Powered By Blogger

Sunday, June 8, 2025

প্রবি সমাচার ২১

মিষ্টভাষী ও স্পষ্টভাষী।

মিষ্টভাষী আর স্পষ্টভাষীর মধ্যে স্পষ্টতই কোনও বিরোধ নেই। লোকের মধ্যে অনেক ভুল ধারণার মধ্যে একটা ধারণা হ'লো মিষ্টভাষী আর স্পষ্টভাষীর মধ্যে মূলগত চরিত্রের ফারাক আছে। আছে বিরোধ। তাদের ধারণা হ'লো মিষ্টভাষী যে সে চরিত্রগত দিক দিয়ে দূর্বল কিম্বা অসৎ চাটুকার। আর যে স্পষ্টভাষী সে চরিত্রগত দিক দিয়ে সবলের অধিকারী এবং সৎ। বেশীরভাগ মানুষের এই ধারণা নিজের ও সমাজের কাছে ক্ষতিকর। মানুষের ধারণা কোনও কিছুর বিরোধিতা করতে হ'লে কিম্বা প্রতিবাদের ভাষা জোরালো অর্থাৎ জোরে চিৎকার ক'রে বলতে হবে, রূঢ় হ'তে হবে। আর এটাকেই তারা মনে করে স্পষ্টভাষী।

কিন্তু জোরে চিৎকার ক'রে কর্কষ ভাবে কথা বললেই যে তার মধ্যে স্পষ্টতা থাকে তা নয়। আমরা অহরহই দেখতে পায় ঘরে-বাইরে 'চোরের মায়ের বড় গলা' এই প্রবাদের জলজ্যান্ত নিদর্শন। জোর ক'রে চেঁচিয়ে কাউকে দাবিয়ে দিয়ে প্রমাণ করা যায় না যে সে যা বলছে বা বলেছে সেই বলার মধ্যে ধোঁয়াশা নেই, স্পষ্টতা আছে, আছে সততা বা সত্যতা। কিন্তু শরীরে-মনে সাধারণ ভাঙাচোরা মানুষ মনে করে স্পষ্টভাষী মানেই সে সৎ এবং তার কথার মধ্যে সত্যতা সততই বিরাজমান। আর এই সুযোগে নেপোয় মারে দই।

আমরা প্রতিনিয়তই বিশ্বজুড়ে দেখতে পায় জীবনের সব ক্ষেত্রেই অসৎ চাটুকার ধান্দাবাজ মাত্রই স্পষ্টভাষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ। কি রাজনীতির ক্ষেত্রে, কি ধর্ম্মের ক্ষেত্রে, কি শিক্ষা ক্ষেত্রে, ক্রীড়া ক্ষেত্রে অন্য্যান্য সব ক্ষেত্রেই এর প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়তই দেখতে পাই। সবাই সবাইকে স্পষ্ট ভাষায় নিজের ত্রুটি ঢেকে রেখে অভিযোগ ক'রে চলেছে। এ নিয়ে আর বিস্তারিত বলার অবকাশ থাকে না। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যে, রাত সর্বক্ষণ-ই এর ছবি আমরা দেখতে পাই টিভির দৌলতে।

আবার আমরা এর উল্টোটাও দেখতে পাই। যে জোরে বুক ফুলিয়ে কথা বলে তাদের প্রায়শই দেখা যায় যে তারা অন্তরে পরিস্কার খোলামেলা, রেখেঢেকে কিছু বলতে পারে না, অভ্যাস নেই। মুখের ওপর সামনাসামনি যা বলার ব'লে দেয়, এর পরিণাম কি হবে তা ভেবে দেখে না। পরিশেষে এরা দুঃখ কষ্টের শিকার হয়। কিন্তু অন্তরে এরা প্রকৃতই ভালো মানুষ। কিন্তু সমাজের চোরাবালির স্রোতে এরা ভেসে যায়। ছোটোবেলা থেকে পরিবেশগত কারণেই হ'ক বা জন্মগত কারণেই হ'ক এরা এইভাবে কথা বলতে অভ্যস্ত। ফলে চারপাশের জটিল নিষ্ঠুর পরিবেশে তারা পিষ্ট হয়। আর তাই তারা তখন নিজের ভাগ্যের দোহাই দিয়ে থাকে। ভাগ্যের দোহাই দিয়ে নিজের অজান্তেই নিজের মুখ লুকিয়ে এরা বাঁচতে চায়।

আবার অনেকে নিজেকে স্পষ্টভাষী বলতে গর্ব বোধ করে। একটা অহংকার চোখেমুখে ফুটে ওঠে। কিন্তু তারা জানে না এই অহংকার, এই গর্ব মূর্খের অহংকার, মূর্খের গর্ব। দিন শেষে যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ডুবে যায় তখন এরা ডিপ্রেশানে ভুগতে ভুগতে কঠিন মানসিক ব্যাধির শিকার হয়। আর সেই পরিবেশে বড় হওয়া পরবর্তী প্রজন্ম উত্তরাধিকার সূত্রে এই দুরারোগ্য কঠিন ব্যাধিকে মহৎ মানসিকতা ব'লে সযত্নে লালন পালন ক'রে ব'য়ে নিয়ে চলে আজীবন মহাজ্ঞানী মহাজন যে পথে করে গমন তত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে ব্যাধিকে জীবন দর্শন মনে ক'রে।

আর মিষ্টভাষীর ক্ষেত্রে যেটা বলা হচ্ছে যে মিষ্টভাষী মানেই দূর্বল, অসৎ বা চাটুকার সেক্ষেত্রে আমরা দেখি যা তা এক কথায় যদি বলা যায় তাহ'লে বলবো, তাহ'লে ধ'রে নিতে হবে শয়তানের হাসি ভগবানের চেয়েও মিষ্টি! তখন কি বলবো? শয়তান যেহেতু মিষ্টি বেশী তাই মিষ্টভাষী হিসেবে সে তো অসৎ। আর ভগবান মিষ্টি নয়?
নিশ্চয়ই ভগবানের হাসি মিষ্টি! তৃপ্তিদায়ক মিষ্টি! প্রাণ জুড়ানো মিষ্টি! আকাশে বাতাসে নীল দিগন্তে ভাসমান আনন্দের মহাসাগরে নিশ্চিন্তে ভেসে থাকার আধার ভগবানের নির্মল মিষ্টি হাসি!!!!
আর ভগবানের চেয়েও শয়তানের মিষ্টি হাসির মধ্যে আছে একটা কড়া পোড়া মিষ্টির তিতকুটে ভাব। একটু নজর করলেই মিষ্টির তারতম্য ধরা যায়, ধরতেও পারে মানুষ। কিন্তু কোথায় জানি রিপুর টানে বেসামাল মানুষ বৃত্তি প্রবৃত্তির বৃত্তে পড়ে তফাৎ ক'রেও ক'রে উঠতে পারে না প্রকৃত মিষ্টির। তিতকুটে কড়া পোড়া মিষ্টিকেও মিষ্টির সার্টিফিকেট দেয়!

