Powered By Blogger

Thursday, October 5, 2023

প্রবন্ধঃ সত্য সৎসঙ্গ! কিন্তু কি বিচিত্র এই সৎসঙ্গীরা!! (১)

প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে বহু লেখা চোখে ভেসে আসে ফেসবুকে। সময় ক'রে তা পড়ার চেষ্টা করি। তার মধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র অন্যতম প্রধান বিষয়।

তাঁর পক্ষে বিপক্ষে বহু লেখা ফেসবুক জুড়ে থাকে। তাঁকে নিয়ে, তাঁর জীবনবৃদ্ধি সম্পর্কিত বাণী ও কথামৃত নিয়ে যেমন ভক্তমণ্ডলী বিভিন্ন প্রচারমূলক লেখা লেখে আবার বহু লেখা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে কলঙ্কিত করবার জন্যে কানে গরম সীসা ঢেলে দেওয়ার মতো কুৎসা ক'রে লেখা হয়। এর সঙ্গে জড়িত থাকে বিরোধী সৎসঙ্গী নামধারী আশ্চর্য জীবেরা। আর দুঃখের বিষয় এরা সবাই বাঙালি।

এছাড়াও কিছু লেখা চোখে পড়ে যেগুলি অন্যের লেখা চুরি ক'রে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া। আবার অন্যের লেখা লেখকের নাম না দিয়ে বা ইনভার্টেড কমা না দিয়ে বুলেট পয়েন্ট দিয়ে লেখা। আবার কিছু আছে ইচ্ছাকৃতভাবে পরশ্রীকাতরতায় জর্জরিত হ'য়ে লেখকের নাম না দিয়ে সংগৃহীত লিখে চালিয়ে দেওয়া। এছাড়া আর এক ধরণের লেখা আছে যা কিনা সবকিছু ছাপিয়ে চলে যায়। তা কি?

তা হ'লো শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী বা কথাকে ভুলভাল শোনা কথার ওপর ভর ক'রে লেখা যা আবার ভয়ংকর বানান ভুলে ভরা। বানান ভুল হ'তেই পারে, আমারও হয়। কিন্তু তার একটা সীমা থাকে। আর একজন গুরুভাই আর একজন গুরুভাইবোনের পোষ্ট করা বাণীর বা বানানের যদি ভুল ধরিয়ে দেওয়া হয় তাহ'লে তা হ'য়ে যায় অপরাধের ব্যাপার ও তাদের কাছে অপমানের ব্যাপার। একজন সৎসঙ্গী সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনের যদি ভুল ধরিয়ে দিয়ে ঠাকুরের বিকৃত বাণীকে ঠিক ক'রে দিতে সাহায্য করে তা হ'য়ে যাবে অনধিকার চর্চা, খুঁত ধরার স্বভাব আবার তার সাহায্যে আর একজন এগিয়ে এসে বলবে, আপনি মহাপন্ডিত হ'য়ে গেছেন, চোখে আঙ্গুল দাদা হ'য়ে গেছেন, বিচার করার আপনি কে, স্বভাব ত্যাগ করুন ইত্যাদি। এমনকি যে গুরুবোন শ্রীশ্রীঠাকুরের বাণী ভুল শব্দ প্রয়োগে ভুল বানানে ভরা পোষ্ট করছেন ওপেন মিডিয়ায় তাকে ঠিক বাণী ঠিক বানানে কমেন্ট বক্সে লিখে দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলছেন, আমার ভালো লাগে তাই আমি পোষ্ট করি, আপনার দরকার হ'লে আপনি নিজে ঠিক ক'রে নিন।

আর, সবচেয়ে যেটা আশ্চর্যের বিষয় তা হ'লো, শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীঠাকুরের ব'লে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ফেসবুকে সবাই ওয়াকিবহাল ও বিশেষজ্ঞ। শ্রীশ্রীঠাকুরের নাম নিয়ে নিজের মতো ক'রে ভুলভাল ফেসবুকে লিখে পোষ্ট ক'রে দিচ্ছে কিম্বা নিজের ব'লে চালিয়ে দিচ্ছে। আর সেই সমস্ত বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে তখন পোষ্টের অর্থহীন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন, সামঞ্জস্যহীন শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীআচার্যদেবের বলা বিষয় বা বাণী সেই ভুলভাল পোষ্টের সমর্থনে জুড়ে দিচ্ছে। আবার বিকৃত সেই পোষ্টের সমর্থনে কেউ কেউ ময়দানে নেবে পড়ছে। ফলে শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীআচার্যদেব এবং সৎসঙ্গ ও সৎসঙ্গী সম্পর্কে একটা বিকৃত ও ভুল ধারণা ও হাস্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।
(লেখা ১০ই সেপ্টেম্বর'২০২৩)
ক্রমশঃ।

প্রবন্ধঃ সমস্যা সমাধানের ও মুক্তি লাভের সহজ উপায়।

হে দয়াল, তোমার জীবন্ত উপস্থিতি, তোমার সুন্দর অপরূপ মুখমন্ডল, ঐ মুখমন্ডল থেকে ঝ'রে পড়া জ্যোৎস্নার মতো স্নিগ্ধ নরম মিষ্টি আলোর কিরণ, তোমার ভুবনভোলানো শুভ্র হাসি, আর ঐ হাসি থেকে ঝ'রে পড়া মুক্তো রাশি রাশি, তোমার উজ্জ্বল মোলায়েম দেহতনু, অপূর্ব দেহসৌষ্ঠব, তোমার করুণ মায়াময়, আলোময়, রূপময়, বরাভয় চোখের দৃষ্টি, কন্ঠ থেকে ঝ'রে পড়া ভরসাদীপ্ত, ভালোবাসায়, আদরে, স্নেহে, মমতায় ভরা মধুর রসময়, আশাময় স্বর আর চতুর্দিকের গাছগাছালিতে ভরা নির্মল শান্ত স্নিগ্ধ শুভ্রতার চাদরে ঢাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঝাঁ চকচকে তোমার পার্লার, অপূর্ব কারকার্যখচিত চোখ জুড়ানো মন্দির সঙ্গে ভোরের মিষ্টি মধুর ঠান্ডা বাতাস আর নরম স্নিগ্ধ আলোর বন্যায় স্নাত কখনো বা অতি প্রত্যুষের আলোআঁধারিতে ঘেরা ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা চারপাশ, তোমার মন্দিরের ঐ প্রত্যুষের বিহ্বল করা, আত্মহারা, মত্ত, মাতাল, আবেশময় পরিবেশ আমার ভালো লাগে না।

