Powered By Blogger

Friday, August 4, 2023

খোলা চিঠিঃ আহশানদাকে (Ahsan Ullah Abm)

আপনার স্ট্যাটাস "দীর্ঘ সত্তর বছর গণতন্ত্র চর্চার পর ভারত আজ সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের পথে পা বাড়িয়েছে।এর শেষ কোথায়?" পড়লাম।

আর তাই আপনাকে এই খোলা চিঠি লিখলাম।

দাদা, বটগাছের ঝুরি থেকে যে বটগাছের জন্ম সেই গাছ বটগাছ হ'লেও বীজ থেকে জন্ম হওয়া গাছের সঙ্গে তার সামান্য হ'লেও তফাৎ থেকে যায়। যদিও কোনটা মূল গাছ তা চেনা যায় না। ভারত ভাগ হ'য়ে পাকিস্থান, বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে; ভবিষ্যতে আরও কত হবে তা ভবিষ্যতই জানে। তবুও সেই ইসলামিক দেশে যতই সাম্প্রদায়িকতা মাথা চারা দিয়ে উঠুক না কেন সামান্য হ'লেও মাঝে মাঝে দেখি সেই পাকিস্থানেও ধর্ম নিরপেক্ষতার দাবীর পক্ষে কথা হয়, সংসদে সংখ্যালঘুদের পক্ষে সওয়াল জবাব ওঠে, এই একই জিনিস দেখতে পাই বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে আজ হিন্দুদের অবস্থান কোথায় আর স্বাধীনতার পূর্বে ছিল কোথায় তা একটু ভাবলেই সহজেই ধরা যায়। এই যে ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে কমজোরি হ'লেও দুই দেশেই যে সওয়াল জবাব ওঠে তার কারণ ঐ একটাই; সেই কারণ হ'লো দুটো দেশের জন্মই ভারত মায়ের গর্ভ থেকে। নাড়ির টান কি সহজে ভোলা যায় নাকি কেউ ছিঁড়তে পেরেছে? পাকিস্থান ও বাংলাদেশকে যদি এখনও সাম্প্রদায়িকতার ভূত পুরোপুরি গ্রাস করতে না পেরে থাকে তাহ'লে যে দেশের পেট থেকে এই দুই দেশের জন্ম হয়েছে সেই দেশ ভারতে সাম্প্রদায়িকতা মাথা চাড়া দেবে, সেই দেশে গনতন্ত্র হত্যা হবে, সেই দেশে শয়তান কিলবিশ সন্ত্রাসের রুপ ধ'রে আত্মপ্রকাশ করবে এটা কি ক'রে ভাবলেন!? হয়তো শয়তান মাঝে মাঝে তার রুপ মেলে ধরতে চায় ও চাইবে কিন্তু ভারতের মাটি তো বহু অত্যাচারের জ্বলন্ত সাক্ষী আহশানদা তাতো আপনিও জানেন তাই কোনও চিন্তা নেই, এই মাটি কোনওদিনই সেই বিষবৃক্ষকে এখানে এই ভারতের মাটিতে বড় হওয়া তো দূরের কথা জন্মাতেই দেবে না, অংকুরে বিনষ্ট হ'য়ে যাবে ও যাচ্ছে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন এবং কাগজে কলমে প্রমাণ ক'রে নিন এই ভারতের বুকে ধর্মনিরপেক্ষতার প্ল্যাটফরম কতটা মজবুত। ভারতের ইতিহাস কি বলে? ভারতের ইতিহাস কোনদিনও বদলায়নি ও বদলাবে না আর কেউ বদলাতে পারবে না। মাঝে মাঝে হয়তো ভারতের আকাশে কালো মেঘের দেখা দেয় কিন্তু মাভৈ! কোনও চিন্তা নেই; ভারতের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উপর দাঁড়িয়ে আছে ভারত। ভারতের এই 'বিভিদের মাঝে মিলন মহান' কৃষ্টি ও সংস্কৃতিই ভারতের স্তম্ভ, ভারতের ভিত। এই ভিত যেদিন নড়ে যাবে ভূমিকম্পের ফলে মাটির গভীরে সমস্ত কিছু গ্রাস করার মত সেদিন ভারত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হ'য়ে আরও অনেক অনেক পাকিস্থান আর বাংলাদেশের মত দেশের জন্ম হ'য়ে তলিয়ে যাবে কালের কবলে। সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প তখনই বেশী মাথা চাড়া দেয় যখন অকৃতজ্ঞতা আর বেইমানী মানুষের রক্তের সম্পদ হ'য়ে দাঁড়ায়।

আপনার উপরের ঐ স্ট্যাটাসে Shariful Islam তির্যক ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিলেন , যে মন্তব্য শিবশংকর ধরতে পারেননি বরং ঐ মন্তব্যকে লাইক দিয়েছেন আবার আপনার মন্তব্যের বিরোধীতাও করেছেন। সেই Shariful Islam-এর বাঁকা মন্তব্য সম্পর্কে বলতে পারি, ভারত কখনও বলেনি ভারত স্বাধীনতা এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে; কিছু মানুষ হয়তো বলতে পারে, কিছু মানুষ উপরসা ভাসা ভাসা সব দেখে কিছু মন্তব্য করলেই সেটা ভারতের মন্তব্য হয়না, হয়না ভারতের অন্তরাত্মার কথা। বরং বলা যেতে সেদিন ঠিক সেই সময়ে ভারতের অন্তরাত্মা যদি কেঁদে না উঠতো, ঠিক যখন দাঁড়াবার দরকার ঠিক সেই সঠিক সময়ে পাশে না দাঁড়াত, প্রতিবেশী দেশ ভেবে 'আমার গাঁয়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা' ভেবে চোখ উলটে থাকতো তাহ'লে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের হয়তো শেষ রক্ষা হ'তো না, অকাল মৃত্যু হয়তো হ'য়ে যেত। তাই ব'লে কখনই কোনও সচেতন মানুষ, শিক্ষিত, সভ্য, ভদ্র, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভারতবাসী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অবহেলা, অপমান, অবজ্ঞা ও অস্বীকার করে না। মুক্তিযোদ্ধারা ভিতর থেকে লড়াই না চালালে কোনওদিনই দেশ স্বাধীন হ'তো না। শুধু বাইরের সাহায্যে কোনও দেশ স্বাধীন হয় না, হ'তে পারে না। আবার ভারতকেও স্বাধীন হওয়ার জন্য বাইরের সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছিল; শুধু ভিতরের লড়াই ভারতে স্বাধীনতা এনে দেয়নি, ব্রিটীশরা এমনি এমনি ২০০বছরের শাসন করা দেশটাকে ছেড়ে যায়নি। যেকোনও লড়াইয়ে, আন্দোলনে ঘরেবাইরে উভয় দিকের সাহায্য ও সহযোগীতার দরকার হয় জয়, সফলতা হাসিল করার জন্যে। ভারতেরও দরকার হয়েছিল সেই বাইরের সাহায্যের; সে সাহায্য যতটুকু সময়ের জন্য বা অসম্পূর্ণ সাহায্য হ'য়ে থাক সেই সাহায্যই ভারতের তৎকালীন পরিস্থিতি ও ইতিহাস বদলে দিয়েছিল যার ফলস্বরুপ ব্রিটিশরা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত ছেড়ে চলে যাবার; হয়তো যাবার সময় মজবুত কলকাঠি নেড়ে গিয়েছিল কিন্তু যেতে বাধ্য হয়েছিল। আর, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের গতি প্রকৃতি যেদিকে ঘুরে গিয়েছিল অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া থেকে শুরু ক'রে ঐ বছরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের আগে সেই সময় যুদ্ধ যেদিকে ঘুরে গিয়েছিল সেই পরিস্থিতি, অবস্থা বিবেচনা ক'রে বা সামনে রেখে হয়তো ভারত পাক যুদ্ধ ব'লে বর্ণনা করা হ'য়ে থাকে। যেহেতু সেদিন ভারত সরাসরি খুল্লমখুল্লা যুদ্ধে জড়িয়ে গিয়েছিল, জড়িয়ে গিয়েছিল শুধু সেই নাড়ির টানে, গর্ভ যন্ত্রণার কারণে, অন্তরাত্মার আকুল ক্রন্দনে, তাই সেই যুদ্ধকে যদি শুধু ভারত পাক যুদ্ধ ব'লে কেউ ব'লে থাকে, বর্ণনা ক'রে থাকে সেটাও যেমন একেবারে মিথ্যা বা ভুল নয় ঠিক তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধকে যদি কেউ ভারত পাক যুদ্ধের তকমার আড়ালে অস্বীকার ক'রে থাকে তাহ'লে তা' ক'রে থাকে যারা তারা মনুষ্য পদবাচ্য নয়, নয় স্বাভাবিক ও প্রকৃতিস্থ। আর বাঙ্গালির আত্মমর্যাদা বোধ কতটা প্রচন্ড, কতটা সবল ও মজবুত সেটা সারা বিশ্ব জানে।

