Powered By Blogger

Saturday, November 8, 2025

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ( ২য় পর্ব)।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ নোংরা ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় হিন্দু মুসলমানদের পরস্পরের মধ্যে হিংসার বীজ পুঁতে দিল তারপর রক্তক্ষয়ী নৃশংস লড়াই লাগিয়ে দিয়ে ভারত ভাগ ক'রে দিয়ে চলে গেল। ২০০ বছর ধ'রে ভাতবর্ষকে ভোগ করার পর অকৃতজ্ঞ নেমকহারাম বেইমান ব্রিটিশ ভয়ংকরভাবে ক্ষতবিক্ষত ক'রে দিয়ে গেল ভারতকে, বিশেষভাবে পাঞ্জাব ও বাংলাকে। কিন্তু দাঙ্গা বন্ধে কোনওরকম সাহায্য করলো না বৃটিশ। তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছিল দুই সম্প্রদায়ের রক্তের হোলি খেলা। দেশভাগের ফলে ধর্মীয় ভিত্তিতে ১ কোটি ২০ লক্ষ থেকে ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় আর মৃত্যু হয় ২০লক্ষ মানুষ। তৎকালীন মহান নেতারা সবাই চুপ ক'রে উপভোগ করেছিল সেই ধ্বংসযজ্ঞ।

যাই হ'ক, ভারত ভাগ হওয়ার পর ২৪বছর পর স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান আবার দু'ভাগে ভাগ হ'য়ে যায় ১৯৭১ সালে। পাকিস্তান হ'লো মুসলিম দেশ। কিন্তু সেই মুসলিম দেশ পাকিস্তান তার অংশ পূর্ব পাকিস্তানকে দাবিয়ে রাখতে চাইলো ভাষার ভিত্তিতে, বাংলা ভাষাকে নিশ্চিহ্ন করতে চাপিয়ে দিতে চাইলো বাঙালীদের ওপর উর্দু ভাষাকে। ফলে ধীরে ধীরে সুকৌশলে মুসলমানদের বাংলা ভাষা হ'য়ে গেল অদ্ভুত এক উর্দু ও বাংলা মিশ্রিত ভাষা, হারিয়ে গেল বাংলা ভাষার নিজস্ব মাধুর্য।

অখন্ড ভারতবর্ষের অখন্ড বাংলার (বঙ্গ) পুর্ব ও পশ্চিম অংশকে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পরে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের পূর্ব অংশকে পূর্ববাংলা বলা হ'তো।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের পূর্ব অংশ পূর্ববাংলায় একমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করা হয়। সেইসময় এর প্রতিবাদে ১৯৪৮ সালে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয় এবং ১৯৫২ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে।

বাংলা ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে হ'লো বাঙালীদের সংগ্রাম এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানে্র পূর্ব অংশ পূর্ববঙ্গের বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, উর্দুর পাশাপাশি। এবং এই ১৯৫৬ সালেই পাকিস্তান তার পূর্ব অংশ পূর্ববাংলার নাম পরিবর্তন রাখে পূর্ব পাকিস্তান। দেশ থেকে সুকোশলে মুছে দেওয়া হ'লো বাংলা শব্দটা।

বাঙালি জাতীয়তাবাদকে দুর্বল করার যে শয়তানী প্রচেষ্টা করেছিলো বৃটিশ ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ ক'রে বাংলা্র পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ নামে তার ফলে দেশজুড়ে, বিশেষত বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের জন্ম হয়, যাকে বলা হ'তো 'স্বদেশী আন্দোলন'। এইসময়েই কলকাতা থেকে রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয় এবং বাংলাকে দু'ভাগ করার ফলে দুই বাংলার প্রশাসনিক দপ্তরগুলিকে পুনর্বিন্যাশের প্রয়োজন হ'য়ে পড়ে ফলে ব্রিটিশ বঙ্গভঙ্গ বাতিল ক'রে পুনরায় বঙ্গকে একত্রিত করে। কিন্তু শকুনের নজর যেমন ভাগাড়ের দিকে থাকে ঠিক তেমনি ব্রিটিশের অন্তরেও তাই ছিল ভারতকে তো ভাগ করবোই সঙ্গে বাংলাকেও ভাগ করবো। তাই-ই সাময়িক এক হলেও শেষ পর্যন্ত ৪২বছর পর ১৯৪৭ সালে বাংলাকে ভেঙে দিতে সফল হয়েছিল ব্রিটিশেরা। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপিন চন্দ্র পাল, কৃষ্ণ কুমার মিত্র, বাল গঙ্গাধর তিলক, অরবিন্দ ঘোষ ইত্যাদি 'স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রধান প্রধান মানুষগুলির অনুপস্থিতি ব্রিটিশের অখন্ড বাংলাকে পুনরায় ভাগ করার সুযোগ এনে দিয়েছিল। তখন একমাত্র শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বাংলা তথা ভারত ভাগের ষঢ়যন্ত্রকে আটকাতে।
ক্রমশ
(পরবর্তী অংশ ৩য় পর্বে)।


ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক (১ম পর্ব)।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অবসর) হাসিনুর রহমান এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, " ভারতকে ভয় পাবেন না, ভারত একমাত্র আমাদের শত্রু, তাদের জন্য ৩০০ ফাইটার জেট কিনবো।"