কিন্তু মিষ্টভাষী যে অন্তরে বাহিরে সে প্রকৃতিগতভাবেই মিষ্টি। এ মিষ্টতা তার জন্মজন্মান্ত ধ'রে ব'য়ে যাওয়া মিষ্টতা! এ মিষ্টতা তার রক্তের মধ্যে দিয়ে বংশপরম্পরায় গুণাবলী রূপে ব'য়ে যাওয়া মিষ্টতা!! এ মিষ্টতা তার জন্ম থেকে পরিবেশগতভাবে লব্ধ মিষ্টতা!!! এই মিষ্টতায় নেই কোনও দূর্বলতা, নেই কোনও কপটতা, নেই কোনও অসততা।

আমরা অনেকেই অনেক কথা বলি, বলে ফেলি। বলতে বিবেচনা করি না। ভুল বলার পরেও ভুলকে শুধরে নেবার কোনও আগ্রহ, আকাঙ্ক্ষা থাকে না। ভুল কথা জোর দিয়ে বলি, সগর্বে বলি। ভুল ব'লে তা স্বীকার করি না বা পরবর্তী সময়ে ভুল বলা থেকে সাবধান হ'ই না। স্পষ্টভাষীর নামে সত্য কথা বলতে গিয়ে সংহার এনে ফেলি। সত্য কথা বলার মানুষ আমি আর তাই আমি স্পষ্টভাষী ব'লে বাহবা নিই, অহঙ্কার করি। কিন্তু স্পষ্টভাষীর তকমা লাগিয়ে সত্য কথা বলার পরে সেই সত্য কথা অনুভব করি না।

তাই স্পষ্টভাষী যে সে মিষ্টি করেই স্পষ্টকথা বলতে পারে আবার যে মিষ্টভাষী সে স্পষ্টভাষী হ'তে পারে। এই দুইয়ের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক।
Living God, Living Supreme Being, Supreme Cause, Full filler The Best, Full Father The greatest phenomenon Of the world SriSriThakur AnukulChandra says, "
BE OUTSPOKEN BUT SWEET. Consider before you speak, but having spoken do not evade. If you have spoken wrong, beware! Do not do wrong. Speak the truth, but don't bring destruction. It is good to speak good, but better to think and fill it.

(স্পষ্টবাদী হও কিন্তু মিষ্টভাষী হও। ব'লতে বিবেচনা কর, কিন্তু ব'লে বিমুখ হ'য়ো না। যদি ভুল ব'লে থাক, সাবধান হও। ভুল ক'রো না। সত্য বল, কিন্তু সংহার এনো না। সৎ কথা বলা ভাল, কিন্তু অনুভব করা আরোও ভালো।)

কত কিছুই যে পরমপিতার থেকে শিখি তার ইয়ত্তা নেই। ( লেখা ৮ই জুন'২০২১)

কবিতাঃ কু ঝিকঝিক

 

লেখা ৮ই জুন'২০১৮

কবিতাঃ ইষ্ট আমার কে?

 


Sunday, June 1, 2025

প্রবন্ধঃ হয় বসুধৈব কুটূম্বকম নতুবা নিশ্চিহ্ন হ'য়ে যাক।

খবরে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান উপাদেষ্টা ড মহম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করতে চাইছেন।

১৯৭১ সালে নিজের দেশের ৩০ লক্ষ নাগরিকের ওপর নারকীয় অত্যাচার ও হত্যা, ৪ লক্ষ মা বোনেদের ওপর পাশবিক যৌন অত্যাচার ও নারকীয় ধর্ষণের বর্বরোচিত ইতিহাস রিসেট বাটন টিপে যে মানুষ মুছে দিতে চায়, যার একটুও হাত কাঁপে না, যে দানবদের পৃষ্টপোষক, যে যৌবনকালে ৭১-এর সালে দেশের রক্তাক্ত সময়ে, মাতৃভূমির ওপর অত্যাচারের দিনে পাশে থাকেনি, বিদেশে আমেরিকায় বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার পরিচালনার নামে নিশ্চিন্ত যৌবনকাল উপভোগ করেছে সে করবে জীবনের অন্তিম সময়ে বৃদ্ধ বয়সে সংস্কারের মতন জটিল ও কঠিন কাজ? যে মানুষ বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যময় লড়াইয়ের ইতিহাস মুছে দিতে চায়, যে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদদের অপমান করে, যে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করতে বিন্দুমাত্র রেয়াৎ করে না, যে বাংলাদেশ নামক নোতুন রাষ্ট্রের জন্মের শীর্ষ নেতা, বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জনক, জাতির পিতা তাঁর মূর্তির ওপর দাঁড়িয়ে জনতার মূত্রত্যাগ করা, হাতুড়ির আঘাতে মূর্তি ভাঙ্গা, মূর্তিকে উপড়ে ফেলে দেওয়া, ভুলুন্ঠিত করা, মূর্তির ভাঙ্গা মাথা নিয়ে জলকেলি করা, তাঁর স্মৃতি সৌধ, তাঁর বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া দেখেও চুপ ক'রে থাকে, উন্মত্ত উচ্ছৃঙ্খল জনতার মজা উপভোগ করে, যে মানুষ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের অপমান ও লাঞ্ছনা, জাতীয় সঙ্গীতের অপমান, জাতীয় পতাকা ও সংবিধান পরিবর্তনের হল্লা বাজিতে নীরব থাকে, বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ করে না, সরকারী সম্পত্তি ধ্বংসের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর আপত্তি জানায় না, যে মানুষ বাংলাদেশের ওপর ৭১ এর বিভীষিকাময় ভয়াবহ অত্যাচার রিসেট বাটনে মুছে দিয়ে অত্যাচারী দেশ পাকিস্তানের হাতে ডুডু তামাক খায়, যে শিক্ষাব্যবস্থাকে চরম বাজারী ব্যবস্থায় নামিয়ে আনতে পারে, ছাত্রদের হাতে নিরীহ স্মৃতিভ্রষ্ট ছাত্রকে খাবার খাইয়ে হত্যা ও শিক্ষকদের ওপর ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা চূড়ান্ত অপমান, লাঞ্ছনা দেখেও চুপ ক'রে থাকে, নিজে একসময়ের ছাত্র ও শিক্ষক হ'য়ে মুখে 'রা' কাটে না, যে দেশের প্রধান উপদেষ্টা হ'য়ে বিদেশী বিনিয়োগের বাহানায় বিভিন্ন দেশে ছুটে যায় নিজের ক্ষমতা ধ'রে রাখার অভিলাষে ও বিনিয়োগের মরীচিকায় দেশের জনগণকে আচ্ছন্ন ক'রে রাখে, যে নিজের দেশের ওপর বৃহৎ বর্হিশক্তিকে অবাধ বিচরণ করার জন্য সুযোগ ক'রে দিতে চায় নানা উপায়ে, যে মব কালচারের জন্মদাতা, যে একটি উন্মত্ত জনতা বা বিশৃঙ্খল জনতার হাতে পৈশাচিক মৃদু শয়তানী মিষ্টি হাসিতে হাসতে হাসতে তুলে দেয় বিচারের ভার, যার উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আইনের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল হ'য়ে নিজের হাতে আইন তুলে নেয় এবং যে পিছন থেকে প্ররোচিত ক'রে উন্মত্ত জনতার হাত দিয়ে কাউকে শাস্তি দেয় বা কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়, যে অবৈধ উপায়ে ক্ষমতায় বসে গায়ে গায়ে লাগা প্রতিবেশী বৃহৎ শক্তিধর দেশ ভারতকে হুমকি দেয়, ভাঙ্গার চক্রান্ত করে, বন্ধু দেশ ভারতকে শত্রুদেশ হিসেবে চিহ্নিত করে, ভারতের অবদানকে অস্বীকার করে, ৭১ এর ভয়ংকর দেশ ধ্বংস ও দেশের মানুষের, বাঙালি জাতটার অস্তিত্ব মুছে দিতে যারা উন্মত্ত হ'য়ে মারণযজ্ঞে রত ছিল, সেইসময় বিশ্বের কোনও দেশ পাশে ছিল না, আজ যাদের মদতে বাংলাদেশের অন্যায় পট পরিবর্তন ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ, অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে তাঁর উপস্থিতিতে, সেই সময় এরা অর্থাৎ এই দেশগুলি কেউ ছিল না পাশে। পাশে ছিল সেদিন ভারত। বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্র আমেরিকার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা ক'রে বাংলাদেশকে অল আউট সাহায্য করেছিল ভারত নিজের ভয়ংকর বিপদ ও ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত সম্ভাবনাকে মাথায় নিয়ে সেই দেশের সঙ্গে বেইমানী, নেমকহারমী করতে, সেই দেশের অকৃতজ্ঞ হ'তে, চোখ উল্টে দিতে এবং নিজের দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তাকে ধ্বংস করে দিতে, সেই মানুষ দেশকে ও দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে পালিয়ে যেতে চাইছে? নাকি সবটাই তাঁর চিরকালের ধূর্তামির নাটক?