তাই, আহশানদা, ভারতের মাটি এত কাঁচা নয় যে দু'দিনের যোগী এসে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন ক'রে দিয়ে, গণতন্ত্রকে হত্যা ক'রে, সন্ত্রাসের বিষ ছড়িয়ে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাকে লন্ডভন্ড ক'রে দেবে, লন্ডভন্ড ক'রে দিয়ে লুটেপুটে খাবে আপনার আমার ভারতবর্ষকে। এটা ,মনে রাখবেন ভারত যেমন বিপদের দিনে, প্রয়োজনের দিনে পাকিস্থান, বাংলাদেশের হবে তেমন কোনও দেশ কোনদিনও পাকিস্তান আর বাংলাদেশের হবে না কারণ কোনদিনও অন্য কোনও দেশের পাকিস্থান আর বাংলাদেশের জন্মের গর্ভযন্ত্রণা ও নাড়ির টান ছিল না। (লেখা ৪ই আগষ্ট'২০১৮)

Thursday, August 3, 2023

প্রবন্ধঃ শ্রীশ্রীবড়দা কে!? কে তুমি বড়দা!?

সৎসঙ্গীভাইবোন,
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র হ'লেন বর্তমান বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময়! আর আমরা সৎসঙ্গীরা সেই বিস্ময়ের বিস্ময় সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মন্ত্রশিষ্য! আজ সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি শিষ্য সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে শ্রীশ্রীঠাকুর প্রতিষ্ঠিত দেওঘর 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠান! সেই যে ১৯৩৮ সালে শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছায় ঋত্বিক সংঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হ'য়েছিল ঋত্বিক, প্রতিঋত্বিক, সহপ্রতিঋত্বিক তৈরি ক'রে দীক্ষা দানের অভিযান আজ এই প্রবন্ধ লেখা পর্যন্ত ৮২ বছর শেষ হ'তে চললো দীক্ষাদানের কার্যক্রম শ্রীশ্রীঠাকুর পরবর্তী শ্রীশ্রীবড়দা ও তাঁর পরবর্তী যোগ্য ও দক্ষ চালক ঈশ্বরকোটি পুরুষ শ্রীশ্রীঅশোকদাদার নেতৃত্বে দ্রুতবেগে ছুটে চলেছে ঠাকুরের ব'লে যাওয়া অন্ততঃ ১০কোটি লক্ষ্য পূরণের জন্য। ছুটে চলেছে স্লো বাট স্টেডি মন্ত্রে! ছুটে চলেছে নীরবে, নিঃশব্দে! ছুটে চলেছে পাহাড়ের মত বি-শা-ল বিস্তৃতি নিয়ে স্তম্ভের মত নিজের শক্তিতে অটল হ'য়ে!!!!!

এইযে ছুটে চলা এই ছুটে চলা কিন্তু এত সহজে অনায়াসে হয়নি-হয়না, হচ্ছে না ও হবেও না।

বর্তমানে ‘সৎসঙ্গ’-এর নূন্যধিক পাঁচ সহস্র কেন্দ্র রয়েছে; এইগুলি সৎসঙ্গ বিহার, সৎসঙ্গ অধিবেশন কেন্দ্র, সৎসঙ্গ উপাসনা কেন্দ্র, সৎসঙ্গ মন্দির, সৎসঙ্গ উপযোজনা কেন্দ্র ও ঠাকুরবাড়ি প্রভৃতি নামে বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত। ভারতবর্ষ ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, ব্রহ্মদেশ, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমিরিকাতেও ছড়িয়ে আছে কেন্দ্রগুলো। ভারতবর্ষের প্রায় সমস্ত প্রদেশে গড়ে উঠেছে ‘সৎসঙ্গ বিহার’। চার মহানগরেই ‘সৎসঙ্গ বিহার’ স্থাপিত হয়েছে। এই বি-শা-ল কর্মকান্ড যেমন সৎসঙ্গ ফিল্যান্ত্রপি, আনন্দবাজার, সৎসঙ্গ রসৈষণা মন্দির, সৎসঙ্গ ভেষজ মন্দির, সৎসঙ্গ দ্যুতদীপ্তি হাসপাতাল, সৎসঙ্গ পাবলিশিং হাউজ, অমরদ্যুতি বেদ মন্দির ( সৎসঙ্গ লাইব্রেরী), বেদ ভবন, সৎসঙ্গ তপোবন বিদ্যালয়, সৎসঙ্গ অমরদ্যুতি মহাবিদ্যালয়, সৎসঙ্গ বীণাপানি বিদ্যামন্দির, কলাবিভাগ, অতিথি ভবন, মেমোরিয়া, যতি আশ্রম, সৎসঙ্গ প্রেস, পশুপালিনী চিড়িয়াখানা, উপাসনা (মাতৃ-মন্দির গৃহ) ইত্যাদি ঠাকুরের দেহ রাখার আগেই নীরবে, নিভৃতে গড়ে উঠেছিল দেশভাগের আগেই বর্তমান বাংলাদেশের পাবনা জেলার হিমাইয়েতপুরের পবিত্র মাটিতে ঠিক তেমনি নীরবতা ও নিঃশব্দতাকে আশ্রয় ক'রে এগিয়ে গেছে, নুতন ক'রে গড়ে উঠেছে দেওঘরের বুকে এবং এগিয়ে চলেছে ঠাকুর পরবর্তী বর্তমান কর্মকান্ড ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দেওঘরে! এই যে নীরবতা ও নিস্তব্ধতা এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে অনন্ত অসীম দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা, যন্ত্রণা, অপমান, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, নিন্দা, কুৎসা, সমালোচনা, গালাগালি!!!!! যা প্রায় দশকোটিতে পৌঁছে যাওয়া সাধারণ শিষ্যবৃন্দের অগোচরে! কি পাহাড় প্রমাণ শারীরিক-মানসিক বাধার সম্মুখীন হ'তে ও মুখ বুঁজে সহ্য করতে হয়েছিল শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীবড়দাকে সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই সৎসঙ্গীদের! ব্যতিক্রম নিশ্চয়ই আছে, আর তা ব্যতিক্রম! আর সেই পাহাড় প্রমাণ বাধার ট্র্যাডিশন ব'য়ে চলেছে মুখ বুঁজে দৃঢ়তার সঙ্গে কঠিন-কঠোর ও কোমল মনোভাবে সমানে ঠাকুর পরবর্তী বংশ পরম্পরা সেই তীব্র অপমান-অশ্রদ্ধার ট্রাডিশনকে আশীর্বাদস্বরূপ হাসিমুখে মাথায় নিয়ে!!!!!

ঠাকুরের জীবদ্দশায় শুরু হ'য়েছিল পরিকল্পিতভাবে শ্রীশ্রীবড়দাকে অমান্য করার গোপন ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা আর তা রূপ নিয়েছিল ভয়ঙ্করভাবে একেবারে শেষের দিকে!! কিন্তু শ্রীশ্রীবড়দা তা বুঝতে দেননি সৎসঙ্গ জগৎ তথা বিশ্ববাসীকে যার ঝলক এখনও দেখতে পায় শ্রীশ্রীঠাকুরের তৃতীয় পুরুষ আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদার মধ্যে এবং তা ফল্গুধারা-র মত ব'য়ে চলেছে পরবর্তী বংশধর শ্রীশ্রীঠাকুরের রেতধারা পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবাবাইদাদা ও শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মধ্যে!!!!!!

