একটা কথা না লিখে আর পারলাম না; একজন কবির কবিতায় কেন বারবার ফিরে ফিরে আসে নারীর ঠোঁট, স্তন, সঙ্গম, কটিদেশ!? নারীর শরীর তার কবিতার একমাত্র বিষয়বস্তু!? এছাড়া কি কবিতার জন্ম হয় না!? কবিতা লিখতে গেলেই নারীর চোখ, মুখ, গ্রীবা, কুচ, কুচাগ্র, নাভি, কটিতট, জঙ্ঘা, নিতম্ব যত সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কবির কলমে শব্দ হ'য়ে ঝরে পড়ে!! আর সে কবিতা হ'য়ে ওঠে নান্দনিক, দার্শনিক!!!!! এইসব নারী শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নাকি উচ্চমার্গের দ্ব্যর্থ প্রয়োগ। যার যেমনি রুচি তার নাকি তেমনি অর্থ বোধ! নব্য কবি অন্তরাত্মার এই কি আদেশ! তাই মনে প্রশ্ন জাগে বারবার, কবিতা তুমি কার? শুদ্ধ বুদ্ধ আত্মা নাকি বিকৃত অন্তরাত্মার? তুমি স্বর্গের নাকি নরকের দ্বার? কবি মনে করে কবিতা মানেই নারী; তাই নারীর নাম হয় কবিতা! তাহ'লে এইজন্যই বোধহয় বলে নারী নরকের দ্বার! যেহেতু কবিতা আর নারী নামের এপিঠ ওপিঠ ও সমার্থক আর কবিতা শব্দে আছে 'তা' বাদ দিয়ে কবি তাই কবির আছে পুরো অধিকার কবিতার শরীরে। তাই কবি দিয়ে যায় 'তা' নারীর শরীরে বারেবারে উষ্ণতার তরে বিরামহীন নিজের অগোচরে।
(লেখা ২৩শে জানুয়ারী' ২০১৮)
Monday, January 23, 2023
নেতাজীর ১২১ তম জন্মদিন।
আজ ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, সুভাষচন্দ্র বসুর ১২১তম জন্মদিন। আজ তাঁর শুভ জন্মদিনে জানাই আভুমি প্রণাম। স্বাধীনতার ৭০বছর পরেও তিনি রহস্যের বেড়াজালে বন্দী। কত সরকার এলো আর গেলও, কত নেতা এলেন আর গেলেন কিন্তু নেতাজী আর ফিরে এলেন না, ফিরে এলেন না নিজের দেশে, নিজের ঘরে! বাইরে কোথায় যে শয়তানের ঘেরাটোপে চিরদিনের মত আটকে গেলেন রাজনীতির গোলকধাঁধায়; কে জানে! জানে অনেকে তবুও তারা না জানার ভূমিকায় কাটিয়ে দিল জীবন। কিসের ভয়!? কাহার ভয় !? কে জানে! শাবাশ দেশের তামাম রাজনৈতিক দল ও দলের নেতৃত্ব! শাবাশ দেশের তামাম এলিট সম্প্রদায়!!!!!! কোথায় যে গেলেন তিনি হারিয়ে আর কোথায় যে পাবো তাঁরে, আ্মার মনের মানুষটিরে তা জানি না। তাই তাঁর শুভ জন্মদিনে তাঁকে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ ক'রে শ্রদ্ধেয় গগন হরকরার লেখা গানের কথাগুলি তুলে ধ'রে তাঁকে অন্তরের অকপট শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানালাম।
কোথায় পাব তাঁরে?
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে
হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশে
দেশ বিদেশে বেড়াই ঘুরে।
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।
লাগি সেই হৃদয়শশী
সদা প্রাণ হয় উদাসী
পেলে মন হত খুশি
দেখতাম নয়ন ভরে।
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।
আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে
নিভাই অনল কেমন করে
মরি হায় হায় রে
ও তার বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে
ওরে দেখ না তোরা হৃদয় চিরে।
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।
দিব তার তুলনা কি যার প্রেমে জগৎ সুখী
হেরিলে জুড়ায় আঁখি সামান্যে কি দেখিতে পারে
তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে।
মরি হায় হায় রে –
ও সে না জানি কি কুহক জানে
অলক্ষ্যে মন চুরি করে।
কুল মান সব গেল রে তবু না পেলাম তারে
প্রেমের লেশ নাই অন্তরে –
তাইতে মোরে দেয় না দেখা সে রে।
ও তার বসত কোথায় না জেনে তায় গগন ভেবে মরে
মরি হায় হায় রে
ও সে মানুষের উদ্দিশ যদি জানুস কৃপা করে
আমার সুহৃদ হয়ে ব্যথায় ব্যথিত হয়ে
আমায় বলে দে রে।
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।।
(লেখা ২৩শে জানুয়ারী'২০১৭)
কোথায় পাব তাঁরে?
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে
হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশে
দেশ বিদেশে বেড়াই ঘুরে।
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।
লাগি সেই হৃদয়শশী
সদা প্রাণ হয় উদাসী
পেলে মন হত খুশি
দেখতাম নয়ন ভরে।
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।
আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে
নিভাই অনল কেমন করে
মরি হায় হায় রে
ও তার বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে
ওরে দেখ না তোরা হৃদয় চিরে।
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।
দিব তার তুলনা কি যার প্রেমে জগৎ সুখী
হেরিলে জুড়ায় আঁখি সামান্যে কি দেখিতে পারে
তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে।
মরি হায় হায় রে –
ও সে না জানি কি কুহক জানে
অলক্ষ্যে মন চুরি করে।
কুল মান সব গেল রে তবু না পেলাম তারে
প্রেমের লেশ নাই অন্তরে –
তাইতে মোরে দেয় না দেখা সে রে।
ও তার বসত কোথায় না জেনে তায় গগন ভেবে মরে
মরি হায় হায় রে
ও সে মানুষের উদ্দিশ যদি জানুস কৃপা করে
আমার সুহৃদ হয়ে ব্যথায় ব্যথিত হয়ে
আমায় বলে দে রে।
আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।।
(লেখা ২৩শে জানুয়ারী'২০১৭)
নেতাজীর ১২৩তম জন্মদিন।
আবার ফিরে এলো নেতাজির জন্মদিন। আজ ২৩শে জানুয়ারি ২০১৯ (শুক্রবার)। ১২৩ বছরে পা দিলেন তিনি। আভুমি প্রণাম জানাই তাঁর শ্রীচরণে।
বারেবারে ফিরে ফিরে আসে নেতাজীর জন্মদিন। কিন্তু ফিরে আসেন না তিনি। আর আসবেনও না কোনদিন তিনি। আজ আর ফিরে আসে না তাঁর কষ্টময় জীবনের স্মৃতি। আজ তিনি অতীত। সময় বড় নির্মম। সবাই নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। তাঁর রহস্যময় অন্তর্ধান নিয়ে সমাজপতিদের কারও নেই মাথাব্যথা। ক্ষমতা দখলের লড়াই, আত্মপ্রতিষ্ঠা আর অর্থবান হ'য়ে ওঠার নির্মম প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে আজ সবাই ব্যস্ত, বিদ্ধ, ক্ষতবিক্ষত। কারও সময় নেই পিছন ফিরে তাকাবার। সবাই সময়ের সঙ্গে ছুটছে আর সবই ছুটে চলার ভয়ঙ্কর চুলকানি। কিন্তু একটা জিনিসে আমরা বাঙালিরা প্রায় সবাই অভ্যস্ত। সেটা হ'লো মহানদের নিয়ে তীব্র সমালোচনা, কটূক্তি, নিন্দা, কুৎসা। নেতাজির বেলায়ও তার ব্যতিক্রম নেই। আজ তাঁর জন্মদিনেও দেখলাম তাঁকে নিয়ে, তাঁর কাজ নিয়ে, তাঁর করা, না করা কাজ নিয়ে কটুক্তি, সমালোচনা!!!!!! কারা করছে? ম-হা-ন জাত বা-ঙ্গা-লি!!!! সীমাহীন ভাঙাচোরা বাঙালি!!!!!
