Powered By Blogger

Wednesday, April 30, 2025

কবিতাঃ বিভেদের মাঝে মিলন মহান।

অনুকূল পদ্মার বুকে শিক্ষা-ধর্ম-রাজনীতির কালো ছায়ায়
বাংলার কুৎসিত রূপ দেখেছিল, অমরেন্দ্রও একদিন বাংলায়
গঙ্গার বুকে হতাশা নিয়ে বৃথা বাঁচার গান শুনেছিল।
সেদিন ফিরিয়ে নিয়েছিল মুখ দুই বাংলার কৃতি ভীষ্মেরা
লজ্জায় ঢেকেছিল মুখ জীবনানন্দ, রবিঠাকুরের সোনার বাংলা।
তবুও দয়াল প্রভু একবুক ব্যথা নিয়ে বেসেছিল ভালো বাংলারে,
বলেছিল, বাংলা বাঁচলে ভারত বাঁচবে, ভারত বাঁচলে বাঁচবে বিশ্ব।
তুমি কি দেখিয়াছো সেই শরমের মুখ? দেখিয়াছো সেই কুৎসিত রূপ?
তুমি কি শুনিয়াছো সেই কথা? অনুভব করিয়াছো সেই দয়ালের ব্যথা?
তুমি কি নিজেরে ক্ষমা করিয়াছো? তুমি কি বেসেছো ভালো দয়াল প্রভুরে?

আমরাও আশায় মরে চাষার মত আজও বেঁচে আছি হেথায়----
পৃথিবীর নিকৃষ্টতম জাত হ'য়ে বাঙালির বুকে এঁকে দিয়ে
কলঙ্কের ছবি---যে বাংলায় এসেছিল নেমে দয়াল প্রভু যেচে,
এসেছিল এ বাংলায়ও এক ঝাঁক আশা বুকে নিয়ে, সেদিন
চিনতে পারেনি তাঁরে দুই বাংলার কৃতি সেরা বাঙ্গালীরা, কিন্তু
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই ব'লে গেয়ে উঠেছিল কৃতি বাঙালির প্রাণ নেচে।

বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফুল ফল
বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ ঘাট
আজ নীরবে নিভৃতে একাকী প্রভুর বিরহ বেদনায় ফেলে
চোখের জল পাপে পরিপূর্ণ হৃদয়ে অপরাধকে ক'রে সাথী।
বাঙালির পণ, বাঙালির আশা, বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা
বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন
সেদিন আশাহত দয়াল প্রভুকে করেছিল ব্যথিত,
করেছিল উপেক্ষা ও অবহেলায় ক্ষতবিক্ষত, লাঞ্ছিত।

পদ্মা গঙ্গার দুই পাড়ের কাছে নিজেকে মনে হয়েছিল অবাঞ্ছিত,
তাই ছুটে গিয়েছিল বর্ষার জলে স্ফীত গ্রীষ্মের শুখা দারোয়ার তীরে
ভগীরতের মতো চেয়েছিল গঙ্গাকে বইয়ে দিতে দারোয়ার বুকে।
মিলনের তীব্র আকাঙ্কায় অশ্রুসজল চোখে ব্যথাহত কন্ঠে অবিরত
নীরবে নিভৃতে গেয়ে উঠতো গান প্রভু একাকী আপন মনে,
মিলন হবে কতদিনে আমার গঙ্গা-দারোয়া সনে।

আজও দয়াল আছে বসে আচার্য মাঝে সেই মধুর মিলন
দেখবে ব'লে, আমরাও আছি বসে যত হিন্দু, মুসলমান,
শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, বসে আছি আচার্যের সাথে বিশ্ব জুড়ে
আছে যত সব সম্প্রদায়ের সৎসঙ্গী সবাই হাতে নিয়ে
'সৎসঙ্গ'-এর নিশান আর স্বপ্ন নিয়ে বুকে
বিভেদের মাঝে মহান মিলনের তরে। 

কবিতাঃ বাংলার মুখ।

বাংলার মুখ।

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই আমি কারও মুখ
দেখিতে চাই না আর। অন্ধকারে জেগে উঠে বাড়ির উঠোনে
চেয়ে দেখি সাদা আলখাল্লার আস্তিনের নীচে লুকোন আছে
মরণের চাবিকাঠি, খঞ্জর----চারিদিকে চেয়ে দেখি শয়তানের মুখ
কবি-সাহিত্যিক-চিত্রকর- শিক্ষক-ধার্মিকেরা ক'রে আছে চুপ;
ছোটো শিশু ও নবীন প্রজন্মের মুখে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;
জীবন তরী বেয়ে না জানি সে কবে অনুকূল পদ্মার বুকে
এমনই শিক্ষা-ধর্ম-রাজনীতির কালো ছায়ায় বাংলার কুৎসিত রূপ
দেখেছিল, অমরেন্দ্রও একদিন গঙ্গার বুকে হতাশা নিয়ে------
আশা-ভরসার স্বপ্ন যখন মরিয়া গিয়াছে বাংলার মাটিতে-
সোনার বাংলায় অসংখ্য ধার্মিক-রাজনীতিবিদ দেখেছিল, হায়,
বাঁচার আশার গান শুনেছিল----একদিন দরবারে গিয়ে
ছিন্নমূল উদ্বাস্তু হয়ে যখন সে মেঙ্গেছিল আশ্রয় বিধানের সভায়
বাংলার আর্ত-অর্থার্থী-জিজ্ঞাসু-জ্ঞানী নীরবে চেয়েছিল তায়।
( লেখা ২৮শে এপ্রিল'২০২৫)

উপলব্ধিঃ ঈশ্বর আছে কি নেই?