শান্তির নোবেল হাতে দেশের অভ্যন্তরে ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ব্যকে অশান্তির পূজারী ও অশান্তি সৃষ্টিকারী ড ইউনুস নিজের চূড়ান্ত মূর্খামি, শিশুসূলভ কর্মকান্ড, কথাবার্তা, অপদার্থতা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা, রাজনৈতিক ও দেশ শাসনের অনভিজ্ঞতা, দূর্বল, অপরিপক্ষ, অসাড় কূটনীতি ইত্যাদি সমস্ত রকম দগদগে ঘা'কে ঢেকে রেখে, আড়াল ক'রে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে অসহযোগীতার সাজানো অভিযোগকে ঢাল ক'রে জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে দেশের জনগ্ণের ওপর মিথ্যে অভিযোগ ও তাদের দোষারোপ ক'রে দেশবাসীকে চরম বিপদে ফেলে পদত্যাগের নামে পালিয়ে যেতে চাইছে? নাকি সবটাই নাটক?

আসলে আস্থা হারিয়েছে নিজের ওপর রাজনীতিতে অজ্ঞ, অনভিজ্ঞ, অপরিপক্ষ, অদূরদর্শী, অযোগ্য, অদক্ষ, বিশ্ব জুড়ে শান্তির পক্ষে কোনও অবদান না রেখেই বৃহৎ শক্তির সুপারিশের ভিত্তিতে শান্তিতে নেবেল পাওয়া অশান্তির পূজারী, অশান্তি সৃষ্টিকারী, পরশ্রীকাতর হিংসায় হিংস্র বৃদ্ধ ড মহম্মদ ইউনুস।

এত কিছুর মূল ছিল বিশ্বের মানচিত্রে ভারতের জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক দিয়ে, লোকবল, অর্থবল, অস্ত্রশক্তি ও বিশ্বজুড়ে ব্যবসা বাণিজ্যে উত্থান ইত্যাদি সমস্ত দিক দিয়ে ভারতের অগ্রগতিকে ডিস্টার্ব করা, রুখে দেওয়া। বিশ্বজুড়ে বৃহৎ বর্হিশক্তির এক ও একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে বিশ্বে শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশে বাধা দেওয়া।

তাই, ভারতকে ঘরে-বাইরে সবদিক দিয়ে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত করার জন্য ড ইউনুসের মত লোকজনদের দরকার হয়।

এই অবস্থায় বাংলাদেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবী সমাজ তাঁকে নতুন করে ভাবতে বলছেন। কারণ বিশ্বের চোখে তারা নিজেদের ছোটো দেখতে চায় না, দেশের সাধারণ জনগণ হেরে যেতে চায় না। বাংলাদেশের আম জনগণ যারা একদিন কল্পনার ভেলায় চড়ে নিজেদের অজান্তে বৃহৎ বর্হিশক্তির অঙ্গুলি হেলনে প্রতিবেশী বন্ধু দেশ ভারতকে এক ও একমাত্র শত্রু চিহ্নিত ক'রে ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট ছদ্ম ছাত্র আন্দোলন, ছদ্ম ছাত্র-নাগরিক যৌথ আন্দোলনকে প্রকৃত জনগণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান, জনগণের প্রকৃত মুক্তির লড়াই, বিল্পব ভেবেছিল বৃহৎ শক্তি দ্বারা প্রেরিত শান্তির নোবেল পুরষ্কার পাওয়া অশান্তির পূজারী ও অশান্তি সৃষ্টিকারী ড ইউনুসের হাত ধ'রে সুন্দর, বলিষ্ঠ, উন্নত বাংলাদেশের তারা আজ হতাশা ও অবসাদে বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত।

বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক এই হেরে যাওয়া দেখতে চায় না, মেনে নিতে পারছে না। এটা সত্যিই একটা উন্নয়নশীল দেশ ও দেশের জনগণের পক্ষে মেনে নেওয়া সুইসাইড করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
কিন্তু দেশের বর্তমান জন্ডিস পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের আজ ভাবার সময় হয়েছে, যে ছদ্ম আন্দোলন ও ছদ্ম আন্দোলনের নেতৃত্বের শুরুই হয়েছিল ছদ্মতার মুখোশে অন্যায়, অনৈতিক ও অবৈধতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অন্যায় ভাবে অপসারিত ক'রে তা' তো শুরুই করেছিল বৃহৎ বর্হিরশক্তির সহযোগীতায় ড ইউনুসের মদতে হারা দিয়ে। ড ইউনুস তো জনগণের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নন, সে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে বৃহৎ বর্হিশক্তির মদতে সিংহাসন থেকে সরিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে চোরের মত এসে দেশের প্রধান চেয়ারে বসে গেছে। সে তো বৃহৎ শক্তির বিদায়ী প্রধানের হাতের পুতুল ছিল। সে কি ক'রে স্বাধীনভাবে নতুন ক'রে ভাববে? যার হাতে পুতুলের রাশ ছিল তিনি তো এখন নেই, থাকলে না হয় ভাবতে পারতো, ধার করা ভাবনা নিয়ে চলতে পারতো। যে নিজে ল্যাংড়া ও অন্ধ সে তো নিজেই ক্রাচ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না, নিজের চোখে দেখতে পায় না, প্রতিমুহূর্তে অন্যের ওপর ভর দিয়ে চলতে ও দেখতে হয়। আর বৃহৎ প্রতিবেশী শক্তিধর দেশ ভারতকে ভেঙে টুকরো টুকরো করতে চায় এইরকম ব্যক্তি নতুন ক'রে কি ভাববে দেশকে চালাবার কথা? যে ক্ষমতার চেয়ারে বসেই প্রতিবেশী বন্ধু শক্তিশালী দেশ ভারতকে শত্রু চিহ্নিত ক'রে একবার বিশ্বের এই বৃহৎ শক্তি আর একবার ঐ বৃহৎ শক্তির দ্বারস্থ হয় নিজের গদি টিকিয়ে রাখার জন্য, আর প্রতিবেশী দেশকে বৃহৎ বর্হির শক্তির সহায়তায় ভাঙ্গার ভয়ংকর ষড়যন্ত্র করে সে ভাববে নতুন ক'রে? সে জিতবে যুদ্ধ? যে প্রতিবেশী বৃহৎ শক্তিধর দেশ ভারতকে শ্ত্রু বানিয়ে কখনও ১৩০০০ কিলোমিটার, কখনও বা ১৫০০ কিলোমিটার দূরের বন্ধুকে আপন ক'রে নেয় অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তার পক্ষে নতুন ক'রে ভাবা আর আকাশের চাঁদ হাতের মুঠোয় ধরার স্বপ্ন দেখা বেয়াক্কেলি ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়।

যাই হ'ক এইরকম মানুষ ক্ষমতায় থাকলে দেশের ও দশের, বিশ্বের মানুষের পক্ষে অশনি সংকেত। এরকম মানুষ ক্ষমতায় থাকলে হয়তো আমার দেশ ভারতের ক্ষতি হবে বা হ'তে পারে একথা নিশ্চিত, হ্যাঁ, ক্ষতি হবে, নিশ্চয়ই ক্ষতি হবে ভারতের, এতে কোনও দ্বিধা নেই। কিন্তু একথা স্বীকার ক'রে নিয়েও বলতে চাই ভারত অতীতে কোনোদিন কখনও আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়নি। এই কৃষ্টি-সংস্কৃতি ভারতের নয়। একদিন ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ এক ছিল, ছিল অখন্ড ভারতবর্ষ। কিন্তু পাকিস্তান-বাংলাদেশ আজ তা' স্বীকার করে না, ভুলে গেছে। তারা ভারতকে শত্রু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে বৃহৎ বর্হিশক্তির মদতে। তাদের দেশের আভ্যন্তরীণ কৃষ্টি-সংস্কৃতি একদিন এক থাকলেও বর্তমানে আমূল পরিবর্তন হয়েছে তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি। ভারত হাজার বছর বর্হিশক্তির দ্বারা আক্রান্ত হয়েও এবং বৃটিশের দ্বারা তিনটুকরো হওয়ার পরেও আজও ব'য়ে চলেছে আদি অনন্তকাল ধ'রে ব'য়ে চলা পূতপবিত্র কৃষ্টি-সংস্কৃতির ধারা 'বসুধৈব কুটূম্বকম'।

তাই, আমার দেশের যদি ক্ষয়ক্ষতি হয়, আমার দেশকে টুকরো করার, দেশকে ভাঙনের কারণ হয়, ভারতকে ভাঙতে বিশ্বের বৃহৎ শক্তির ইন্সট্রুমেন্ট হয় বাংলাদেশ, তাহ'লে ভারত নিজেকে রক্ষা করতে ভুল করবে না। বাংলাদেশ নিজে নিশ্চিহ্ন হ'য়ে যাবে এ কথা যেন ভুলে না যায় প্রতিবেশী বন্ধু দেশ, ড ইউনুসের বাংলাদেশ।

কথায় আছে, চাচা আপন প্রাণ বাঁচা। দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে প্রকৃত বন্ধুকে চেনার শক্তি অর্জন করুক ভারত ও বাংলাদেশ, উভয় দেশ, সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও প্রতিটি দেশের জনগণ। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হ'য়ে উঠুক বিশ্বের প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রনায়ক ও দেশের জনগণ। ভারতের দর্শন 'বসুধৈব কুটুম্বকম' প্রতিষ্ঠিত হ'ক। নতুবা সব দেশের হাজার হাজার সব পারমাণবিক বোমা একে অপরের ওপর নিক্ষেপ ক'রে মহাশূন্যের বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হ'য়ে যাক এই পৃথিবী নামক গ্রহ।

তবে ঈশ্বর, আল্লা, গড ব'লে যদি কেউ থেকে থাকেন, সর্বদর্শী, সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ সর্বশক্তিমান ব'লে যদি কেউ থেকে থাকেন তাহ'লে তাঁর বিচারে, তাঁর বিধানে কর্মফল ভোগ অনিবার্য। শয়তানকে তার কর্মফল ভোগ করতেই হবে আর তা' ভোগ করতে হবে এই জীবনেই। তাঁর সামগ্রিক সৃষ্টিকে ধ্বংস করতে যারা যারা তৎপর হয়েছেন, তাঁর সঙ্গে বেইমানী, নেমকহারামী করেছেন, অকৃতজ্ঞ হয়েছেন সীমাহীন তাঁর দয়া পাওয়া সত্বেও, মহাপ্রলয়ের মধ্যে দিয়ে তিনি তার নিখুঁত বিচার করবেন ও তাঁর সৃষ্টিকে রক্ষা করবেন।
( লেখা ২৩শে মে' ২০২৫)