আমার ভালো লাগে দয়াল, নিঝুম রাত, গা ছমছম করা হিমভেজা, রক্তশীতল করা পরিবেশ, অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার, ভুতুরে অনুভূতি ইত্যাদি। দয়াল, এসব না হ'লে কি ইশ্বর আরাধনা হয়? নীরব, নিস্তব্ধ, নিস্পন্দ চরাচর ব্যাপী প্রকৃতির ও অজ্ঞতার গভীর অন্ধকার আর সেই অন্ধকারে ডুবে রয়েছে যখন পৃথিবী ঠিক সেই সময় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আমি। আমার সেই গভীর ঘুমে মগ্ন অবস্থায় কেউ একজন ভয়ংকর দর্শনা দেবদেবী স্বপ্নে দেখা দিয়ে যদি ভয় না পাওয়ায় আমায়, যদি আদেশ না দেয় আমার 'এই চাই, ঐ চাই, নইলে এই ক্ষতি হবে, ঐ ক্ষতি হবে' ব'লে তবে কিসের ঈশ্বর আরাধনা, কিসের ধর্ম পালন দয়াল?

শালা, যে ভক্ত ঠাকুরকে দিনরাত ডেকে ডেকে চোখের জলে বুক ভিজিয়ে, বিছানা ভিজিয়ে এক ক'রে দিল তাকে দেখা দেয় না বিশ্বব্রহ্মান্ডের সৃষ্টিকর্তা এক ও অদ্বিতীয় জীবন্ত ঈশ্বর, পরমকারণ, পরমউৎস, পরমঅস্তিত্ব পরমপিতা, পুরুষোত্তম, সদ্গুরু, সর্বজ্ঞ শ্রীশ্রীঠাকুর ও তাঁর পূর্বরূপ শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীবুদ্ধ, শ্রীযীশু, শ্রীমহম্মদ, শ্রীমহাপ্রভু, শ্রীরামকৃষ্ণ কোনও এক অজানা কারণে আর বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে আকন্ঠ ডুবে থাকা মানুষ, রিপুতাড়িত উচ্ছৃঙ্খল বিশৃঙ্খল জীবনের অধিকারী, ঠগ, জোচ্চর, পাপী, অসদাচারী, অত্যাচারী, ভন্ড, কপট ধার্মিক, সাজা শয়তান সাধু তাদের নাকি আকাশের মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য বোবা দেবদেবীরা ঘুমের মধ্যে সশরীরে শুধু দেখা দেয় না, তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের নানারকম আদেশ দেয়, স্বপ্নে তাদের নানারকম দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ ব'লে দেয়, পাঁঠাবলি, মোষবলি, গরুবলি দিতে বলে, আবার কোনও কোনও ভয়ংকর দেবীও নাকি আছেন তারা মদ খেতে চায়, রক্ত খেতে চায়, সে আবার যে সে রক্ত নয় মানুষের রক্ত চাই, তা আবার যে সে মানুষ হ'লে হবে না শিশুর রক্ত চাই। বর্তমানে দেবদেবীরা যারা ছোট্ট শিশুর রক্ত পান করতে চাইতো তারা সভ্যতার ঝাঁ চকচকে আলোর ধাক্কায় ভয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে স'রে গেছে অন্ধকার কুসংস্কারাছন্ন গ্রাম গঞ্জের অজ্ঞতার ঘোর অন্ধকারে ডুবে থাকা প্রত্যন্ত প্রান্তে। কিন্তু অন্য সবরকম ভাবেই জাঁকিয়ে বসে আছে গ্রামে-গঞ্জে-শহরে উচ্চলেখাপড়া জানাওয়ালা ও উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে অক্ষর জ্ঞানহীন নিম্নবিত্ত ও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী মানুষের ঘরে ঘরে।

কি মহাভাগ্যবান আমরা। আমাদের কত দেবদেবী! কত মা আমাদের! প্রতিদিন গ্রামে গঞ্জে শহরে বন্দরে পাহাড়ে-পর্বতে অমাবস্যা-পূর্ণিমা তিথিতে কত মা আমাদের হিন্দুদের রক্ষা করবার জন্য বিশেষ ক'রে বাঙালি হিন্দুদের জন্য নেমে আসেন, আবির্ভূত হ'ন। ভাদ্রমাসের প্রথম অমাবস্যা কৌশিকী অমাবস্যা বলে পরিচিত তিথিতে উপোস থেকে মায়ের পুজা ক'রে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে নাকি মোক্ষলাভ হবে।
জীবনে যত পাপই করি না কেন, যত অন্যায়, অনাচার, অত্যাচার, অধর্ম করি না কেন অন্তত এইরকম কৌশিকি অমাবস্যার রাতের মতো মানুষের সৃষ্ট বিশেষ বিশেষ পবিত্র দিনে (অন্য কোনওদিন হ'লে চলবে না, এই সমস্ত বিশেষ দিনগুলিই একমাত্র পবিত্র দিন ঈশ্বর আরাধনা করার) আকাশের অমূর্ত ভগবান, বোবা ভগবান, অদৃশ্য ঈশ্বর ইত্যাদি সব দেবদেবীর পুজো, উপবাস পালন ক'রে নদীতে স্নান করলে সব পাপ, সব অন্যায়-অধর্ম, অকর্ম-কুকর্ম, সব অনাচার-অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে আর আবার কিছুদিন পরে নোতুন ভাবে চিত্ত সবল ক'রে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে পুনরায় সেই অন্যায়-অধর্ম, অকর্ম-কুকর্ম, অনাচার-অত্যাচার করার জন্য। পরে আবার একটা কোনও একটা বিপদ তাড়াবার দেবীর পুজো ক'রে বা কোনও এক বিশেষ রাতে বা তিথিতে কোনও মায়ের পুজো ক'রে দিলেই মুক্তি হ'য়ে যাবে, হ'য়ে যাবে পাপ স্খলন।