শ্রীশ্রীবড়দা ঠাকুরের স্বপ্ন পূরণের জন্য ঠাকুরের প্রাণের প্রতিষ্ঠান 'সৎসঙ্গ'কে যে আগে রক্ষা করার দরকার সেই গ-ভী-র বোধ থেকে 'সৎসঙ্গ'কে রক্ষা করার জন্য অনন্ত-অসীম বাধার পাহাড় ঠেলে কঠিন-কঠোর ও কোমল শরীরে-মনে ও হৃদয়ে কুকুরের মত পাহারা দিয়ে গেছেন! ঠাকুর প্রতিষ্ঠা ও ঠাকুরের স্বার্থপ্রতিষ্ঠায় বড়দা ছিলেন নিষ্ঠাবান ও আপোষহীন! কোনও অবস্থায় বড়দা দুর্বল হতেন না বা নড়ে যেতেন না। ঠাকুরের বলা "নিষ্ঠা, আনুগত্য, কৃতি-সম্বেগ, ক্লেশ-সুখ-প্রিয়তা"-র মূর্ত প্রতীক হ'য়ে উঠেছিলেন শ্রীশ্রীবড়দা! যেমন শাসনে কঠিন ও কঠোর ছিলেন ঠিক তেমনি শুধু মানবদরদী ছিলেন তা নয় সৃষ্টির প্রতিটি জিনিসের প্রতি ছিল তাঁর সমান দরদ ও ভালোবাসা! তাঁর কঠিন-কঠোর মুখাবয়ব ও শান্ত গম্ভীর গলার স্বর ছিল কপট ধান্দাবাজদের কাছে একেবারে ভয়ঙ্কর বজ্রপাতের মত!!! তাই তারা তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারতো না, পিছন থেকে চালাতো ছুরি! শ্রীশ্রীঠাকুর ও তাঁর স্বার্থপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে এতটাই শ্রীশ্রীবড়দা ফ্যানাটিক ও আনকম্প্রমাইজিং ছিলেন যে সেই সময় ধান্দাবাজ, কপট সৎসঙ্গীদের সাথে সাথে অনেকেই শ্রীশ্রীবড়দাকে ভুল বুঝেছিলেন! যার রেশ এখনও ব'য়ে চলেছে! এইটাই তাদের দুর্ভাগ্য! দুর্ভাগ্য কারণ বিষধর সাপের বিষের জ্বালা যে কি ভয়ঙ্কর হ'তে পারে তা যে সেই সাপের ছোবল খায়নি সে বুঝবে না! যে ঠাকুরের আজ ভারতের প্রায় সমস্ত প্রদেশ ও গোটা বিশ্বজুড়ে পাঁচসহস্র মন্দির, প্রায় ১০কোটিতে পৌঁছে যাওয়া শিষ্য সেই ঠাকুর যে কুলীদের সঙ্গে শিয়ালদহ প্ল্যাটফর্মে রাত কাটাতেন, দিনের পর দিন না খেয়ে শুধু কলের জল খেয়ে কাটিয়েছেন, কয়লার গোলায় ঐ কয়লার ডাস্ট-এর মাঝে দিন কাটিয়েছেন, মেসের নোংরা পরিবেশে থাকা ও খাবার পাতে কফ দেখে ঘেন্নায় প্রাণ বেরিয়ে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি আরও অনেক পরিস্থিতির মোকাবিলা ক'রে জীবন অতিবাহিত করেছেন তেমন অভিজ্ঞতা কি সাধারণ সৎসঙ্গীদের আছে না হয়েছে!? কোয়ান্টিটি আর কোয়ালিটি এক নয়! কোয়ান্টিটি কখনও কোয়ালিটির মর্মব্যথা বুঝবে না, বুঝতে পারে না! ঠিক তেমনি শ্রীশ্রীবড়দাকে আজীবন অপমানিত হ'তে হয়েছে তাঁকে মেনে নিতে না পারা কপট ভক্তমণ্ডলীর কাছে। তাই শ্রীশ্রীঠাকুর একবার দুঃখ ক'রে বলেছিলেন শ্রীশ্রীবড়দাকে, "তোর একটাই দোষ তুই আমার সন্তান!" তাই শ্রীশ্রীবড়দার জীবন ও শ্রীশ্রীবড়দা কে বোঝা ঈশ্বরকোটি মানুষ ছাড়া সম্ভব নয়! আর সম্ভব সামান্য হ'লেও হ'তে পারে যদি বোঝার অন্ততঃ চেষ্টা করে! কোথায় সেই চেষ্টা!?

কেন শ্রীশ্রীঠাকুর যতবার এসেছিলেন ততবার তাঁর সঙ্গে আসা পরম ভক্ত কৃষ্টিজাত সন্তান প্রহ্লাদ, হনুমান, উপগুপ্ত, নিত্যানন্দ, বিবেকানন্দকে এবার একইসঙ্গে নিজের ঔরসজাত ও কৃষ্টিজাত সন্তান ক'রে শ্রীশ্রীবড়দারূপে এনেছিলেন!?

এর আগে যতবার ঈশ্বর স্বয়ং মানুষের রূপে এসেছিলেন ততবারই তাঁর সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান তাঁর দেহ রাখার পরে পরেই ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে জড়িয়ে সংকটের মুখোমুখি হ'য়েছে আর দল উপদলের সৃষ্টি হ'য়ে পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া মারামারিতে শক্তি হারিয়ে মানুষরূপী ঈশ্বরের জয়যাত্রাকে করেছে ভীষণভাবে ব্যাহত। তাই শ্রীশ্রীবড়দা আবির্ভাবের তাৎপর্য তারাই বুঝতে পারে সে শত্রু-মিত্র যেই হ'ক না যারা সামনে দাঁড়িয়ে কোন কিছু গড়ার, রক্ষা করার, বাড়িয়ে তোলার নেতৃত্ব দিয়েছে জীবনকে বাজি রেখে আর যারা ডুবে ডুবে জল খায়, তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থাকে, সাজানো বাগানে ফুল তোলার বদভ্যাস বহন করে, না ক'রে পাওয়ার মানসিকতার অধিকারী, চুলকে ঘা করার অভ্যাস, পিছন থেকে ল্যাং মেরে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার অভ্যাস আর নেপোয় মারে দই খাওয়ার স্বভাবকে অবলম্বন ক'রে জীবন অতিবাহিত করে তারা ঈশ্বরকোটি পুরুষ শ্রীশ্রীবড়দাকে চিনবে তা অতি বড় মূর্খ মনে করে না!
একবার ঠাকুরকে 'আলোচনা প্রসঙ্গে'-এর অনুলেখক পরমভক্ত প্রফুল্ল দা জিজ্ঞেস করেছিলেন,
"Fanatic ( নিষ্ঠাবান) ও Uncompromising (আপোষহীন পথে) চলতেই হবে, কিন্তু তা'যে অনেক মানুষের সঙ্গে বিরোধ না বাধিয়ে উপায় নেই, তাদের অত্যন্ত রূঢ়ভাবে প্রতিরোধ করা দরকার, ওতে কিন্তু মনটায় কেমন লাগে।"
এর উত্তরে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, "Fanatic ও uncompromising-এর ( নিষ্ঠাবান ও আপোষহীনতার) সঙ্গে sweet (মধুর) কথাটাও যোগ ক'রে নাও। 'সত্যং ব্রুয়াৎ প্রিয়ং ব্রুয়াৎ'---অবশ্য সময়-সময় অন্যরকম প্রয়োজন হয়। কেষ্ট ঠাকুর যে এত কুরুক্ষেত্রের কান্ড করলেন, শিশুপাল বধ করলেন----সবাই কিন্তু তাঁর favour-এ (অনুকূলে) ছিল। প্রীতিপূর্ণ নিরোধে আপাততঃ যত বিরোধই বাধুক, ওতে পরিণামে পরস্পরের মধ্যে টান বেড়ে যায়।"

এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় শ্রীশ্রীঠাকুর আগাম কুরুক্ষেত্রের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং সেই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সেই পরিস্থিতিতে কেমনভাবে চলতে হবে! আর তাই তিনি এবার সঙ্গে ক'রে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর কৃষ্টিজাত সন্তান সেই একই বিভিন্নরূপে আবির্ভুত পরমভক্ত প্রহ্লাদ, হনুমান, অর্জুন, উপগুপ্ত, নিত্যানন্দ, বিবেকানন্দকে একই সঙ্গে ঔরসজাত ও কৃষ্টিজাত সন্তান ক'রে। নিয়ে এসেছিলেন এবার ঘোর কলিযুগ শেষে সত্য যুগে প্রবেশের ট্রানজিশনাল মুহূর্তে পিতাপুত্রের মধ্যে দিয়ে লীলা করবেন ব'লে, নেতৃত্ব দেবেন ব'লে! সেই ঔরসজাত ও কৃষ্টিজাত সন্তান হ'লেন তাঁর প্রথম সন্তান আদরের বড়খোকা, সৎসঙ্গ জগতের চোখের মণি সকল সৎসঙ্গীদের বড়ভাই শ্রীশ্রীবড়দা! আর সেই শ্রীশ্রীবড়দা প্রীতিপূর্ণ নিরোধের মধ্যে দিয়ে ঠাকুরের মিশন 'বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা'-র রথকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই প্রতিটি কঠিন মুহূর্ত ও অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া দিনগুলিতে এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত! আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি তার নমুনা! সৎসঙ্গ আজ এই অল্পসময়ের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারিপার্শ্বিক সবাইকে নিয়ে বাঁচা-বাড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা সংগঠন! আর আজকের সেই শক্তিশালী সংগঠনের ভয়ঙ্কর নীরব উপস্থিতির কারণেই বর্তমান দেশের প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ লক ডাউন ঘোষণা সংক্রান্ত ভাষণে শ্রীশ্রীঠাকুরের সেই পারিপার্শ্বিক সহ 'বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা'-র কথা দিয়ে শুরু করেন তাঁর ভরসাদীপ্ত ভাষণ; আবেগ তাড়িত কণ্ঠে তিনি দেশবাসীকে করোনা মহামারীর দুর্দিনে আশা-ভরসা দিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, "হামে মিলকর বাঁচনা হ্যায়, আগে বাড়না হ্যায়"!

তাই শ্রীশ্রীবড়দাকে চিনতে হ'লে, জানতে ও বুঝতে হ'লে, দিন শেষে উপলব্ধির ঘরে পৌঁছতে হ'লে প্রথম ও প্রধান শর্ত হ'লো ঠাকুরকে আগে চিনতে হবে, জানতে ও বুঝতে হবে, অনুভব করতে হবে কে এই অনুকূল!? তবেই চিনতে পারা সম্ভব হবে পরমপিতার সেই পরম ভক্ত প্রহ্লাদ, হনুমান ইত্যাদির নবরূপে নবকলেবরে আবির্ভুত শ্রীশ্রীবড়দাকে! অশ্রদ্ধা, অপমান, কুৎসা, নিন্দা, সমালোচনা, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, গালাগালি দিয়ে সাজানো আর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা টাট্টি কা মাফিক বাতে পরিপূর্ণ ঘৃণ্য জীবন যাই করুক ঈশ্বরকোটি পুরুষকে তো দূরের কথা নিজের ঘরের মানুষকে ও নিজেকেই চেনা যায় না!

এই প্রসঙ্গে 'আলোচনা' ম্যাগাজিনে প্রকাশিত পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুরের একটা ইঙ্গিতই যথেষ্ট শ্রীশ্রীবড়দা কে? কথায় আছে, বোঝে সে, প্রাণ বোঝে যার! লীলাপুরুষের লীলা বোঝে সে যে জানে হিন্দির কাহাবত: সমঝদার কে লিয়ে ইশারা কাফি হোতা হ্যায়! সেই ইশারা কি!? সেই ইশারা হ'লো:
"একদিন ঠাকুরের পার্লারে বসে আছি। অনেকেই আছেন।
বড়দা এলেন। ঠাকুরের সঙ্গে কি একটা কথা বললেন, চলে
গেলেন। ঠাকুর বড়দার যাওয়ার পথের দিকে কিছুক্ষণ
তাকিয়ে রইলেন। তারপর কেষ্টদার দিকে ফিরে বললেন,
“বড়খােকা যখন আসে, তখন আপনাদের কিন্তু উচিত উঠে দাঁড়িয়ে ওকে সম্বর্ধনা জানানাে।”
আর একদিন কাজলদাকে বললেন—“কই, বড়খােকাকে তাে আজ প্রণাম করলি নে ?” ঠাকুর যে সেদিন বেশ ক্ষুন্ন হয়েছেন তা বলার রকমেই ধরা পড়লাে। কাজলদা সবিনয়ে বললেন—“বড়দা এখানে নেই, কলিকাতা গিয়েছেন।”ঠাকুর বললেন—“তাতে কি? তা’র আসন তাে রয়েছে,
বিছানা তাে রয়েছে, সেখানে তাে প্রণাম করতে পারতে।”
(‘আলােচনা, অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮, পৃঃ-৪৮)।

