Powered By Blogger

Saturday, November 8, 2025

শ্রীশ্রীআচার্যদেব কে এবং কেমন মানুষ?

শ্রীশ্রীআচার্যদেব কে এবং কেমন মানুষ বুঝতে গেলে আচার্যদেবের সঙ্গ করতে হবে। তাঁর সঙ্গ করা বলতে কি বোঝায়? আচার্য সঙ্গ করারকথা বললে আবার অনেকে বিরক্ত হয়, তাদের মনোভাব, বছরে একবার ভিড়ের মধ্যে আচার্য সঙ্গ ক'রে কি হবে? ঋত্ত্বিকের গুরুত্ব তাদের কাছে অসীম, তারা ঋত্ত্বিককে আচার্যের ওপরে রাখে। আবার যারা আচার্য সঙ্গ করার কথা বলে তারা নিজেরাই আচার্য নির্দেশ ও নিদেশ মেনে চলে না। কথার স্রোতে ভাসা সব শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীআচার্য প্রেমী।

শ্রীশ্রীআচার্যদেব যখন প্রার্থনার সময় বা প্রতিদিন নাটমন্দিরে আর্ত, অর্থার্থী, জ্ঞানী ও জিজ্ঞাসু হাজার হাজার মানুষের সামনে এসে বসেন তখন তাঁর পাশে এসে বসলাম কিংবা আচার্যদেবের সামনে লাইনে দাঁড়ানো উপস্থিত দর্শনার্থী ও আর্ত, জিজ্ঞাসু মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে লাইন কন্ট্রোল করা বা তাদের কাছ থেকে তাদের সমস্যা বা নিবেদন বিষয় জেনে নিয়ে আচার্যদেবকে নিবেদন করা এই কাজকে সঙ্গ করা বোঝায়? এই কাজ করলেই আচার্যদেব কে বা আচার্যদেব কেমন মানুষ তা' বোঝা যাবে?

তা' যদি যেত তাহ'লে ঠাকুর ও ঠাকুরের স্বার্থকে প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়ে যেত আচার্যদেবের পক্ষে। ঠাকুরের সব স্বপ্ন পূরণ হ'য়ে যেত এতদিনে। কাঁকড়া চরিত্রের মানুষেরা যেমন ঠাকুরের সঙ্গ করেছে, ঘনিষ্ট হয়েছিল ঠাকুরের ঠিক তেমনি ঘনিষ্ঠ সঙ্গ করা সত্ত্বেও তাদের 'পিছন থেকে টেনে ধরার কাঁকড়া চরিত্রও' ত্যাগ করতে পারেনি। ঠাকুরের মিশন প্রতিষ্ঠার পথে তারা ঠাকুরকে, ঠাকুরের চলার গতিকে পিছন থেকে বারবার টেনে ধ'রে বাধা সৃষ্টি করেছিল। এই একইরকম কাঁকড়া চরিত্রের মানুষেরা ঠাকুরের সময়ে ঠাকুরকে, ঠাকুর পরবর্তী শ্রীশ্রীবড়দাকে, তারপরে শ্রীশ্রীদাদাকে ভয়ংকর বাধা সৃষ্টি করেছে, আর তারা সবাই ছিলেন অত্যন্ত ঘনিষ্ট ও ঋত্বিক; আজও সেই কাঁকড়া চরিত্রের মানুষেরা পিছন ধ'রে টান মারার সেই বিষাক্ত ট্রাডিশান সমানে ব'য়ে চলেছে বর্তমান শ্রীশ্রীআচার্যদেবের পিছনেও।