ঈশ্বর আছে কি নেই জিজ্ঞাসে কোনজন?
অহং মত্ত বেকুব মস্ত জ্ঞানী পন্ডিত যে জন।
কথায় আছে,
"মহাজ্ঞানী মহাজন যে পথে করে গমন।"
প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা, যুক্তি আছে যত সব ত্যাজি
ঈশ্বর যদি পেতে চাও সে পথ করো অনুসরণ।

ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস অবিশ্বাসের প্রশ্নে যাদের জীবন দোলে তাদের সবাই তো লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারে না। আর, সবাই হনূমান, অর্জুন, উপগুপ্ত, মীরা, আলি, নিত্যানন্দ, বিবেকানন্দ ও শ্রীশ্রীবড়দা হ'তে পারে না। এটা জন্মগত বায়োলজিক্যাল মেক আপের ব্যাপার। এর ভিত্তি বহু বহু জন্মের পূণ্য কর্মের ফল।

আর, শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীমহম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু, শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ ও বর্তমান যুগপুরুষোত্তম পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র স্বয়ং জীবন্ত ঈশ্বর। অন্য সকল ইষ্টপ্রাণ ভক্তের সঙ্গে তাদের জীবনের তফাৎ-ই তার প্রমাণ। তাই ঈশ্বর আছে কি নেই সে সম্বন্ধে আমার প্রমাণের কোনও প্রয়োজন নেই। আমার কাছে ইষ্টপ্রাণ হনুমান, অর্জুন, উপগুপ্ত, মীরা, আলি, নিত্যানন্দ, বিবেকানন্দ, শ্রীশ্রীবড়দা ইত্যাদিদের জীবনই আমার কাছে প্রমাণ। আর মাথার ওপর আছে স্বয়ং মালিক সৃষ্টিকর্তার জীবন্ত রূপ শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীমহম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু, শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ ও বর্তমান যুগপুরুষোত্তম পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র স্বয়ং জীবন্ত ঈশ্বর। 
প্রমাণ কিস বাত কি?
( লেখা ২৭শে এপ্রিল'২০২৫)

Tuesday, April 29, 2025

প্রবন্ধঃ কোন্নগর শ্রীশ্রীশকুন্তলা রক্ষাকালী মায়ের পুজোয় সৎসঙ্গীরা।

গত ২৬ এপ্রিল বাংলার ১২ই বৈশাখ, শনিবার মা শকুন্তলার পুজো কোন্নগরে হ'য়ে গেল। কোন্নগরে ১৩৬ বছরের এই পুজো ঘিরে জেলা ও জেলার বাইরের বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। প্রতি বছর বাংলার বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় শনিবার মায়ের পূজার আয়োজন করা হয় বাংলার বিভিন্ন জায়গায়। বলা হ'য়ে থাকে কোন্নগর তথা হুগলি জেলার অন্যতম একটি ঐতিহ্যপূর্ণ এই শ্রীশ্রীশকুন্তলা রক্ষাকালী মায়ের পূজা। মায়ের এই পুজোকে ঘিরে মেতে উঠেছিল শররতলি কোন্নগর এলাকা গত শনিবার।

এই পুজোর বিষয় নিয়ে আমি "ধর্মের নামে কাশ্মীরে মানুষ হত্যা ও কোন্নগরে শকুন্তলা মায়ের পূজায় জীব হত্যা" এই নামে আমার আগের ভিডিওতে বক্তব্য আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। আজ আমি শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দীক্ষিত সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনদের সম্পর্কে কিছু বলবার জন্য এসেছি।

বহু সৎসঙ্গী দাদা ও মায়েদের দেখেছি শকুন্তলা রক্ষাকালী পুজোয় যায় জল ঢালতে ও পুজো দিতে। আজ থেকে ৪০বছর আগে যৌবনে যখন গিয়েছিলাম পুজো দেখতে তখনও দেখেছিলাম আর আজও দেখছি আমার পরিচিত সৎসঙ্গী

বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী গুরুভাইবোন মায়ের পুজো দিতে যায় কোন্নগর শকুন্তলা মন্দিরে। দেখেছি নধর কচি শিশু ছাগলকে মায়ের সামনে বলি দিতে নিয়ে যেতে। আর দেখেছি সেই ছোট্ট অবলা শিশু ছাগল ছানার কচি মাংস মায়ের প্রসাদ কষা ক'রে রান্না ক'রে খেতে ও আশেপাশের মানুষকে সেই প্রসাদ বিলোতে। আর, মায়ের পূজার নামে সেই অধর্মীয় পাপ আচরণ থেকে উদ্ভূত মায়ের প্রসাদ নামে অভিহিত তামসিক পাপান্ন অভুতপূর্ব ভক্তি ভ'রে মাথায় ঠেকিয়ে গ্রহণ করতে দেখেছি সৎসঙ্গী দাদা ও মায়েদের। অথচ এই সমস্ত সৎসঙ্গীদের মধ্যে অনেকেই জানেন বাংলাদেশে সৎসঙ্গ আশ্রম থেকে অনতিদূরে তান্ত্রিকের তন্ত্র সাধনায় সিদ্ধি লাভের জন্য তান্ত্রিকের আখড়ায় হাঁড়িকাঠের সামনে বেঁধে রাখা ছাগশিশুকে উদ্ধার করার জন্য ঠাকুরের বুকফাটা আকুল কান্না, ছটফটানির কাহিনী। ঠাকুরের সেই আকুল কান্না আর পাগলের মত ছটফটানি দেখে না থাকতে পেরে ঠাকুরের এক ভক্ত প্রাণের মায়া ত্যাগ ক'রে অসীম সাহসে তান্ত্রিকের ডেরায় ঢুকে তান্ত্রিকের সামনে থেকে ছোট্ট ছাগল ছানাকে ছিনিয়ে আনে। আর, ভয়ংকর আক্রোশে পিছন পিছন খাঁড়া হাতে অভিশাপ দিতে দিতে ছুটে আসে সেই ভয়ংকর উন্মাদ তান্ত্রিক। কিন্তু তা'তে ভয় পায় না সেই মূর্খ ভক্ত শিষ্য। ছুটে এসে ঠাকুরের কোলে তুলে দেয় সেই ছোট্ট ছাগলছানাকে। সেই ছোট্ট ছাগশিশুকে কোলে নিয়ে আনন্দে চোখের জলে ভাসতে থাকে ঠাকুর ছোট্ট শিশুর মত। সামনে এসে দাঁড়ায় সেই তান্ত্রিক। ঠাকুরের সেই ছোট্ট ছাগ শিশুকে নিয়ে পাগলের মত আদর করা ও শিশুর মত আনন্দ করা দেখে বিস্ময়ে স্তম্ভিত হ'য়ে দাঁড়িয়ে পড়ে তান্ত্রিক! হাত থেকে খসে পড়ে যায় তান্ত্রিকের খাঁড়া। চোখের সামনে দেখতে পায় জীবন্ত মহাদেবকে। ছোট্ট ছাগ শিশুকে গভীর ভালোবাসায় বুকে জড়িয়ে ধ'রে কাঁদতে থাকা শ্রীশ্রীঠাকুরকে দেখে অনুশোচনায় অনুতপ্ত হৃদয়ে তান্ত্রিকের দু'চোখ বেয়ে নেমে আসে জলের ধারা। হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে তান্ত্রিক ঠাকুরের সামনে। সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে ঠাকুরকে। তারপর চোখের জলে ভাসতে ভাসতে চলে যায় সেই তান্ত্রিক। পরদিন সকাল থেকে আর দেখা যায় না গ্রামে সেই তান্ত্রিককে। তাঁর ডেরা ছেড়ে চলে যায় দূরে, অনেক দূরে। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে তান্ত্রিকের সেই সাধনার অপবিত্র স্থান। এই ঘটনা সৎসঙ্গীরা জানে। তারা শুনে থাকবে সৎসঙ্গে, পড়ে থাকবে বইয়ের পাতায়।

ভাবলে আশ্চর্য লাগে এই ঘটনা সৎসঙ্গ অনুষ্ঠানে শোনার পরও ঠাকুরের সোনার সৎসঙ্গীদের কেউ কেউ সৎসঙ্গীরা আজও ভিড় করে মায়ের কাছে ছাগশিশুকে বলি দিয়ে মনস্কামনা পূরণ করার জন্য। এ আমাদের সৎসঙ্গীদের লজ্জা, অমার্জনীয় অপরাধ। আমরা জীব হত্যাকারী সৎসঙ্গীরা আর তাবিজ, মাদুলি, আংটি, মালা, শেকড়, হাতে লাল কালো সুতো ধারণকারী, ৩৩ কোটি দেবদেবতায় বিচরণকারী, কুসংস্কার ও মৃত্যুকে আবাহনকারী সৎসঙ্গীরা নাকি ঠাকুরের সোনার সৎসঙ্গী!!!!!! আমাদের মাথায় সমস্ত গ্রহের বিগ্রহ দয়াল ঠাকুরও আছেন ও সমস্ত গ্রহরাও আছে, আছে তাবিজ, মাদুলি, আংটি, শেকড়, জলপড়া, তেলপড়া, হাতে লাল কালো সুতো, গলায় মালা ও কোমরে পাথর, ৩৩ কোটি দেবদেবতা, হাজারো গুরু, কুলগুরু, কুসংস্কার। আছে মাথার ওপর মৃত্যুর দেবতা যমের উপস্থিতি।একসঙ্গে সব গিজগিজ করছে। মাথার ওপর যমের উপস্থিতি এইজন্যে বললাম, মায়ের সামনে বলির জন্য রাখা হাঁড়িকাঠ সেই হাঁড়িকাঠকে গঙ্গার জল ঢেলে ভক্তিভরে প্রণাম করছে দাদারা ও এমনকি মায়েরা। এ কি ক'রে সম্ভব!? যেখানে নিরীহ কচি অসহায় ছাগল ছানার গলা আটকে রেখে নির্ম্মম নৃশংসভাবে শরীর থেকে মাথাকে আলাদা ক'রে দেওয়া হয় ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে সেই স্থানকেও কেউ পুজো করতে পারে, বিশেষ ক'রে মায়েরা পুজো করতে পারে তখন সহজেই তাদের বায়োলজিক্যাল মেক আপ বোঝা যায়।
যাই হ'ক, এই পুজোর নাকি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। কঠোর নিয়ম ছিল সূর্যাস্তের পরে মূর্তি তৈরী হবে, আবার সূর্য উদয়ের আগেই এই পূজো শেষ হবে। আর, পরের দিন অতি প্রত্যুষেই প্রতিমা বিসর্জন হবে। কে তৈরী করেছিল এই নিয়ম? এই নিয়ম তৈরীর পিছনে আধ্যাত্মিক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কি ছিল? কি ছিল যুক্তি?? কি ছিল জানি না। কেউ বলতেও পারেনি। তবে যেটা ছিল সেটা হ'লো একটা রহস্যময় গা ছমছম করা ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরী করা। কারণ একটা ভয়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি না করলে ভক্তি আসে না ভক্তদের। অর্থাৎ ভয়ে ভক্তি, কিছু না ক'রে পাওয়ার ভক্তি। কিন্তু শুনেছি এখন নিয়ম পাল্টে গেছে। কবে থেকে এই নিয়ম পরিবর্তন হয়েছে আমার জানা নেই। কেন পাল্টে গেল? কে পাল্টে দিল? এই পাল্টে যাওয়ার পিছনেই বা কি আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? কোন যুক্তিতে কোন আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় নেতার বিধানে এই নিয়ম পাল্টে গেল? এর বাস্তবতাটা কি?
এই নিয়ম পাল্টে যাওয়ার পিছনে যে বাস্তবতা আছে সেটা জানা যায় যে, এখন এলাকায় পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। আগে যেখানে একটা সময় শকুন্তলা কালীপুজোর দিনে এখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটা দু'টো ক'রে বাড়তে বাড়তে মোট নয়টি পূজা হত। এখন সেখানে পুজোর সংখ্যা বাড়ছে দিনদিন। ফলে বেড়েছে মূর্তি তৈরীর চাপ। সেই কারণে এখন আর আগের নিয়মে এক রাতে সূর্যাস্তের পরে মূর্তি এই নিয়মে পুজো হয় না, মূর্তি তৈরির চাপে আগে থেকেই ঠাকুর তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। এর থেকে প্রমাণ হয়, নিয়মের কোনও মা-বাপ নেই। প্রকৃত কোনও উৎস নেই। সবটাই মানুষের ইচ্ছেমতো তৈরী।

