Powered By Blogger

Friday, August 4, 2023

প্রবন্ধঃ ফেসবুক ও আমি।

ফেসবুক কত জনপ্রিয় কত সস্তা বলিষ্ঠ মাধ্যম
এখানে সব কিছুরই চলে বিকিকিনি উত্তম মধ্যম।
এখানে চলে উলঙ্গ হওয়ার প্রতিযোগিতা মাধ্যম রীল
উদোম আহ্বান নারী শরীরের ভরা রসালো কথা নীল।
নারীবাদীদের কথা এখানে প্রাণে প্রাণে তোলে প্রখর ঝড়
উদ্ধত পুরুষালী ঢঙে মুখর অশ্লীল ভাষ্যে কেউ কেউ আনপড়।
কুৎসার ফোয়ারা ছুটিয়ে ধর্মবিরোধী ধর্মের বুকে মারে ছুড়ি
জীবন্ত ঈশ্বর পুরুষোত্তমের আসনে বসে শোনায় ধর্মকথা
বৃত্তির বৃত্তে ব'সে রিপুরসে জারিত অতি ধার্মিক আনাড়ি।
রাবণের খাওয়া খায় আর ভিডিও ক'রে পাঠায় মায়ে-ছেলে
বাপে-মেয়ে খায় নারী-পুরুষ সবাই ফেসবুকে-ইউ টিউবে
নাকি রোজগারের আজব অভিনব মরণ ধান্দা খুঁজে পেলে!
কত জনে কত বিষয়ে কত কথা লেখে কবিতা-গল্প হাজার
রাতারাতি কবি হওয়ার আজব কবিতা প্রতিযোগিতার জোয়ার!
কবিতা লেখা নয়কো কঠিন। নয়কো মোটেই মেধার দরকার
লাফ দিয়ে ঝপাং বিচিত্র শব্দে গড়ে নাও কবিতার আধার।
নিজেরা নিজেরা গড়ে নাও যত খুশী সাহিত্য পরিষদ আর
সেরা কবিতার দাও পুরস্কার তুলে রাতারাতি নোতুন কবির কোলে
ছড়িয়ে প্রশংসার বাহার। প্রশ্ন করলে বলবে কলার তুলে
কে তুমি হে হরিদাস পাল বিচার করার?
(লেখা ৮ই জুন'২০২৩)

প্রবন্ধঃ ঢাকার রাজপথে হিন্দুদের হরি সঙ্কীর্তন।

বাংলাদেশে ঢাকার রাজপথে নানা দেবদেবী ও গুরুর ছবি নিয়ে হিন্দুদের নগর হরি সংকীর্তন দেখে আপ্লুত হিন্দুরা। হিন্দুদের আজ এটা দ্বিধাহীন চিত্তে মেনে নিতে হবে যে হিন্দুদের সংহতি নেই; হিন্দুরা বিক্ষিপ্ত। এক তো এক ও অদ্বিতীয় রসুলে আত্মনিবেদিত প্রাণ মুসলমান (খাঁটি-অখাঁটি পরের কথা) অধ্যুষিত দেশ বাংলাদেশ তার উপর সংখ্যালঘু হিন্দুরা বহুনৈষ্ঠিক হিন্দু। হাজার দেবতা আর হাজার গুরু নির্ভর হিন্দুধর্মের উল্লম্ফন আজ হিন্দু ধর্মের অধঃপতনের কারণ। এইসব হুল্লোরবাজী ভক্তি দেখে লাভ নেই। অনেক অনেক জীবনভর অনেক দেখেছি।

আজ, সারা পৃথিবীতে একটাই বোধহয় হিন্দু রাষ্ট্র নেপাল। তাও অন্ধ ধর্মীয় কুসংস্কারের আচ্ছাদনে ঢাকা দেশ। ভারতে হিন্দুদের আধিপত্য হওয়া সত্ত্বেও বুক টানটান ক'রে হিন্দুরা বলতে পারে না আমি হিন্দু। বললেও উগ্রতার দূর্গন্ধ ছড়ায় সেই হুঙ্কারে। আর, ধর্ম্মটর্ম্ম মানেটানে না, ভারতীয় মনীষী, ভারতীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতির ধার ধারে না উদারতার ভঙ্গিতে সব সমান একাকার ক'রে দেওয়া সবজান্তা বিদেশী মনীষী, বিদেশী কালচারে আকৃষ্ট কিছু অতি বুদ্ধিজীবী হিন্দু (বিশেষতঃ বাঙ্গালী হিন্দু) যারা হিন্দুটিন্দু মানে না কিন্তু মুসলমান, খৃষ্টান ইত্যাদিদের ধর্মাচরণ মানে এমন হিন্দুর কু-হুঙ্কারে তটস্থ হিন্দুরা।
আবার একশ্রেণীর স্বঘোষিত সনাতনী হিন্দুরা নিজেদের সমগ্র হিন্দুদের বাপঠাকুর্দা মনে করে আর গালাগালি করে হিন্দুদের। তাদের সফট্ টার্গেট সৎসঙ্গীরা। শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রকে ও সৎসঙ্গীদের তারা গালাগালি করে। তারা ভাবে সৎসঙ্গীরা দুর্বল। কিন্তু তারা জানে না সারাবিশ্বে প্রায় ১০কোটির লক্ষ্যে ছুটে চলা সৎসঙ্গীরা ধর্মজগতে বিশ্বে একটা জীবন্ত ইষ্টে নিবেদিত সুশৃঙ্খল সভ্য ভয়ংকর শক্তি। ইচ্ছা করলেই তারা অনেক কিছু করতে পারে না। না, তারা তা করে না। কারণ সৎসঙ্গীরা জীবন্ত ইষ্ট শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রে নিবেদিত প্রাণ আচার্য আদেশে চলা সমাজ গড়ার দক্ষ যোগ্য সুশৃঙ্খল কারিগর। হিন্দু-মুসলমান-খৃষ্টান-বৌদ্ধ-শিখ ইত্যাদি ইত্যাদি মূল ও শাখা-প্রশাখা সমন্বিত সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ আজ সৎসঙ্গের পতাকার তলায় সম্মিলিত এক সৎসঙ্গী সম্প্রদায়। তাই, বহুনৈষ্ঠিক হিন্দুদের ঢাকার রাজপথের হরিসঙ্কীর্তন কোনও বার্তা পৌঁছে দেয় না কোনও সম্প্রদায়ের কাছে; তা সে হিন্দু সম্প্রদায় হ'ক আর যে সম্প্রদায়ই হ'ক।