বহুদিন ধ'রে ভারত বিরোধীতার চর্চা চলে আসছে বাংলাদেশে। এক তো ব্রিটিশ হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কে ফাটল ধরিয়ে Divide & Rule ঘৃণ্য নীতির ওপর দাঁড়িয়ে ভারতবর্ষকে ভাগ ক'রে দিল। ভাগ ক'রে দিল ভারত আর পাকিস্তান দুই দেশ সৃষ্টি ক'রে। এবং বেইমান, নেমকহারাম ব্রিটিশ পাকিস্তানকে এমনভাবে সৃষ্টি করলো ভারতকে মাঝখানে রেখে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান অংশে অদ্ভুত এক ম্যাপে যাতে ব্রিটিশ ভারত ত্যাগ ক'রে চলে গেলেও নিজের দেশে বসে রিমোট কন্ট্রোলে পাকিস্তানকে ব্যবহার ক'রে ভারতকে পশ্চিম ও পূর্ব দু'দিক দিয়েই চাপে রাখা যায়, দু'দিক দিয়েই ভারতের অভ্যন্তরে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী অস্থিরতা সৃষ্টি ক'রে ভারতের উন্নতি ও অগ্রগতিকে ব্যহত করা যায়, আটকে রাখা যায়; যাতে ভারত বিশ্বে কখনও মাথা উঁচু ক'রে দাঁড়াতে না পারে এবং এ কাজে ব্রিটিশকে সাহায্য করেছিল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি নিজেদের স্বার্থকে পুষ্ট করার জন্য।

আর, এছাড়া ভারতের তৎকালীন নেতৃবৃন্দও ব্রিটিশের দয়ায় স্বাধীন হওয়া ও ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার জন্য এই ধরণের উদ্দেশ্যপূর্ণ ও বিকৃতভাবে দেশকে ভাগ করার জন্য কোনওরকম প্রতিবাদ করেননি। ভারতের তৎকালীন মহাত্মা, পন্ডিত, লৌহ মানব দেশনেতারা এই বিকৃত ভাগের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ করেননি। মনে প্রশ্ন জাগে, দেশের নেতৃবৃন্দ কি ব্রিটিশদের এই ধরণের ভাগের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি? ব্রিটিশরা তো সভ্য জাত ছিল তাহ'লে তারা এই ধরণের অসভ্য কাজ করলো কি ক'রে? আর ভারতের নেতৃত্বই বা কি ক'রে এমন নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনার ব্যবস্থায় সায় দিল? তাহ'লে তারা কি ব্রিটিশের এমন সর্বনাশা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বুঝতে পারেননি? নাকি বুঝেও ইচ্ছাকৃত ভাবে চুপ ছিল বা ছিল অসহায়?
ক্রমশ
(পরবর্তী অংশ ২য় পর্বে)।


শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র কে ও কেমন মানুষ?

আমার জানা অনুযায়ী শ্রীশ্রীঠাকুর একজন Abnormally normal মানুষ ছিলেন। এর বাংলায় যেটা বলা হ'তো তা' হ'লো অস্বাভাবিক ভাবে একজন স্বাভাবিক মানুষ ছিলেন।

অর্থাৎ তিনি সমগ্র জীবনে, তাঁর ৮১ বছর চলনে, বলনে, চিন্তায়, সেবায় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত এবং পরদিন সূর্যোদয় পর্যন্ত প্রতিটি মুহুর্তে তাঁর শারিরিক-মানসিক-আত্মিক ও আধ্যাত্মিক অবস্থান এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে সবকিছুই Automatically generated অর্থাৎ জন্ম থেকে দেহ ত্যাগ করা পর্যন্ত সব কিছুই স্বতঃ উৎসারিত ছিল তাঁর সমগ্র জীবনে, কোনো কিছুই তাঁকে বিন্দুমাত্র কষ্ট ক'রে বা চেষ্টা ক'রে করতে হ'তো না, যা পৃথিবীতে আর কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না, যা কিনা অস্বাভাবিক মনে হ'তো।

শ্রীশ্রীঠাকুর যখন কথা বলতেন তাঁর কথা বলার ধরণের মধ্যে শিশুর সারল্য ছিল, যখন তিনি বাণী দিতেন তখন ছড়া, বাণীগুলি পাহাড়ি ঝর্ণার মত অনবরত বাধাহীন ঝমঝম শব্দে স্বাভাবিক ছন্দে ঝ'রে পড়তো আর চারপাশ মোহিত হ'য়ে যেত। যখন তিনি হাসতেন সেই হাসিতে শিশুর হাসির ঝিলিক দেখা যেত, সেই হাসিতে থাকতো সরলতা, বিশুদ্ধতা ও স্বচ্ছতা। আর সেই হাসির মধ্যে দিয়ে আলোর ঝরণাধারার মত সহজতা তাঁর সারা শরীর ছাপিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়তো উপস্থিত মানুষের মধ্যে।

তাই, তাঁকে Abnormally normal অর্থাৎ অস্বাভাবিক ভাবে স্বাভাবিক মানুষ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এই অবস্থা একমাত্র তাঁর হয় যিনি ইষ্টের সঙ্গে In tune ( একতান) থাকেন। আর, শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং নামের নামী পুরুষ ছিলেন আর ছিলেন তাঁতে অর্থাৎ নিজের সঙ্গে In tune (একতান). তিনি নিজেই ছিলেন সৃষ্টির Central point অর্থাৎ কেন্দ্রবিন্দু, যখন 'ছিল না'-র অস্তিত্ব ছিল অর্থাৎ যখন কিছুই ছিল না, তখনও শ্রীশ্রীঠাকুর ছিলেন অর্থাৎ সময়, স্থান, বা সৃষ্টির পূর্বে তখনও শ্রীশ্রীঠাকুর একজন অনির্বচনীয় সত্তা বা শক্তি হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন, পরম সত্তা হিসেবে ছিলেন, অনন্ত সম্ভাবনার মধ্যে সুপ্ত ছিলেন।

বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সব কিছুই ছিলেন শ্রীশ্রীঠাকুর। তিনিই ছিলেন স্রষ্টা। যখন কিছুই ছিল না তখনো তিনি ছিলেন, যখন একে একে সব সৃষ্টি হ'লো তখনো তিনি ছিলেন এবং যখন কিছুই থাকবে না তখনও তিনি থাকবেন। সমাধি অবস্থায় শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন, "যখন 'ছিল না'-র সত্ত্বা ছিল, যখন কাল আসেনি, যখন শব্দ ছিল, যখন সূর্যের-চাঁদের সৃষ্টি হয় নাই, যখন বিরাট গগনের সৃষ্টি হয় নাই, তখন এক বিরাট ধ্বনি সোহহং পুরুষ ভেদ ক'রে সৃষ্টি করতে চলে এল---সেই ওম।" সেই 'ওম' বিরাট ধ্বনি-ই হলেন শ্রীশ্রীঠাকুর, আর যে সোহহং পুরুষ ভেদ ক'রে বিরাট ধ্বনি 'ওম' সৃষ্টি করতে চলে এলো সেই সোহহং পুরুষও হলেন শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এবং তাঁর পূর্ব রূপেরা। শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর সমাধি অবস্থায় পরিষ্কার বললেন, "I was the sound, Sound is my creation; therefore you are created by me." আমি ছিলাম শব্দ, শব্দ আমার সৃষ্টি; তাই তুমি আমার দ্বারা সৃষ্ট।"

আবার আমরা বাইবেলেও দেখতে পাই সেই একই কথার প্রতিধ্বনি, "In the beginning was the Word, and the Word was with God, and the Word is God".অর্থাৎ আদিতে বাক্য ছিলেন, বাক্য ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন, এবং বাক্যই ঈশ্বর”।

তাই, তাঁর সমগ্র জীবনটাই, জীবনের সবকিছুই ছিল Gorgeously simple অর্থাৎ জাঁকজমকপূর্ণ অথচ সহজ সরল, ছিল Abnormally normal মানুষ অর্থাৎ অস্বাভাবিক ভাবে স্বাভাবিক মানুষ এবং তিনি অদ্ভুত এক বুদ্ধিমান বোকা মানুষ ছিলেন অর্থাৎ ইংরেজিতে তাকে বলা হ'তো Wisely foolish!!!! জাগতিক ও মহাজাগতিক এমন কোনও বিষয় ছিল না যা তিনি জানতেন না। তাঁর সমগ্র জীবনে ৮১বছর ধ'রে ধর্ম, রাজনীতি, বিজ্ঞান, শিল্প, বিবাহ, প্রজনন, সাহিত্য, নাটক, গান, অভিনয়, চিকিৎসা, আইন ইত্যাদি ইত্যাদি জগতের সমস্ত বিষয়ের ওপর ব'লে যাওয়া তাঁর ২৪ হাজার বাণী, অজস্র প্রশ্নোত্তর পর্ব ও কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে জগতের সমস্ত সমস্যার নিখুঁত চিরকালীন সমাধান প্রমাণ করে তিনি ছিলেন সর্ব্বজ্ঞ। আর যখন বলতেন, তখন তাঁর ভঙ্গী ছিল, একজন লেখাপড়া না জানা অজ্ঞ মানুষের মতন। উচ্চশিক্ষিত পন্ডিত বিদ্বান, জ্ঞানী মানুষের সামনে তিনি অসহায় বোধ করতেন। আলাপ আলোচনার সময় বিশিষ্ট জ্ঞানী, পন্ডিত, বিদ্ধান, বুদ্ধিমান, শিক্ষিত মানুষদের সামনে বিনয়ের সঙ্গে বলতেন, আমি মুখ্যু মানুষ, লেখাপড়া শিখিনি, পুঁথিগত বিদ্যা আমার নেই, আপনারা জ্ঞানী মানুষ, পন্ডিত মানুষ, আমি কি বলতে কি বলেছি, কিছু মনে করবেন না। তারপর বিশিষ্ট জ্ঞানী, পন্ডিত, বিদ্ধান, বুদ্ধিমান, শিক্ষিত ব্যক্তিরা চলে যাবার পর তিনি উপস্থিত কেষ্টদা ও অন্যান্য বিশিষ্ট ভক্তদের বারবার জিজ্ঞেস করতেন, 'তিনি কিছু ভুল বলেছেন কিনা। অতিথিরা যাবার সময় কোনও ভুল ধারণা নিয়ে গেল কিনা।' সেইসময় ঠাকুরকে একেবারে অসহায় শিশুর মত লাগতো।

তাই তাঁকে Abnormally normal মানুষ বলা ছাড়াও Gorgeously simple, ও Wisely foolish বলা হ'তো।
আমার উপলব্ধি জানালাম, অন্য কারও অন্যরকম হ'তে পারে।


শ্রীশ্রীআচার্যদেব কে এবং কেমন মানুষ?