প্রবন্ধঃ গাঁজার দেশ গাজার অন্তিম দশা।

এটাই ব্রিটিশদের সার্থকতা যে তারা অখন্ড ভারতকে টুকরো ক'রে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে লড়াই লাগিয়ে ঘৃণার বীজ বপন ক'রে দিয়ে গেছে যা' আবহমান কাল ধ'রে চলবে। আর শেষ ক'রে দিয়ে গেছে পাঞ্জাব আর বাংলার ভবিষ্যৎ। একদিনের অখন্ড বাংলা ব্রিটিশদের বিষাক্ত বিষে দু'ভাগ হ'য়ে গেছে। আজ দুই বাংলা ও বাঙালী হিন্দু মুসলমান ব্রিটিশদের বিভাজনের রঙে রাঙিয়ে গিয়ে পরস্পরের চরম শত্রু।
ভারতে পাঞ্জাব আর বাংলা আজ সবচেয়ে ঘায়ে ঘায়ে ঢেকে গেছে। দুই বাংলা একদিন এক ছিল। এক ছিল হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক। ছিল এক ভাষা, এক কৃষ্টি, এক সংস্কৃতি। কিন্তু আজ বাঙালি আর এক ভাষা, এক কৃষ্টি, এক সংস্কৃতি বহন করে না। আজ আমূল বদলে গেছে দুই বাংলার ভাষা, দুই বাংলার কৃষ্টি, দুই বাংলার সংস্কৃতি। একেবারে বায়োলজিক্যালি পরিবর্তন হ'য়ে গেছে। এখন আর বাঙালি শত চেষ্টা করলেও এক হ'তে পারবে না, শত চেষ্টা, হাজার চেষ্টা করলেও দুই বাংলা আর কোনোদিন এক অখন্ড বাংলা হবে না।
আজ দুই বাংলার মানুষ দুই বাংলার মানুষকে ঘৃণা করে, ঘৃণা করে অদ্ভুত এক বাংলা ভাষায়। আর এই ঘৃণার বিষ ইঞ্জেক্ট হয়েছে বৃটিশের হাতে। দেশভাগের পরে পরে পশ্চিমবাংলার হিন্দু ঘটি বাঙালি আর পূর্ববাংলা থেকে আগত হিন্দু বাঙ্গাল বাঙালি এই দুই বাংলার হিন্দু বাঙ্গালীর মধ্যে ছিল লড়াই, ঘৃণা। এখনও হিন্দু বাঙ্গাল বাঙালিকে শুনতে হয় পশ্চিমবঙ্গে দেশ ভাগের ফলে আশ্রয় নেওয়ার জন্য হিন্দু ঘটি বাঙালির কাছে পরদেশী বলে। পশ্চিমবঙ্গের ঘটি বাঙালি আর পূর্ব বাংলা থেকে আগত বাঙ্গাল বাঙালি, এই দুই হিন্দু বাঙালি একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে গিয়ে প্রতিমুহুর্তে হয়েছে তর্ক বিতর্ক, সংঘাত। তার ওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতন রয়েছে হিন্দু মুসলিম বাঙালি সমস্যা।
পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান ঘটি বাঙালি ও পূর্ববংগ থেকে আগত মুসলমান বাঙ্গাল বাঙালি পরস্পরের মধ্যে সমস্যা কতটা প্রকট তা' আমি জানি না, জানা নেই। আর এখন নোতুন সমস্যা তীব্র থেকে তীব্রতর হ'য়ে উঠেছে ও উঠছে দুই বাংলার হিন্দু মুসলমান বাঙালির বাংলা ভাষা। এ বাংলার ও পূর্ববাংলার উভয় বাংলার হিন্দু মুসলমান উভয় বাঙ্গালীর বাংলা ভাষার মধ্যে আছে তফাৎ। বর্তমানে মুসলমান বাঙালির অনেক বাংলা কথা আমি বাঙালি, হিন্দু বাঙালি বাঙালি হয়েও বুঝতে পারি না। সেখানে দুই বাংলা এক হয়ে হবে এক বাংলা রাষ্ট্র? হিন্দু মুসলমান পরস্পরের বিশ্বাস যেখানে একেবারে খতম হ'য়ে গেছে সেখানে দুই বাংলা এক হ'য়ে হবে বাংলা রাষ্ট্র!? তখনি কুট্টিদের মত বলতে ইচ্ছে করে, "একটূ আস্তে কন দাদা, ঘোড়ায় শুনুলে হাসবো।'
তার ওপর আবার কেউ কেউ বালখিল্য স্বপ্ন দেখে দুই বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা কিংবা সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বৃহৎ বাংলার! শালা, দুই বাংলার পাগলা গারদ থেকে সব পাগলগুলো একসঙ্গে পাগলাগারদ ভেঙে বেড়িয়ে পড়েছে হাঠেমাঠে, পথেঘাটে, খোলা ময়দানে একসঙ্গে আর শুরু ক'রে দিয়েছে লম্ফ দিয়ে ঝম্প মারা পাগলামি।
একে তো দুই বাংলার বাঙ্গালিতে আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক অর্থাৎ পরস্পর বিরুদ্ধ স্বভাবযুক্ত বা শত্রুভাবাপন্ন, তার ওপর বালখিল্য দুই কিম্ভূতকিমাকার বাঙালী, সঙ্গে অরুনাচলি, অসমিয়া, মেঘালয়ি, মণিপুরি, মিজো, নাগা ও ত্রিপুরি বিভিন্ন ভাষাভাষী নিয়ে এক অখন্ড বৃহৎ বাংলা বা অখন্ড (?) দেশ গঠনের গাঁজাখুরি গল্প গাঁজার তীব্র নেশা চড়ে গেলেই হয়। ভুলে যাচ্ছে গাঁজার দেশ গাজার অন্তিম দশা। তাহ'লে বিভিন্ন ভাষাভাষী দেশ ভারত কি দোষ করেছিল? তাই, সেভেন সিস্টার্স নিয়ে অখন্ড বাংলা বা অখন্ড (?) দেশের স্বপ্ন পাগলা----- স্বপ্ন, ইউটোপিয়া।
( লেখা ২২শে মে' ২০২৫)

প্রবন্ধঃ কোন পথে যাবেন?

আমার প্রিয় সৎসঙ্গী গুরুভাইবোন,
সামনে দু'টো পথ, দু'দিকে গিয়েছে। কোন পথে যাবেন?

