীরাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর অন্যান্য রূপও। তাহ'লে কেন আমি বিভ্রান্ত হবো? তিনি তো একজনই আর একজনই তো বারেবারে এসেছেন। শ্রীশ্রীঠাকুর যদি আবার মানুষ রূপে আসেন তখন আমি ঠাকুরকে ছেড়ে দেবো, নাকি তাঁকে ভুলে যাবো? নাকি অতি ভক্তিতে তাঁর নোতুন রূপকে নিয়ে মেতে উঠে ভক্তির আবেগে কথার ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরকে জীবন থেকে সরিয়ে দেবো? যদি জীবন থেকে সরিয়ে দিই তবে প্রকৃত ভক্ত হবো? আর যদি নোতুন রূপকে নিয়ে পুরোনো রূপের কাছে বসে থাকি সেটা বহুনৈষ্ঠিকতা হবে? তাহ'লে পরমভক্ত শ্রীহনুমান কি বহুনৈষ্ঠিক ছিলেন? তিনি তো শ্রীকৃষ্ণকে পেয়েছিলেন, বলেছিলেন,
শ্রীনাথে জানকীনাথে অভেদঃ পরমাত্মনি |
তথাপি মম সর্বস্বঃ রামঃ কমললোচনঃ ||

আর যদি বিভ্রান্ত হ'ই, আমার পদস্খলন হয় তাহ'লে বুঝতে হবে আমার পুরুষোত্তমকে বোঝার ঘরে অসম্পূর্ণতা আছে, আছে অজ্ঞানতা, আছে ভক্তিতে গলদ।

পূর্বতন বিগ্রহ দিয়ে কি করবেন এই কথা সৎসঙ্গীদের মুখে? এ কথার মানে? এই কথা আমার সমালোচক ও তার সমর্থনকারীরা কোথায় পেলেন? শ্রীশ্রীঠাকুর কোথাও বলেছেন নাকি এই ধরণের কথা? নাকি নিজেদের অপরিপক্ক অজ্ঞানতা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবেন? শ্রীশ্রীঠাকুরের পূর্ব পূর্ব রূপকে ঘরে রাখার জায়গার অভাবের কারণে অনেকে শ্রীশ্রীঠাকুরের পুর্ব পূর্ব রূপকে ঘরে রাখতে পারেন না আর শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতি ভক্তির গাঢ়ত্বের কারণে পূর্ব রূপের আর প্রয়োজন নেই কিংবা পূর্ব রূপের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে পূর্ব পূর্ব রূপের ফটো রাখেন না, এই প্রশ্ন কি এক? আমরা সমস্ত সৎসঙ্গীরা কি জানি ঠাকুর বাড়িতে পূর্ব পূর্ব পুরুষোত্তমের জন্মদিন পালন হ'তো? শ্রীশ্রীঠাকুরই যদি শ্রীশ্রীকৃষ্ণ হ'য়ে থাকেন তাহ'লে তাঁর প্রতি তো আমার ভালোবাসা আরও গভীর হবে। সৎসঙ্গীরা শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীমহম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু, শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকে এত গভীর ভালোবাসতে শিখেছে শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে এসেই। এরকম নিখুঁত অটুট অস্খলিত ভালোবাসা সৎসঙ্গ শিখিয়েছে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে; যার ফলে গড়ে উঠছে ধীরে ধীরে এক মহামিলন ক্ষেত্র। পুরুষোত্তমদের সম্পর্কে অজ্ঞানতার কারণে এবং মিথ্যে, ভুল ও বিকৃত প্রচারের কারণে ভয়ংকর এক সর্বনাশা ভাঙ্গার খেলার যে বিষাক্ত হিংস্র নেশা পুরুষোত্তমদের অনুগামীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে সংক্রামিত হয়েছে সেই নেশার ঘোর অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠে নোতুন পৃথিবীর প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের প্রতিটি সম্প্রদায়ের প্রতিটি অস্তিত্বের সঙ্গে অস্তিত্বের যে মহামিলনের ডাক দিয়েছেন শ্রীশ্রীঠাকুর, এটা গভীর বোঝার ব্যাপার।