শ্রীশ্রীআচার্যদেব কে এবং কেমন মানুষ বুঝতে গেলে আচার্যদেবের সঙ্গ করতে হবে। তাঁর সঙ্গ করা বলতে কি বোঝায়? আচার্য সঙ্গ করারকথা বললে আবার অনেকে বিরক্ত হয়, তাদের মনোভাব, বছরে একবার ভিড়ের মধ্যে আচার্য সঙ্গ ক'রে কি হবে? ঋত্ত্বিকের গুরুত্ব তাদের কাছে অসীম, তারা ঋত্ত্বিককে আচার্যের ওপরে রাখে। আবার যারা আচার্য সঙ্গ করার কথা বলে তারা নিজেরাই আচার্য নির্দেশ ও নিদেশ মেনে চলে না। কথার স্রোতে ভাসা সব শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীআচার্য প্রেমী।

শ্রীশ্রীআচার্যদেব যখন প্রার্থনার সময় বা প্রতিদিন নাটমন্দিরে আর্ত, অর্থার্থী, জ্ঞানী ও জিজ্ঞাসু হাজার হাজার মানুষের সামনে এসে বসেন তখন তাঁর পাশে এসে বসলাম কিংবা আচার্যদেবের সামনে লাইনে দাঁড়ানো উপস্থিত দর্শনার্থী ও আর্ত, জিজ্ঞাসু মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে লাইন কন্ট্রোল করা বা তাদের কাছ থেকে তাদের সমস্যা বা নিবেদন বিষয় জেনে নিয়ে আচার্যদেবকে নিবেদন করা এই কাজকে সঙ্গ করা বোঝায়? এই কাজ করলেই আচার্যদেব কে বা আচার্যদেব কেমন মানুষ তা' বোঝা যাবে?

তা' যদি যেত তাহ'লে ঠাকুর ও ঠাকুরের স্বার্থকে প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়ে যেত আচার্যদেবের পক্ষে। ঠাকুরের সব স্বপ্ন পূরণ হ'য়ে যেত এতদিনে। কাঁকড়া চরিত্রের মানুষেরা যেমন ঠাকুরের সঙ্গ করেছে, ঘনিষ্ট হয়েছিল ঠাকুরের ঠিক তেমনি ঘনিষ্ঠ সঙ্গ করা সত্ত্বেও তাদের 'পিছন থেকে টেনে ধরার কাঁকড়া চরিত্রও' ত্যাগ করতে পারেনি। ঠাকুরের মিশন প্রতিষ্ঠার পথে তারা ঠাকুরকে, ঠাকুরের চলার গতিকে পিছন থেকে বারবার টেনে ধ'রে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এই একইরকম কাঁকড়া চরিত্রের মানুষেরা ঠাকুরের সময়ে ঠাকুরকে, ঠাকুর পরবর্তী শ্রীশ্রীবড়দাকে, তারপরে শ্রীশ্রীদাদাকে ভয়ংকর বাধা সৃষ্টি করেছে, আর তারা সবাই ছিলেন অত্যন্ত ঘনিষ্ট ও ঋত্বিক; আজও সেই কাঁকড়া চরিত্রের মানুষেরা পিছন ধ'রে টান মারার সেই বিষাক্ত ট্রাডিশান সমানে ব'য়ে চলেছে বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেবের পিছনেও।

আর দশটা মানুষের মতন আচার্যদেবও একজন রক্তমাংসের সাধারণ মানুষ। হয়তো একটু চেহারায় আলাদা চটক আছে, যা আমার চেহারায় নেই বা উপস্থিত যারা ওখানে বসেন বা লাইন কন্ট্রোল করেন তাদের নেই। যদিও আধ্যাত্মিক জগতে বা রুপোলি জগতে অনেকেরই চটক আছে কিন্তু কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ম তফাৎ লক্ষ্য করা যায় আচার্যদেবের মাঝে। হয়তো অনেকের মনে হ'তে পারে এটা আবেগ সর্ব্বস্ব ভক্তি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ কিংবা যারা তাঁর বিরোধী তাঁদের মনে হ'তে পারে এটা অয়েলিং। কিন্তু বাস্তব হ'লো, যখন আচার্যদেবের সামনে বিভিন্ন বিষয়ে সমাজের প্রতিষ্ঠিত গুণীজনেরা এসে বসেন, কথা বলেন, আলাপ আলোচনা করেন তখন স্পষ্টতই উভয়ের কথাবার্তা, আলাপ আলোচনা, চালচলন, অঙ্গভঙ্গি, হাবভাব, চোখমুখ, চোখের চাউনি, মুখের অভিব্যক্তি, হাসি, বসার ভঙ্গী, অঙ্গুলি হেলন এবং যে কোন সমস্যার নিশ্চিত সমাধান দান এই সবকিছুর মধ্যে সূক্ষ্ম তফাৎ অনুভূত হয়, একটা ঐশ্বরিক এসেন্স 'ম' 'ম' করতে থাকে আচার্যদেবকে ঘিরে, মনে হয় তাঁকে ঘিরে রয়েছে একটা অনুকূল বলয়, আর, সেই বলয়ে নিশ্চিন্তে অবগাহন করে উপস্থিত ভক্তমণ্ডলী।

শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে যখন মানুষ তাদের সমস্যার কথা নিবেদন করেন তখন তিনি সবাইকে সহজ সরল ভাবে যাকে যা বলার তাই বলেন, পরামর্শ ও নির্দেশ দেন। তাই শুনে যারা তাঁর নির্দেশ পালন করেন বা পরামর্শ মতো চলেন তারা আচার্যদেবের মধ্যে লৌকিকত্ব বা অলৌকিকত্ব টের পান বা অনুভব করেন। সেটা তারা বোঝেন, যাদের প্রাণ বোঝে। তখন শ্রীশ্রীঠাকুরের বলা "-------রেত শরীরে সুপ্ত থেকে জ্যান্ত তিনি নিরন্তর" বাণী জীবন্ত হ'য়ে ধরা দেয় আগত অকপট সহজ সরল ভক্তবৃন্দের হৃদয়ে। তখন তারা বুঝতে পারে "আজও লীলা করে অনুকূল রায়, কোনও কোনও সৎসঙ্গী দেখিবারে পায়'---এই কথার মর্মার্থ। তারা আরও বুঝতে পারে, শ্রীশ্রীঠাকুরের বলা, "যুগাবতারের অবর্তমানে তাঁতে অচ্যুত-আনতি সম্পন্ন, ছন্দানুবর্তী, জীবন বৃদ্ধির আচরণসিদ্ধ তদবংশধর ইষ্টপ্রতীক স্বরূপ থাকতে পারেন"---এই বাণীর অন্তর্নিহিত অর্থ, বুঝতে পারে কার মধ্যে ইষ্টপ্রতীক স্বরূপ বিরাজ করছেন শ্রীশ্রীঠাকুর। অকপট সহজ সরল ঠাকুর প্রাণ বোকা ভক্ত আচার্যদেবকে দেখে বুঝতে পারে শ্রীশ্রীঠাকুরের বলা "আগত যিনি, উপস্থিত যিনি —তাঁ'র বিগতিতে বা তিরোভাবে তাঁর বংশে যদি তাঁ'তে অচ্যুত – সশ্রদ্ধ – আনতি-সম্পন্ন,প্রবুদ্ধ-সেবাপ্রাণ,তৎবিধি ও নীতির সুষ্ঠু পরিচারক ও পরিপালক, সানুকম্পি-চর্যানিরত , সমন্বয়ী সামঞ্জস্য - প্রধান,পদনির্লোভ , অদ্রোহী , শিষ্ট-নিয়ন্ত্রক,প্রীতিপ্রাণ — এমনতর কেউ থাকেন —তাঁরই অনুগমন ক'রো"----এই বাণী কতটা সত্য, স্পষ্ট, জীবন্ত হ'য়ে উঠেছে আচার্যদেবের জীবনে!!!!

অর্থাৎ এর থেকে বোঝা গেল ঠাকুরকে ও ঠাকুরের বাণী বুঝতে গেলে ঠাকুরের জীবন সম্পর্কে একজন গভীর উপলব্ধিবান মানুষের প্রয়োজন, প্রয়োজন তাঁর বাণীগুলো হাতে কলমে আচরণ ক'রে ক'রে যিনি সিদ্ধ হয়েছেন, যিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশ ও নিদেশ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত শুধু ও শুধুমাত্র করার স্রোতে ভেসে আচরণ সিদ্ধ হয়েছেন, এছাড়া যার জীবনে অন্য আর কোনও কাজ ছিল না, নেইও অর্থাৎ নিখুঁত আচরণসিদ্ধ পুরুষ হয়েছেন যিনি, গাছের পাতা্র ওপর পড়া বৃষ্টির জলের ফোঁটায় বৃষ্টি শেষে বিরাট সূর্য্যের প্রতিফলনের মত যাঁর জীবনে ঠাকুর উদ্ভাসিত হয়েছেন, যাঁর মধ্যে একমাত্র ব্রহ্মজ্ঞান আরোপ করা সম্ভব, শ্রীশ্রীঠাকুরের পক্ষে তাঁর ব্রহ্মজ্ঞান অর্পন করা সম্ভব ছিল যাঁর ওপর, শ্রীশ্রীঠাকুরের অবর্তমানে তেমন একজন মানুষ যাঁকে ঈশ্বরকোটি পুরুষ বলা হ'য়ে থাকে, তেমন একজন মানুষের প্রয়োজন আমাদের জীবনে শ্রীশ্রীঠাকুরের অবর্তমানে, যাঁকে দেখলেই শ্রীশ্রীঠাকুরকে সাক্ষাৎ দেখা যাবে, বোধ করা যাবে ঠাকুরকে জীবন্ত, যাঁর মধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুর রেত শরীরে অবিরাম, অনবরত, সর্বদা, এবং অবিশ্রাম জ্যান্ত আছেন, তীব্র ভাবে পুর্ণ শক্তিতে প্রকট হয়েছেন যাঁর ভেতর তেমন একজন মানুষ আমাদের সামনে চাই, কারণ মানুষ তার জীবনের বাইরে এমন একটা মানুষকে পেতে চায় যাঁর সঙ্গ তাকে ঠাকুরের সঙ্গে যুক্ত রাখে, ঠাকুরের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় রাখে, ঠাকুরে যুক্ত রেখে তাকে সঠিক পথ দেখায়, হতাশা ও অবসাদে ডুবে হারিয়ে যাওয়া থেকে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা থেকে রক্ষা করে, দূর্গম অন্ধকার পথে আলো ধ'রে তাকে ঘরে পৌঁছে দেয়, ঠাকুরকে ধ'রে ভারমুক্ত, চিন্তামুক্ত, সংশয়মুক্ত হ'য়ে কঠিন জটিল সংসার সমুদ্র পার হ'তে সাহায্য করে, তেমন একজন মানুষ প্রয়োজন যাঁর সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং বলেছেন, "পুরুষোত্তমের অবর্তমানে তঁনিষ্ঠ, তঁত্তপা আচার্য্যই শরণীয়"।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেই আচার্য, তিনি কে? সৎসঙ্গীদের মধ্যে, শ্রীশ্রীঠাকুরের মন্ত্রে দীক্ষিতদের মধ্যে তিনি কে? তিনি কি কোনও ঋত্বিক?
উত্তর একটাই, তিনি হলেন পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা। শ্রীশ্রীবড়দা পরবর্তী ছিলেন শ্রীশ্রীদাদা এবং বর্তমান পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীআচার্যদেব বাবাইদাদা।
প্রকাশ বিশ্বাস,
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।