শ্রীশ্রীবড়দা কে!? এই প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনেকবার অনেকরকম ভাবে ইঙ্গিত ও ইশারা দিয়ে গেছেন! কোনোদিনই সরাসরি তিনি কাউকে কিছু বলেননি এবং নিজের সম্পর্কেও কোনোদিন কিছু বলেননি! সমাধি অবস্থায় নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন এবং তা পূণ্যপুঁথি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু সরাসরি কখনোই ধরা দেননি! ধরা দিয়েছেন তাঁদের কাছে যারা ছিলেন ঈশ্বরকোটি পুরুষ! আর বুদ্ধিমান মানুষ, ভক্তমানুষ তাঁর ইশারা, ইঙ্গিতকে বোঝার চেষ্টা করেছেন! নামধ্যানহীন অহংকারী কথার মানুষ তর্কবাগীসদের কাছে তিনি চিরকালই অধরা থেকে যান! তিনি নানাভাবে কথা দিয়ে, আচরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন তিনি কে আর শ্রীশ্রীবড়দা-ই বা কে!? আসুন দেখে নেওয়া যাক আরও একবার!
পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামচন্দ্র যখন বনবাস ও যুদ্ধ শেষে সবাইকে নিয়ে অযোধ্যায় ফিরে এলেন তখন তিনি দেশবাসী যারা তাঁকে স্বাগত জানাতে এসেছিল তাদের সঙ্গে তাঁর সঙ্গে আসা সবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। সেইসময় পরিচয় করাতে করাতে যখন হনুমানকে পরিচয় করাবার সময় এলো তখন আর কথা বলতে পারছিলেন না। হনুমানের দিকে তাকিয়ে তাঁর দু'চোখ দিয়ে ঝ'রে পড়ছিল জল! কান্নায় তাঁর গলা রুদ্ধ হ'য়ে গেছিল! কিছুতেই কিছু বলতে পারছিলেন না। শুধু অঝোর ধারায় কেঁদে চলেছিলেন! সেই দৃশ্য দেখে সবাই অভিভূত হ'য়ে গেছিল, বাকরুদ্ধ হ'য়ে গেছিল উপস্থিত দেশবাসীর! তখন অশ্রুভরা চোখে প্রভু দয়াল রামচন্দ্র হনুমানের তাকিয়ে জলভরা চোখে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "যে আমাকে ভালোবাসে সে হনুমানকেও ভালোবাসে আর যে আমাকে ভালোবাসে আর হনুমানকে ভালোবাসে না সে আমাকেও ভালোবাসে না আর আমি তার ভালোবাসা নিই না!"
ঠিক তেমনি শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের নবরূপ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র শ্রীশ্রীবড়দা সম্পর্কে বলেছিলেন, "যে আমাকে প্রণাম করে সে বড়খোকাকেও প্রণাম করে, যে আমাকে প্রণাম ক'রে বড়খোকাকে প্রণাম করে না আমি তাঁর প্রণাম নিই না!"
আরো অনেকভাবে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর আদরের বড়খোকা, তাঁর পরম ভক্ত শ্রীশ্রীবড়দা সম্পর্কে অনেকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ও করেছেন ইশারা!!!!!
শ্রীশ্রীঠাকুরকে চেনা যদি এতই সোজা, সহজ ও সরল হ'তো তাহ'লে সেই ভক্তের প্রাণ সোজা, সহজ ও সরল হ'তো আর জগৎ মাতিয়ে রাখতো, বক্রতা ও জটিল হ'তো না। আর ঠাকুরকে চেনা মানেই সকলকে চিনতে পারা আর সেই যে রাম রূপে যখন তিনি অর্থাৎ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এসেছিলেন আর সঙ্গে ক'রে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর পরমপ্রিয় শ্রীশ্রীহনুমানজীকে এবার আবার তিনি সঙ্গে ক'রে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর সেই পরমভক্ত হনুমানকে শ্রীশ্রীবড়দা রূপে! সেই শ্রীশ্রীবড়দার মধ্যে যে তিনি অর্থাৎ শ্রীশ্রীঠাকুর বর্তমান তা কি জোর ক'রে কাউকে বোঝানো যায় নাকি চেনানো যায়? সবটাই গভীর উপলব্ধির ব্যাপার!!! আমার সৎসঙ্গী গুরুভাইবোন শ্রীশ্রীবড়দা বিরোধীদের সাথে এসব নিয়ে অহেতুক আলোচনায় যাবেন না। আলোচনা তার সঙ্গেই হয় যার জীবন আলোময়, রূপময়, রসময়-এর সঙ্গ লাভের মধ্যে দিয়ে আলোময়, রূপময় ও রসময় হ'য়ে উঠেছে! যার যা ইচ্ছা করুক নিজেকে অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে ঠাকুরকে কষ্ট দেবেন না ও নিজে অসুস্থ হওয়ার মহান দায়িত্ব নেবেন না। এটা জানবেন, যে বা যারা শ্রীশ্রীবড়দাকে চিনতে পারেনি তারা শ্রীশ্রীঠাকুরকে চিনতে, জানতে ও বুঝতে পারেনি অতএব সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখুন। আর সেই ভক্ত প্রহ্লাদ, হনুমান, অর্জুন, উপগুপ্ত, নিত্যানন্দ ও বিবেকানন্দকে অনুভব করুন শ্রীশ্রীবড়দার মধ্যে! সৃষ্টিকর্তা যেমন তাঁর সৃষ্ট সমস্ত জীবকুলকে রক্ষা করবার জন্য বারবার যুগোপযোগী হ'য়ে পৃথিবীর মাটিতে নেবে আসেন ঠিক তেমনি সঙ্গে নিয়ে আসেন বারবার তাঁর সেই শ্রেষ্ঠ ভক্তকে!!!!!!!! সৎসঙ্গীরা যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করতে পারবে এই অত্যাশ্চর্য সত্য ততো তাড়াতাড়ি ঠাকুরের বুকের ওপর থেকে নেবে যাবে সীমাহীন কষ্ট-যন্ত্রণার বোঝা! একথা বোঝে সেই সৎসঙ্গী, প্রাণ বোঝে যার! আসুন টাকার এপিঠ আর ওপিঠ শ্রীশ্রীঠাকুর আর তাঁর পরম ভক্ত শ্রীশ্রীবড়দার যুগল মূর্তির মধ্যে সেই বিষ্ণু-প্রহ্লাদ, রাম-হনুমান, কৃষ্ণ-অর্জুন, বুদ্ধ-উপগুপ্ত, নিমাই-নিতাই, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ কে অনুভব করি, উপলব্ধি করি আর করি উপভোগ এবারের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ লীলা পিতাপুত্রের লীলা বংশপরম্পরায় শ্রীশ্রীঠাকুর-শ্রীশ্রীবড়দা, শ্রীশ্রীবড়দা-শ্রীশ্রীঅশোকদাদা, শ্রীশ্রীঅশোকদাদা-শ্রীশ্রীবাবাইদাদা আর শ্রীশ্রীবাবাইদাদা-শ্রীশ্রীঅবিনদাদা! এমনিভাবেই রেত শরীরে সুপ্ত থেকেই পিতাপুত্রের লীলার মধ্যে দিয়ে কেটে যাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের ব'লে যাওয়া দশ হাজার বছরের মধ্যে আর না আসার ইঙ্গিত! আর আসবে সেই আকাঙ্খিত ঘোর কলিযুগ শেষে সত্যযুগ! আসুন এই রহস্যময় কলিযুগ থেকে সত্যযুগে প্রবেশের ট্রানজিশনাল পিরিয়ড অনুভব করি, উপলব্ধি করি, করি উপভোগ ৮৪লক্ষ যোনি ভ্রমণ শেষে প্রাপ্ত এই দুর্লভ মনুষ্যজীবনে যাতে পরবর্তী জীবনে আবার আসতে পারি, লাভ করতে পারি, সঙ্গ করতে পারি পুনরায় এই পিতাপুত্রের লীলাময় রহস্যময় জীবন!!!!!!!!! জয়গুরু।
প্রবি।

All


Wednesday, August 2, 2023

কবিতাঃ'গান ঠাঁই

চরণতলে হু হু--এই জীবন হু হু---
চরণতলে কি আবার এই জীবন হয় কি না হয়
কি জানি এই জনমে আবার দেখা হয়!
চরণতলে--------
পেয়েছি তোমার চরণ যুগল কি ভাগ্য আমার যে
প্রাণ ভরে দেখি তোমায় তোমার মুখের পানে চেয়ে
চরণতলে কি আবার এই জীবন হয় কি না হয়
কি জানি এই রাত দয়াল আবার হয় কি না হয়!
চরণতলে----এ---------এ
দয়া ক'রে চরণে ঠাঁই দাও প্রভু আমার
দয়া করো দয়াল প্রভু ঐ চরণে যেন আসি আবার
চোখের জলে ভাসাবো জীবন চরণে লুটিয়ে তোমার।
বুকের মাঝে প্রভু তুমি বৃষ্টি হ'য়ে ঝরো আমার!
কি জানি এই রাত দয়াল আমার হয় কি না হয়
চরণতলে কি আবার এই জীবন হয় কি না হয়
চরণতলে-------এ--------এ
জীবন খুঁজে পাবে তুমি এই জীবন মাঝে!
জীবন বীণার যদি তার কেটে যায় সুর বাজে না তাতে!
বুকের মাঝে উদাসী দুপুর হাপড় টেনে যায়
দখিনা বাতাস হ'য়ে প্রভু আমায় আদর ক'রে যায়!
চরণতলে কি আবার এই জীবন হয় কি না হয়
কি জানি এই জনমে এই রাত আবার কি হয়!
চরণতলে.........এ........এ.......এ।
(লেখা ৩রা আগষ্ট'২০১৯) (লাগ যা গলে গানের সুরে)
.

Monday, July 31, 2023

প্রবন্ধঃ মেডিকেল ছাত্র শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র!

আচ্ছা যারা ফেসবুকে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মেডিকেলে ডাক্তারি পড়া নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন, যারা গালাগালি করছেন ডাক্তারি পড়া মিথ্যে বলে, কেউ বা বলছেন ঠাকুর চারবার মেডিকেলে ফেল মেরেছিল, আবার মেডিকেল কলেজের Alumnai section-এ alumnus হিসেবে নাম থাকা সত্বেও তারা ঠাকুরের ডাক্তারি পড়া নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যে প্রচারের নানা প্রশ্ন তুলে সাধারণ মানুষকে এমনকি সৎসঙ্গীদের মধ্যেও বিভ্রান্তের বিষ ঢেলে চলেছে তাদেরকে বলা যেতেই পারে কে বললো ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মেডিকেলে চার বার ফেল করেছিল? এই প্রচারের মধ্যে আবার ডাক্তারও আছে! তাদের বলা যেতেই পারে, একজন ডাক্তার ডাক্তার হ'য়ে নিজের প্রফেশনের মানুষকে অপমান করা যায়? বলা যেতেই পারে একজন ডাক্তারি সার্টিফিকেট না পেয়েও যে অসাধারণ দক্ষতায় চিকিৎসা জগতে চমৎকারী দেখিয়েছেন যা আজ ইতিহাস হ'য়ে আছে, যার আজ থেকে ১০০বছর আগে কোনও নির্দিষ্ট ফিস ছিল না, গরিবের থেকে ফিস নিতেন না, আর কোনও ফিস না চাইতেই চিকিৎসা বাবদ ১০০টাকা ফিস দিত সেই সময়ের যে বিত্তবানরা, ভালোবেসে খুশিতে মাথার মণি ক'রে রাখতো যাঁকে, শ্রদ্ধায়, স্নেহে, যত্নে যাঁর প্রতিটি ইচ্ছা পূরণ করার জন্য প্রাণপাত করতো সেই ডাক্তারি সার্টিফিকেট না থাকা মানুষের সার্টিফিকেটে সমৃদ্ধ শারীরিক ও মানসিক ডাক্তার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার অনুকূলকে অপমান করছেন!? আর বলা যেতেই পারে আচ্ছা আজ থেকে ১০০ বছর আগে ১০০টাকা ফিস আজ ১০০ বছর পরে ২০২০সালে কত টাকা!? আজকের সবচেয়ে নামী দামী ডাক্তারের ফিস কত? ডাক্তারবাবুরা বলবেন? আর এত মারাত্মক পসার থাকতে সেই সময়ের একশ্রেণীর ডাক্তারদের চরম বিরোধিতা সত্বেও তিনি সেই ডাক্তারদের সম্বন্ধে প্রশংসা ক'রে তাদের কাছেই রোগীদের পাঠাতেন চিকিৎসার জন্য! কেন? ডাক্তারবাবুরা বলবেন? বলবেন তার ঘৃণ্য সমালোচকেরা? কেনই বা তিনি সেই তাঁর ডাক্তারি তীব্র পসারকে উপেক্ষা ক'রে, প্রবল আর্থিক হাতছানিকে অবহেলা ক'রে ডিস্পেন্সারির দায়িত্ব তাঁর পার্ষদ অনন্ত মহারাজের উপর ছেড়ে দিয়ে চিকিৎসা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন?