আচ্ছা এর থেকে ভালো ভগবান, বুঝদার ঈশ্বর, পরম বান্ধব ও সহজ পন্থা আর কে আছে বা কি আছে এই ত্রিভুবনে? অন্যায়-অধর্ম, অকর্ম-কুকর্ম করবো, অনাচার-অত্যাচার চালাবো আর হাতে গলায় আঙ্গুলে তাবিজ মাদুলি, লালসুতো কালোসুতো, নানারঙ্গের পাথর, কোমরে লোহা ইত্যাদি আরও কত কিছু ঝুলিয়ে নেব, বেঁধে নেব আর তারপরেও বিপদে পড়লেই ভগবানকে স্মরণ করবো আর তিনি এসে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে হাত ধ'রে তুলে নেবে গাড্ডা থেকে, দেবে বিপদ থেকে মুক্তি, বাঁচাবে প্রাণ। একটা অলৌকিক ঘটনা ঘটে যাবে এই কৌশিকী অমাবস্যায় উপোস থেকে মায়ের পুজো ক'রে নদীতে স্নান করলে। সমস্ত রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় ও দরিদ্রতা থেকে আমার মুক্তি হ'য়ে যাবে, কিচ্ছু আমাকে কর্মফল ভোগ করতে হবে না।

হে দয়াল। তোমার ওসব জ্ঞানগর্ভ কথা,-------
"মানুষের উদ্দেশ্য হ'ল তাঁর লীলা উপভোগ করা। মুক্তি এর অনেক নীচে। স্মৃতিবাহী চেতনা যদি থাকে এবং ইষ্টার্থপরায়ণতা যদি প্রধান হয়, তবে লাখবার জন্মালেও কিছু এসে যায় না। প্রবৃত্তি তখন আমাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতে পারে না। আমি সব অবস্থার মধ্যে থেকেও তার উর্ধ্বে থাকি"----------- চলবে না।

হে দয়াল, আমার উদ্দেশ্য হ'লো জীবনকে উপভোগ করা। রিপুর বশবর্তী হ'য়ে বৃত্তি-প্রবৃত্তির লীলা চুটিয়ে উপভোগ করা। এই জীবনে যখন অল্প কিছুদিনের জন্য এসেছি তখন এই ক্ষণিকের জীবন নিংড়ে উপভোগ করবো না? এই অল্প সময়ের জন্য আসা জীবনেও এত নীতিকথা আর বাধা? আর এই ষড়রিপুর বশবর্তী হ'য়ে বৃত্তি-প্রবৃত্তির তীব্র উৎকট লীলা উপভোগ করতে করতে যখন বিপদ নেবে আসবে মাথার ওপরে তখন তো হাজার দেবদেবতা, মায়েরা আছেন। তাঁরা রক্ষা করবেন তো। তাঁরা আমাকে রক্ষা করার জন্যই তো আছেন; তাই নয় কি? সেটা তো তারও দায়। নইলে এতো মন্দিরই বা কেন আর মন্দিরে মন্দিরে ঘটা ক'রে পুজোই বা কেন?

গঙ্গাজলে স্নান ক'রে পবিত্র হ'য়ে সারাদিন উপোস ক'রে পুজো স্থানে গোবরজল, গঙ্গাজল ছিটিয়ে, সিঁদুর চন্দনে আর লাল জবায় পুজোবেদী ও পাথরের মূর্তিকে মাখামাখি ক'রে কিম্ভূতকিমাকার সাজিয়ে একটা গা ছমছম করা পরিবেশ সৃষ্টি ক'রে ঢাকঢোল-কাঁসাঘন্টা পিটিয়ে, আলপনা দিয়ে, ফুল, চন্দন দিয়ে সিঁদুর দিয়ে ঘট লেপ্টে, ধুপধুনো জ্বালিয়ে ধোঁয়ায় ঢেকে দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে, হোম যজ্ঞ ক'রে, ফুলচন্দন দিয়ে মন্ত্র আউড়ে, গান কীর্তন ক'রে, ভোগের আয়োজন ক'রে পুজো শেষে হৈ হৈ ক'রে ঐ মহামুক্তির আমিষ মহাভোগ মাছ, মাংস, পোলাও সাথে কারণ সুধা আবার নিরামিষ ভোগ খিচুরি, তরি-তরকারি, লুচি, সুজি, পায়েস পরমান্ন খাইয়ে ও খেয়ে তো সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি। নইলে মুক্তি ব'লে আর কিচ্ছু নেই।

আর হে দয়াল, তোমার সোনার সৎসঙ্গীরাও তো তাই বলছে। অল্প বয়সী তোমার মহান ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তোমাকে এই বয়সে আয়ের উপকরণ বানিয়ে বসে গেছে। তোমাকে ও আচার্যদেবকে লৌকিক মহিমা থেকে অলৌকিক মহিমায় মহিমান্বিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তোমার বালখিল্য ঋষির দল শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে ইষ্ট বানিয়ে দিচ্ছে, শ্রীশ্রীআচার্যদেবের ফটো তুললে নাকি ফটোতে হাত কাটা জগন্নাথের মতো দেখাচ্ছে, তাই তাঁকে জ্যান্ত জগন্নাথ বানিয়ে ছেড়েছে; জগন্নাথ এখন দেওঘরে জীবন্ত অবস্থান করছেন পুরীর মন্দির ছেড়ে। তুমি এখন তাদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউ টিউবে আয়ের মোক্ষম উপকরণ। 
তারা ভিডিওতে ব'লে বেড়াচ্ছে,
১) ভাদ্র মাসে এই কাজগুলি করবেন এইগুলি করবেন না।
২ ) ডাক্তার সেজে ঠাকুর তুমি রোগীকে দিয়ে গেছো ওষুধ।
৩) চক্রফটো দেখার সময় ঠাকুরের ফটোর দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন এই দু'টি কথা বলুন শুধু দেখুন কি হয়।
৪) ইষ্টভৃতি যদি করতেই হয় এই নিয়মে করুন। বিপদে রক্ষা পাবেন। শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং এসে হাজির হন।
৫) ঠাকুরের কাছে কটা ধূপকাঠি একসঙ্গে জ্বালানো উচিত?
৬) ঘুম থেকে উঠেই এই কথা বলুন নিশ্চিত আকাঙ্ক্ষিত বস্তু প্রাপ্তি।
--------ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি।
এ সব কিছু পালন করলে ১০দিনে পরিবর্তন হ'য়ে যাবে জীবন।

জীবন সম্পর্কে তোমার হাজার হাজার চলনপুজার বাণী চলবে না তাদের কাছে হে আমার দয়াল গুরু! "চলনহারা চরণপুজা বন্ধ্যা পুজা সে জানিস", "দেবতার পায়ে মাথা খুঁটে তুই ফাঁকিতে চাস বাগাতে মাল, ঠাকুর কি তোর এতই বেকুব ফাঁকি দেখে নয় সামাল?" ইষ্টস্বার্থই ভুল হ'ল তোর মূর্তি-চিন্তাই ধরলি, ধ্যানটি গেল গোল্লায় কিন্তু এমন করাই করলি।"ইষ্ট ছাপিয়ে তোর জীবনে যা'র প্রয়োজন মুখর হবে, সেই পথেতে সর্ব্বনাশটি তোর তরেতেই দাঁড়িয়ে র'বে।"
-------------এরকম বহু বাণী আছে যা তোমার সৎসঙ্গী ভক্তদের কাছে বকোয়াস।