আর যদি নিয়মের কোনও বিজ্ঞানভিত্তিক উৎস থেকেও থাকে, সেই উৎস আবার কোন নিয়মকে মেনে ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করার তাগিদে ভাঙ্গা হয়? প্রশ্নগুলি উঠবে না? উঠতে পারে। কিন্তু তা'তে না উদ্যোক্তাদের, না সাধারণ মানুষের কারও কিচ্ছু এসে যায় না। এর থেকে এটা স্পষ্ট মানুষ নিজে নিজেই নিয়ম তৈরী করে ও নিয়ম ভাঙে। এই নিয়ম তৈরী করার পিছনে যেমন মানুষের জীবনীয় উপাদান আছে আবার আছে মুষ্ঠিমেয় স্বার্থান্ধ মানুষের ভয়ংকর লোভ ও মরণীয় উপাদান। তাই সবকিছু না জেনে, না বুঝে কুসংস্কার ব'লে যেমন উড়িয়ে দেওয়ার কিছু নেই, ঠিক তেমনি তলিয়ে দেখতে হয় এইসমস্ত সামাজিক রীতিনীতি, সংস্কার, ধর্মীয় আচার-আচরণ ইত্যাদির পিছনে বিশেষ কি জ্ঞান অন্তর্নিহিত আছে যা জীবনীয়। যদি মরণীয় কিছু থেকে থাকে তাকে খুঁজে বের ক'রে সমূলে উৎখাত করতে হয়, আর, যদি জীবনীয় কিছু থেকে থাকে তাকে রক্ষা করতে হয়। আর, এসবই করতে হয় মানব জাতির বাঁচা ও বাড়ার স্বার্থে, সভ্যতার বিকাশে। তাই শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সবসময় তাঁর মায়ের বলা কথাটা বলতেন, "যেখানেই দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।" কিন্তু আমরা তা' কখনোই করি না। ছাই উড়িয়ে দেখি না ছাইয়ের স্তুপের নীচে কিছু আছে কিনা। হয় ছাইকে একনিমেষে ফুঁৎকারে উরিয়ে দিই, নতুবা সেই ছাইয়ের গাদার ওপর বংশ পরম্পরায় ও যুগের পর যুগ নিমজ্জিত থাকি; তা' সে যতই কেউ মহান সংস্কারক, Fulfller the great মহান পরিপূরণকারী বা Fulfiller the best সর্ব্বোত্তম পরিপূরণকারী কেউ আসুক না কে্‌ন আর এসে আমাদের চোখ খুলে দেবার চেষ্টা করুক না কেন। বরং সেই মহান সংস্কারক বা পরিপূরককে কিংবা মহান সর্ব্বোত্তম সংস্কারক সর্ব্বোত্তম পরিপূরককে হেনস্থা হ'তে হয়েছে এইসমস্ত
মুষ্ঠিমেয় স্বার্থান্ধ মানুষের হাতে। কোনও সরকারও চেষ্টা করেনি এইসমস্ত সংস্কার বা কুসংস্কার সম্বন্ধে মানূষকে সচেতন ক'রে তুলে, চোখ খুলে দিতে।, অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে আলোর বুকে ফিরিয়ে আনতে। আবার কোনও কোনও রাজনৈতিক দল সংস্কার-কুসংস্কার বিচার না করেই সমূলে উৎখাত ক'রে দিতে চেয়েছে সমস্ত ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্যকে। আর, সাধারণ মানুষ কোনোদিনই চায়নি, চায়ও না জেগে উঠতে, চোখ খুলতে, জানতে, বুঝতে তা সে তাকে যতই বলা হ'ক বা বোঝানো হ'ক না কেন। তাদের ধারণা, আমার গায়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা। কিন্তু তারা এতটাই অজ্ঞ, অদূরদর্শী, এতটাই বেকুব, এতটাই মূর্খ, অলস, দূর্বল, ভীরু আর কুসংস্কারাচ্ছন্ন যে, এই আগুনের আঁচ যে একদিন তাদের গায়ে এসে লেগে তাদের খাক ক'রে দেবে পরিবার পরিজন সহ সেদিকে কোনও হুঁশ নেই। কারণ বিজ্ঞানের ভাষায় যেমন আছে Every action has oposite and equal reaction. ঠিক তেমনি যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর উনুকূলচন্দ্র বললেন, "তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন আর সেগুলির ফলও পাবে ঠিক তেমনি।" "যা ইচ্ছা তাই করবে তুমিই তা' করলে রে চলবে না, ভালো ছাড়া মন্দ করলে পরিস্থিতি ছাড়বে না।"