আর দশটা মানুষের মতন আচার্যদেবও একজন রক্তমাংসের সাধারণ মানুষ। হয়তো একটু চেহারায় আলাদা চটক আছে, যা আমার চেহারায় নেই বা উপস্থিত যারা ওখানে বসেন বা লাইন কন্ট্রোল করেন তাদের নেই। যদিও আধ্যাত্মিক জগতে বা রুপোলি জগতে অনেকেরই চটক আছে কিন্তু কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ম তফাৎ লক্ষ্য করা যায় আচার্যদেবের মাঝে। হয়তো অনেকের মনে হ'তে পারে এটা আবেগ সর্ব্বস্ব ভক্তি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ কিংবা যারা তাঁর বিরোধী তাঁদের মনে হ'তে পারে এটা অয়েলিং। কিন্তু বাস্তব হ'লো, যখন আচার্যদেবের সামনে বিভিন্ন বিষয়ে সমাজের প্রতিষ্ঠিত গুণীজনেরা এসে বসেন, কথা বলেন, আলাপ আলোচনা করেন তখন স্পষ্টতই উভয়ের কথাবার্তা, আলাপ আলোচনা, চালচলন, অঙ্গভঙ্গি, হাবভাব, চোখমুখ, চোখের চাউনি, মুখের অভিব্যক্তি, হাসি, বসার ভঙ্গী, অঙ্গুলি হেলন এবং যে কোন সমস্যার নিশ্চিত সমাধান দান এই সবকিছুর মধ্যে সূক্ষ্ম তফাৎ অনুভূত হয়, একটা ঐশ্বরিক এসেন্স 'ম' 'ম' করতে থাকে আচার্যদেবকে ঘিরে, মনে হয় তাঁকে ঘিরে রয়েছে একটা অনুকূল বলয়, আর, সেই বলয়ে নিশ্চিন্তে অবগাহন করে উপস্থিত ভক্তমণ্ডলী।

শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে যখন মানুষ তাদের সমস্যার কথা নিবেদন করেন তখন তিনি সবাইকে সহজ সরল ভাবে যাকে যা বলার তাই বলেন, পরামর্শ ও নির্দেশ দেন। তাই শুনে যারা তাঁর নির্দেশ পালন করেন বা পরামর্শ মতো চলেন তারা আচার্যদেবের মধ্যে লৌকিকত্ব বা অলৌকিকত্ব টের পান বা অনুভব করেন। সেটা তারা বোঝেন, যাদের প্রাণ বোঝে। তখন শ্রীশ্রীঠাকুরের বলা "-------রেত শরীরে সুপ্ত থেকে জ্যান্ত তিনি নিরন্তর" বাণী জীবন্ত হ'য়ে ধরা দেয় আগত অকপট সহজ সরল ভক্তবৃন্দের হৃদয়ে। তখন তারা বুঝতে পারে "আজও লীলা করে অনুকূল রায়, কোনও কোনও সৎসঙ্গী দেখিবারে পায়'---এই কথার মর্মার্থ। তারা আরও বুঝতে পারে, শ্রীশ্রীঠাকুরের বলা, "যুগাবতারের অবর্তমানে তাঁতে অচ্যুত-আনতি সম্পন্ন, ছন্দানুবর্তী, জীবন বৃদ্ধির আচরণসিদ্ধ তদবংশধর ইষ্টপ্রতীক স্বরূপ থাকতে পারেন"---এই বাণীর অন্তর্নিহিত অর্থ, বুঝতে পারে কার মধ্যে ইষ্টপ্রতীক স্বরূপ বিরাজ করছেন শ্রীশ্রীঠাকুর। অকপট সহজ সরল ঠাকুর প্রাণ বোকা ভক্ত আচার্যদেবকে দেখে বুঝতে পারে শ্রীশ্রীঠাকুরের বলা "আগত যিনি, উপস্থিত যিনি —তাঁ'র বিগতিতে বা তিরোভাবে তাঁর বংশে যদি তাঁ'তে অচ্যুত – সশ্রদ্ধ – আনতি-সম্পন্ন,প্রবুদ্ধ-সেবাপ্রাণ,তৎবিধি ও নীতির সুষ্ঠু পরিচারক ও পরিপালক, সানুকম্পি-চর্যানিরত , সমন্বয়ী সামঞ্জস্য - প্রধান,পদনির্লোভ , অদ্রোহী , শিষ্ট-নিয়ন্ত্রক,প্রীতিপ্রাণ — এমনতর কেউ থাকেন —তাঁরই অনুগমন ক'রো"----এই বাণী কতটা সত্য, স্পষ্ট, জীবন্ত হ'য়ে উঠেছে আচার্যদেবের জীবনে!!!!