ভাবার সময় এসেছে।

সৌরভ গাঙ্গুলির জনপ্রিয়তা।

আমার মনে হয় এইসব কিছুর হঠাৎ সমালোচনার কারণ হ'তে পারে তাঁর নিজের কিছু পদক্ষেপ।

একটা সময় ভেবে দেখুন এই মানুষটার জনপ্রিয়তা বাংলার বুকে কোথায় ছিল। গোটা বাংলা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্তের দিনে, সেদিন ভারতের কোন ক্রিকেট খেলোয়াড় ও কোন রাজ্য বাংলার মত সরব হয়েছিল? প্রবাদ আছে, দশের লাঠি একের বোঝা। সেদিন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরের সৌরভের বিরুদ্ধে তানাশাহি মেজাজের কথা কেউ ভুলে যায়নি। ঠিক তেমনি এটাও কেউ ভুলে যায়নি যে, সেদিন সৌরভ গাঙ্গুলি ক্রিকেট জগতে একঘরে হ'য়ে গিয়েছিলেন, কেউ কিরণ মোরের স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে ভারতের ক্রিকেট বোদ্ধারা, অতীত ও সেই সময়ের ক্রিকেট নক্ষত্রেরা, ক্রিকেট সাথীরা, ক্রিকেট প্রশাসনের কোনও কর্তাব্যক্তি এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সেদিন বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করেনি, সবার সেদিন মনোভাব ছিল 'আমার গায়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা।' কথায় আছে, হাতি যখন গাড্ডায় পড়ে, ইঁদুরও লাথি মারে। সেদিন যখন মহারাজ চারপাশের চক্রান্তের শিকার হ'য়ে গাড্ডায় পড়েছিলেন তখন চুনোপুঁটিরাও লম্ফ দিয়ে ঝম্প মেরেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তখন একমাত্র গোটা পশ্চিমবাংলার সাধারণ মানুষ ও বাংলার ক্রিকেট প্রেমীরা ভারতের ক্রিকেট বোর্ড ও বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে, চক্রান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল, তার ফলস্বরুপ উৎসাহে অনুপ্রেরণায় বাংলা তথা ভারতের 'দাদা', লড়াইয়ের আইকন সৌরভ গাঙ্গুলি ফুঁসে উঠে নিজেকে আরও কঠিন লড়াইয়ের জন্য গড়েপিঠে নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছিলেন নোতুন ক'রে ইনিংস শুরু করার লড়াইয়ের জন্য, সেদিন সৌরভ গাঙ্গুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল বিরাট বিজ্ঞাপন সংস্থা কোকোকলার বিজ্ঞাপন "মুঝে ভুলে তো নেহী।" স্পর্শকাতর হৃদয় নিঙড়ানো বিজ্ঞাপন নাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলা তথা ভারতের ক্রিকেট প্রেমীদের বুক সৌরভের প্রতি অকপট ভালোবাসায়। নড়ে উঠেছিল ক্রিকেট বোর্ড, প্রশাসকবৃন্দ, বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরেদের নোংরা পাষাণ বুক। ক্রিকেট বোর্ডের, বোর্ড প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরের তানাশাহি মেজাজ সেদিন ভেঙে চুরমার হ'য়ে গিয়েছিল সমগ্র বাংলার সংঘবদ্ধ প্রতিবাদে, সেদিন দশের লাঠি একজনের বোঝা হ'য়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপরের ইতিহাস সবার জানা। ফুঁটো হ'য়ে হাওয়া বেড়িয়ে যাওয়া বেলুনের মত চুপসে গিয়েছিল বোর্ড প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরের ও অন্যান্য সৌরভ সমালোচকদের মুখ। মুখ লুকোবার জায়গা পায়নি সেদিন কেউ, নির্লজ্জ, বেহায়ার মত সৌরভের সমালোচকেরা প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিল সৌরভের প্রত্যাবর্তনের পারফরমেন্সের ইতিহাসকে। এসব কথা কেউ ভুলে যায়নি।