অবাক লাগে যখন দেখি চালুনী সূঁচের ফুটো খোঁজে!!!!! তুমি বাঙালি? বাঙালি না বাংগালী? তুমি বাঙালি তার প্রমাণ কি? প্রমান হলো, আমি মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিদ্রান্বেষী বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ছিদ্রান্বেষী বাঙালি সন্তান। দুনিয়া এক নম্বরি তো ম্যায় দো নম্বরি নেহি শালা দশ নম্বরি!!!!!
কারও দিকে আঙ্গুল তোলার আগে নিজেকে যে আগে নিজের জীবনের আয়নায় দেখতে হয় সেই কথাটা আমরা ভুলে যায়। নেতাজির মতো মহান আত্মাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অর্থ নিজের জাত ছিনিয়ে দেওয়া। এই বাঙালি জাতটাকে এই জন্যই কেউ সহ্য করতে পারে না। তাই ব্যঙ্গ ক'রে বলা হ'যে থাকে 'শালা বাঙগালি'। শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, নেতাজি ইত্যাদি ইত্যাদির মতো মহান কিছু মানুষদের জন্য চুপ করে থাকে। আর এদের নিয়েই এখনও পর্যন্ত ভাঙিয়ে খাচ্ছে 'বাঙালি'!!!!!
কারো সম্মন্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করার আগে তাঁর সমন্ধে প্ৰ-চু-র পড়াশুনার প্রয়োজন হয়।
নইলে সেই মন্তব্য থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয়, যা সমাজের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভয়ংকর ক্ষতিকর আর ক্ষতিকর বস্তুর কোনও প্রয়োজন নেই সভ্য সমাজে।
(লেখা ২৩শে জানুয়ারী'২০১৯)
বারেবারে ফিরে ফিরে আসে নেতাজীর জন্মদিন। কিন্তু ফিরে আসেন না তিনি। আর আসবেনও না কোনদিন তিনি। আজ আর ফিরে আসে না তাঁর কষ্টময় জীবনের স্মৃতি। আজ তিনি অতীত। সময় বড় নির্মম। সবাই নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। তাঁর রহস্যময় অন্তর্ধান নিয়ে সমাজপতিদের কারও নেই মাথাব্যথা। ক্ষমতা দখলের লড়াই, আত্মপ্রতিষ্ঠা আর অর্থবান হ'য়ে ওঠার নির্মম প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে আজ সবাই ব্যস্ত, বিদ্ধ, ক্ষতবিক্ষত। কারও সময় নেই পিছন ফিরে তাকাবার। সবাই সময়ের সঙ্গে ছুটছে আর সবই ছুটে চলার ভয়ঙ্কর চুলকানি। কিন্তু একটা জিনিসে আমরা বাঙালিরা প্রায় সবাই অভ্যস্ত। সেটা হ'লো মহানদের নিয়ে তীব্র সমালোচনা, কটূক্তি, নিন্দা, কুৎসা। নেতাজির বেলায়ও তার ব্যতিক্রম নেই। আজ তাঁর জন্মদিনেও দেখলাম তাঁকে নিয়ে, তাঁর কাজ নিয়ে, তাঁর করা, না করা কাজ নিয়ে কটুক্তি, সমালোচনা!!!!!! কারা করছে? ম-হা-ন জাত বা-ঙ্গা-লি!!!! সীমাহীন ভাঙাচোরা বাঙালি!!!!!
অবাক লাগে যখন দেখি চালুনী সূঁচের ফুটো খোঁজে!!!!! তুমি বাঙালি? বাঙালি না বাংগালী? তুমি বাঙালি তার প্রমাণ কি? প্রমান হলো, আমি মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিদ্রান্বেষী বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ছিদ্রান্বেষী বাঙালি সন্তান। দুনিয়া এক নম্বরি তো ম্যায় দো নম্বরি নেহি শালা দশ নম্বরি!!!!!
কারও দিকে আঙ্গুল তোলার আগে নিজেকে যে আগে নিজের জীবনের আয়নায় দেখতে হয় সেই কথাটা আমরা ভুলে যায়। নেতাজির মতো মহান আত্মাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অর্থ নিজের জাত ছিনিয়ে দেওয়া। এই বাঙালি জাতটাকে এই জন্যই কেউ সহ্য করতে পারে না। তাই ব্যঙ্গ ক'রে বলা হ'যে থাকে 'শালা বাঙগালি'। শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, নেতাজি ইত্যাদি ইত্যাদির মতো মহান কিছু মানুষদের জন্য চুপ করে থাকে। আর এদের নিয়েই এখনও পর্যন্ত ভাঙিয়ে খাচ্ছে 'বাঙালি'!!!!!
কারো সম্মন্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করার আগে তাঁর সমন্ধে প্ৰ-চু-র পড়াশুনার প্রয়োজন হয়।
নইলে সেই মন্তব্য থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয়, যা সমাজের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভয়ংকর ক্ষতিকর আর ক্ষতিকর বস্তুর কোনও প্রয়োজন নেই সভ্য সমাজে।
(লেখা ২৩শে জানুয়ারী'২০১৯)
কবিতাঃ পায়েদের সময়!
পায়েরা আজ করছে মাথার কাজ
দেশজুড়ে মাথারা আজ হ'য়ে আছে ভীষ্ম!