অর্থাৎ এর থেকে বোঝা গেল ঠাকুরকে ও ঠাকুরের বাণী বুঝতে গেলে ঠাকুরের জীবন সম্পর্কে একজন গভীর উপলব্ধিবান মানুষের প্রয়োজন, প্রয়োজন তাঁর বাণীগুলো হাতে কলমে আচরণ ক'রে ক'রে যিনি সিদ্ধ হয়েছেন, যিনি শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশ ও নিদেশ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত শুধু ও শুধুমাত্র করার স্রোতে ভেসে আচরণ সিদ্ধ হয়েছেন, এছাড়া যার জীবনে অন্য আর কোনও কাজ ছিল না, নেইও অর্থাৎ নিখুঁত আচরণসিদ্ধ পুরুষ হয়েছেন যিনি, গাছের পাতা্র ওপর পড়া বৃষ্টির জলের ফোঁটায় বৃষ্টি শেষে বিরাট সূর্য্যের প্রতিফলনের মত যাঁর জীবনে ঠাকুর উদ্ভাসিত হয়েছেন, যাঁর মধ্যে একমাত্র ব্রহ্মজ্ঞান আরোপ করা সম্ভব, শ্রীশ্রীঠাকুরের পক্ষে তাঁর ব্রহ্মজ্ঞান অর্পন করা সম্ভব ছিল যাঁর ওপর, শ্রীশ্রীঠাকুরের অবর্তমানে তেমন একজন মানুষ যাঁকে ঈশ্বরকোটি পুরুষ বলা হ'য়ে থাকে, তেমন একজন মানুষের প্রয়োজন আমাদের জীবনে শ্রীশ্রীঠাকুরের অবর্তমানে, যাঁকে দেখলেই শ্রীশ্রীঠাকুরকে সাক্ষাৎ দেখা যাবে, বোধ করা যাবে ঠাকুরকে জীবন্ত, যাঁর মধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুর রেত শরীরে অবিরাম, অনবরত, সর্বদা, এবং অবিশ্রাম জ্যান্ত আছেন, তীব্র ভাবে পুর্ণ শক্তিতে প্রকট হয়েছেন যাঁর ভেতর তেমন একজন মানুষ আমাদের সামনে চাই, কারণ মানুষ তার জীবনের বাইরে এমন একটা মানুষকে পেতে চায় যাঁর সঙ্গ তাকে ঠাকুরের সঙ্গে যুক্ত রাখে, ঠাকুরের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় রাখে, ঠাকুরে যুক্ত রেখে তাকে সঠিক পথ দেখায়, হতাশা ও অবসাদে ডুবে হারিয়ে যাওয়া থেকে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা থেকে রক্ষা করে, দূর্গম অন্ধকার পথে আলো ধ'রে তাকে ঘরে পৌঁছে দেয়, ঠাকুরকে ধ'রে ভারমুক্ত, চিন্তামুক্ত, সংশয়মুক্ত হ'য়ে কঠিন জটিল সংসার সমুদ্র পার হ'তে সাহায্য করে, তেমন একজন মানুষ প্রয়োজন যাঁর সম্পর্কে শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং বলেছেন, "পুরুষোত্তমের অবর্তমানে তঁনিষ্ঠ, তঁত্তপা আচার্য্যই শরণীয়"।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেই আচার্য, তিনি কে? সৎসঙ্গীদের মধ্যে, শ্রীশ্রীঠাকুরের মন্ত্রে দীক্ষিতদের মধ্যে তিনি কে? তিনি কি কোনও ঋত্বিক?
উত্তর একটাই, তিনি হলেন পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবড়দা। শ্রীশ্রীবড়দা পরবর্তী ছিলেন শ্রীশ্রীদাদা এবং বর্তমান পরমপূজ্যপাদ শ্রীশ্রীআচার্যদেব বাবাইদাদা।
প্রকাশ বিশ্বাস,
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।