তাই তো গলা ছেড়ে গান গেয়ে উঠি, বলি, এমন ধর্ম, এমন ভগবান, এমন ভক্ত কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি, সে যে সকল ধর্ম, সকল ভক্ত ও ভগবানের রাণী সে যে আমার দেবদেবীর ভুমি!
(লেখা ১৫ই সেপ্টেম্বর'২০২৩)

প্রবন্ধঃ মানুষ মানুষের জন্যে ।

মানুষ মানুষের জন্যে,
জীবন জীবনের জন্যে,
একটু সহানুভূতি কি 
মানুষ পেতে পারে না?

না পেতে পারে না। এ অপ্রিয় সত্য। এ বিধাতার বিধান।
হয়তো আমার কথাটা ভালো লাগবে না। তা'তে আমার কিছু করার থাকে না।

এ বিধাতার বিধান কারণ কারও বৃত্তি-প্রবৃত্তি যে কথায়, যে কাজে বাধা পায় সেই কথা বা কাজ তার ভালো লাগে না। ফলে যার কথা ও কাজে রিপু ভোগ করার পথে বাধা সৃষ্টি হয় সেই বাধাসৃষ্টিকারী মানুষটাও তার কাছে বিরক্তির কারণ হ'য়ে পড়ে। কারণ সে ষড়রিপুর দাস, চাকর। রিপু দ্বারা চালিত তার জীবন। ষড়রিপু তাকে গলায় শেকল বেঁধে কুত্তার মতো টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চলে তার দিকে। ষড়রিপু দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তি তার বৃত্তি-প্রবৃত্তিকে আঁকড়ে ধ'রে বাঁচতে চায়। তার বৃত্তি-প্রবৃত্তি অর্থাৎ ঝোঁক, টান যেদিকে অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য এই ষড়রিপুর যেদিকে সে ছুটে চলেছে রিপুর প্রবল টানে উন্মাদের মতন সেই ছুটে চলার পথে বাধা পায় যে কথা ও কাজে সেই কথা, সেই কাজ তার ভালো লাগে না, সেই কথা, সেই কাজ, সেই জ্ঞান, সেই উপদেশ ইত্যাদি তখন তার কাছে শত্রু। জীবন্ত ঈশ্বরকে, তাঁর উপস্থিতিকে তখন সে পরম শত্রু মনে করে আর সেই বৃত্তি-প্রবৃত্তিকে অর্থাৎ উচ্ছৃঙ্খল রিপুর সেই টানকে, রিপুর প্রতি মত্ত ঝোঁক রূপী শয়তানকে সে তখন পরম বন্ধু ব'লে মনে করে। সে তখন চিনতে পারে না এই অল্প কদিনের জন্য আসা পৃথিবীতে কে প্রকৃত বন্ধু আর কে বন্ধু রূপী শত্রু। এ কথা দুঃখের হ'লেও তার কাছে পরম সুখের। আরও দুঃখের কথা সেই শয়তান তাকে এমনভাবে নানা প্রলোভনে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নেয় সাপের মতো যে সেই বাঁধন থেকে সে বেরিয়ে আসতে চাইলেও আর বেরিয়ে আসতে পারে না; অবশেষে তাকে গিলে খায় সেই শয়তান। সেই নানা প্রলোভনের মধ্যে ঈশ্বর আরাধনাও একটা প্রলোভন। এই উচ্ছৃঙ্খল বিশৃঙ্খল ভাবে রিপুকে ভোগ করার জন্য সে ঈশ্বর আরাধনাও করে। যাতে ষড়রিপুর প্রতি তার এই তীব্র ঝোঁক অর্থাৎ বৃত্তি-প্রবৃত্তির বৃত্তের মধ্যে ডুবে থাকার জন্য তার কোনও ক্ষতি না হয় সে জন্য ঈশ্বরের পুজোকে হাতিয়ার করে।

আর সেই ঈশ্বর কিন্তু কোনও জীবন্ত ঈশ্বর বা সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ নয়। সেই ঈশ্বর আকাশের ঈশ্বর, বোবা ঈশ্বর, মাটির ঈশ্বর। যে ঈশ্বর তাকে তার ভুল কাজ, অন্যায় কাজকে বাধা দিতে পারে না, কিছু বলতে পারে না।। শুধু একতরফা অন্যায় কাজ, ভুল কাজের সমর্থন আদায়ের জন্য বৃত্তি-প্রবৃত্তির অধিকারী মানুষ জাঁকজমক আড়ম্বরপূর্ণ বোবা ভগবানের, অমূর্ত ভগবানের পুজো করে। বৃত্তি-প্রবৃত্তিতে ডুবে থাকা মানুষ জীবন্ত ঈশ্বরের কাছে যাবে না, তাঁর কাছে তাঁর অন্যায় কাজের জন্য, ভুল কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে সারেন্ডার করবে না, তাঁর নির্দেশিত পথে চলবে না। সেখানে শুধু নানারকম করার কথা, ক'রে পাওয়ার কথা, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য এই ষড়রিপুকে, বৃত্তি-প্রবৃত্তিকে কন্ট্রোল করার কথা, চরণপুজোর পরিবর্তে চলনপুজোর কথা, চরিত্র গঠনের কথা। জীবন্ত ঈশ্বরের কাছে Character making education-এর কথা যা ছোটো বড়, গরীব বড়লোক, জ্ঞানী অজ্ঞানী, পন্ডিত মূর্খ, যোগী ভোগী কারও ভালো লাগে না। সব তখন বকোয়াস, বাড়াবাড়ি মনে হয়।