ঠাকুর সম্পর্কে আপনারা জানেন ঠাকুর পাশ করেছিল কি ফেল করেছিল? ঠাকুরের ডাক্তারি পড়ার ইতিহাস জানেন? কিভাবে তিনি ডাক্তারি পড়ার জন্য চান্স পেয়েছিলেন বা কেন পেয়েছিলেন? একজন স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় না বসা ছাত্র কি ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেতে পারে? তা কি সম্ভব? কি ক'রে এমন অসম্ভব সম্ভব হ'লো? কি ক'রে মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ প্রধান ঠাকুরের ডাক্তারি পড়ার আবেদন মঞ্জুর করলেন? তাঁর ডাক্তারি পড়ার ছাড়পত্রে অনুমোদন দিলেন? কি সেই রহস্য? কেন তিনি ডাক্তার তকমা নিলেন না? কেন তিনি ডাক্তারি ফাইনাল পরীক্ষায় সমস্ত পেপার পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও মৌখিক পরীক্ষায় তিনি কেন নিজেকে অকৃতকার্য হ'তে দিলেন? তিনি কি মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন নাকি পরীক্ষকের রোষের কারণ হয়েছিলেন? তাঁকে কি ফেল করানো হয়েছিল? কি ছিল সেই রোষের কারণ? কেন তাঁকে ফেল করানো হয়েছিল? তিনি কি মৌখিক পরীক্ষায় পরীক্ষকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি? অসমর্থ ছিলেন? কেন তা ডাক্তারি পড়া ছাত্রদের কাছে আলোচনায় উঠে আসে না? কেন দেশে এই নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় চর্চা হয় না? আজ পর্যন্ত তার আর কোনও রেকর্ড আছে ইতিহাসের বুকে? যদি থাকে তাহলে তা কেন আছে বা কি ক'রে তা সম্ভব ? এমন হাজারো প্রশ্ন উঠে আসতে পারে! যেমন উঠে আসতে পারে তাঁর জীবনের নানাদিকের রহস্যময় অবস্থান নিয়ে! যেমন কেন তিনি পূর্ববাংলা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে চলে এলেন? কেন তিনি এই বাংলায় তাঁর নুতন বৃন্দাবন গড়ে তুললেন না? কেন তিনি বললেন আমার সৎসঙ্গের আন্দোলন বাংলা থেকে উঠবে না, বাংলার বাইরে থেকে উঠবে? কেন তিনি বললেন যা দিয়ে গেলাম আগামী দশ হাজার বছরের মধ্যে আর কিছু লাগবে না? কেন তিনি 'বড়খোকা, বড়খোকা' ব'লে অস্থির হ'য়ে পড়তেন? কেন তিনি ব'লে গেলেন 'রেত শরীরে সুপ্ত থেকে জ্যান্ত তিনি নিরন্তর?' কেন তিনি এবার রামকৃষ্ণ রূপে দেহ ছেড়ে যাবার পর এত তাড়াতাড়ি ২ বছর ২৯ দিনের মাথায় এলেন? এরকম বহু কেন, কেন, কেন নিয়ে প্রশ্ন আছে যা সময়মত একে একে তুলে আনা যাবে!

যাই হ'ক যারা ঠাকুরের মেডিকেলে পড়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে চলেছেন, প্রশ্ন তুলেছেন ঠাকুরের বয়স, মেডিকেলে পড়ার সাল আর মেডিকেল স্থাপনের সাল নিয়ে, আর এই বিতর্কিত প্রশ্ন তুলে সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও মানুষের মনে অকারণ সন্দেহ, ঘৃণার জন্ম দিয়েছেন, দিয়ে চলেছেন তারা যদি জানতেন মেডিকেলে পড়ার ইতিহাস, মেডিকেল কলেজের ইতিহাস, খোঁজ নিতেন তাহলে শ্রদ্ধায় ভক্তিতে ভালোবাসায় মাথা নত হ'য়ে যেত তা তাদের ঠাকুরের প্রতি রাগ যে কারণেই হ'ক না কেন! অবশ্য জন্মবিকৃতদের কথা আলাদা। জানি না কতটুকু আর কিই বা তারা জানেন!

যাই হ'ক বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময়কে নিয়ে এমন মন্তব্য বাঙালি হিসেবে নিজেকে বড় ছোট মনে হ'য়। কারণ বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় বাঙালি ছিলেন!!!!!! অবাঙালীদের কাছে আর বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের বাঙালিদের মুখ দেখাতে লজ্জা লাগে যে বাঙালিরা সেই ঠাকুরের প্রথম জীবন থেকে আজ ১৩২ বছর পার হ'য়ে যাওয়া পর্যন্ত ঠাকুরকে শুধু অপমান আর অপমান, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অপবাদ সহ্য করে যেতে হ'লো!! সহ্য ক'রে চলেছে তাঁর ব্যক্তিগত, বিবাহিত, সাংসারিক, পারিবারিক ইত্যাদি নিয়ে ক'রে চলা অসহ্য গালিগালাজ! কানে গরম তরল সীসা ঢেলে দেওয়া তার থেকেও অনেক-অনেক আরামদায়ক! যা ঠাকুরের দীক্ষিত গুরুভাইবোন বিশেষতঃ যুবসম্প্রদায় বিন্দুমাত্র বোঝার ক্ষমতা রাখে না। যদিও ব্যতিক্রম আছে। আর যারা অপমান করছে তারা কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই করছে আর করছে তাতে সামিল হ'য়ে অদিক্ষিত ইয়ং সম্প্রদায় কিছু না জেনে, না বুঝেই জোশে, হতাশায়! কিন্তু দুঃখের বিষয়, এর জন্যে কোন অদিক্ষিত বাঙালি এলিট সমাজের কোনও বাঙালি প্রতিবাদ করেনি। যাক, ইতিহাস বড়ই নির্ম্মম! আর নির্ম্মম ইতিহাস লেখা থাকবে বাঙালির! একদিন মানুষ বুঝতে পারবে কেন ঠাকুর বলেছিলেন "আমার সৎসঙ্গের আন্দোলনের ঢেউ বাংলার বুক থেকে উঠবে না। বাংলার বাইরে থেকে উঠবে।" ( লেখা ৩১শে জুলাই'২০২০)
প্রবি।

কবিতাঃ মরণ স্তব্ধ করে!!!!!