পা আজ নেই পা বন্ধু! গোড়ালিতে ঘিলু
তাত্ত্বিক আমেজে আজ ঘুমিয়ে ভীষ্মরা
নরবরে ভর্তি মাথাদের মাথা আজ আলুথালু!
পেট ভর্তি গ্যাস আর হাত ভরা গোদ
স্যাঁতস্যাঁতে জীবনে আজ নেই কোনও রোদ!
পা বলে মাথাকে এসো তুমি
এই নাও নামের ফলক
গুঁজে নাও মাথায় পালক
নামের পাশে শ্রী আর ভূষণে নাও সাজিয়ে নিজেকে!
বিনিময়ে সময় থাকতে অর্থ-মান-যশ নাও হাতিয়ে!!
মাথা আজ নামিয়ে মাথা পায়ের কাছে
নতজানু হ'য়ে নিষ্ঠা শেকল গলায় পড়ে হায়!
পা বলে হেসে খুসখুস কেশে সময় বলবান ভাই!!
(লেখা ২৩শে জানুয়ারী'২০২১)
পা আজ নেই পা বন্ধু! গোড়ালিতে ঘিলু
তাত্ত্বিক আমেজে আজ ঘুমিয়ে ভীষ্মরা
নরবরে ভর্তি মাথাদের মাথা আজ আলুথালু!
পেট ভর্তি গ্যাস আর হাত ভরা গোদ
স্যাঁতস্যাঁতে জীবনে আজ নেই কোনও রোদ!
পা বলে মাথাকে এসো তুমি
এই নাও নামের ফলক
গুঁজে নাও মাথায় পালক
নামের পাশে শ্রী আর ভূষণে নাও সাজিয়ে নিজেকে!
বিনিময়ে সময় থাকতে অর্থ-মান-যশ নাও হাতিয়ে!!
মাথা আজ নামিয়ে মাথা পায়ের কাছে
নতজানু হ'য়ে নিষ্ঠা শেকল গলায় পড়ে হায়!
পা বলে হেসে খুসখুস কেশে সময় বলবান ভাই!!
(লেখা ২৩শে জানুয়ারী'২০২১)
Sunday, January 22, 2023
ব্রাত্যবাবু! কুনালবাবু!
আপনারা তো সংস্কৃতি জগতের লোক তা আপনাদের সংস্কৃতি কি কাউকে হনূমান বানর ব'লে গালি দেওয়া!? কাউকে হনূমান বানর ব'লে গালি দিয়ে আদপেই কি হনূমান ও বানরকে অপমান অশ্রদ্ধা ও গালি দেওয়া হ'লো না!? আপনাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি কি বলে? ব্রাত্যবাবু আপনি তো নাট্যকার! আপনার নাটকে কত সমাজ সংস্কারের কথা বলেছেন; সিপিএম জমানার বদলের প্রথম দিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন তুঙ্গে তখন টিভিতে এবিপি আনন্দের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠানে আপনার বক্তব্য আমাকে ভীষণ ভাবে নাড়া দিয়েছিল, আপনার সেদিনের অনুষ্ঠানে বলা কথাগুলি আমি লিখে রেখেছিলাম কিন্তু আজ দুর্ভাগ্যবশত সেই লেখা কাগজ হারিয়ে ফেলেছি আর কুণালবাবু আপনার সাংবাদিকতার আমি ছিলাম একনিষ্ঠ ভক্ত, আপনার লেখা আমি কিছু কিছু বিশেষ কথা কালেকশান ক'রে রাখতাম পরবর্তীতে আমার সেই কালেকশান হারিয়ে যায়! হারিয়ে যায় আপনাদের কথার ভোল বদলের কারণে! সেই প্রথম দিকে টিভিতে আপনাদের কথা, আপনাদের বিশ্বাস, আপনাদের নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করেছিল কিন্তু আজ আপনাদের কথা আমাকে আপনাদের বলতে বাধ্য করছে যে, হিন্দু তথা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমগ্র সচেতন ধর্মপ্রাণ ইশ্বরবিশ্বাসী মানবজাতির আরাধ্য দেবতা আদর্শ পুরুষ পুরুষোত্তম পরমপিতা শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের পরম সহযোগী জীবনের জন্য, বাঁচা ও বাড়ার জন্য সুকেন্দ্রিক উৎসাহ সহকারে সৎ প্রচেষ্টার সঙ্গে জীবন সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত অকপট সহানুভূতিপূর্ণ সেবাপ্রাণ পরমভক্ত হনূমান ও বানরজাত কি নিকৃষ্ট, ছোটোজাতের জীব?
ব্রাত্যবাবু আপনি বলেছেন 'জয় শ্রীরাম ধ্বনি' বাঙালীর সংস্কৃতি নয় তা কোনটা বাঙালীর সংস্কৃতি? যারা 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি দিয়েছে তাদের হনূমান, বানরসেনা ব'লে গালি দিয়ে প্রকারান্তরে হনূমান, বানরকে গালি দেওয়া অসম্মান অপমান করা বাঙালীর সংস্কৃতি? নাকি আপনাদের আমদানি করা নূতন সংস্কৃতি? পারলে উত্তরটা দেবেন।
ব্রাত্যবাবু আপনি বলেছেন 'জয় শ্রীরাম ধ্বনি' বাঙালীর সংস্কৃতি নয় তা কোনটা বাঙালীর সংস্কৃতি? যারা 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি দিয়েছে তাদের হনূমান, বানরসেনা ব'লে গালি দিয়ে প্রকারান্তরে হনূমান, বানরকে গালি দেওয়া অসম্মান অপমান করা বাঙালীর সংস্কৃতি? নাকি আপনাদের আমদানি করা নূতন সংস্কৃতি? পারলে উত্তরটা দেবেন।
লেখা ২৩শে জানুয়ার' ২০২১)
শেখ আব্দুল হামিদকে লেখা খোলা চিঠি।
"We should also seriously look into allegations made by the VC in his press conference. If you make a chakkar around the campus you will come to know that his allegations are not baseless".......Sheikh Abdul Hamid.