আর এই অভ্যাস এমন মজ্জাগত হ'য়ে যায়, শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে, শিরায় শিরায়, কোষে কোষে এমনভাবে জোঁকের মতো গেঁথে বসে যে বয়সকালেও সেই বদ সংস্কার ত্যাগ করতে পারে না। জোঁকের রক্ত খেয়ে একেবারে ফুলে মোটা হ'য়ে যাবার পর যেমন আপনা আপনি খসে পড়ে জোঁক ঠিক তেমনি এই বৃত্তি-প্রবৃত্তির বদ অভ্যাস রিপুদ্বারা নিয়ন্ত্রিত বৃত্তি-প্রবৃত্তির অধিকারী মানুষের জীবনীশক্তিকে চুষে খেয়ে, নিংড়ে নিয়ে একেবারে ঝাঁঝরা ক'রে দিয়ে, ছিবড়ে ক'রে ফেলে দেয়। তখন সে হয় মৃত্যুমুখে পতিত হত অসহ্য জ্বালাযন্ত্রণা সহ্য ক'রে। নতুবা শেষ জীবনে বিছানায় হেগে মরে। শেষের সেদিন তখন তার ভয়ংকর হ'য়ে ওঠে। আর, এর কষ্টকর ফল ভোগ করে পরিবারের সদস্যরাও।

তাই সে মানুষ কাউকে সাহায্য করা ও কারও কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া তো দূরের কথা কাউকে সহানুভূতিটুকুও দেখায় না ও কারও কাছ থেকে পায় না। আর দেখালেও সেখানেও উচ্ছৃঙ্খল রিপুর ছোবল থাকে। সেখানেও থাকে Give & Take policy. ফলস্বরূপ সে প্রতিদানে কোনও সাহায্য বা বিন্দুমাত্র সহানুভূতিও কারও কাছ থেকে পায় না।
মানুষ মানুষের জন্য তখনই হয়, জীবন জীবনের জন্য তখনই হয়, মানুষ মানুষের কাছে সহানুভূতি শুধু নয়, সাহায্যও পায় যখন মানুষের জীবনে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ জীবন্ত ঈশ্বর থাকে। যখন মানুষ সেই জীবন্ত ঈশ্বরের চরণে নিজেকে সঁপে দিয়ে তাঁর চরণপূজার পরিবর্তে চলনপূজায় মগ্ন হয় এবং সেই জীবন্ত ঈশ্বরের গুণাবলী তাঁর চরিত্রের মধ্যে জীবন্ত হ'য়ে ওঠে, যখন সেই মানুষ তাঁর জীবন্ত সর্ব্বশ্রেষ্ঠ আদর্শের স্পর্শে নিজেই এক চলমান আদর্শে পরিণত হয় নিজের পরিবারে, নিজের সমজে তখন সে মানুষের জন্য বাঁচে আর মানুষও তাঁর জন্য বাঁচে।

পৃথিবীতে ঈশ্বর ব্যতিত কোনও মানুষই কোনও মানুষের জন্য হ'তে পারেন না। সবটাই সাময়িক কিংবা লোক দেখানো। মানুষের জন্য প্রকৃত মানুষ তখনই হয় যখন মানুষ একমাত্র ঈশ্বরের জন্য হয়, ঈশ্বরই তাঁর জীবনে এক ও একমাত্র হয়, অন্য কেউ নয়। যখন এই বিশ্বব্রম্মান্ডের সৃষ্টিকর্তার জীবন্ত রূপ আমার জীবনে প্রথম ও প্রধান হয় তখন তাঁর সৃষ্টির সবকিছুর জন্য আমার জীবনও উৎসর্গ হয়। তাই শ্রীশ্রীঠাকুর বললেন,
"You are for the Lord
Not for others,
You are for the Lord
And so for others."
এই সমাজ, সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সবটাই এই মারণ রোগের শিকার। সবাই রিপুতাড়িত। তাই মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য আর হ'য়ে উঠতে পারলো না। কেউ কাউকে একটু সাহায্য তো দূরের কথা একটু সহানুভূতিও দেখায় না। তুমি যদি কাউকে ভালো না বাসো, তুমি যদি কাউকে সাহায্য না করো, তুমি যদি কারও বিপদের সময় পাশে না দাঁড়াও, একটু সহানুভূতিটুকুও না দেখাও তাহ'লে তুমিও তা আশা করতে পারও না। কারণ সবটাই সেই অর্থে বিজ্ঞান।
বিজ্ঞানের ভাষায়ও বলা আছে, Every action has an equal and opposite reaction. প্রতিটি ক্রিয়ার একইরকম ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রও বললেন, "তুমি যা করছো বা ক'রে রেখেছো ভগবান তাই-ই গ্রাহ্য করবেন আর তাঁর ফলও পাবে ঠিক তেমনি।"
তিনি আবার বললেন, "
যা ইচ্ছা তাই করবে তুমি
তা করলে রে চলবে না
ভালো ছাড়া মন্দ করলে
পরিস্থিতি ছাড়বে না।"

তাই, মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য এসব কাঁদুনি গেয়ে লাভ নেই। মানুষ যেখানে নিজের জন্যই নয় সেখানে অন্যের জন্য কি ক'রে হবে? এখন লোক দেখানো সব ভালো ভালো কথা আয়ের জন্য, ক্ষমতা দখলের জন্য, আধিপত্য বিস্তারের ও নাম যশ কামানোর উপকরণ মাত্র।

আর এ কথা শুধু মূর্তি পূজার অধিকারী ব্যক্তির জন্য শুধু নয় জীবন্ত ঈশ্বরের তথাকথিত লোকদেখানো ভন্ড সাজা ভক্তরাও এই একই রোগের রুগী। জীবন্ত ঈশ্বর যতবার এসেছেন ততবারই তাদের অনুগামী শিষ্যদের মধ্যে এই রোগের ভয়ংকর প্রাদুর্ভাব আমরা দেখেছি ও দেখে চলেছি।

আর বর্তমান যুগপুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ভক্ত শিষ্য সৎসঙ্গীরা এই রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্ত? সাজা সৎসঙ্গীরা কি মন্দিরে মন্দিরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে আয়ের জন্য, ক্ষমতা দখলের জন্য, আধিপত্য বিস্তারের ও নাম যশ কামানোর উপকরণ মাত্র বানিয়ে নেয়নি শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে? তারা কি শ্রীশ্রীঠাকুরের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা ও শ্রীশ্রীঠাকুরকে প্রতিষ্ঠায় মগ্ন? তারা কি শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দেশ ও নিদেশ মেনে চলছে জীবনে? তারা কি তাদের জীবন শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনের জন্য নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছে? তারা কি শ্রীশ্রীঠাকুরের স্বার্থ প্রতিষ্ঠা ও শ্রীশ্রীঠাকুর প্রতিষ্ঠার এক ও একমাত্র লক্ষ্যে অবিচল ও অন্তপ্রাণ শ্রীশ্রীআচার্দেবকে সাহায্য করেছেন ও করছেন?