যেখানে বলীর নামে মায়ের সন্তানকে হত্যা করা হবে সেই হাঁড়িকাঠকে গঙ্গার জল ঢেলে ভক্তিভরে প্রণাম করছে দাদা ও মায়েরা এ দৃশ্য দেখে বিস্ময়ে ভাবি, কি অদ্ভুত দৃশ্য! হত্যাস্থানের প্রতি কি ভালোবাসা, ভক্তি ও মমত্ববোধ মায়ের ভক্তদের!!!

এর একটা কারণও আছে, যারা শিক্ষক, শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হ'য়ে শিক্ষা দান ক'রে এদের অজ্ঞানতার ঘোর অন্ধকার থেকে বের ক'রে আনবে তারা মুখে এক আর কাজে আর এক রকমের, অর্থাৎ জালি, কপট চরিত্রের। যাকে বলা হ'য়ে থাকে সর্ষের মধ্যেই ভুত। যে সর্ষে দিয়ে ভূত তাড়াবে সেই সর্ষকেই ভূতে ধ'রে ফেলেছে। তাই তারা সাধারণ মানুষ যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই থাকে, আর দিনে দিনে আরও অন্ধকারে ডুবে যায়। যদিও এইসমস্ত শিক্ষকেরাও দিনের শেষে নিজেদের হাতে তৈরী এই ভয়ংকর অশিক্ষার, অজ্ঞানতার ঘোর পাপের অন্ধকারে ডুবে যায়, তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়।

এরকম সৎসঙ্গীদের মধ্যেও দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। সাধারণ সীমাহীন ভাঙাচোরা সহজ, সরল, বেকুব, দুর্বল, ভীরু, মূর্খ, অলস, কুসংস্কারাচ্ছন্ন সৎসঙ্গী যেমন দেখা যায় ঠিক তেমনি দেখা যায় বিশ্বের বিস্ময় সর্ব্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় যুগাবতার যুগপুরুষোত্তম পরম পুরুষ, পরম উৎস, পরম কারণ, পরম অস্তিত্ব, পরম সত্ত্বা, পরম কারণ, সর্ব্বশক্তিমান, সর্ব্বব্যাপি, সর্ব্বজ্ঞ রক্তমাংসঙ্কুল জীবন্ত ঈশ্বর পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের যারা প্রথমসারীর বার্তাবাহক, যারা তাঁর বীজনাম বহনকারী ও দানকারী ঋত্বিক, যাজক, অধ্বর্য্যু তাদের মধ্যে অনেককেই দেখা যায় তাবিজ, মাদুলি, আংটি, হাতে গলায় মালা, হাতে লাল হলুদ কালো সুতো, তুকতাক, ঝাড়ফুঁক, তেলপড়া, জলপড়া ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়ের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। আবার এরাই জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে বলবে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রই বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টিকর্তা, তিনি অবতারী, তিনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু, তিনি মহেশ্বর, তিনি গণেশ, তিনিই কালী, তিনি দূর্গা, তিনিই তেত্রিশ কোটি দেবদেবতার মূর্ত রূপ!!!!!!! তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনও শরিক নেই। তিনি সমস্ত গ্রহের বিগ্রহ। তিনিই সমস্ত স্পন্দনাত্মক, ধন্যাত্মক, কম্পনাত্মক যত রকমের নাম আছে সমস্ত নামের আধার। এরকম নানারকম জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দেবে হাতে গলায় আংটি, মাদুলি, মালা ঝুলিয়ে। এদের সারা শরীরে তাবিজ, আংটি, মাদুলি, মালা আর ঘরে আছে নানা দেবদেবীর মূর্তি, এরাই আবার বহুনৈষ্ঠিক নিয়ে লম্বাচওড়া বক্তৃতা দেবে।