ভাবার সময় এসেছে।

সৌরভ গাঙ্গুলির জনপ্রিয়তা।

আমার মনে হয় এইসব কিছুর হঠাৎ সমালোচনার কারণ হ'তে পারে তাঁর নিজের কিছু পদক্ষেপ।

একটা সময় ভেবে দেখুন এই মানুষটার জনপ্রিয়তা বাংলার বুকে কোথায় ছিল। গোটা বাংলা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্তের দিনে, সেদিন ভারতের কোন ক্রিকেট খেলোয়াড় ও কোন রাজ্য বাংলার মত সরব হয়েছিল? প্রবাদ আছে, দশের লাঠি একের বোঝা। সেদিন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরের সৌরভের বিরুদ্ধে তানাশাহি মেজাজের কথা কেউ ভুলে যায়নি। ঠিক তেমনি এটাও কেউ ভুলে যায়নি যে, সেদিন সৌরভ গাঙ্গুলি ক্রিকেট জগতে একঘরে হ'য়ে গিয়েছিলেন, কেউ কিরণ মোরের স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে ভারতের ক্রিকেট বোদ্ধারা, অতীত ও সেই সময়ের ক্রিকেট নক্ষত্রেরা, ক্রিকেট সাথীরা, ক্রিকেট প্রশাসনের কোনও কর্তাব্যক্তি এমনকি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সেদিন বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করেনি, সবার সেদিন মনোভাব ছিল 'আমার গায়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা।' কথায় আছে, হাতি যখন গাড্ডায় পড়ে, ইঁদুরও লাথি মারে। সেদিন যখন মহারাজ চারপাশের চক্রান্তের শিকার হ'য়ে গাড্ডায় পড়েছিলেন তখন চুনোপুঁটিরাও লম্ফ দিয়ে ঝম্প মেরেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তখন একমাত্র গোটা পশ্চিমবাংলার সাধারণ মানুষ ও বাংলার ক্রিকেট প্রেমীরা ভারতের ক্রিকেট বোর্ড ও বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে, চক্রান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল, তার ফলস্বরুপ উৎসাহে অনুপ্রেরণায় বাংলা তথা ভারতের 'দাদা', লড়াইয়ের আইকন সৌরভ গাঙ্গুলি ফুঁসে উঠে নিজেকে আরও কঠিন লড়াইয়ের জন্য গড়েপিঠে নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছিলেন নোতুন ক'রে ইনিংস শুরু করার লড়াইয়ের জন্য, সেদিন সৌরভ গাঙ্গুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল বিরাট বিজ্ঞাপন সংস্থা কোকোকলার বিজ্ঞাপন "মুঝে ভুলে তো নেহী।" স্পর্শকাতর হৃদয় নিঙড়ানো বিজ্ঞাপন নাড়িয়ে দিয়েছিল বাংলা তথা ভারতের ক্রিকেট প্রেমীদের বুক সৌরভের প্রতি অকপট ভালোবাসায়। নড়ে উঠেছিল ক্রিকেট বোর্ড, প্রশাসকবৃন্দ, বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরেদের নোংরা পাষাণ বুক। ক্রিকেট বোর্ডের, বোর্ড প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরের তানাশাহি মেজাজ সেদিন ভেঙে চুরমার হ'য়ে গিয়েছিল সমগ্র বাংলার সংঘবদ্ধ প্রতিবাদে, সেদিন দশের লাঠি একজনের বোঝা হ'য়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপরের ইতিহাস সবার জানা। ফুঁটো হ'য়ে হাওয়া বেড়িয়ে যাওয়া বেলুনের মত চুপসে গিয়েছিল বোর্ড প্রেসিডেন্ট কিরণ মোরের ও অন্যান্য সৌরভ সমালোচকদের মুখ। মুখ লুকোবার জায়গা পায়নি সেদিন কেউ, নির্লজ্জ, বেহায়ার মত সৌরভের সমালোচকেরা প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিল সৌরভের প্রত্যাবর্তনের পারফরমেন্সের ইতিহাসকে। এসব কথা কেউ ভুলে যায়নি।