জানতে হ'লে একটু কষ্ট ক'রে ধৈর্য্য ধ'রে পড়ুন, পড়ার অনুরোধ রইলো।
জীবনে টেনশান? জীবনে সমস্যা? জীবনে অভাব-অনটন? জীবনে ব্যর্থতা? জীবনে হতাশা-অবসাদ? জীবনে চারদিকে অন্ধকার দেখছেন? রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় আর দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত? কি করবেন বুঝতে পারছেন না? সমস্যা সমাধানের জন্য বাবাজী, মাতাজী, জ্যোতিষীর দ্বারস্থ হয়েছেন? বিপদতারিণীর পুজো ক'রে হাতে লাল সুতো বেঁধে বিপদ থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন? সন্তোষীমাতার পুজো ক'রে মাকে সন্তুষ্ট ক'রে রোগ, শোক ইত্যাদি থেকে উদ্ধার পেতে চাইছেন? শনি সত্যনারায়ণ পুজো ক'রে শনির প্রকোপ থেকে মুক্তি এবং নারায়ণের হাত ধ'রে বাঁচার পথ খুঁজছেন? হাতে, গলায়, কোমরে তাবিজ মাদুলি বেঁধে গ্রহদের উৎপাত থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন? মুশকিল আসান করো অর্থাৎ কঠিন, সমস্যা বা বিপদ আসান করো ওগো বাবাজী মাতাজী ব'লে মুশকিল থেকে ত্রাণ পেতে চাইছেন? হে রাম, দাও আরাম ব'লে কান্নাকাটি করছেন? হাতে দশ আঙ্গুলে দশ রকম লাল, নীল, সবুজ পাথরের আংটি ধারণ ক'রে সমস্ত গ্রহদের শান্ত করতে চাইছেন? কব্জিতে, বাহু ও উর্ধ্ব বাহুতে, গলায়, কোমরে লাল, কালো সুতো বেঁধে, তাবিজ, মাদুলি, গাছের শেকড় বাকর, শুকনো ডালপালা ঝুলিয়ে আর সারা শরীরে সিন্দুর চন্দন লেপ্টে বেঁচে থাকা ও বৃদ্ধি পাওয়ার পথে সফল ও সার্থক হ'তে চাইছেন?

এত কিছু করার পরেও প্রাপ্তির ঘর শূন্য! এত কিছু করার পরেও টেনশান মুক্ত হ'তে পারছেন না, সমস্যা সমাধান করতে পারছেন না, অভাব-অনটন দূর করতে পারছেন না, ব্যর্থতাকে সফলতায় টার্ন করাতে পারছেন না, হতাশা অবসাদ থেকে মুক্তি পাননি, উল্টে ক্রমশ হতাশা ও অবসাদ গেড়ে বসছে মনে, অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরে আসার কোনও আলোকবিন্দু দেখতে পাচ্ছেন না, রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয়, দারিদ্রতা ক্রমশঃ অক্টোপাশের মত আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলছে, হাতে, গলায়, কোমরে তাবিজ, মাদুলি, শেকড় বাকর বেঁধেও গ্রহদের উৎপাত থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। রাতে ঘুমোতে পারছেন না, ঘুমের মধ্যে উল্টোপাল্টা, অর্থহীন, বীভৎস, কুৎসিত ও ভয়ের স্বপ্ন দেখে হে দয়াল, বাঁচাও, বাঁচাও ব'লে হঠাৎ চেঁচিয়ে ঘুম থেকে উঠে বসছেন বিছানায়।

আবার, অর্থ, মান, যশের অধিকারী হ'য়েও জীবনে আনন্দ নেই, মনে শান্তি নেই, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের বেসিক প্রয়োজনগুলি দারুণ ভাবে মেটার পরও রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয়, দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাননি, জীবনে সুখ নেই, নিদেন পক্ষে ঘরে নেই সোয়াস্তি। বিপদতারিণীনির পুজো ক'রে কব্জিতে একসঙ্গে অনেকগুলি লাল সুতো বেঁধেও বিপদ থেকে রক্ষা পাননি, সন্তোষীমায়ের পুজো ক'রে আজও জীবনের শেষ দিনেও সন্তোষ পাওয়া গেল না, শনি সত্যনারায়ণ পুজো ক'রে শনির প্রকোপ থেকে মুক্তি এবং সত্য নারায়ণের হাত ধ'রে বাঁচার পথ খুঁজে পাননি শনি ও সত্যনারয়ণের সিন্নি প্রসাদ ভক্তিভরে খেয়েও।

এক কথায় মানসিক নানা অশান্তিতে আপনি জর্জরিত, বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত। আর আপনার এই জর্জরিত, বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত অবস্থার জন্যে কেউ দায়ী নয়। দায়ী আপনার ছোটোবেলায় আপনার পিতামাতা আপনার জীবনের ভিত গড়ে না দেবার জন্য। আর বড়বেলায় আপনার জর্জরিত, বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত জীবনের জন্য, ছোটোবেলা থেকে গড়ে ওঠা জীবনকে পরিবর্তন না করার জন্য আপনি নিজেই দায়ী। আপনার স্বভাব দায়ী। আপনার ব্যবহার দায়ী। আপনার কথা বলার ধরণ দায়ী। আপনার শরীরের ভাষা ও মুখের ভাষা দায়ী। আপনার অজ্ঞানতা দায়ী। আপনার কুসংস্কারাচ্ছন্ন জীবন দায়ী। আপনার বৃত্তি-প্রবৃত্তি দায়ী। আপনার নিয়ন্ত্রণহীন ৬টা রিপু দায়ী। আপনার রিপু তাড়িত উচ্ছৃঙ্খল বিশৃঙ্খল জীবন দায়ী। আপনার থট প্রসেস দায়ী। আপনার আদর্শহীন জীবন দায়ী। আপনার বায়োলজিক্যালি ডিফেক্ট জীবন দায়ী। আপনার মাথায় মালিক অর্থাৎ জীবন্ত ঈশ্বর নেই, থাকলেও তাঁতে সম্পূর্ণ সমর্পিত জীবন নয়, শয়তান বসে আছে মাথা জুড়ে। আর, তাই সমস্য্যা জর্জরিত জীবনে ক্ষতবিক্ষত।

তাই আমার সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনেদের বলি, যারা জীবন্ত ঈশ্বরকে জীবনে পেয়েও এইরকম অসহায় যন্ত্রণাকাতর অবস্থার শিকার, তারা নানা কারণে আজ ঠাকুর থেকে দূরে সরে গিয়ে সাক্ষাৎ শয়তানের খপ্পরে পড়ে কষ্ট পাচ্ছেন। কষ্ট পাচ্ছেন কিছু না ক'রে চট জলদি কিছু পাওয়ার আশায়। কষ্ট পাচ্ছেন গুরুভাইদের ব্যবহারে ঠাকুর থেকে সরে গিয়ে, কষ্ট পাচ্ছেন বৃত্তি-প্রবৃত্তির শিকার হ'য়ে, কষ্ট পাচ্ছেন কপট ভক্তির কারণে, কষ্ট পাচ্ছেন ঘরে-বাইরে পারস্পরিক সহযোগিতার অভাবে এবং আরও নানা কারণে।