এরা এতটাই চতুর নিজের কাজের স্বপক্ষে দুর্বলতাকে ঢাকতে অজুহাত হিসেবে ঠাকুরকেও ঢাল করতে ছাড়ে না। এরা সগর্বে বলে, ঠাকুরের হাতেও তাবিজ ছিল, আবার কেউ বা বলে ঠাকুরের ডান হাতে নাকি হীরে বাঁধা আছে। হাতে মালা নিয়ে বলে নাম করার সুবিধার জন্য বিক্ষিপ্ত মনকে নিয়ন্ত্রিত করতে হাতে মালা রাখে। ঠাকুর আর্য কৃষ্টির কিছুই বাদ দেননি। তিনি কোনওকিছুকেই অশ্রদ্ধা করেননি, ত্যাগ করেননি, তিনি এটা করেছেন, ওটা করেছেন ইত্যাদি নানা বাক্যবাণে নিজেকে ত্রুটিহীন একনিষ্ঠ ইষ্টপ্রাণ ভক্ত হিসেবে তুলে ধরেন নিজের দুর্বলতাকে ঢাকতে। কিন্তু ভুলে যান এ কথা যে, আমরা কোনটা পালন করবো? তিনি সমগ্র জীবনে যা যা করেছেন সেটা পালন করবো নাকি আমাদের যা যা পালন করতে ব'লে গেছেন সেটা পালন করবো? যতবার ঈশ্বর মানুষের রূপ ধ'রে মটির বুকে নেমে এসেছেন মানুষকে বাঁচাতে ও বেড়ে ওঠার দিকে ন্যে যেতে ততবারই জীবন্ত ঈশ্বর শ্রীশ্রীরামচন্দ্র, শ্রীশ্রীকৃষ্ণ, শ্রীশ্রীবুদ্ধ, শ্রীশ্রীযীশু, শ্রীশ্রীহজুরত মহম্মদ, শ্রীশ্রীমহাপ্রভু, শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণ ও বর্তমান সর্বশেষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র-এর মিশন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টির কারণ হয়েছে তথাকথিত তাঁদের ভক্তরা। মানুষের বাঁচা-বাড়ার ও জীবনে নির্মল আনন্দ লাভের পথে শত্রু তারাই।
আজ এই পর্যন্তই। নমস্কার। জয়গুরু।

বিচিত্রা ১৩৭

কঠিন দুঃসহ এক আগুন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।জানি না কেন এমন হ'লো ও হচ্ছে!
সবসময় নিজেকে নিজের মনের আয়নায় দেখি আর বিবেককে অনুসরণ করি।
জানি না দয়ালের এ কঠিন পরীক্ষা কিনা আর জানি না এ পরিক্ষায় পাশ করবো কিনা। যদি পরীক্ষা হয় তাহ'লে নিশ্চিত better upliftment-এর পরীক্ষা। হে দয়াল! এই কঠিন কঠোর অসহনীয় পরীক্ষায় যেন পাশ করি।
( লেখা ২৯শে এপ্রিল'২০২২)

ভগবানের নামাবলী জড়িয়ে গায় 
শয়তানের ডঙ্কা বাজায়! কে?
ভগবান ঈশ্বর মানি না। চরিত্রও নাই। 
কিন্তু নীতিকথা আওড়ায়! কে?
( লেখা ২৯শে এপ্রিল'২০২৩)

ঈশ্বর মানি না; ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানি না। 
কিন্তু আমি অস্তিত্ব মানি! আমি নাস্তিক।
আমি ঈশ্বর মানি; ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানি।
আমি আস্তিক।
সত্যি অবাক করলে বন্ধু! 
দু'জনেই অস্তিত্ব মানি।

গড়তে না পারো, রক্ষা করতে না পারো, 
কিন্ত ভেঙো না, ভাঙার কারণ হ'য়ো না, 
ভাঙতে সাহায্য ক'রো না। দয়াল খুশি হবেন। 

অনেক কষ্ট ক'রে গড়ে তোলা জিনিস যে বা যারা ভেঙে দেয় 
তারা নিজ সন্তানের জীবনকেও রক্ষা করতে পারে না। 
যেকোনও সৃষ্টি সন্তান তুল্য।

মা সংসারের মূল খুঁটি।
সুসন্তান হওয়া না-হওয়ার মূল কারণ জন্মবিজ্ঞানের 
পরে মূলত মায়েদের স্বাস্থকর ও অসাস্থ্যকর মানসিকতা।
( লেখা ২৯শে এপ্রিল'২০২৪)

































বিচিত্রা ১৩৬

করোনা গরীবদের বন্ধু! সাক্ষাৎ মা লক্ষ্মী!!
কমিউনিস্টদের পরম সুহৃদ!!!
ধনীদের শত্রু, যম!!!.
( লেখা ২৯শে এপ্রিল'২০২০)


সারা পৃথিবীতে কোটি কোটি সৎসঙ্গীদের মধ্যে করোনায় মৃত্যুর হার ১% -এরও কম। এর থেকে সুখবর আর কিছু নেই। আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। মাভৈঃ! শ্রীশ্রীঠাকুরের সোনার সৎসঙ্গীরা চলো এগিয়ে চলি। অমৃত পথের যাত্রী আমরা!! অমৃতের পুত্র আমরা! হ্যাঁ! আমরা, আমরাই পারি করতে বিশ্বজয়!