তাই শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র তাঁর পূর্ব পূর্ব রূপ শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীহজরত মহম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু ও শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণকে অধিকার করেই নোতুন রূপে এসেছেন কলিযুগে আমাদের যুগের মত ক'রে পরিচালনা করবার জন্য, 
আমাদের আগামী ঘোর কলিযুগের ভয়াবহতার হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য। তাই তাঁর পূর্ব পুর্ব রূপ ও তিনি, তাঁর অতীত ও বর্তমান রূপ এক ও অদ্বিতীয়। আমরা সবাই পৃথিবীর ৮০০ কোটি মানুষ সেই একেরই অনুগামী যিনি মানুষের মাঝে মানুষ রূপে বারবার নেমে এসেছেন। কিন্তু আমরা মানুষেরা, বিশেষ ক'রে সৎসঙ্গীরা সেই মহামিলনের আহ্বান বুঝতে চাইছি না, শুনতে চাইছি না। আমরা ঘুমিয়ে আছি প্রায় ১০কোটি লক্ষ্যে ছুটে চলা সৎসঙ্গীরা! ভেসে চলেছি ভয়ংকর সর্বনাশা ভাঙনের দিকে, ধ্বংসের দিকে। এটাই বোধহয় ভবিতব্য।
প্রকাশ বিশ্বাস।
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।
( লেখা ১০ই সেপ্টেম্বর' ২০২৩)।


বিচিত্রা ১৭৯

'বন্ধ' রোগের কি কোনও চিকিৎসা নেই!?
এই রোগ ও রোগের প্রকোপ কি শুধুই বাংলায়!?
কবে মুক্তি!? কিভাবে মুক্তি!? 

জীবনে আদর্শ নেই অথচ মাথা উঁচু ক'রে বাঁচার ইচ্ছা আছে!
সততা অভিধানে থাকে বাঁধা, সততার মাথায় টাকার বান্ডিল নাচে!!

সততা কি কোনও বস্তু যা হাতে তুলে দেখানো যায় বা মুখে বলা যায়?
সততার প্রতিফলন 'জীবন' যা চোখে দেখা যায়!

আমি অভাগা, আমার দুর্ভাগ্য,
মিথ্যে আমার জ্ঞান আর আমার পান্ডিত্য।
আমি সেই মানুষকে চিনতে পারি না,
যে মানুষে প্রকাশিত ঈশ্বরের ঈশিত্ব।

What's the difference b2in LENDIT 8 PANDIT?
No Difference! 
Pandit doesn't recognise GOD's Living incarnet 
And Lendit, i mean foolis also!!!!!!!!
( লেখা ১০ই সেপ্টেম্বর' ২০১৮)

What's the difference be2in haves & have-nots!?
Nothing.
Donohi putla (Unseen God) pujari!!!!

What's the difference be2in
You & Me!?
Nothing.
Donohi Sing a Song (Gan Do)!!

What's the difference b2in Honest & Dishonest?
Amazing!!!
Honest: Timid, Week & Colourless Personality.
Dishonest: Brave, Bold, Colourful Personality.

What's the difference be2in "HONESTY & DISHONESTY"!? Thinkable!!!
It depends on bundle of Rupee!!
( লেখা ১১ই সেপ্টেম্বর' ২০১৮ )
































































