তাই তারাও যখন শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্য নয়, শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনের জন্য তাদের জীবন নয় তখন তারাও মানুষের জন্যে নয়, তাদের জীবনও কোনও জীবনের জন্যে নয়। তাই তারাও রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয় ও দরিদ্রতা থেকে মুক্তি তো দূরের কথা একটু সহানুভূতিও পেতে পারে না।
প্রকাশ বিশ্বাস।
উত্তরপাড়া, ভদ্রকালী।

প্রবন্ধঃ মুক্তি নেই।

কোনও লেখা লেখার পর বা কমেন্ট করার পর ভালো লাগে যখন কেউ সেই লেখা ও কমেন্ট দেখে ও পড়ে। কমেন্ট করলে মনের ও ভাবের আদান প্রদান হয়। আলোচনায় মানুষ সমৃদ্ধ হ'য়ে ওঠে। কিন্তু বেশীরভাগই শুধু লাইক আর জয়গুরুতেই সীমাবদ্ধ থাকে। আমি সকলকেই বলি মনের ভাব প্রকাশ করতে। এর জন্যে লেখায় পারদর্শী হ'তে হবে তার কোনও মানে নেই। আস্তে আস্তে লেখায় হাত পাকা হয়। তার থেকেও বড় কথা আলাপ আলোচনায় জ্ঞানচক্ষু খোলে। ভুল ত্রুটি শুধরে যায়। ধারণা ও ভাবনা পাল্টে যায় ও সমৃদ্ধ হ'য়ে ওঠে।

আজ ফেসবুকের মধ্যে দিয়ে যে সুযোগ মানুষের সামনে এসেছে নিজেকে তুলে ধরার পরিবর্তে শ্রীশ্রীঠাকুরকে তুলে ধরার সৎসঙ্গীদের কাছে সেই সুযোগ আগে ছিল না। এই শক্তিশালী মাধ্যমের সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে ঠাকুরের কুৎসাকারীরা। আর ফেসবুক ব্যবহারকারী সৎসঙ্গীরা ফেসবুকে ঠাকুর, ঠাকুর কথা ও ঠাকুর পরিবার সম্পর্কিত বিভিন্ন পোষ্টে শুধু লাইক আর লাভ সাইনের সঙ্গে জয়গুরুতে সীমাবদ্ধ থাকছে এবং আর সব সাধারণ অদীক্ষিত মানুষের মতো ফেসবুককে ব্যবহার করছে নিজেদেরকে নিয়ে । আশ্চর্যের বিষয় কুৎসাকারীদের পোষ্টেও জয়গুরু আর লাইক, লাভ সাইন দিচ্ছে সৎসঙ্গীরা ছবি দেখেই পোষ্টের কুৎসিত বিষয় না পড়েই। কুৎসাকারীরা জানে পোষ্টের সঙ্গে ছবি দিয়ে দাও শ্রীশ্রীঠাকুরের তাহ'লেই হবে; লাইক আর লাভ সাইন ও জয়গুরুতে ভরে যাবে পোষ্ট আর অদীক্ষিত দেখবে সে পোষ্ট আর বলবে, দেখো সৎসঙ্গীরাই সমর্থন করছে এই কুৎসায় ভরা মিথ্যেকে সত্য ব'লে।

আর কিছু সৎসঙ্গী আছে যারা ভুল বানানে, ভুল শব্দে ভরা ভুল বাণী পোষ্ট করছে ঠাকুরের, ধরিয়ে দিলে রেগে যাচ্ছে। ভুল হ'তেই পারে। ভুল আমারও হয়। ভুল হওয়াটা দোষের নয়, যারা কিছু করে তাদের ভুল হ'তেই পারে কিন্তু সেই ভুল ধরিয়ে দিলে ভুল থেকে শিক্ষা নেবার বা ভুল শুধরে নেবার ইচ্ছে না থাকাটা, উল্টে রেগে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে অপরাধ ও নিজের ও অপরের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক।

আবার কিছু অতি আবেগে উদ্দীপ্ত সৎসঙ্গী আছে যারা ঠাকুরের বাণীর অন্তর্নিহিত অর্থ না বুঝেই ভুল ব্যাখ্যা করছে। উদাহরণ স্বরূপ কেউ শ্রীশ্রীবড়দাকে ও আচার্যদেবকেই ঠাকুর বা ইষ্ট বানিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ শ্রীশ্রীআচার্যদেবকে ফটোতে হাত নেই দেখিয়ে হাত কাটা জ্যান্ত জগন্নাথ বানিয়ে চোখের জলে নিজেকে ভাসিয়ে ভিডিও বানিয়ে বাজারে ছেড়ে দিয়েছে আয়ের উপকরণ ক'রে। আর সেই ভিডিও লক্ষ লক্ষ লোক দেখছে আর আয়ের রাস্তা খুলে যাচ্ছে ভিডিওকারীর। আবার কেউ বা শ্রীশ্রীঅবিনদাদাকে সর্ব্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ব'লে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করছে কাঁদতে কাঁদতে। আর এর বিরুদ্ধে বলতে গেলে কিছু সৎসঙ্গী বলছে, আপনি মুখ খুলছেন, আপনি একঘরে হ'য়ে যাবেন। মনে হচ্ছে যেন শ্রীশ্রীআচার্যদেব ও ঠাকুর পরিবার এগুলি সমর্থন করেন। আর এর বিরুদ্ধে বললে আমি ঐ সমস্ত আবেগে উদ্দীপ্ত সৎসঙ্গী ও ঠাকুরবাড়ির চক্ষুশূল হ'য়ে যাবো। শ্রীশ্রীঠাকুর ও ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের তারা এমনভাবে তুলে ধরছে যার ফলে সৎসঙ্গী ও অদীক্ষিতদের মধ্যে ভুল বার্তা যাচ্ছে। ভুল বার্তা যাচ্ছে শ্রীশ্রীঠাকুর প্রতিষ্ঠিত 'সৎসঙ্গ' বিরোধী, শ্রীশ্রীবড়দা ও তাঁর পরিবার বিরোধী সৎসঙ্গী(?) নামধারী ব্যক্তিদের হাতে। মোক্ষম সুযোগ ক'রে দিচ্ছে এই অতি উৎসাহী সৎসঙ্গীরা তাদের নানারকম ব্যভিচারী ভক্তির সাহায্যে শ্রীশ্রীঠাকুর বিরোধী কুৎসাকারীদের হাতে। আর তখন সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ছে শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীআচার্যদেব, শ্রীশ্রীঅবিনদাদা ও ঠাকুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর সমালোচনা, কুৎসা ইত্যাদির ঝাঁপি খুলে।