বন্ধু, কে কোথায় কিভাবে কাকে সাহায্যের হাত বাড়ালো তা না দেখে, তাতে সময় নষ্ট না ক'রে আসুন আমি এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কি করছি, কি করেছি, আমার কন্ট্রিবিউশান কি সেটা দেখি, সেদিকে নজর দিই। এইসময় অন্যের দোষ যে দেখে, অন্যের খুঁত যে খুঁজে বেড়ায়, অন্যে কি ক'রলো আর ক'রলো না তার চুলচেড়া বিশ্লেষণে সময় কাটায় সে আর যাই করুক তার এই চুলকানি রোগের দ্বারা মানুষ, সমাজ তথা দেশের কোনোদিনই গঠনমূলক ও অস্তি বৃদ্ধির সহায়ক কোনও কাজ হবে না। এমন সঙ্গ, এমন বন্ধু করোনার চেয়েও বিষাক্ত ও ভয়ংকর!! মৃত্যু অবশ্যম্ভাবি। প্রকৃত সাহায্যকারীর পিছন ফিরে তাকাবার সময় নেই।
( লেখা ২৯শে এপ্রিল'২০২১)













 


Monday, April 28, 2025

প্রবন্ধঃ সৎসঙ্গীরা বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধ ভালোবাসাময় এক বৃহৎ সৎসঙ্গী পরিবার।

আজ বহুবছর ধ'রে দেশে বিদেশে মুসলমান ভাইদের সম্বন্ধে হিন্দুভাইদের মনের ভিতর এবং হিন্দু ভাইদের সম্বন্ধে মুসলমান ভাইদের মনের ভিতর এবং সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের পরস্পরের একে অপরের বিরুদ্ধে যে সমস্ত কুৎসিত ধারণা বা সংস্কার গেঁথে আছে যার ফলস্বরুপ আজকের এই ভয়ংকর হিংসার যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সে সম্পর্কে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে, রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় নেতাকে ধর্মের প্রকৃত অর্থ, মূল অর্থ বুঝতে হবে এবং তা বোঝাতে হবে দেশের সাধারণ মানুষকে মানবজাতীকে রক্ষা করার স্বার্থেই। মনুষ্যত্বের মূল বুনিয়াদ ধ্বংস হওয়ার আগেই ধর্মের ভিত্তির ওপর গঠন করতে হবে রাষ্ট্রকে। আর এর জন্য আদর্শের প্রয়োজন। প্রয়োজন একজন সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শের, সর্বশ্রেষ্ঠ পরিপূরণকারীর, fulfiller the best-এর প্রয়োজন অর্থাৎ fulfiller the best হলেন পুরুষোত্তম। আর এ যদি না হয় তাহ'লে ভবিষ্যৎ পৃথিবী শ্মশানে পরিণত হবে নিশ্চিতভাবেই।

ধর্ম্মের মূর্ত রূপ হ'লো জীবন্ত আদর্শ। ধর্ম মূর্ত্ত হয় জীবন্ত আদর্শে এবং শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র হলেন ধর্মের মূর্ত্ত আদর্শ। তিনি হলেন fulfiller the best. তিনি কোন সম্প্রদায়-বিশেষের নন, বরং সব সম্প্রদায়ই তাঁর। শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন-“একজন মানুষের বিনিময়ে আমি একটি সাম্রাজ্য ত্যাগ করতে পারি, কিন্তু একজন মানুষকে ছাড়তে পারি না।"

তিনি বললেন, "হিন্দু ধর্ম্ম, মুসলমান ধর্ম্ম, খৃষ্টান ধর্ম্ম, বৌদ্ধ ধর্ম্ম ইত্যাদি কথা ভুল, বরং ও-সবগুলি মত।"

আমরা হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি ধর্মের মানুষেরা যারা ধর্মের প্রকৃত অর্থ না বুঝেই, প্রকৃত অর্থে ধর্ম পালন না করেই ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করি তারা জানিই না, জানার ইচ্ছাও নেই আমাদের যে "মত বহু হ'তে পারে, এমন কি যত মানুষ তত মত হ'তে পারে, কিন্তু তাই ব'লে ধর্ম বহু হ'তে পারে না।"

আমরা যারা ধর্ম নিয়ে হানাহানি করি তারা জানিই না, "কোনও মতের সঙ্গে কোনও মতের প্রকৃতপক্ষে কোনও বিরোধ নেই, ভাবের বিভিন্নতা, রকমফের-----একটাকেই নানাপ্রকারে একরকম অনুভব।" অর্থাৎ হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি মতের কোনওটার সঙ্গে কোনও মতের বিরোধ নেই। সব আলাদা আলাদা ভাব, আলাদা আলাদা রকমফের অর্থাৎ একই বস্তু বা বিষয়ের ভিন্নরূপ। ঐ এককেই নানাভাবে শেষে এসে একইরকম অনুভব করা।"
আমরা ধর্ম বিরুদ্ধবাদীরা জানিই না, "সব মতই সাধনা বিস্তারের জন্য। তবে তা' নানাপ্রকারে হ'তে পারে; আর যতটুকু বিস্তারে যা হয় তাই অনুভূতি, তাই জ্ঞান। তাই ধর্ম্ম অনুভূতির ওপর।"

এসব কথা আমাদের চোখ খুলে দেবার জন্য, অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর ক'রে, কয়লা থেকে হীরেকে বের ক'রে আনার মত আমাদের সামনে ব'লে গেলেন সেই fulfiller the best অর্থাৎ পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ আবার আমাদের মাঝে যুগ পুরুষোত্তম পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র রূপে এসে। সেই এক ও অদ্বিতীয় একজনই রক্তমাংসের নোতুন রূপে এসে ব'লে গেলেন আমাদের পারস্পরিক হানাহানি, কাটাকাটি, ঘৃণা, বিদ্বেষ থেকে রক্ষা করার জন্য। আমরা হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি ইত্যাদি সব সম্প্রদায়ের মানুষ যে সেই এক ও অদ্বিতীয় পুরুষোত্তম পরমপিতার সন্তান, আমরা যে সবাই যুগের প্রয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আসা সেই একজনেরই আশ্রিত, দীক্ষিত, অনুসারী তা' মনে করিয়ে দেবার জন্য তিনি বারবার আসেন আর আমাদের যুগ অনুযায়ী বলে যান, সত্যকে তুলে ধরেন।