সেদিন বাংলার একতার মুখ আমি দেখেছি তাই আর ভারতের মুখ খুঁজতে যাইনি।

সৌরভের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে উত্থানের পিছনে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের মাস্টারমাইন্ড আনপ্রেসিডেন্টটেড প্রশাসক বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়া ও পূর্বাঞ্চলের নির্বাচক সম্বরণ ব্যানার্জীদের উদার অবদান, বলিষ্ঠ সাপোর্ট, সৌরভ গাঙ্গুলির অভূতপূর্ব লড়াকু মানসিকতা ও ক্রিকেট মস্তিষ্ক, মাঠের মধ্যে তাঁর সাহসী আক্রমণাত্মক শরীরী ভাষা ও পারফরমেন্স, সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ নেতৃত্বের চোখে চোখ রেখে ও বোলারের আগুন ঝড়ানো বোলিং-এর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ব্যাটিং-এর শুরুতেই ওপেনিং-এ মোকাবিলা করা ও আগুন বোলিং-এর বিরুদ্ধে আগুন হ'য়ে নেতৃত্ব দেওয়া ও দল পরিচালনায় নেতৃত্বের গুণ, তাঁর অবসরের পর ক্রিকেট দুনিয়ায় দাদাগিরির মত টেলিভিশনের ছোটো পর্দায়ও 'দাদাগিরি' অনুষ্ঠানের আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা, বিসিসিআই সভাপতি হওয়া, আইসিসি-র সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা, বাংলা্র মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আওয়াজ সবেতেই বাংলার মানুষ দ্বিধাহীন চিত্তে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু আজ কেন সব ফিকে হ'য়ে যাচ্ছে, বিবর্ণ হ'য়ে যাচ্ছে বাংলার বুক থেকে?

তাই স্বাভাবিকভাবেই আজ সৌরভ গাঙ্গুলিকেই ভাবতে হবে এই বাংলার বুকেই তাঁর জনপ্রিয়তায় এমন ভাঁটা পড়লো কেন ও কিসের জন্য? সৌরভ গাঙ্গুলিকেই ভাবতে হবে কেন আজ বাংলা তথা ভারতের 'দাদা' ডাক আজ ম্লান হ'য়ে গেল, ফিকে হ'য়ে গেল বাংলার বুকে মানুষের মন থেকে? কেন? কেন??

আজ একবার বিগত দিনগুলোর দিকে পিছন ফিরে তাকিয়ে একান্তে ভাববার সময় এসেছে তাঁর, বাংলা তাঁকে কি দিয়েছিল আর প্রতিদানে বাংলাকে তিনি কি ফিরিয়ে দিয়েছেন?
প্রকাশ বিশ্বাস,
ভদ্রকালী, উত্তরপাড়া।


Wednesday, November 5, 2025

বিচিত্রা ১৯৮

কোনও জাতিকে হত্যা ক'রে শেষ করা যায় না বা জয় করা যায় না তা সে যত বড় পরাক্রমী শাসক বা দেশ হ'ক না কেন যদি তার মধ্যে জমাট ক্ষীরের মতো জ্ঞান চর্চার উগ্র ক্ষিধে থাকে।

উদাহরণঃ ইহুদী জাতি।
কোনও জাতিকে জয় করা যায় একমাত্র প্রেম ভালোবাসা দিয়ে। নতুবা নয়। আক্রমণকারীর ধ্বংস অনিবার্য।