সেদিন বাংলার একতার মুখ আমি দেখেছি তাই আর ভারতের মুখ খুঁজতে যাইনি।

সৌরভের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে উত্থানের পিছনে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের মাস্টারমাইন্ড আনপ্রেসিডেন্টটেড প্রশাসক বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়া ও পূর্বাঞ্চলের নির্বাচক সম্বরণ ব্যানার্জীদের উদার অবদান, বলিষ্ঠ সাপোর্ট, সৌরভ গাঙ্গুলির অভূতপূর্ব লড়াকু মানসিকতা ও ক্রিকেট মস্তিষ্ক, মাঠের মধ্যে তাঁর সাহসী আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষা ও পারফরমেন্স, সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ নেতৃত্বের চোখে চোখ রেখে ও বোলারের আগুন ঝড়ানো বোলিং-এর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ব্যাটিং-এর শুরুতেই ওপেনিং-এ মোকাবিলা করা ও আগুন বোলিং-এর বিরুদ্ধে আগুন হ'য়ে নেতৃত্ব দেওয়া ও দল পরিচালনায় নেতৃত্বের গুণ, তাঁর অবসরের পর ক্রিকেট দুনিয়ায় দাদাগিরির মত টেলিভিশনের ছোটো পর্দায়ও 'দাদাগিরি' অনুষ্ঠানের আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা, বিসিসিআই সভাপতি হওয়া, আইসিসি-র সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা, বাংলা্র মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আওয়াজ সবেতেই বাংলার মানুষ দ্বিধাহীন চিত্তে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু আজ কেন সব ফিকে হ'য়ে যাচ্ছে, বিবর্ণ হ'য়ে যাচ্ছে বাংলার বুক থেকে?

তাই স্বাভাবিকভাবেই আজ সৌরভ গাঙ্গুলিকেই ভাবতে হবে এই বাংলার বুকেই তাঁর জনপ্রিয়তায় এমন ভাঁটা পড়লো কেন ও কিসের জন্য? সৌরভ গাঙ্গুলিকেই ভাবতে হবে কেন আজ বাংলা তথা ভারতের 'দাদা' ডাক আজ ম্লান হ'য়ে গেল, ফিকে হ'য়ে গেল বাংলার বুকে মানুষের মন থেকে? কেন? কেন??

আজ একবার বিগত দিনগুলোর দিকে পিছন ফিরে তাকিয়ে একান্তে ভাববার সময় এসেছে তাঁর, বাংলা তাঁকে কি দিয়েছিল আর প্রতিদানে বাংলাকে তিনি কি ফিরিয়ে দিয়েছেন?
প্রকাশ বিশ্বাস,
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।


Wednesday, November 5, 2025

বিচিত্রা ১৯৮

কোনও জাতিকে হত্যা ক'রে শেষ করা যায় না বা জয় করা যায় না তা সে যত বড় পরাক্রমী শাসক বা দেশ হ'ক না কেন যদি তার মধ্যে জমাট ক্ষীরের মতো জ্ঞান চর্চার উগ্র ক্ষিধে থাকে।

উদাহরণঃ ইহুদী জাতি।
কোনও জাতিকে জয় করা যায় একমাত্র প্রেম ভালোবাসা দিয়ে। নতুবা নয়। আক্রমণকারীর ধ্বংস অনিবার্য।

"মহাশক্তি ঘুমায় তোর হৃদয়ে তুই কেন রে মরার মতো।"
এ কথা মনুষ্যজাতীর জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তে যে মানুষের মধ্যে এই মহাশক্তি জেগে উঠবে তাকে কেউই কোনওদিনই কোনও অপশক্তি দাবিয়ে রাখতে পারবে না। এটাই সৃষ্টিকর্তা বা বিধির বিধান। শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবন দর্শন

দিনের বার্তাঃ
যে কোন সম্পর্কই নষ্ট হয়
পরস্পর পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস থেকে।
( লেখা ৬ই নভেম্বর'২০২৩)

পরম প্রেমময়ের পতাকার তলায় চরম হিংসার জীবন!!!!
দয়াল যখন ভয়াল হবেন কি করবো তখন!?

হে দয়াল!
দিনের শেষে জমার খাতা শূন্য!?
শুধু কুৎসা, নিন্দা, গালাগালিতে পরিপূর্ণ!?
এবার বিদায় দাও দয়াল ঘুরে আসি!
হাসি হাসি পড়বো ফাঁসি নয়ন জলে ভাসি!!

এবার বিদায় দাও দয়াল ঘুরে আসি!
হাসি হাসি পড়বো ফাঁসি নয়ন জলে ভাসি!!

হে দয়াল! বিচার ক'রো।
যদি ভুল ক'রে থাকি, ক'রে থাকি কোনও দোষ
তবে বিচার ক'রো।
আমি অপেক্ষায় আছি বিচার ক'রো।

হে দয়াল! দিনের শেষে কি পেলাম?
শুধু দলাদলি আর গালাগালি ভরা
ঘোর অন্ধকার রাত ভয়াল!?
( লেখা ৬ই নভেম্বর' ২০১৯)

সৎসঙ্গী মানে ঈশ্বরের সঙ্গী,,
দয়াল প্রভুর সঙ্গী।
সাবধান,
দয়াল আহত হন, আঘাত পান, ব্যথা পান
এমন কাজ ক'রো না।

যে পরিবেশে থাকলে পরে নষ্ট হয় স্কীল সেট,
সেখানে হাজার লাভ হ'লেও থেকো না,
থাকলে পরে ফেড হবে ফেট।
( লেখা ৬ই নভেম্বর' ২০১৮)





















শ্রীশ্রীঠাকুরের নামে কলকাতায় মেট্রো স্টেশন।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র নামে কলকাতায় মেট্রো স্টেশন তৈরী হচ্ছে এরকম একটা খবর ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম। ছবিতে গোলাপি রঙের করা আছে লাইনটা। সত্যি মিথ্যা ঠিক জানি না। এ সম্পর্কে আমার কোনও খবর জানা নেই। কিন্তু এই খবরকে কেন্দ্র ক'রে দেখলাম বিতর্ক দানা বেঁধেছে সৎসঙ্গীদের মধ্যে। তাদের বহু জনের তীব্র আপত্তি রয়েছে এই বিষয়ে। তাই তারা তাদের আপত্তির কথা তাদের মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে জানিয়েছে ফেসবুকে। তাদের কারও এই উদ্যোগ লজ্জার, কারও কাছে অসম্মানজনক ব'লে মনে হয়েছে।