যাই হ'ক আর বেশি কিছু বলার নেই এ ব্যাপারে। তবে কুৎসাকারী নরাধমদের হ'য়ে কেউ কেউ সহানুভূতির অশ্রু ত্যাগ করতে করতে নিজেরাই প্রায় ঠাকুর হ'য়ে যাচ্ছে। 
তাদের মধ্যে ঠাকুর প্রেমের আতিশয্যে অনেকে জগাই মাধাই, দস্যু পল, দস্যু রত্নাকর ইত্যাদি নানাজনের জীবনের পরিবর্তনের উদাহরণ দিয়ে বলছে এই সমস্ত কুৎসাকারীরাও একদিন ঠাকুর প্রেমে মাতাল হ'য়ে যাবে তাঁকে জীবনে গ্রহণ ক'রে, শুধু সময়ের অপেক্ষা। তাই তারা তাদের কথার কোনও প্রতিবাদ না ক'রে তাদের পরিবর্তন হওয়ার জন্য তাদের মিষ্টি মিষ্টি কথা ব'লে কুৎসার জবাব দেয়। ভাবি সত্যি ভালো মানসিকতা। এমন ভালোবাসার, প্রেমের মানসিকতা ঠাকুর চেয়েছিলেন? ফেসবুকে এমন প্রেমময় মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায় করার ধারে কাছে না থাকা শুধু কথার স্রোতে ভাসা কিছু ইষ্টপ্রাণ গুরুভাইবোনের মুখে। কিন্তু কুৎসাকারিদের ক্ষমাহীন অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরামিষ প্রতিবাদটুকুর বিন্দুমাত্র প্রতিফলনও দেখা যায় না প্রেমী সৎসঙ্গীদের মন্তব্যে, কথাবার্তায়, আচরণে। পরিবর্তে ঠাকুরের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ স্বরূপ একটা উদারতার ভঙ্গি নিয়ে তারা ঠাকুরের বিভিন্ন বাণী, ছড়া, কথোপকথনে বলা বিভিন্ন বাণীগুলিকে তাদের স্বপক্ষে তন্ন তন্ন ক'রে হাতিয়ার ক'রে ফেসবুকে তুলে ধরে কুৎসাকারীদের সংশোধনের জন্য এবং যদি কেউ কুৎসাকারীদের বিরুদ্ধে মিষ্টভাষ্যে স্পষ্টকথায় তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করে তখন তার বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়ে যায়। ফলে তখন নিজেদের মধ্যেই একটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং বিতর্কের সূচনা হয়।

এই কথার উত্তরে শুধু বলি রত্নাকর দস্যু আগে সারেন্ডার করেছিল প্রভু রামের চরণে। তাই তাঁর মুক্তি হয়েছিল শুধু নয় বিরাট পরিবর্তন হয়েছিল তাঁর জীবনের। তিনি বাল্মীকিতে পরিণত হয়েছিলেন। রত্নাকর দস্যুর সাধনার জোর ও জৈবী সংস্থিতিই রত্নাকরকে বাল্মিকিতে পরিণত করেছিল। ঠিক তেমনি একই পরিবর্তন আমরা দেখেছিলাম দস্যু সল, জগাই মাধাই, মেরী ম্যাগডালিন ইত্যাদিদের মধ্যে।

তাই আজ যারা গালাগালি করছে ঠাকুরকে, ঠাকুরকে আয়ের উপলরণ বানিয়ে নিয়ে রোজগার করছে বিভিন্ন উপায়ে, ঠাকুরকে সামনে রেখে আত্মপ্রতিষ্ঠায় মগ্ন তারা পাপ ও অপরাধবোধে ক্ষতবিক্ষত হ'য়ে যতক্ষণ না ঠাকুরের চরণে আসছে, অনুতাপ করছে, প্রায়শ্চিত্ত করছে কৃত কর্মের এবং তাঁর চরণে সারেন্ডার না করছে ততক্ষণ হাজার ভালো কথাতেও, কারও কোনও আশীর্বাদেও এদের মুক্তি নেই।
(লেখা ২৬শে সেপ্টেম্বর'২০২৩)

একান্নবর্তী পরিবারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!!!!!!!



এমনি যদি আমার আপনার সব পরিবারে হ'তো? পরিবারে সকলের সঙ্গে সকলের মধ্যে এরকম আলোময়, রূপময়, মধুময় সম্পর্ক ও সম্পর্কে ভরা সমাজের সব পরিবার যদি হ'তো? এরকম হওয়া কি খুবই অসম্ভব? কেন হয় না?
আজকের হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, নীচতা, কুটিলতা, কলহ ইত্যাদিতে ভরা অবক্ষয়ের যুগে, যৌথ পরিবারের ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হ'য়ে যাওয়ার সময়ে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের পরিবারে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এমন অপূর্ব দৃষ্টান্ত আমরা সৎসঙ্গীরা কি আমাদের পরিবারে টিকিয়ে রাখতে পেরেছি? আমরা কি পেরেছি সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনেরা নিজেদের ভাইবোনের মধ্যে পবিত্র সম্পর্ককে রক্ষা করতে? আমরা সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনেরা জ্যাঠতুতো খুড়তুতো ইত্যাদি তুতো ভাইবোনের সম্পর্ক দূরের কথা নিজের মায়ের পেটের ভাইবোন একে অপরকে পেরেছি এমন ভালোবাসতে, ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নিতে? পেরেছি আমরা সৎসঙ্গী পরিবারের ইষ্টপ্রাণ সদস্যরা?
শ্রীশ্রীঠাকুরের বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি সৎসঙ্গী আজ গুরুভাইবোন ব'লে পরিচিত, শিষ্য শিষ্যা ব'লে পরিচিত নয়। কিন্তু সৎসঙ্গী গুরুভাইবোনেরা সবাই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। মন্দিরে মন্দিরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সৎসঙ্গে সবাই যে যার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সবাই একজায়গায় কিন্তু একটা নীরব উপস্থিতি, যেন কেউ কাউকে চেনে না, সবাই সবার পর, কেউ কারও আপন নয়। প্রায় সবার মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন অহংকার বোধ। সৎসঙ্গী দাদারা সাদা পোশাক আর কালো সাইড ব্যাগে ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিক ওদিক উৎসব প্রাঙ্গণে। সৎ হয়তো অনেকের ভালো লাগবে না কথাটা। কিন্তু এ নির্ম্মম অপ্রিয় সত্য কথা।
আজ সময় এসেছে সৎসঙ্গীদের বিবেকের আয়নায় নিজের মুখ নিজে দেখার।
পরিবারের জ্যাঠতুতো খুড়তুতো সব ভাইদের বুকে নিয়ে ( ছবিতে 
পূজ্যপাদ শ্রদ্ধেয় শুভদাদার বড় ও ছোটো ছেলে) শ্রীশ্রীঅবিনদাদার একসাথে চলার অভূতপূর্ব নমুনা! আগামী আচার্যদেবের নিখুঁত উৎকৃষ্ট ঝলক!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!   