আমার প্রিয় গুরুভাইবোনেদের উদ্দেশ্যে বলি, শ্রীশ্রীঠাকুরের হাত ধরুন, তাঁকে বিশ্বাস করুন, তাঁর উপর নির্ভর করুন। আপনি নামময় হ'য়ে থাকুন। তিনি সবসময় আপনার সাথে সাথে থাকবেন। আপনি পথে পা রাখুন। সামনে দু'টো পথ, দু'দিকে গিয়েছে। কোন পথে যাবেন? কোন পথে যাবেন তা' ঠিক করতে পারছেন না? ধন্দে রয়েছেন? ভয় কি?
তিনি তো বলেছেন,
"ভয় কি! বলেছি তো! এমন একজন আছেন যিনি সর্বদাই সন্নিকটে আছেন। তিনি সবসময় আপনাকে রক্ষা করবেন। তাঁকেই বিশ্বাস করুন। তাঁর ওপরে সর্ব্বস্ব দিয়ে নির্ভর করুন, ভয় নাই।"
তাঁর বলা এই কথা বিশ্বাস করুন।

এত সহজ সরল ক'রে শ্রীশ্রীঠাকুর বলার পরেও ভয়? আপনি দেখতে পান আর না-পান তিনি তো আপনার সামনেই আছেন, আপনার সাথে আছেন, আপনার মাথায় আছেন! তাহ'লে আর চিন্তা কিস বাত কি? ডর কিস বাত কি? ডরো মাত্। শুধু একটাই তুক। সকালে ঘুম থেকে যখনি উঠুন (অতি প্রত্যূষে হ'লে ভালো হয়) ঘুম থেকে উঠেই আগে দয়ালকে আপনার যা সামর্থ্য তাই দিয়ে বাস্তব সেবা দিন অর্থাৎ ইষ্টভৃতি করুন আর তারপর অকপট হৃদয়ে-মনে জীবনে চলার পথে পা রাখুন, পা রাখুন মনে মনে তাঁর দেওয়া বীজ নাম করতে করতে। পথে নামার আগে, অনেক আগে থেকেই নাম করুন, পথে নেমে নাম করুন, নাম করতে করতে আপনি হাঁটতে থাকুন, নাম করুন, ফলের আকাঙ্ক্ষা না ক'রে করতে থাকুন, আবেগ ভরে করতে থাকুন, কোনও দিকে তাকাবেন না, নাম করতে করতে লক্ষ্যের দিকে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যান। ঠিক সময় দয়ালের অদৃশ্য হাত আপনাকে দু'দিকে চলে যাওয়া দু'টো রাস্তার সঠিক রাস্তায় নিয়ে যাবেন। ভয় নেই। আপনি তাঁর হাত ধরেছেন। এবার যেদিকে তাঁর ইচ্ছা তিনি নিয়ে যাক, তা' স্বর্গ হ'ক আর নরক হ'ক, কুছ পরোয়া নেহি। স্বর্গে গেলেও তিনি আছেন, নরকে নিয়ে গেলেও তিনি সঙ্গে আছেন। যদি নরকে নিয়ে যায় দয়াল, নরকও তাঁর আবির্ভাবে স্বর্গ হ'য়ে যাবে। সেই নরককে স্বর্গ বানাতে তিনি আমাকে সাথী হিসেবে চয়েস করেছেন। এই যে তাঁর কাজ করার জন্য আমাকে চয়েস করেছেন দয়াল আমার, এই-ই আমার জীবনে চরম প্রাপ্তি, পরম প্রাপ্তি, জীবনে পরম চরম সার্থকতা। তিনিই স্বর্গ, তিনিই আলো, তিনিই সুখ, তিনিই শান্তি, তিনিই ধ্যান, তিনিই জ্ঞান, তিনিই আরাম, তিনিই আমার জীবনে আলাদিনের প্রদীপ। প্রদীপ ঘষলেই যেমন প্রদীপ থেকে বেরিয়ে আসতো দৈত্য আর আলাদিনের ইচ্ছে পূরণ করতো। ঠিক তেমনি তাঁর ওপর জীবনের সব চাওয়া পাওয়া ছেড়ে দিয়ে অনবরত নাম করতে থাকো, আর নাম করতে করতে তাঁকে বিবশ ক'রে দাও। তিনি বিবশ হ'লে তোমার বাঁচা-বাড়ার সব স্বপ্ন, সপারিপার্শ্বিক সব ইচ্ছা তিনি পূরণ ক'রে দেবেন। শর্ত একটাই তাঁতে সমর্পণ। নিজেকে সঁপে দাও, সম্পূর্ণ সঁপে দাও। তাঁর যা ইচ্ছা তাই হ'ক। তিনি আমার মঙ্গল-অমঙ্গল সব জানেন। আমার জন্য যা সর্বোত্তম তিনি তাই আমাকে দেবেন। তিনিই আমার সংক্ষিপ্ত মনুষ্য জীবনে এবং এই জীবন ছেড়ে চলে যাবার আগে মানুষ হ'য়ে আসার চরম পরম সফলতা। এই সফলতা, এই সঁপে দেওয়ার সফলতা যদি লাভ করতে না পারি তাহ'লে আমার সঙ্গে আর অন্য জীবের তফাৎ কোথায়? কোথায়?? কোথায়??? একবার তো নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন।

আসুন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবার আগে তাঁর হাত ধরি, শক্ত ক'রে ধরি, অকপট হৃদয়ে, মনে ধরি। তারপর একে অন্যের হাত ধরি আর দয়ালের কাজে এগিয়ে যাই। তাঁকে পেলে আপনি সব, সব, সব পাবেন যাওয়ার আগে এই জীবনে। নতুবা তাঁকে ধরা আর না-ধরা সমান, সব ব্যর্থ, সব বকোয়াস। জয়গুরু।
( লেখা ৩০শে মে' ২০২৫)


 

প্রবন্ধঃ সিন্দূর অপারেশন ও তার বিরোধীতা।

'সিন্দূর অপারেশন' নিয়ে দেশের কিছু ধর্ম, রাজনীতি, সঙ্গীত, সাহিত্য ইত্যাদি প্রায় সব ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষের বিরোধীতা ও মন্তব্যে হাসবো না চোখের জল ফেলবো বুঝতে পারলাম না। দু'টো অপশান একসঙ্গে দেখাবার সুযোগ থাকলে কান্না আর হাসি দু'টোই একসঙ্গে রিয়াক্ট দিতাম। দিতে না পারার জন্য আফশোস র'য়ে গেল।
আর, মেজাজ গরম করলে আমিই হেরে যাবো। যদিও দেশের বর্তমান এই অবস্থায় মেজাজ ধ'রে রাখা ও শান্ত থাকা খুবই কঠিন। যারা পারে তারা মহান। এই জন্যেই আগের ভিডিওতে বলেছিলাম নোবেল কমিটি নোতুন ক'রে ভেবে দেখুক কাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেবে। শান্তির পক্ষে কাজ করা অশান্ত ব্যক্তিকে শান্তির নোবেল পুরষ্কার দেবে নাকি যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে শান্ত হ'য়ে বসে থাকার অসীম ক্ষমতা অর্জনকারী ব্যক্তিকে পুরষ্কার দেবে। যদি কোনও প্রতিষ্ঠিত বা প্রতিভাশালী ব্যক্তি মেজাজ হারায় তাহ'লে মানুষ তাঁর গভীর সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর লেখা ও ছবি থেকে, গান, কবিতা ও সাহিত্য রচনা, বিজ্ঞান সাধনা, শাসন ব্যবস্থায় আসীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও নেতৃত্ব দেওয়া ইত্যাদি সমস্ত থেকে বঞ্চিত হবে দেশবাসী।