"মহাশক্তি ঘুমায় তোর হৃদয়ে তুই কেন রে মরার মতো।"
এ কথা মনুষ্যজাতীর জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তে যে মানুষের মধ্যে এই মহাশক্তি জেগে উঠবে তাকে কেউই কোনওদিনই কোনও অপশক্তি দাবিয়ে রাখতে পারবে না। এটাই সৃষ্টিকর্তা বা বিধির বিধান। শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের জীবন দর্শন

দিনের বার্তাঃ
যে কোন সম্পর্কই নষ্ট হয়
পরস্পর পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস থেকে।
( লেখা ৬ই নভেম্বর'২০২৩)

পরম প্রেমময়ের পতাকার তলায় চরম হিংসার জীবন!!!!
দয়াল যখন ভয়াল হবেন কি করবো তখন!?

হে দয়াল!
দিনের শেষে জমার খাতা শূন্য!?
শুধু কুৎসা, নিন্দা, গালাগালিতে পরিপূর্ণ!?
এবার বিদায় দাও দয়াল ঘুরে আসি!
হাসি হাসি পড়বো ফাঁসি নয়ন জলে ভাসি!!

এবার বিদায় দাও দয়াল ঘুরে আসি!
হাসি হাসি পড়বো ফাঁসি নয়ন জলে ভাসি!!

হে দয়াল! বিচার ক'রো।
যদি ভুল ক'রে থাকি, ক'রে থাকি কোনও দোষ
তবে বিচার ক'রো।
আমি অপেক্ষায় আছি বিচার ক'রো।

হে দয়াল! দিনের শেষে কি পেলাম?
শুধু দলাদলি আর গালাগালি ভরা
ঘোর অন্ধকার রাত ভয়াল!?
( লেখা ৬ই নভেম্বর' ২০১৯)

সৎসঙ্গী মানে ঈশ্বরের সঙ্গী,,
দয়াল প্রভুর সঙ্গী।
সাবধান,
দয়াল আহত হন, আঘাত পান, ব্যথা পান
এমন কাজ ক'রো না।

যে পরিবেশে থাকলে পরে নষ্ট হয় স্কীল সেট,
সেখানে হাজার লাভ হ'লেও থেকো না,
থাকলে পরে ফেড হবে ফেট।
( লেখা ৬ই নভেম্বর' ২০১৮)





















শ্রীশ্রীঠাকুরের নামে কলকাতায় মেট্রো স্টেশন।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র নামে কলকাতায় মেট্রো স্টেশন তৈরী হচ্ছে এরকম একটা খবর ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম। ছবিতে গোলাপি রঙের করা আছে লাইনটা। সত্যি মিথ্যা ঠিক জানি না। এ সম্পর্কে আমার কোনও খবর জানা নেই। কিন্তু এই খবরকে কেন্দ্র ক'রে দেখলাম বিতর্ক দানা বেঁধেছে সৎসঙ্গীদের মধ্যে। তাদের বহু জনের তীব্র আপত্তি রয়েছে এই বিষয়ে। তাই তারা তাদের আপত্তির কথা তাদের মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে জানিয়েছে ফেসবুকে। তাদের কারও এই উদ্যোগ লজ্জার, কারও কাছে অসম্মানজনক ব'লে মনে হয়েছে।