যাই হ'ক কেন আপত্তি, কেন লজ্জা, কেন অভিযোগ, কেন অসম্মানজনক সেটা ঠিক বুঝলাম না। আমার মনে হয় যাদের আপত্তি রয়েছে এই উদ্যোগে, যাদের কাছে মনে হয়েছে এই উদ্যোগ লজ্জার, অসম্মানজনক তারা যুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্লেষণ করলে, ব্যাখ্যা করলে বিষয়টা বোঝা যায় ও সব সৎসঙ্গীদের দৃষ্টিভংগী ক্লিয়ার হয়।
এর আগেও এরকম হয়েছে। যে যেখানে পেরেছে নিজের মতো ক'রে মতামত চাপিয়ে দিয়েছে, বিষয়কে ক'রে তুলেছে বিতর্কিত বিষয়। যেন আমরা সৎসঙ্গীরা অভিভাবকহীন। কিছুদিন আগেও শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্ম উৎসবে কেক কাটা নিয়ে সৎসঙ্গীরা ফেসবুকে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। এরকম প্রায় সময়ই কোনও না কোনও বিষয়ে মতান্তর হয়। মতান্তর হ'ক কিন্তু মনান্তর যেন না হয়।

আর, এটা যেন আমরা সৎসঙ্গীরা ভুলে না যাই শ্রীশ্রীঠাকুর রেত শরীরে শ্রীশ্রীআচার্যদেবের মধ্যে অবস্থান করছেন। আমাদের কারও যদি সৎসঙ্গের কোনও বিষয়ে মনে কোনও প্রশ্ন জাগে সেই সম্পর্কে পাব্লিকলি বিতর্ক দানা বাঁধে এমন কোনও মন্তব্য করার আগে সতর্ক থাকি এবং মনে যদি কোনও সংশয় থাকে তাহ'লে আমরা যেন আচার্যদেবের কাছে জেনে নিই। তাহ'লে আমরা অহেতুক বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে পারবো। মতান্তর হলেও মনান্তর হবে না কখনোই।

আর, যেহেতু আমাদের সামনে অভিভাবক রূপে শ্রীশ্রীআচার্যদেব আছেন তখন আমরা নিখুঁত সমাধান পাবোই পাবো। অবশ্য যদি সাধারণ সৎসঙ্গীদের বিন্দুমাত্র প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকে, থাকে গভীর অনুভূতি ও তীব্র উপলব্ধি এই বিষয়ে। কারণ যারা কখনোই চাক্ষুস শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে দেখেননি, দেখলেও শ্রীশ্রীআচার্যদেবের সঙ্গ করেনি ও সঙ্গ করলেও শ্রীশ্রীআচার্যদেব যাকে যা বলেছেন এবং তাদের জটিল সমস্যা সম্পর্কিত বিষয়ে যে সমাধান দিয়েছেন তা' ভালো ক'রে শোনেন নি, বুঝতে পারেননি ও তাঁর নির্দেশ নিখুঁতভাবে পালন করেননি তারা সেই নিখুঁত সমাধান ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন না। ফলে শ্রীশ্রীআচার্যদেব কে এবং তিনি যে বাকসিদ্ধ পুরুষ তা' তাদের অভিজ্ঞতা হয়নি, অনুভব ও উপলব্ধি করতে পারেনি। এইজন্য তারা শ্রীশ্রীঠাকুরের দয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে ও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অথচ তারাই আবার অনেকেই সৎসঙ্গে, ফেসবুকে ও ভিডিওতে সাদা কাপড়ে সাজা সৎসঙ্গী হ'য়ে বই পড়ে বই হ'য়ে কথার স্রোতে ভেসেছেন ও ভাসছেন। কিন্তু যারা এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী তারা আজও অবাক বিস্ময়ে ভাবে কে এই আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা। তখন তাদের মনে পড়ে যায় শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট নাটকের সেই বিখ্যাত সংলাপ, “THERE ARE MORE THINGS IN HEAVEN AND EARTH, HORATIO, THAN ARE DREAMPT OF IN YOUR PHILOSOPHY” ---যা শ্রীশ্রীঠাকুর প্রায় সময় রহস্যময় মুহুর্তে বলতেন।

আমাদের সৎসঙ্গীদের মাথায় রাখতে হবে আমাদের মাথার ওপর স্বয়ং শ্রীশ্রীঠাকুর শ্রীশ্রীআচার্যদেব রূপে আমাদের মাঝে জীবন্ত অবস্থান করছেন। শ্রীশ্রীঠাকুর আমাদের সামনে আছেন। আমরা যেন সৎসঙ্গীরা সবাই শ্রীশ্রীআচার্যদেবের আদেশেই চলি ও একসুরে কথা বলি এবং সমস্ত রকম অকারণ বিতর্ক এড়িয়ে তাঁকে অভিভাবক রূপে মাথায় নিয়ে সুখে শান্তিতে সমস্যা মুক্ত হ'য়ে এক যৌথ পরিবার হ'য়ে চলি।