এছাড়া, একটা কথা আছে, যার জ্বালা সেই বুঝে। সাপের ছোবল যে খায়নি সে বুঝবে কি ক'রে বিষের জ্বালা কি মারাত্মক? একটা পিঁপড়ের কামড়ে প্রাণ জ্বলে যায়, বিষাক্ত সাপের বিষ তো দুঃস্বপ্নের ব্যাপার। এমন সিঁদুর মুছে দেওয়ার মত নির্ম্মম দুঃস্বপ্ন যেন কেউ না দেখে, জ্বালা কেউ ভোগ না করে।

আর, যারা আজ ভারত সরকারের 'সিন্দূর অপারেশন' নিয়ে মানবতার মৃত্যু হচ্ছে বলে ছদ্ম কান্না কাঁদছে, তাদের কাঁদতে দিন সবাইকে। নির্মল পবিত্র হাসি কান্না নিরুদ্দেশ হ'য়ে গেছে পৃথিবী থেকে। হয়তো অন্য কোনও গ্রহে গিয়ে লুকিয়ে আছে। মানুষ তো গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে যাচ্ছে, দেখা যাক যদি নিরুদ্দেশ হওয়া পবিত্র কান্নাকে, হাসিকে সেখানে খুঁজে পায় ও ফিরিয়ে আনে। ততদিন ছেঁদো ও ছদ্ম কান্না ও হাসি হাসতে দিন মানুষকে, যতদিন
কথায় আছে, Every action has opposite and equal reaction.

আর, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র বললেন, "তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন আর সেগুলির ফলও পাবে তেমনি। যা ইচ্ছা তাই করবে তুমি তা' করলে রে চলবে না, ভালো ছাড়া মন্দ করলে পরিস্থিতি ছাড়বে না"

তাই, সরকার যেটা ন্যায় ও ন্যায্য মনে করেছে সেইটাই করছে। আর, যারা এই নারীর সিন্দূর মুছে দেওয়ার, স্ত্রীর স্বামী হারানো ও সন্তানের বাবা ডাক হারানোর বদলার অ্যাকশান হিসেবে গৃহীত 'সিন্দূর অপারেশন'-কে যারা অন্যায্য ও মানবতা বিরোধী আখ্যা দেয় তাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চরিত্রের জন্য করুণা হয়। এটা যে যুদ্ধ নয়, এটা যে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের পাকিস্তানে প্রত্যাঘাত, এটা যে গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে ধর্ম জিজ্ঞেস ক'রে ক'রে পুরুষ পর্যটকদের ২৬ জন পুরুষকে তাদের স্ত্রীদের সামনে হত্যা ক'রে স্ত্রীদের মাথার সিঁদুর মুছে দেওয়ার প্রত্যাঘাত আর সেই প্রত্যাঘাতের সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর' এ কথা বোঝানোর কোনও দরকার নেই তাদের। সময়মতো ইশ্বরের দরবারে তার বিচার হবে। হয়তো দের হ্যাঁয়, লেকিন আন্ধের নেহী হ্যাঁয়।

তাই, দেশবাসী যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন নারীর সিঁথির সিঁদুরের ইজ্জৎ ভূলুন্ঠিত হওয়ার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের নারী শক্তি ভয়ংকর জবাব দিয়ে আবার প্রমাণ করলো ভারত জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসনের অধিকারী। ৬-৭ মে মধ্যরাতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ৯টি নির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়।
এই হল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। জাতীয়তাবাদ ও আবেগে কীভাবে নাড়া দিতে হয় সম্ভবত অতীতে আর কোনও সরকার তা এত সুকৌশলে করতে পারেনি। বুধবার ভোর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারত যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে তার নাম রাখা হয়েছে অপারেশন সিঁদুর। পহেলগামে ধর্ম জিজ্ঞাসা করে যেভাবে জঙ্গিরা ২৬ জন হিন্দুকে হত্যা করেছে এবং তাঁদের স্ত্রীর সিঁদুর মুছে দিয়েছে, এই অপারেশন ছিল তারই বদলা। পরে কৌশলগত ভাবে দুই মহিলা অফিসারকে দিয়ে সেই অভিযানের ব্রিফিং করাল সাউথ ব্লক— কর্নেল সোফিয়া কুরেশি (Colonel Sophia Qureshi) ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহ (Wing Commander Vyomika Singh)।
এরা প্রকৃত অর্থেই দেবী দূর্গার জীবন্ত রূপ। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ''অপারেশন সিন্দূর' সম্পর্কে এঁরা দৃঢ়চিত্তে বর্ণনা দিলেন।
হিন্দু ধর্মে মা দূর্গার অসুর নিধনের কাহানী আছে আমরা তা’ দেখতে পাই। আর সেই মা দূর্গাকে নারীপুরুষ সবাই পূজা করে অর্থাৎ স্বাগত জানায়। 'অপারেশন সিন্দুর' প্রমাণ করলো নারী মাত্রেই মা দূর্গা! সেখানে হিন্দু-মুসলমান ইত্যাদি কোনও ভেদ নেই।

বিশ্বের সব নারীই মা দুর্গা, মা কালী ইত্যাদি মাতৃদেবীর প্রতীক। হিন্দুধর্মের সমস্ত নারীদেবীই হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ , শিখ, জৈন ইত্যাদি সমস্ত ধর্ম্মের মায়ের প্রতীক। নারীর ইজ্জৎ রক্ষার্থে, সিঁথির সিঁদুর মুছে দেবার প্রতিবাদে প্রয়োজনে বিশ্বের সব নারী মা দূর্গা, মা কালীর রূপ ধারণে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের সিন্দুর অপারেশন তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

যে অন্যকে ভালোবাসতে পারে না, পারেনি সে নিজেকে কখনই ভালোবাসতে পারেনা, পারেনি। ঠিক তেমনি যে অন্যকে ভালবাসতে জানে না, শেখেনি সে নিজেকেও ভালোবাসতে জানে না, শেখেনি। নমস্কার।