যাই হ'ক কেন আপত্তি, কেন লজ্জা, কেন অভিযোগ, কেন অসম্মানজনক সেটা ঠিক বুঝলাম না। আমার মনে হয় যাদের আপত্তি রয়েছে এই উদ্যোগে, যাদের কাছে মনে হয়েছে এই উদ্যোগ লজ্জার, অসম্মানজনক তারা যুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্লেষণ করলে, ব্যাখ্যা করলে বিষয়টা বোঝা যায় ও সব সৎসঙ্গীদের দৃষ্টিভংগী ক্লিয়ার হয়।
এর আগেও এরকম হয়েছে। যে যেখানে পেরেছে নিজের মতো ক'রে মতামত চাপিয়ে দিয়েছে, বিষয়কে ক'রে তুলেছে বিতর্কিত বিষয়। যেন আমরা সৎসঙ্গীরা অভিভাবকহীন। কিছুদিন আগেও শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্ম উৎসবে কেক কাটা নিয়ে সৎসঙ্গীরা ফেসবুকে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। এরকম প্রায় সময়ই কোনও না কোনও বিষয়ে মতান্তর হয়। মতান্তর হ'ক কিন্তু মনান্তর যেন না হয়।

আর, এটা যেন আমরা সৎসঙ্গীরা ভুলে না যাই শ্রীশ্রীঠাকুর রেত শরীরে শ্রীশ্রীআচার্যদেবের মধ্যে অবস্থান করছেন। আমাদের কারও যদি সৎসঙ্গের কোনও বিষয়ে মনে কোনও প্রশ্ন জাগে সেই সম্পর্কে পাব্লিকলি বিতর্ক দানা বাঁধে এমন কোনও মন্তব্য করার আগে সতর্ক থাকি এবং মনে যদি কোনও সংশয় থাকে তাহ'লে আমরা যেন আচার্যদেবের কাছে জেনে নিই। তাহ'লে আমরা অহেতুক বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে পারবো। মতান্তর হলেও মনান্তর হবে না কখনোই।

আর, যেহেতু আমাদের সামনে অভিভাবক রূপে শ্রীশ্রীআচার্যদেব আছেন তখন আমরা নিখুঁত সমাধান পাবোই পাবো। অবশ্য যদি সাধারণ সৎসঙ্গীদের বিন্দুমাত্র প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকে, থাকে গভীর অনুভূতি ও তীব্র উপলব্ধি এই বিষয়ে। কারণ যারা কখনোই চাক্ষুস শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে দেখেননি, দেখলেও শ্রীশ্রীআচার্যদেবের সঙ্গ করেনি ও সঙ্গ করলেও শ্রীশ্রীআচার্যদেব যাকে যা বলেছেন এবং তাদের জটিল সমস্যা সম্পর্কিত বিষয়ে যে সমাধান দিয়েছেন তা' ভালো ক'রে শোনেন নি, বুঝতে পারেননি ও তাঁর নির্দেশ নিখুঁতভাবে পালন করেননি তারা সেই নিখুঁত সমাধান ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন না। ফলে শ্রীশ্রীআচার্যদেব কে এবং তিনি যে বাকসিদ্ধ পুরুষ তা' তাদের অভিজ্ঞতা হয়নি, অনুভব ও উপলব্ধি করতে পারেনি। এইজন্য তারা শ্রীশ্রীঠাকুরের দয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে ও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অথচ তারাই আবার অনেকেই সৎসঙ্গে, ফেসবুকে ও ভিডিওতে সাদা কাপড়ে সাজা সৎসঙ্গী হ'য়ে বই পড়ে বই হ'য়ে কথার স্রোতে ভেসেছেন ও ভাসছেন। কিন্তু যারা এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী তারা আজও অবাক বিস্ময়ে ভাবে কে এই আচার্যদেব শ্রীশ্রীবাবাইদাদা। তখন তাদের মনে পড়ে যায় শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট নাটকের সেই বিখ্যাত সংলাপ, “THERE ARE MORE THINGS IN HEAVEN AND EARTH, HORATIO, THAN ARE DREAMPT OF IN YOUR PHILOSOPHY” ---যা শ্রীশ্রীঠাকুর প্রায় সময় রহস্যময় মুহুর্তে বলতেন।