Thursday, September 4, 2025

প্রবন্ধঃ নারী।

নীচের কবিতাটা আমার নয়। এই কবিতাটা ভেবেই আমার এই লেখা।

নারীকে কি শুধু এই রুপেই দেখা যায়? নারীর অন্য কোনও রুপ চোখে পড়েনি? নারীকে শুধু ট্রেনে, মিছিলে, ফুটপাতে, মাঠেই চোখে পড়ল, পড়লো না মন্দিরে মন্দিরে নারীকে জগজ্জননী মহামায়া রূপে? নারীকে শুধু বারাঙ্গনা হিসাবেই চোখে পড়ে বীরাঙ্গনা হিসাবে চোখে পড়েনি? দেখেছো নারীকে কঠিন কঠোর রূপে দেখনি কি তাঁরে স্নেহ ও মমতাময়ী কোমল মিষ্টি মাতৃরূপে? হিসাব মেপে অভাবের সংসার চালাতে যে নারীকে দেখেছো সে যে সাক্ষাৎ মা অন্নপূর্ণা, সে রূপ চোখে পড়েনি? নারীকে দেখেছো লাঞ্ছিত হতে আর ঠোঙা বানাতে কিন্তু দেখনি কি তাঁকে মহাপ্রলয়ের ভয়ংকরী রূপে সেই অসুর ঠ্যাঙ্গাতে? অসুর কি নারী না পুরুষ? নারীকে শুধুই দেখেছো অসুস্থ স্বামীর শয্যাপাশে? দেখনি তুমি কখনো নারীর সেই বহুরূপ? স্ত্রীরূপ ছাড়াও কখনো মা, কখনো কন্যা, কখনো বোন, কখনো প্রেমিকা, কখনো বা নার্স রূপে অসুস্থ, বিপদগ্রস্থ পুত্র-কন্যা, পিতা-মাতা, ভাই-প্রেমিক ও রোগীর পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মত দেখনি কি নারীর বরাভয় হাতে সেই অপুর্ব রূপ? বন্ধু কে বলে পুরুষ শুধু নারীকে নারী করে রেখেছে? ডালে আর চালে খিচুড়ি বানালেই তো হবে না বন্ধু। এটা যেন আমরা ভুলে না যায় চোর, গুন্ডা, বদমাশ, মদো-মাতাল, লম্পট ইত্যাদি এবং মহান ও মহীয়সী নারী-পুরুষ উভয়ের জন্মদাতা নারী! এমনকি স্বয়ং ভগবান, ঈশ্বর, আল্লা বা গড-এরও জন্মদাতা নারী!!!!!!!! হে নারী তোমায় শতকোটী প্রণাম।

নারীর একটাই রূপ আর সেই রূপ সর্বোচ্চ রূপ তা হ'ল নারী মাত্রেই মা আর নারীকে নারী না রেখে কি পুরুষ করে রাখবো, না-কি পুরুষকে নারী করে রাখবো? নারী-পুরুষ উভয়েই আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কেউ কারো থেকে ছোটো বা বড় নয়। পুরুষ কখনো নারীকে ছোটো চোখে দেখেনি। কাপুরুষ বা বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে ডুবে থাকা রিপুতাড়িত সীমাহীন ভাঙাচোরা পুরুষত্বহীন পুরু্ষের ঘৃণ্য চোখ নারীকে অন্যরূপে দেখতে পারে কিন্তু শিক্ষিত পুরুষ, যথার্থ পুরুষই নারীকে শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে মাতৃরূপে পুজা করে। আবার নারীও কখনো নারীর আব্রু, ইজ্জৎ, সম্মান পথের ধুলায় বা পুরুষের কাছে লুটিয়ে দেয়নি। কতিপয় সেই বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে ডুবে থাকা রিপুতাড়িত সীমাহীন ভাঙাচোরা নারীত্বহীন আনাড়ি নারী নারীর শত্রু হয়ে দেখা দিয়েছে। পুরুষের ক্ষেত্রেও পুরুষ আরও বেশী হয়তো বা নিষ্টুর, নির্মম।
তাই নারী-পুরুষ উভয়ই মানুষ হলেও প্রকৃতিভেদে বৈশিষ্টানুযায়ী নারী নারীই আর পুরুষ পুরুষই। একটি ভিন্ন অপরটি অসম্পূর্ণ। কেউ কারো থেকে বড় বা ছোট নয়। দুজনেই দুজনের পরিপূরক, ঈশ্বরের মহান সৃষ্টি!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
তাই কতিপয় পুরুষত্বহীন কাপুরুষ ও নারীত্বহীন আনাড়ি-র জন্য সমগ্র পুরুষ-নারীকে ডালে-চালে মিশিয়ে সবসময় খিচুড়ি বানিয়ে দিয়ে বিচার করলে চলবে না। ডাল-চালের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য ও তার খাদ্যগুণ বজায় রেখেই তাকে গ্রহণ করতে হবে। 
( লেখা ৫ই সেপ্টেম্বর'২০১৫)