16ই জানুয়ারী আমার Timeline-এ Post করা 'হোক কলঙ্কমুক্ত যাদবপুর' লেখা প্রসঙ্গে আপনার উপরিউক্ত মতামত আমায় যাদবপুরের ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত উভয় পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে বিশদ বিশ্লেষণমূলক আলোচনায় উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে তুললো। আপনাকে এর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
এটা ঠিকই ছাত্রদের আন্দোলন যে সবটাই যুক্তিসঙ্গত ও ত্রুটিহীন তা নয়। ছাত্রছাত্রীদের শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ হয়তো স্বতঃস্ফূর্ত ও সঠিক কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে আন্দোলনের জন্য গৃহীত দীর্ঘ পদক্ষেপগুলির মধ্যে বেনো জল আছে এতে সন্দেহ নেই। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ছাত্রছাত্রীদের এই শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আন্দোলনের অভিমুখ যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য থেকে ঘুরে গেছে ও নেতৃত্বের হস্তান্তর হয়ে গেছে সেটা যে কোন দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের প্রবহমানতার ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। ঠিক এই জায়গায় সতর্ক ও সচেতন থাকার ক্ষেত্রে মানসিক পরিপক্কতার প্রয়োজন। যেটা ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে একেবারে অসম্ভব। যে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার পরিবর্তে লেখাপড়াজানাওয়ালা মানুষ ও আত্মস্বার্থ প্রতিষ্ঠাসম্পন্ন কায়েমী স্বার্থ রক্ষাকারী রাজনীতিবিদরা সঠিক ও নির্ভুল বলে সীলমোহর দিয়েছেন। আসলে ব্যাপারটা ঠিক, কারণ গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে চলা ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে ছাত্রজীবনেই মানসিক পরিপক্কতা অর্জন অসম্ভব। আর এই অসম্ভবের উপর দিয়ে হেঁটে আসা আজকের রাজনীতিবিদ ও প্রতিষ্ঠিত লেখাপড়াজানাওয়ালা মানুষ যারা একদিন ছাত্রছাত্রী ছিল তাঁরা কি তাদের সেদিনের অনভিজ্ঞতা ও ভুলের কারণে সৃষ্ট নানা সমস্যা সম্পর্কে আদৌ কি অনুতপ্ত? সেদিন তো দূরের কথা আজকের প্রৌঢ়ত্বের মধ্যগগনে ও বার্ধ্যকের শেষপ্রান্তে আসা রাজনীতিবিদ ও লেখাপড়াজানাওয়ালা প্রতিষ্ঠিত মানুষেরা কি তাঁদের প্রতিদিনের কৃতকর্মে বিন্দুমাত্র চিন্তিত, লজ্জিত ও অনুতপ্ত?
আর সঠিক নির্ভুল গাইডেন্স, প্রচুর পড়াশুনা, অভিজ্ঞতা ও সদিচ্ছা মানুষকে পরিপক্ক করে তোলে। যেখানেই যত আন্দোলন হয়েছে সেখানেই স্বতঃস্ফূর্ত সহজ সরল আন্দোলনকারীদের মধ্যে Vested Interest চোরের মত চুপিসারে ঢুকে পড়ে তার ভয়ংকর থাবা বসিয়েছে। আর স্বাভাবিক নিয়মেই সেই মূল স্রোত থেকে তৈরী হয় অনেক শাখা প্রশাখা যা প্রায় মূলের আকার ধারণ করে। যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। আসলে যদি লক্ষ্য স্থির রেখে আন্দোলনের ঘটনা পরম্পরা বিচার করা যায় তাহলে দেখা যাবে উপাচার্য তাঁরই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদকে যদি প্রথমেই আন্তরিকতার সঙ্গে মর্যাদা ও গুরুত্ব দিতেন তাহলে যাদবপুরের আজকের এই ‘হোক কলরব’ আন্দোলন সংগঠিত ও বিস্তৃত হওয়ার কোন সুযোগই পেত না। উপাচার্যের প্রেস কনফারেন্সে বলা কথা অনুযায়ী হয়তো বা উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুদিন ধরে চলে আসা শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিরোধী কোনো কোনো প্র্যাক্টিসের বিরুদ্ধে ছিলেন। হয়তো কায়েমী স্বার্থে ঘা-ও দিয়েছিলেন। যার ফলস্বরুপ হয়তো বা তার বিরুদ্ধেও তলে তলে গোপন এজেন্ডা তৈরি হয়েছিল। হয়তো বা ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিরোধী অভ্যস্ত কোনো কোনো প্র্যাক্টিসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত থাকার কারণে কিম্বা পক্ষপাতিত্বের কারণে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদের সময় তিনি নিরপেক্ষ ও পিতৃপ্রতিম অভিভাবকের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছিলেন যা তিনি আর ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করেননি বা সুযোগ পাননি বা পেলেও ততক্ষণে তাঁর নাগালের বাইরে চলে গেছিল। কিম্বা তাঁর সামনে তখন তাঁর ইগো বা কোনো কিছু বা কারও প্রতি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত তাঁর প্রশ্নাতীত আনুগত্য, যা তাঁর ব্যক্তিসত্তাকে চিরদিনের মত ক্ষতবিক্ষত করে দিল, তাঁর কাছে বাঁধার প্রাচীর হ’য়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া ঐ পদের সহজ স্বাভাবিক দাবীদার হিসাবে যদি তাঁর নাম বিবেচিত না হওয়া সত্ত্বেও অস্বাভাবিক উপায়ে তিনি ঐ পদ অলংকৃত করে থাকেন তাহলে তাঁরই সহকর্মীদের তলে তলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কাছে তিনি নিজের ঐ লোভ ও ভুলের খেসারত দিয়েছেন মাত্র। যে ক্ষোভ কিনা সুযোগ পেয়ে গেছে শ্লীলতাহানির ঘটনায়। আর এই সুযোগ তিনি নিজেই তুলে দিয়েছিলেন তাঁদের হাতে তাঁর নানারকম অশিক্ষক সুলভ ভূমিকা পালনের কারণে।
এই ভূমিকা পালন প্রমাণ করেছিল উপাচার্যের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার চূড়ান্ত অভাব। একজন ভালো ছাত্র হতে পারে কিন্তু ভালো ছাত্র মাত্রই ভালো শিক্ষক হবে এটা ভুল। আবার একজন ভালো শিক্ষক মাত্রই ভালো প্রশাসনিক প্রধান হবেন তারও কোনও কথা নেই। ঠিক যেমন একজন ভালো কর্মী হতে পারে তাই বলে সে ভালো সংগঠক হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেমন কোনো গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নেই ভালো খেলোয়ার, ভালো অভিনেতা বা ভালো মানুষ মাত্রই ভালো অধিনায়ক, ভালো পরিচালক বা ভালো রাজনীতিবিদ হবেই। একটা আইডিয়া থাকতে পারে সেই বিষয়ে, যা পরামর্শদাতা হিসাবে নেতৃত্বদানকারী ব্যাক্তির পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে মাত্র; কিন্তু কখনোই মূল ভুমিকায় নয়। নিপুণ হাতে পরিচালনা করার দক্ষতা বা ক্ষমতা সবটাই একেবারে জন্মগত ব্যাপার। জোর করে আর যাই হোক দেশকে, সমাজকে বা কোনো প্রতিষ্ঠানকেই নিপুণ হাতে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা যায় না। এটা প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের ব্যাপার। আবার যোগ্যতা বা দক্ষতা থাকলেই যে সে নেতৃত্বদানে সফল হবে এ আশা করাও ভুল কেননা এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে চূড়ান্ত সততার প্রশ্ন। যেমন সৎ হলেই বা সততা থাকলেই যে সেই মানুষ জীবনে পরিচালনার ক্ষেত্রে সফল হবে তাও কিন্তু নয়। এ প্রসঙ্গে পরম প্রেমময় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের কথা মনে পড়ে গেল। তিনি বলেছেন, “যোগ্যতা নেই দাবী করে, বেঘোর পথে তারাই মরে”। যোগ্য তপে পূজ্য যারা, দাবীর পূরণ পাবেই তাঁরা”। আবার বললেন, “সৎ ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয় যার, উন্নতি হয় অবাধ তাঁর”।