এবার এই কলিযুগের কালো ঘুটঘুটে ঘোর অজ্ঞানতার অন্ধকার মাঝে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র রূপে এলেন এবং সব ডিস্ক্লোজ ক'রে দিয়ে গেলেন আর আমাদের সামনে রেখে গেলেন আমাদের মাঝে তাঁরই প্রতিনিধিস্বরুপ শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে, যাতে আমরা কাল এবং কর্মের জালে জড়িয়ে দমবন্ধ অবস্থায় হাঁসফাঁস করতে থাকা মানুষ বুকভরে ফ্রেস অক্সিজেন নিতে পারি, প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে আবার উঠে দাঁড়াতে পারি, ঘুরে দাঁড়াতে পারি, বাঁচতে পারি, পারি বেড়ে উঠতে আবার নোতুন উদ্যমে হতাশাকে, জীর্ণতাকে, দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা, যন্ত্রণাকে ঝেড়ে ফেলে আত্মবিশ্বাসকে মূলধন ক'রে।

সৎসঙ্গের শ্রীশ্রীআচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা এমনই একজন সুন্দর ভদ্র সভ্য সৎ জ্ঞানী মানুষ যার জীবনে ধর্ম মূর্ত হ'য়ে উঠেছে। অর্থাৎ ধর্ম তাঁর জীবনে, তাঁর চরিত্রে, আচারে, আচরণে, কথায় বার্তায়, ব্যবহারে, চেহারায়, চাউনিতে, হাসিতে জীবনের প্রতিমুহুর্তে মূর্ত হ'য়ে উঠেছে, জীবন্ত হ'য়ে উঠেছে।

পরমপূজ্যপাদ আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা বললেন, "জল, ওয়াটার, পানী ভিন্ন ভাষায় ভিন্ন ভাবে বললেও জলের কাজ তৃষ্ণা মেটানো ।
ঠিক এমন ধর্মের ক্ষেত্রেও। মন কে স্থির রাখা, সরল মনের অধিকারী হওয়া আর সবাইকে ভালবাসতে পারাই হলো সব ধর্মের মূল বিষয়।"
সব ধর্মই যে এক আর প্রকৃতপক্ষে কারও সঙ্গে কারও যে কোনও বিরোধ নেই, ভাবের বিভিন্নতা, রকমফের----একটাকেই নানাপ্রকারে একরকম অনুভব আর ভালোবাসাই যে এক ও একমাত্র শক্তি তার এক সুন্দর উদাহরণ শ্রীশ্রীআচার্দেবের এই কথামৃত |

এরই নাম সৎসঙ্গ! শ্রীশ্রীআচার্যদেবের নেতৃত্বে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সৎসঙ্গ!!

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত 'সৎসঙ্গ' শৃঙ্খলার যে অপূর্ব সৌন্দর্য বহন করে তার প্রমাণ এই ঋত্বিক সম্মেলন! শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী "এক আদেশে চলে যারা, তাদের নিয়ে সমাজ গড়া" তার প্রমাণ জ্বলন্ত উজ্জ্বল সূর্যের মত জ্বলজ্বল করছে এই সৎসঙ্গ ঋত্বিক কনফারেন্স ও লক্ষ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নীরব সুশৃঙ্খল উৎসব স্থান।
শ্রীশ্রীআচার্যদেবের আদেশে শৃঙ্খলিত ঋত্বিক সম্প্রদায় ও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সৎসঙ্গীদের এই শৃঙ্খলিত মাধুর্যময় চলা আজ সমগ্র বিশ্বের কাছে সুখ শান্তির প্রতীক! আজ সৎসঙ্গীরা শ্রীশ্রীআচার্যদেবের সুযোগ্য সুদক্ষ নিখুঁত নেতৃত্বে বিশ্বজুড়ে ঐক্যবদ্ধ ভালোবাসাময় এক বৃহৎ সৎসঙ্গী পরিবার। এই বৃহৎ পরিবারের সৎসঙ্গী সদস্যদের একটাই লক্ষ্য, একটাই ধ্যান, একটাই জ্ঞান শ্রীশ্রীঠাকুরকে খুশী করা, খুশী করা, খুশী করা। পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছেমতো প্রেমময়, ভালোবাসাময় এক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা।

প্রার্থনা করি দয়ালের রাতুল চরণে শ্রীশ্রীআচার্যদেব ও বিশ্বজুড়ে সমস্ত ঋত্বিক, যাজক, অধ্বর্য্যু ও সাধারণ সৎসঙ্গীরা ভালো থাকুক, আনন্দে থাকুক, সুস্থ থাকুক, আলোময়, রূপময়, মধুময়, রসময় হ'য়ে দীর্ঘজীবী হ'ক আর ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময় হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ইত্যাদি ইত্যাদি বিশ্বজুড়ে যত মত বা সম্প্রদায়ের জট মানুষ আছে সমস্ত মতের বা সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের প্রাণে প্রাণে অমৃতময় ভালোবাসার ডালি নিয়ে । নেমে আসুক সত্য যুগ। জয়গুরু।