আমাদের সৎসঙ্গীদের মাথায় রাখতে হবে আমাদের মাথার ওপর স্বয়ং শ্রীশ্রীঠাকুর শ্রীশ্রীআচার্যদেব রূপে আমাদের মাঝে জীবন্ত অবস্থান করছেন। শ্রীশ্রীঠাকুর আমাদের সামনে আছেন। আমরা যেন সৎসঙ্গীরা সবাই শ্রীশ্রীআচার্যদেবের আদেশেই চলি ও একসুরে কথা বলি এবং সমস্ত রকম অকারণ বিতর্ক এড়িয়ে তাঁকে অভিভাবক রূপে মাথায় নিয়ে সুখে শান্তিতে সমস্যা মুক্ত হ'য়ে এক যৌথ পরিবার হ'য়ে চলি।



Monday, November 3, 2025

উপলব্ধিঃ আমার প্রিয়জন।

মনে রেখো আমার দয়াল ঠাকুরই জীবন্ত ঈশ্বর। আমার দয়ালই রাম। আমার দয়ালই কৃষ্ণ। আমার দয়ালই বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু ও রামকৃষ্ণ। মনে রেখো, পরপর সেই একজনই এসেছেন বারেবারে প্রয়োজনে। ধর্মজগতের বাকীরা সাধক, মহাসাধক। এঁদেরই সাধনা করেন সাধকেরা। তুমি এদের কারোও মধ্যে বিভেদ ক'রো না। কাউকে ছোটো, কাউকে বড়ো ক'রে নিজে ইষ্টনিষ্ঠ হ'য়ো না। ভুলেও কাউকে ধর্মান্তরিত ক'রো না, ধর্মান্তরিত হ'য়ো না। ধর্মান্তর পাপ, ব্যভিচার আর তিনি তা ঘৃণা করেন। তাঁর নবরূপকে গ্রহণ করার জন্য নিজ ধর্ম, নিজ ইষ্ট অর্থাৎ পূর্বরূপকে ত্যাগ করতে হয় না। তিনি একজনই। বারবার এসেছেন যুগের প্রয়োজনে; আবার আসবেনও যখনই প্রয়োজন পড়বে। কারও ক্ষমতা নেই তাঁর বাণী বিকৃত ক'রে তাঁর আসাকে আটকায়। প্রয়োজন হ'লে তিনি বারবার আসবেন, প্রয়োজন হ'লে তিনি সব ধ্বংস ক'রে দেবেন, আবার প্রয়োজন হ'লে তিনি সৃষ্টি করবেন। বালখিল্য ধার্মিক যাই-ই বলুক না কেন আর যাই-ই করুক না কেন ক্ষমতা নেই তাঁর প্রলয়সৃষ্টিকে রোখার।

আমার প্রিয়জন! তুমি অন্তত বালখিল্য ধার্মিক হ'য়ো না। এর থেকে অধার্মিক থাকাও ভালো।
( লেখা ৪ই নভেম্বর'২০২২)।


বিচিত্রা ১৯৭

অর্থহীন কথা বলা পাগলের প্রলাপ,
অকৃতজ্ঞ বেইমান করে কথার খেলাপ।
( লেখা ৪ই অক্টোবর'২০১৭)

সৃষ্টি মাত্রেই ক্ষয় আছে, লয় আছে, আছে সুখ দুঃখ। দয়াল আমার পরমপিতা পায় ব্যথা ক'রো না এমন কাজ কখনো। দেখবে তাঁর দয়ায় শরীরে মনে শত ক্ষয় মাঝেও হবে না কোনও ক্ষতি, পাবে না কখনো কোনও ভয়। আর লয়? জেনো লয় হবে আনন্দময়!
সুখ দুঃখ?
যদি হৃদমাঝারে থাকে দয়াল তবে সুখের বর্ম দিয়ে ঘেরা থাকে সে হৃদয় আর শত দুঃখবোমাও ভাঙতে পারে না সে সুখের কঠিন দেওয়াল!
( লেখা ৪ই অক্টোবর' ২০২১)















বিচিত্রা ১৯৬

 


( লেখা ১৬ই অক্টোবর'২০১৭)