আজকের ছাত্রছাত্রীরা হয়তো যুদ্ধ জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা। আনন্দের মাত্রাছাড়া বহিঃপ্রকাশ আর যাই হোক ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের পবিত্রতাকে রক্ষা করে না। হতে পারে এই পরিণতির জন্য শিক্ষক দায়ী কিন্তু তুমি অধম বলিয়া আমি উত্তম হইবো না কেন-র মত তুমি শিক্ষক, পবিত্রতা নষ্টের কারিগর বলে আমি ছাত্রও অপবিত্র হইবো এই শিক্ষা আর যাই হোক কোনো সামাজিক গঠনমূলক কাজের দিশারী হ’তে পারে না। এটা আমাকে সবসময় মনে রাখতে হবে আজ যে আমি ছাত্র কাল সেই আমিই শিক্ষকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হবো। আজকের প্রতিশোধমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত ছাত্র আগামীতে সেই প্রতিশোধমূলক শিক্ষার মানসিকতার Tradition নিয়ে শিক্ষকের আসনে বসে ভবিষ্যতের ছাত্রছাত্রীদের পরিচালনা করব। যা আজকের অনেক শিক্ষকের মধ্যে এর জ্বলন্ত প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। আজকের ছাত্রছাত্রীদের মনে রাখতে হবে এই জয়ে প্রকৃত কোনো আনন্দ নেই। সাময়িক এক বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা মাত্র। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়ে চলা জীবনের নানা ঘটনাবলীর মধ্যে দিয়ে লব্ধ অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি ঘটবে আগামীতে। উপলব্ধি ঘটবে আজকের ধীরে না চলার ও আনন্দের নামে বিক্ষিপ্ত উত্তেজনার লাভ লোকসানের হিসাব। অবশ্য যদি লাভ লোকসানের খতিয়ান নিয়ে বসার গভীর অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা থাকে। যদিও তা হবার নয়। কারণ গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে চলা সরল অপরিপক্ক ছাত্রছাত্রী অনভিজ্ঞতার অভাবে এক অলীক বিশ্বাসের উপর ভর করে স্বাভাবিক এক দুঃসাহসিক অভিযানের যাত্রী হয়। তারা ভেবেও দেখে না সামনের ঐ গড্ডর বা অগ্রবর্তীর দূরদৃষ্টি কতটা স্বচ্ছ ও গভীর।
তাই প্রকৃত আনন্দ হ’ত যদি ছাত্রছাত্রীরা উপাচার্যকে ঐ পদে রেখে দিয়েই তাঁকে তাঁর ভুল উপলব্ধি ও স্বীকার করার মার্গ দেখাতে পারতো এবং তাঁর কৃত কর্ম্ম সম্পর্কে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ দিত, তাঁকে শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করত। অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে শিক্ষককে দিয়েই শাস্তি দেওয়াতে পারতো। তাঁকে দিয়েই পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাতে পারতো। অসম্ভব বলে যা আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তাকে গভীর ধৈর্য্যশক্তি, সহ্যশক্তি ও দূরদৃষ্টির সাহায্যে নিখুঁত পরিচালনায় সম্ভব করে তুলতে পারতো। কারণ ছাত্রজীবনের অভিধানে নাকি 'অসম্ভব' 'না' 'হয়না' বলে কোনো শব্দ নেই! তাই এই আশা জাগে মনে বারেবারে। আর সেটাই হতো আন্দোলনের সার্থক সমাপ্তি। যদিও আজকের ছাত্রছাত্রী সমাজ এই ধরণের মানসিকতার মধ্যে আবেগের বাহুল্য ও অসম্ভবের ছবি দেখতে পারে। কিন্তু এটাই সত্যি।
এর থেকে আরও বড় সত্যি যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের যে দুর্দান্ত লড়াই আন্দোলন গোটা দুনিয়া দেখলো, যাদবপুর আন্দোলন ছাত্র আন্দোলনের জয়ের এক ইতিহাস হয়ে রইলো গোটা পৃথিবীর ছাত্র সমাজের কাছে, যে ‘হোক কলরব’ তামাম দুনিয়ার লড়াকু মানুষের কলরবের পথ প্রদর্শক হ’য়ে রইলো সেই দুর্দান্ত লড়াই, সেই জয়ের ইতিহাসের উৎস, সেই ‘হোক কলরব’-এর ভ্রূণ সৃষ্টির জনকও কিন্তু এই গর্বিত ছাত্রসমাজের কোনো এক বা অধিকজন! বারবার জন্ম নিচ্ছে ছাত্রের দ্বারা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ভ্রূণ! এটা যেন ভুলে না যায় আজকের ছাত্রছাত্রী সমাজ। খুঁজে যেন বের করার চেষ্টা করে যে কোন উন্নত শিক্ষা, কোন উচ্চ সংস্কৃতির ফলে এই ভ্রূণ সৃষ্টি? ভুলে যেন না যায় এই ভ্রূণ সৃষ্টির আতুর ঘরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। আর যেন একবার থমকে দাঁড়িয়ে গভীর ভাবে ভেবে দেখে ছাত্রের দ্বারা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির এই ভ্রূণ সৃষ্টির ঘটনা একবার নয় বারবার ঘটে চলে কেন বিশ্বভারতী, রবীন্দ্রভারতী, প্রেসিডেন্সি ইত্যাদি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে? কেন? কেন যাদবপুরের আগে ঐ শ্লীলতাহানীর ঘটনায় গর্জে ওঠেনি ছাত্রছাত্রীদের লড়াকু অন্তর? টেলিভিশনের পর্দায় বারবার দেখতে পায় যাদবপুরের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন সম্পর্কিত বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চমেধা সম্পর্কে একটা অত্যন্ত নাক উঁচু গর্ব বোধ করেন এবং তাঁরা যে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে রত সেটা ফলাও করে টিভির পর্দায় বলেন। জিনিয়াস ছাত্র হিসাবে একটা অহংকার তাঁদের শরীরী ভাষায় ছড়িয়ে পড়ে! কিন্তু একবারও প্রাক্তন ও বর্তমান গর্বিত উচ্চমেধাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত উচ্চমেধাসম্পন্ন ছাত্রীর উপর উচ্চমেধাসম্পন্ন ছাত্রের দ্বারা শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রের প্রতি তীব্র ঘৃণা, ক্রোধ এবং উচ্চমেধাসম্পন্ন অভিযুক্ত ছাত্রের জন্য লজ্জা, অপমান চোখে মুখে ফুটে ওঠেনি! ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত তাদের সমর্থকদের মিলিত গোটা লড়াইটার উচ্চমাত্রায় টিআরপির ভিত্তি ছিল উপাচার্যের ক্রিয়াকর্মের তীব্র বিরোধিতা। যদিও উপহার হিসাবে ছাত্রছাত্রীদের হাতে এই বিরোধিতার তীব্র ঝাঁঝ-এর মসালা তুলে দিয়েছিল উপাচার্য স্বয়ং। আর প্রকারান্তরে ক্ষমতার দম্ভে ইগোর লড়াইয়ে জড়িয়ে গেছিল রাজ্য সরকার ও সরকারের শিক্ষাদপ্তর! যাইহোক একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লড়াই আন্দোলন সংগঠিত করার আগে নিজেকে নিজের বিবেকের আয়নায় দেখার সময় কি এখনো আসেনি বর্তমান উচ্চমেধাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীসমাজের???