ভাগ্যিস কেউ কখনো বলেনি 'এসো'!
ভাগ্যিস তাই যাওয়া হয়নি কোথাও!
আর তাই নিশ্চিত 'ভুল' নিয়ে যায়নি
আমায় ভুলিয়ে ভুলভুলাইয়ার আঙিনায়!!
জানালায় চোখ রেখে বসে থাকা যায়
আদি অনন্তকাল সৃষ্টির পানে চেয়ে!
'অমল' হ'য়ে যদি না বসো।
'বিশের' যৌবন ভরা থাকে বিষে?
অমৃত হ'য়ে যায় বিষ তাঁর পরশে!
কার সে ডাক বন্ধু? যে ডাকে সুদীর্ঘ
পথ হ'য়ে যায় নাতিদীর্ঘ!?
কয়েকটা পদক্ষেপ পৌঁছে দেয়
দূর-প্রসারিত দুর্গম পথ শেষে!!??
কার সে ডাক? যে ডাকে এত আকর্ষণ!!!
পলক গতিতে চলে যাও আসমুদ্র হিমাচল
মাড়িয়ে নির্দ্বিধায়! পার হ'য়ে যাও
ঝোড়ো হাওয়াকে সাথী ক'রে
অবহেলায় অবলীলায়! জল ও স্থল!!!!
ভাগ্যিস কেউ কখনো বলেনি 'চলো'
এমন ক'রে আমায়!
অস্থির চঞ্চল আমি ঐ নিশিডাকে
ভাগ্যিস যায়নি ভেসে
নিশ্চিত নরকের আঙ্গিনায়।
আর যদি আসে তাঁর ডাক !?
সে ডাকও দুর্বার, দুর্নিবার্য!
নিষ্পেষিত করে সত্ত্বা অনিবার্য!
কৃষ্ণগহ্বর ভেদ ক'রে আসে সে ডাক!
আসে সে ডাকের তীব্র আলো, তাপ-উত্তাপ!!
শুনে সেই তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ
মহানপুরুষের ডাক প্রশ্নহীন, যুক্তিহীন ঝাঁপ
দেবো মরণ স্তব্দ ক'রে!!!!!!!!!!
( ৩১শে জুলাই'২০১৭)

Thursday, July 27, 2023

উপলব্ধি ৫০ঃ ঠাকুর ও আমরা।

প্রায় সময় দেখি কেউ ঠাকুরের (শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র) কোনও বিষয় নিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট করলে যেমন ‘জয়গুরু’ ‘ধন্যবাদ’ ইত্যাদি পজিটিভ মন্তব্য ভেসে আসে ঠিক তেমনি কিছু মন্তব্য ভেসে আসে নেগেটিভ আর তাও আবার গুরুভাইদের কাছ থেকে। তারা পোষ্টের বিষয়বস্তু সংশোধন ক’রে দিতে চায় অতি ভক্তি ও অতি জ্ঞানীর পরাকাষ্ঠা হিসাবে। সংশোধন ভালো কিন্তু সংশোধনের জন্য দম থাকতে হবে যথেষ্ট এটা যেন সংশোধনকারীরা মনে রাখে। কিছু গুরুভাই আছে তারা নিজেদের ঠাকুরের শুধু দীক্ষিত যে বলে তা নয় তারা ভীষণ নিজেদের ঠাকুর প্রেমী ও ইষ্টপ্রাণ এবং ইষ্টপ্রতিষ্ঠা ও ইষ্টস্বার্থপ্রতিষ্ঠার নিষ্ঠাবান কর্মী ব’লে মনে করে আর তাই তারা পোষ্ট করা বিষয়ের প্রসঙ্গ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ব্যাক্তিগত আক্রমণে চলে যায়। আবার কেউ কেউ তো ঠাকুর পরিবারের বিরুদ্ধে তীব্র অশ্লীল বিষোদ্গার ক’রে ঠাকুর প্রেমে ভেসে গিয়ে ঠাকুর প্রেমের বাণ ডেকে আনে। এইরকম পরিস্থিতিতে যার বিরুদ্ধে এমন আক্রমণ হয় তারা নড়ে যায় এবং তর্ক ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। তখন এই সুযোগে কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের অদীক্ষিত নারী পুরুষ তীক্ষ্ণ অশ্লীল মন্তব্য ছুড়ে দেয় ঠাকুর ও ঠাকুর পরিবারের উপর। এক্ষেত্রে তখন নিজের উপরেই নিজের রাগ হয়। মন ব’লে, আমরা সত্যিই কি ঠাকুরের, ঠাকুর মিশনের যোগ্য, দক্ষ ও শিক্ষিত পতাকাবাহী!?
যাই হ’ক, কারও নেগেটিভ মন্তব্যে ন'ড়ে গেলে নিজের বিশ্বাসের প্রতি সন্দেহের প্রশ্ন এসে যায়। প্রত্যেকের স্বাধীন মতামত আছে তা সে মতামত অমৃত বহন ক'রে আনতে পারে আবার নরবর ব'য়ে আনতে পারে। যার যেমন শিক্ষা, যার যেমন রুচি, যার যেমন বংশমর্যাদা, যার যেমন পূর্ব জন্মের সুকৃতি, যার যেমন পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সে তেমন ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া দেয়। এখন যে যেটা গ্রহণ করবে। সবাই আজকাল পন্ডিত তা সেই আলোচ্য বিষয় সম্বন্ধে তার জ্ঞান থাকুক আর নাই থাকুক; মন্তব্য তাকে করতেই হবে। আর এক ধরণের মানুষ আছে যারা আলোচ্য বা প্রকাশিত বিষয়ের অন্তর্নিহিত অর্থ ধরতে বা বুঝতেই পারে না অথচ গভীর মন্তব্য করার ইচ্ছা জাগে। এগুলি করে হীনমন্যতা থেকে। একটা ভালো পোষ্ট তাকে নীচা দেখাতেই হবে যেমন ক'রে পারি। প্রশংসা দিতে বা করতে বুকে ব্যাথা লাগে। আর এক ধরণের মানুষ আছে যারা লেখা ভালো ক'রে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে না পড়েই হড়বড়ি আলটপকা মন্তব্য ক’রে নিজেকে সাজাতে চায় ময়ূরপুচ্ছধারী কাকের মত। তাই এইসব মানুষের জন্যে সব বিষয় বা সব বাণী সব জায়গায় সম্মান ও গুরুত্ব পায় না। পোষ্ট করা বিষয়ের বিষয়বস্তু এক; আর কারও কারও সেই বিষয় থেকে একেবারে ১৮০ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে উল্টোপথে হেঁটে মন্তব্য আর এক; এসব দেখে ঠাকুরের কথা মনে পড়ে যায় , “অপাত্রে, অযোগ্যে করিলে দান, দাতা গ্রহীতা দুইই ম্লান।“ এছাড়া অবাক লাগে যখন দেখি ঠাকুরের দীক্ষিত অথচ ঠাকুরকে আম ধর্মীয় গুরুদের আসনে বসিয়ে নির্দ্বিধায় ও অবলীলায় আলোচনা করে!!!!!!! ঠাকুরের দীক্ষিত অথচ ঠাকুর সম্পর্কে, ঠাকুরের মিশন সম্পর্কে, ঠাকুরের দর্শন সম্পর্কে, ঠাকুরের বাণী সম্পর্কে, ঠাকুরের জীবন সম্পর্কে, ঈশ্বর, গুরু, ধর্ম, মত ইত্যাদি সম্পর্কে তিল মাত্র জ্ঞান ও ধ্যান ধারণা নেই অথচ ঠাকুর ও ঠাকুরের বিষয় নিয়ে, ধর্ম, ঈশ্বর, গুরু ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পোঙা পন্ডিতের মত আলোচনার আসরে হাজির হ'য়ে যায় গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়লের মত!!!!! এমন বিদগ্ধ পন্ডিতরা কাউকেই রেহাই দেয়না ও দেয়নি সে বিশ্বের যত বড় পন্ডিত হ'ক না কেন। এরা বিরাট জ্ঞানী পন্ডিত, এদের হিমালয় সমান জ্ঞান আর মহাসমুদ্রের মত গভীর ও ব্যাপ্ত দৃষ্টি!!! এরা এতটাই মহান আত্মা যে এরা মহাত্মা তো দূরের কথা পরমাত্মাকেও অবলীলায়, অবহেলায় সামনে পিছনে বলাৎকার ক'রে দিতে দ্বিধা করে না। তাই ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এদের কুৎসিত ভাষা প্রয়োগ দেখে মনে পড়ে যায় ঠাকুরের আরও একটা বাণী, "বাক ও ব্যবহার এই দুটো জিনিসের মধ্যে Whole creation( সমগ্র সৃষ্টি) নিহিত আছে। তাই মানুষকে চেনা যায় তার বিভিন্ন অবস্থার বাক্য ও ব্যবহার দিয়ে।" তাই এখানে যারা ঠাকুরের দীক্ষিত ও অদীক্ষিত মন্তব্যকারী বিভিন্ন পোষ্টের বিষয়বস্তু নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ঠাকুর ও ঠাকুর পরিবার নিয়ে যে ভাষা প্রয়োগ করে এবং যেসব নোংরা ছবি পোষ্ট করে এবং নির্দ্বিধায় যারা বলতে পারে পৃথিবীর সবাই নীলছবি দেখে তাদের চেনার জন্য ঠাকুরের এই বাণী যথেষ্ট। আর ঠাকুরের শিষ্য হিসাবে ও একজন গুরুভাই হিসেবে অন্য গুরুভাইদের যারা গুরুভাই হিসাবে গুরুভাইকে অকপটভাবে প্রকৃত সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে তাদের বলছি ঠাকুরের ও ঠাকুর পরিবারের সম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার-আমার। তাই অযথা যেন আমরা তর্কে না যাই আর গেলেও যথেষ্ট পরিমাণে তৈরী হয়েই যেন যাই কারণ ঠাকুর হ'লেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময়!!!!! তাই তাঁর সম্পর্কে পোষ্ট করা বিষয়বস্তু সম্পর্কে ও তাঁর সম্পর্কে কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে তাঁর সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকা জরুরী এবং যাদের সঙ্গে কথা বলছি, মত বিনিময় করছি তা সে দীক্ষিত-অদীক্ষিত যেই হ'ক, তাদের রুচি, শিক্ষা ইত্যাদি সম্পর্কে সাবধান ও সতর্ক থাকা খুবই জরুরী। আপনার-আমার ঠাকুরকে ও ঠাকুর পরিবারকে আপনি-আমি রক্ষা করতে না পারলে কার দায় পড়েছে ঠাকুরের ও ঠাকুর পরিবারের ইজ্জৎ রক্ষা করার????? তাই সাধু সাবধান। স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা ক’রে যেন কথা বলি ও তাঁর বিষয় পোষ্ট করি। সব কথার যেমন উত্তর দেবো না, ঠাকুরের সব বিষয় ল্যাজা মুড়ো বাদ দিয়ে যত্রতত্র যখন তখন যেন পোষ্ট না করি।
(লেখা ২৮শে জুলাই'২০১৮)