কবিতাঃ মন প্রভুর ছোঁয়ায়

মন কেন তুমি অকারণ করো এমন আচরণ!?
দু'দিনের জীবন থেকে দাও দূরে সরিয়ে প্রিয়জন আপনজন!?
যাবো তো চলে এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ ক'রে
চিরদিনের তরে আজ না হয় কাল
আসবে না তো আর চলে গেলে মায়াময় আলোময় সকাল।

তবুও জীবন খুঁজে নিতে তুমি চাও না কেন মন?
কেন মরণের গীত শয়নে-স্বপনে-জাগরণে গাও অনুক্ষণ?
চলনে বলনে জপ খালি মরণের মালা এবেলা ওবেলা;
জীবন হাঁপিয়ে মরে সেথায় সকাল-বিকেল-রাত্রি সববেলা।

আজ কিন্তু মন মনে হবে আপন থেকে ভালো পর
দিনশেষে অবশেষে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে কায়ক্লেশে
যাবার সময় হবে মনে ঘরের চেয়ে নেই কেউ আপন
সাড়া জাগে প্রাণে কে যেন বলে, ফিরে চল মন নিজ ঘর।

মনটা তো নয় ডাস্টবিন যে ময়লার গন্ধে করবে গা ঘিনঘিন
ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে আজ দুর্বিষহ মিলেমিশে থাকার দিন।
জীবন হারায় সেথায় ডুবে মনের আবর্জনায় সুখ শান্তি
পরিণামে রোগ শোক জ্বালা যন্ত্রণা দুঃখ কষ্ট ঘিরেছে জীবন
শিশু থেকে বৃদ্ধ ঘরে ঘরে সবাইকে ঘিরেছে ক্লান্তি।

তাই বলি মন,
এসো নিজ নিকেতন, করো সযতন আপনারে
ঘুচে যাক মনের আঁধার, ভেঙে যাক ইগোর পাহাড়
নিজ নিকেতনে তোমার তরে আছে প্রভু একেলা বসে।

মন, সেথায় দয়াল প্রভুর ছোঁয়ায়
রামধনুর সাত রঙা রঙে জীবন রাঙায়
আয় ছুটে আয় আয়রে সবাই আমার সাথে যাবি
সেথায় জীবন খুঁজে পাবি।।

প্রকাশ বিশ্বাস
উত্তরপাড়া, হুগলী।

Monday, October 2, 2023

Article: IS IT POSSIBLE?

It's like cutting the roots and watering them in advance. 
অর্থাৎ গোড়া কেটে আগায় জল দেওয়া ব্যাপার।

I
S IT POSSIBLE FOR ANYONE TO THINK FOR A WHILE ABOUT THE STRESSES AND WORRIES OF LIFE AND TREAT LIKE THAT NOTHING HAS HAPPENED? IT IS EASY TO HOLD THE GLASS FOR A WHILE TO AVOID ITS WEIGHT AND PUT DOWN THE GLASS FROM HAND ON THE TABLE. BUT IT IS NOT SO EASY TO KEEP AWAY FROM STRESSES AND WORRIES WHICH IS BEING GENERATED AS A COLLECTED CLOUDS DUE TO THE WRONG STEPPING THROUGH THINKING, DOING, HAVING AND BEING BY HOLDING ALL RUBBISH IN LIFE ALSO CAN BE THOUGHT FOR A WHILE AND SEPARATED EASILY FROM MIND. SO WHAT IS THE WAY TO KEEP AWAY ONESELF FROM STRESSES AND WORRIES?
SURRENDER YOURSELF TO THE CRIMSON FEET OF THE SUPREME FATHER. SUPREME FATHER COMES AGAIN AND AGAIN WITHIN US IN THE FORM OF HUMAN BEING ACCORDING TO HIS PREVIOUS SAYINGS. FIRST BE INITIATED OF HIM AND FOLLOW HIS INSTRUCTION, ACCEPT HIS SAYINGS BLINDLY WHATEVER HE SAYS. KEEP YOUR HEART OPEN TO CARRY OUT HIS ORDERS. HAVE FIRM FAITH WITHIN. WHATEVER HE SAYS MUST BE DONE AND THAT TOO WITHOUT OBJECTION OR EXCUSE-----RATHER, WITH THE GREATEST PLEASURE. BE REGARDFUL TO ALL THE PAST PROPHETS AND BE ATTACHED TO THE DIVINE MAN OF THE PRESENT. MAKE YOURSELF FREE FROM THE DARKNESS OF IGNORANCE OR LACK OF KNOWLEDGE AND ENJOY THE ENDLESS TRUE ENJOYMENT OF LOVE-LIFE. BE METICULOUSLY SANCTIFIED BY TAKING A BATH TO THE FOUNTAIN FLOW OF LIGHT OF KNOWLEDGE OF LIVING SUPREME FATHER. HE, THE GREAT MAN OF UNCLEAVABLE COLOUR, HIMSELF TAKE BIRTH FROM BEYOND THE DARKNESS AS THE SYMBOL OF WELL-BEING WITHIN HIS CREATIONS IN THE FORM OF HUMAN BEING TO FREE HIS ALL OFFSPRINGS FROM EARTHLY BONDAGE i.e. DISORDERLY NATURE, PROPENSITY, VARIOUS COMPLEXES AND FROM THE SIX INHERENT VICES OR CARDINAL PASSIONS OF MAN, NAMELY SEX-PASSION, ANGER, GREED, INFATUATION, VANITY AND ENVY. SO, WE THE SPRING OF MIGHT, SON OF FATHER THE SUPREME SHOULD COME BACK TO THE FOUNTAIN HEAD i.e. SOURCE THROUGH THE HOLY INITIATION OF HIM. THIS IS THE ONLY WAY TO KEEP AWAY ONESELF FROM WORRIES AND STRESSES IN LIFE, OTHERWISE ALL ARE OVERMUCH TALKING OR INTOLERABLE PRATTLING.---Probi.
( Written 0n 29th September'2013)