আমাদের মনে রাখতে হবে বিবেকের মৃত্যু যেন এই শতকের সবচেয়ে বড় দুসংবাদ হ'য়ে না ওঠে।

16ই জানুয়ারী আমার Timeline-এ Post করা 'হোক কলঙ্কমুক্ত যাদবপুর' লেখা প্রসঙ্গে আপনার উপরিউক্ত মতামত আমায় যাদবপুরের ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত উভয় পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে বিশদ বিশ্লেষণমূলক আলোচনায় উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে তুললো। আপনাকে এর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
এটা ঠিকই ছাত্রদের আন্দোলন যে সবটাই যুক্তিসঙ্গত ও ত্রুটিহীন তা নয়। ছাত্রছাত্রীদের শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ হয়তো স্বতঃস্ফূর্ত ও সঠিক কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে আন্দোলনের জন্য গৃহীত দীর্ঘ পদক্ষেপগুলির মধ্যে বেনো জল আছে এতে সন্দেহ নেই। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ছাত্রছাত্রীদের এই শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আন্দোলনের অভিমুখ যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য থেকে ঘুরে গেছে ও নেতৃত্বের হস্তান্তর হয়ে গেছে সেটা যে কোন দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের প্রবহমানতার ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। ঠিক এই জায়গায় সতর্ক ও সচেতন থাকার ক্ষেত্রে মানসিক পরিপক্কতার প্রয়োজন। যেটা ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে একেবারে অসম্ভব। যে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার পরিবর্তে লেখাপড়াজানাওয়ালা মানুষ ও আত্মস্বার্থ প্রতিষ্ঠাসম্পন্ন কায়েমী স্বার্থ রক্ষাকারী রাজনীতিবিদরা সঠিক ও নির্ভুল বলে সীলমোহর দিয়েছেন। আসলে ব্যাপারটা ঠিক, কারণ গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে চলা ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে ছাত্রজীবনেই মানসিক পরিপক্কতা অর্জন অসম্ভব। আর এই অসম্ভবের উপর দিয়ে হেঁটে আসা আজকের রাজনীতিবিদ ও প্রতিষ্ঠিত লেখাপড়াজানাওয়ালা মানুষ যারা একদিন ছাত্রছাত্রী ছিল তাঁরা কি তাদের সেদিনের অনভিজ্ঞতা ও ভুলের কারণে সৃষ্ট নানা সমস্যা সম্পর্কে আদৌ কি অনুতপ্ত? সেদিন তো দূরের কথা আজকের প্রৌঢ়ত্বের মধ্যগগনে ও বার্ধ্যকের শেষপ্রান্তে আসা রাজনীতিবিদ ও লেখাপড়াজানাওয়ালা প্রতিষ্ঠিত মানুষেরা কি তাঁদের প্রতিদিনের কৃতকর্মে বিন্দুমাত্র চিন্তিত, লজ্জিত ও অনুতপ্ত?