প্রবন্ধঃ পিছন ফিরে দেখা ও সামনে দেখা!

জীবন সম্পর্কে, সৃষ্টি সম্পর্কে, সৃষ্টির স্থিতি ও লয় সম্পর্কে, বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যে মানুষ গরুর গাড়ির যুগে ফিরে যেতে চায়! ফিরে যেতে চায় মানুষ বেদ পূরাণের যুগে!!! ফিরে যেতে চায় এমনকি ঠাকুরের অনেক মন্ত্রশিষ্যও!!!!!! এই পিছন ফিরে দেখা ও সামনে দেখা এই দুই দেখার কোন দেখার মধ্যে দিয়ে যাবে এই ক্ষণস্থায়ী জীবন!? প্রশ্ন জাগে মনে!
সব প্রশ্নের উত্তর সময়োপযোগী ও সহজ সরল ক'রে ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন ঠাকুর যার বিকল্প কোথাও নেই কারণ সময় না হ'লে তা দেওয়া যায় না কারণ সেই সমস্ত অসীম অনন্তের বিশ্লেষণ মূলক ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের পক্ষে তার সীমায়িত বোধ দিয়ে বোঝা, অনুধাবন করা সম্ভব নয়। ঠাকুরের বলা এমন অনেক অনেক কিছু আছে যার ইঙ্গিত মানব ইতিহাসের জ্ঞান ভান্ডারের কোথাও নেই, এমনকি তিনি নিজেও এর আগের রূপে অনেকবার এসেও বলেননি কারণ বলার সময় হয়নি ব'লে। তিনি যখনই কিছু বলেছেন সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁর পরম ভক্তদের বলেছেন তাঁর বলার সমর্থনে কোথায় কি বলা আছে তা খুঁজে দেখতে! এই খুঁজে দেখতে দেখতে ঠাকুরের চারপাশের ভক্তমন্ডলী এক একজন বিরাট পন্ডিত মানুষে পরিণত হয়েছিলেন!!!!!! যখনই সেইসমস্ত ঠাকুরে উৎসর্গীকৃত প্রাণ ঠাকুরকে ঠাকুরের বলার সমর্থনে খুঁজে পাওয়া মণি মুক্তো ঠাকুরের সামনে উপস্থাপিত করতেন তখন ঠাকুর শিশুর সারল্যে হাসি-গানে মেতে উঠতেন!!!!!! আর যদি কোথাও মিল খুঁজে না পেতেন তাঁরা তখন ঠাকুর তাঁদের উদ্দেশ্যে বলতেন, এই মুখ দিয়ে পরমপিতা যখন একবার কওয়ায় দিছেন তখন আর আমার কিছু করার নাই। আর ঠাকুর মাঝেমাঝেই বলতেন, যা দিয়ে গেলাম আগামী দশ হাজার বছরের মধ্যে কিছু লাগবে না!!!!!! আবার কখনো কখনো বলতেন, আর কিছু বাকি আছে নাকি কেষ্টদা? যদি থাকে তো বলেন এইবেলায় ক'য়ে দিয়ে যায়। এইরকম বহু ইঙ্গিত তিনি দিয়ে গেছেন যা সমঝদারোকে লিয়ে ইশারা কাফি হোতা হ্যায়!!!!!! তাই ঘোর কলি যুগের ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে পিছন ফিরে দেখা আর গরুর গাড়ির যুগে ফিরে যাওয়ার অর্থ ঠাকুর কে, তিনি কেন, কি জন্যে এসেছিলেন, কি দিয়ে গেলেন, কেনই বা তিনি এত তাড়াতাড়ি এলেন, কেন এবার জ্ঞানের মহাসমুদ্রের মধ্যে আমাদের ফেলে দিয়ে গেলেন, কেনই বা তিনি যা দিয়ে গেলেন তা কিঞ্চিৎ বুঝতে আরো ১০০বছর লাগবে ইত্যাদি প্রশ্ন সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনও ধারণা না থাকা!!!!!!!! তাই তো ঠাকুর দুঃখ ক'রে বলেছিলেন, যত দ্রুততার সঙ্গে তোমাদের যা করতে বলেছিলাম ততটাই শিথিলতার সাথে তা গ্রহণ করলে! আর একজন্মে তিনি যা দিয়ে গেলেন আমাদের মতন সীমাহীন ভাঙাচোরা মানুষদের পক্ষে হাজারবার জন্মালেও তা পড়ে শেষ করা ও বোঝা সম্ভব না; করা তো দূর কি বাত!!!!!!! তাই বেদ, পুরাণ, শাস্ত্রতাস্ত্র পড়ে সময় নষ্ট করার কোনও মানে হয় না, ওসব বিলাসিতা ও বাতুলতা মাত্র আর ঠাকুরের কথায় "তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে আছো মণি!?" কারণ এই জীবন অল্প ক'দিনের জন্য তাই সময় নষ্ট করার সময় কোথায় দাদা!? পড়তেই যদি হয়, অধ্যয়নের গভীরে ডুবই যদি দিতে হয়, জানতেই যদি হয়, শাস্ত্রতাস্ত্র পড়া যদি মুখে মারিতং জগৎ না হয়, কথার কথা যদি না হয় আর যদি সম্ভব হয় তাহ'লে ঠাকুরের বি-শা-ল সাহিত্য-দর্শন-বিজ্ঞান সমুদ্রে ডুব দিন! তখন দেখতে পাবেন শাস্ত্র-শস্ত্র, বেদ-পুরাণ ইত্যাদি ইত্যাদি সব সব ভেসে যাচ্ছে বানের জলে ভেসে যাওয়ার মত। আর যা বললাম, ঠাকুরের কথায়, যত ডুববেন তত বেমালুম হবেন!!!!!! তল, কূল, ঠাঁই, থই পাবেন না!!!!!!!!!! তাই আসুন সুর ক'রে গেয়ে উঠি, 'তোমার মুখপানে চেয়ে থাকি শুধু, তৃষ্ণা মেটে এ সুখা জীবনের!!!!!! জয়গুরু।-----------প্রবি।
(লেখা ২৮শে জুলাই'২০১৯)