Tuesday, September 2, 2025

প্রবন্ধঃ বাঁচা-বাড়াকে মূলধন ক'রে ধর্মান্তর পাপ।

একটা ভিডিও দেখছিলাম। বাংলাদেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে মানুষ। যিনি বা যাঁরা ত্রাণ সামগ্রী বিলি করছেন তাঁরা মুসলমান আর যারা ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণ করছেন তাঁরা হিন্দু। এই ত্রাণ গ্রহণের সময় দেখা গেল মুসলমান সমাজসেবীরা হিন্দু অসহায় বিপদ্গ্রস্থ মানুষদের ত্রাণ সামগ্রী হাতে তুলে দেওয়ার আগে নারীপুরুষ, শিশু, যুবকযুবতী, বৃদ্ধবৃদ্ধা সবার শরীরের হাতে, গলায়, কোমরে বাধা দড়ি, তাবিজ, মাদুলি খুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। বিপদ্গ্রস্থ অসহায় মানুষ নির্বিরোধভাবে সেটা মেনে নিয়ে ত্রাণ সামগ্রী হাতে তুলে নিচ্ছে।

এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো, বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, তাদের মুখে দু'মুঠো অন্ন তুলে দেওয়া, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, তাদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার যথাসাধ্য দ্রুত চেষ্টা করা মানবতার পরিচয়, মনুষ্যত্বের প্রমাণ। বিপদ্গ্রস্থ মানুষের তখন কোনও ধর্ম থাকে না, তখন তাদের একটাই ধর্ম বাঁচার অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরা। এই কঠিন দুঃসময়ে যারা বিপদ্গ্রস্থদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে তাদেরও একটাই ধর্ম মানুষের বাঁচাকে ও বেড়ে ওঠাকে ধ'রে রাখা। বাঁচা ও বাড়াকে যা যা ধ'রে রাখে সেই ধ'রে রাখার অবলম্বনকে বিপদ্গ্রস্থদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার, হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে ক্রমাগত সচল রাখার ও ক্রমবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে কর্মযজ্ঞ তাকে ধ'রে রাখাকে আমরা মানব ধর্ম বলি।

যাই হ'ক, বাংলাদেশের এই বিপদের দিনে যারা বিপদগ্রস্থদের জন্যে ত্রাণ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি সমস্ত সম্প্রদায়ের, সমস্ত ধর্মমতের মানুষ সমস্ত সম্প্রদায়ের, সমস্ত ধর্মমতের মানুষের জন্য তার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষ ও তাদের পাশে দাঁড়ানো সমস্ত মানুষের জন্য পরমপিতা দয়ালের কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করি, প্রার্থনা করি, হে দয়াল, হে পরমপিতা তুমি তাদের সকলকে তোমার অজচ্ছল দয়ায় সিক্ত ক'রে তোলো।

কিন্তু সেই বিপদের দিনে মানুষের বাঁচা-বাড়াকে মূলধন ক'রে ধর্মান্তর করার মানসিকতা পাপ, মহাপাপ।
( লেখা ৩রা সেপ্টেম্বর'২৪)

Monday, September 1, 2025

বিচিত্রা ১৭৮

তিনি আছেন আর আপনি আছেন
ব্যস আর কি চাই?
সবসময় বিন্দাস থাকুন।
ফুর্তিতে থাকুন। আনন্দে থাকুন।

আপনি ঠাকুর ধরেছেন মানে
আপনার একজন আছে যাকে
আপনার মনের সব কথা বলতে পারবেন,
তাঁর সঙ্গে কথা বলুন।

আপনার বিপদের দিনে, সমস্যার দিনে
কেউ নেই মানে আপনি কোনোদিন
কারও জন্য ছিলেন না। ঠিক আছে।
কিন্তু ঠাকুর আছে আপনার, ভয় কি?
আপনি ঠাকুরকে গ্রহণ করেছেন জীবনে,
তারপর তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন,
তাঁর জন্য কিছু করেননি, করেননা।
কিন্তু ঠাকুর আপনাকে ছাড়েননি।
( লেখা ১লা সেপ্টেম্বর' ২০২৪)