আর সঠিক নির্ভুল গাইডেন্স, প্রচুর পড়াশুনা, অভিজ্ঞতা ও সদিচ্ছা মানুষকে পরিপক্ক করে তোলে। যেখানেই যত আন্দোলন হয়েছে সেখানেই স্বতঃস্ফূর্ত সহজ সরল আন্দোলনকারীদের মধ্যে Vested Interest চোরের মত চুপিসারে ঢুকে পড়ে তার ভয়ংকর থাবা বসিয়েছে। আর স্বাভাবিক নিয়মেই সেই মূল স্রোত থেকে তৈরী হয় অনেক শাখা প্রশাখা যা প্রায় মূলের আকার ধারণ করে। যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। আসলে যদি লক্ষ্য স্থির রেখে আন্দোলনের ঘটনা পরম্পরা বিচার করা যায় তাহলে দেখা যাবে উপাচার্য তাঁরই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদকে যদি প্রথমেই আন্তরিকতার সঙ্গে মর্যাদা ও গুরুত্ব দিতেন তাহলে যাদবপুরের আজকের এই ‘হোক কলরব’ আন্দোলন সংগঠিত ও বিস্তৃত হওয়ার কোন সুযোগই পেত না। উপাচার্যের প্রেস কনফারেন্সে বলা কথা অনুযায়ী হয়তো বা উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুদিন ধরে চলে আসা শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিরোধী কোনো কোনো প্র্যাক্টিসের বিরুদ্ধে ছিলেন। হয়তো কায়েমী স্বার্থে ঘা-ও দিয়েছিলেন। যার ফলস্বরুপ হয়তো বা তার বিরুদ্ধেও তলে তলে গোপন এজেন্ডা তৈরি হয়েছিল। হয়তো বা ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিরোধী অভ্যস্ত কোনো কোনো প্র্যাক্টিসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত থাকার কারণে কিম্বা পক্ষপাতিত্বের কারণে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদের সময় তিনি নিরপেক্ষ ও পিতৃপ্রতিম অভিভাবকের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছিলেন যা তিনি আর ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করেননি বা সুযোগ পাননি বা পেলেও ততক্ষণে তাঁর নাগালের বাইরে চলে গেছিল। কিম্বা তাঁর সামনে তখন তাঁর ইগো বা কোনো কিছু বা কারও প্রতি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত তাঁর প্রশ্নাতীত আনুগত্য, যা তাঁর ব্যক্তিসত্তাকে চিরদিনের মত ক্ষতবিক্ষত করে দিল, তাঁর কাছে বাঁধার প্রাচীর হ’য়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া ঐ পদের সহজ স্বাভাবিক দাবীদার হিসাবে যদি তাঁর নাম বিবেচিত না হওয়া সত্ত্বেও অস্বাভাবিক উপায়ে তিনি ঐ পদ অলংকৃত করে থাকেন তাহলে তাঁরই সহকর্মীদের তলে তলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কাছে তিনি নিজের ঐ লোভ ও ভুলের খেসারত দিয়েছেন মাত্র। যে ক্ষোভ কিনা সুযোগ পেয়ে গেছে শ্লীলতাহানির ঘটনায়। আর এই সুযোগ তিনি নিজেই তুলে দিয়েছিলেন তাঁদের হাতে তাঁর নানারকম অশিক্ষক সুলভ ভূমিকা পালনের কারণে।
এই ভূমিকা পালন প্রমাণ করেছিল উপাচার্যের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার চূড়ান্ত অভাব। একজন ভালো ছাত্র হতে পারে কিন্তু ভালো ছাত্র মাত্রই ভালো শিক্ষক হবে এটা ভুল। আবার একজন ভালো শিক্ষক মাত্রই ভালো প্রশাসনিক প্রধান হবেন তারও কোনও কথা নেই। ঠিক যেমন একজন ভালো কর্মী হতে পারে তাই বলে সে ভালো সংগঠক হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেমন কোনো গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নেই ভালো খেলোয়ার, ভালো অভিনেতা বা ভালো মানুষ মাত্রই ভালো অধিনায়ক, ভালো পরিচালক বা ভালো রাজনীতিবিদ হবেই। একটা আইডিয়া থাকতে পারে সেই বিষয়ে, যা পরামর্শদাতা হিসাবে নেতৃত্বদানকারী ব্যাক্তির পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে মাত্র; কিন্তু কখনোই মূল ভুমিকায় নয়। নিপুণ হাতে পরিচালনা করার দক্ষতা বা ক্ষমতা সবটাই একেবারে জন্মগত ব্যাপার। জোর করে আর যাই হোক দেশকে, সমাজকে বা কোনো প্রতিষ্ঠানকেই নিপুণ হাতে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা যায় না। এটা প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের ব্যাপার। আবার যোগ্যতা বা দক্ষতা থাকলেই যে সে নেতৃত্বদানে সফল হবে এ আশা করাও ভুল কেননা এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে চূড়ান্ত সততার প্রশ্ন। যেমন সৎ হলেই বা সততা থাকলেই যে সেই মানুষ জীবনে পরিচালনার ক্ষেত্রে সফল হবে তাও কিন্তু নয়। এ প্রসঙ্গে পরম প্রেমময় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের কথা মনে পড়ে গেল। তিনি বলেছেন, “যোগ্যতা নেই দাবী করে, বেঘোর পথে তারাই মরে”। যোগ্য তপে পূজ্য যারা, দাবীর পূরণ পাবেই তাঁরা”। আবার বললেন, “সৎ ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয় যার, উন্নতি হয় অবাধ তাঁর”।
আজকের ছাত্রছাত্রীরা হয়তো যুদ্ধ জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা। আনন্দের মাত্রাছাড়া বহিঃপ্রকাশ আর যাই হোক ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের পবিত্রতাকে রক্ষা করে না। হতে পারে এই পরিণতির জন্য শিক্ষক দায়ী কিন্তু তুমি অধম বলিয়া আমি উত্তম হইবো না কেন-র মত তুমি শিক্ষক, পবিত্রতা নষ্টের কারিগর বলে আমি ছাত্রও অপবিত্র হইবো এই শিক্ষা আর যাই হোক কোনো সামাজিক গঠনমূলক কাজের দিশারী হ’তে পারে না। এটা আমাকে সবসময় মনে রাখতে হবে আজ যে আমি ছাত্র কাল সেই আমিই শিক্ষকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হবো। আজকের প্রতিশোধমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত ছাত্র আগামীতে সেই প্রতিশোধমূলক শিক্ষার মানসিকতার Tradition নিয়ে শিক্ষকের আসনে বসে ভবিষ্যতের ছাত্রছাত্রীদের পরিচালনা করব। যা আজকের অনেক শিক্ষকের মধ্যে এর জ্বলন্ত প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। আজকের ছাত্রছাত্রীদের মনে রাখতে হবে এই জয়ে প্রকৃত কোনো আনন্দ নেই। সাময়িক এক বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা মাত্র। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়ে চলা জীবনের নানা ঘটনাবলীর মধ্যে দিয়ে লব্ধ অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি ঘটবে আগামীতে। উপলব্ধি ঘটবে আজকের ধীরে না চলার ও আনন্দের নামে বিক্ষিপ্ত উত্তেজনার লাভ লোকসানের হিসাব। অবশ্য যদি লাভ লোকসানের খতিয়ান নিয়ে বসার গভীর অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা থাকে। যদিও তা হবার নয়। কারণ গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে চলা সরল অপরিপক্ক ছাত্রছাত্রী অনভিজ্ঞতার অভাবে এক অলীক বিশ্বাসের উপর ভর করে স্বাভাবিক এক দুঃসাহসিক অভিযানের যাত্রী হয়। তারা ভেবেও দেখে না সামনের ঐ গড্ডর বা অগ্রবর্তীর দূরদৃষ্টি কতটা স্বচ্ছ ও গভীর।
তাই প্রকৃত আনন্দ হ’ত যদি ছাত্রছাত্রীরা উপাচার্যকে ঐ পদে রেখে দিয়েই তাঁকে তাঁর ভুল উপলব্ধি ও স্বীকার করার মার্গ দেখাতে পারতো এবং তাঁর কৃত কর্ম্ম সম্পর্কে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ দিত, তাঁকে শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করত। অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে শিক্ষককে দিয়েই শাস্তি দেওয়াতে পারতো। তাঁকে দিয়েই পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাতে পারতো। অসম্ভব বলে যা আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তাকে গভীর ধৈর্য্যশক্তি, সহ্যশক্তি ও দূরদৃষ্টির সাহায্যে নিখুঁত পরিচালনায় সম্ভব করে তুলতে পারতো। কারণ ছাত্রজীবনের অভিধানে নাকি 'অসম্ভব' 'না' 'হয়না' বলে কোনো শব্দ নেই! তাই এই আশা জাগে মনে বারেবারে। আর সেটাই হতো আন্দোলনের সার্থক সমাপ্তি। যদিও আজকের ছাত্রছাত্রী সমাজ এই ধরণের মানসিকতার মধ্যে আবেগের বাহুল্য ও অসম্ভবের ছবি দেখতে পারে। কিন্তু এটাই সত্যি।
এর থেকে আরও বড় সত্যি যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের যে দুর্দান্ত লড়াই আন্দোলন গোটা দুনিয়া দেখলো, যাদবপুর আন্দোলন ছাত্র আন্দোলনের জয়ের এক ইতিহাস হয়ে রইলো গোটা পৃথিবীর ছাত্র সমাজের কাছে, যে ‘হোক কলরব’ তামাম দুনিয়ার লড়াকু মানুষের কলরবের পথ প্রদর্শক হ’য়ে রইলো সেই দুর্দান্ত লড়াই, সেই জয়ের ইতিহাসের উৎস, সেই ‘হোক কলরব’-এর ভ্রূণ সৃষ্টির জনকও কিন্তু এই গর্বিত ছাত্রসমাজের কোনো এক বা অধিকজন! বারবার জন্ম নিচ্ছে ছাত্রের দ্বারা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ভ্রূণ! এটা যেন ভুলে না যায় আজকের ছাত্রছাত্রী সমাজ। খুঁজে যেন বের করার চেষ্টা করে যে কোন উন্নত শিক্ষা, কোন উচ্চ সংস্কৃতির ফলে এই ভ্রূণ সৃষ্টি? ভুলে যেন না যায় এই ভ্রূণ সৃষ্টির আতুর ঘরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। আর যেন একবার থমকে দাঁড়িয়ে গভীর ভাবে ভেবে দেখে ছাত্রের দ্বারা ছাত্রীর শ্লীলতাহানির এই ভ্রূণ সৃষ্টির ঘটনা একবার নয় বারবার ঘটে চলে কেন বিশ্বভারতী, রবীন্দ্রভারতী, প্রেসিডেন্সি ইত্যাদি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে? কেন? কেন যাদবপুরের আগে ঐ শ্লীলতাহানীর ঘটনায় গর্জে ওঠেনি ছাত্রছাত্রীদের লড়াকু অন্তর? টেলিভিশনের পর্দায় বারবার দেখতে পায় যাদবপুরের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন সম্পর্কিত বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চমেধা সম্পর্কে একটা অত্যন্ত নাক উঁচু গর্ব বোধ করেন এবং তাঁরা যে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে রত সেটা ফলাও করে টিভির পর্দায় বলেন। জিনিয়াস ছাত্র হিসাবে একটা অহংকার তাঁদের শরীরী ভাষায় ছড়িয়ে পড়ে! কিন্তু একবারও প্রাক্তন ও বর্তমান গর্বিত উচ্চমেধাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত উচ্চমেধাসম্পন্ন ছাত্রীর উপর উচ্চমেধাসম্পন্ন ছাত্রের দ্বারা শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রের প্রতি তীব্র ঘৃণা, ক্রোধ এবং উচ্চমেধাসম্পন্ন অভিযুক্ত ছাত্রের জন্য লজ্জা, অপমান চোখে মুখে ফুটে ওঠেনি! ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত তাদের সমর্থকদের মিলিত গোটা লড়াইটার উচ্চমাত্রায় টিআরপির ভিত্তি ছিল উপাচার্যের ক্রিয়াকর্মের তীব্র বিরোধিতা। যদিও উপহার হিসাবে ছাত্রছাত্রীদের হাতে এই বিরোধিতার তীব্র ঝাঁঝ-এর মসালা তুলে দিয়েছিল উপাচার্য স্বয়ং। আর প্রকারান্তরে ক্ষমতার দম্ভে ইগোর লড়াইয়ে জড়িয়ে গেছিল রাজ্য সরকার ও সরকারের শিক্ষাদপ্তর! যাইহোক একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লড়াই আন্দোলন সংগঠিত করার আগে নিজেকে নিজের বিবেকের আয়নায় দেখার সময় কি এখনো আসেনি বর্তমান উচ্চমেধাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীসমাজের???
আমাদের মনে রাখতে হবে বিবেকের মৃত্যু যেন এই শতকের সবচেয়ে বড় দুসংবাদ হ'য়ে না ওঠে।
(লেখা ২২শে জানুয়াআরী'২০১৫)
কবিতাঃ প্রতিকূল জীবন মাঝে------
শোনো বন্ধু শোনো! একটু শোনো--------
থমকে একটু দাঁড়াও!
পথ ভুলে ভাই কেন বিপাক পথে?
মুখটি তব ফেরাও!
মরণ পথে চলেছ ধেয়ে জীবন পায়ে দলে
বৃত্তি নেশায় বুঁদ হয়ে প্রাণ
উড়ছো ডানা মেলে!
কাম কাঞ্চন যশ মান
এই তো হ'ল সার!
উড়ছে রঙিন বৃত্তি বেলুন
জীবন ছারকার!
ঢের হয়েছে, আর তো নয়
এমনতর সর্বনাশা খেলা
বৃত্তিভেদী টান যে প্রবল
জাগাও বন্ধু! ভাসাও জীবন ভেলা!!
এখন থেকে নূতনভাবে করবো জীবন শুরু;
প্রতিকূল মাঝে অনুকূল হ'য়ে এলেন জীবনগুরু!!
থমকে একটু দাঁড়াও!
পথ ভুলে ভাই কেন বিপাক পথে?
মুখটি তব ফেরাও!
মরণ পথে চলেছ ধেয়ে জীবন পায়ে দলে
বৃত্তি নেশায় বুঁদ হয়ে প্রাণ
উড়ছো ডানা মেলে!
কাম কাঞ্চন যশ মান
এই তো হ'ল সার!
উড়ছে রঙিন বৃত্তি বেলুন
জীবন ছারকার!
ঢের হয়েছে, আর তো নয়
এমনতর সর্বনাশা খেলা
বৃত্তিভেদী টান যে প্রবল
জাগাও বন্ধু! ভাসাও জীবন ভেলা!!
এখন থেকে নূতনভাবে করবো জীবন শুরু;
প্রতিকূল মাঝে অনুকূল হ'য়ে এলেন জীবনগুরু!!
(লেখা ২২শে জানুয়ারী'২০১৯)
Subscribe to:
Posts (Atom)