শ্রীশ্রীঠাকুরের পরিস্কার বলা আছে, "একটু কাঁদলেই বা নৃত্যগীতাদিতে উত্তেজিত হ'য়ে লম্ফ-ঝম্পাদি ক'রলেই যে ভক্তি হ'ল তা নয়কো। সাময়িক ভাবোন্মাত্তাদি ভক্তের লক্ষ্মণ নয়কো।" যেদিন সব হিন্দু এক ও অদ্বিতীয় জীবন্ত আদর্শের তলায় এক হ'তে পারবে, মেনে নিতে পারবে সত্যকে, তাঁর আবির্ভাবকে, মেনে নিতে পারবে ভন্ডামি ছেড়ে ব্যক্তিগত নীচ স্বার্থকে দূরে ঠেলে দিয়ে তাঁর ব'লে যাওয়া প্রত্যেকবারের 'আমি আবার আসবো' এই পরিস্কার স্পষ্ট বার্তাকে সেদিন হিন্দুধর্মের পুনঃজাগরণ সম্ভব হবে। আর, সেদিন নিরাকার ঈশ্বরের সাকার রূপে রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণ ও সর্ব্বশেষ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র রূপে বারবার আসার যে উদ্দেশ্য তা পূরণ হবে। নতুবা বালখিল্য সমস্ত ভন্ডামি-ধান্দাবাজি ও আবেগ তাড়িত অজ্ঞান ভক্তির গুড়ে বালি। মহাভারতের মতো ধ্বংস অনিবার্য।

হে হিন্দু, সেদিনের ইঙ্গিত আমরা প্রতিদিনই দিনের আলোর মত স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু চোখ বন্ধ ক'রে ভাবছি ক'ই আমি তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। খরগোসের মতো ঝোপের মধ্যে মুখটা ঢুকিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখছি আর খরগোশের পোঁদটা যে ঝোপের বাইরে বেরিয়ে আছে আর তা দেখতে পাচ্ছে খরগোশকে তাড়া করা শেয়াল আর এক্ষুনি যে খপ ক'রে এসে এক ভয়ংকর নিষ্ঠুর হিংস্র কামড়ে খাবলে নেবে পোঁদের মাংস তা বুঝতে পাচ্ছে না খরগোশরূপী হিন্দুরা ! সে ভাবছে সে নিরাপদেই আছে। আমাদের হিন্দুদের তথা জগতবাসীদের আজ খরগোশের দশা।

জানি না সত্যিই কোনওদিন এর থেকে মুক্তি হবে নাকি অপেক্ষা করছে মানবতার বুনিয়াদ ধ্বংস হ'য়ে নিশ্চিত বীভৎস মৃত্যুর ধ্বংসলীলা।
(লেখা ৬ই জুন'২০২৩)
প্রবি।

কবিতাঃ ব্যভিচারী ভক্তি।

ব্যভিচারী ভক্তিতে তুই ভেবেছিস হবি ভবসাগর পার?
এমনি বেকুব তুই এখনো আছিস ডুবে সেথায়
যেথা আছে তোর চারপাশে ভক্তির নামে ঘোর আঁধার!
প্রেমের কথা বলিস মুখে, বলিস গান গেয়ে
যজন-যাজন-ইষ্টভৃতি-স্বস্ত্যয়নী-সদাচার
এই পাঁচ আছে তরী করতে ভবসাগর পারাপার।
কিন্তু তোমার আচরণে নেই এই পাঁচের তিলমাত্র
অহোরাত্র জীবন মাঝে নেই তার বিন্দুসম ব্যবহার।
ব্যভিচারী ভক্তিতে তুই ঠকাবি জন জাতি সমাজ?
ভেবেছিস করবি জয়, হবি বিজয় সৎসঙ্গ জগতে আজ?
কাঞ্চনের ঝঙ্কারে কাঁপিয়ে তোর তনুমন সারাক্ষণ
দয়াল কি তোর ভুলে যাবে ব্যভিচার এমনি তাঁর ভুলো মন?
সে গুড়ে বালি, মরবি হতাশায় অবসাদে খালি
ব্যর্থতার অলিতে গলিতে ঘুরে ধুকে ধুকে মরে
সফলতার ব্যর্থ মালা গেঁথে চলেছো দ্বারে দ্বারে
হাতি পাদবে, হাতি পাদবে শুনে সময় ঘন্টা গিয়েছো গুণে
দিনশেষে অবশেষে অশ্বডিম্ব প্রসব করেছো তুমি মালি।
ব্যভিচারী ভক্তির হিসেব সময়ে তুই পাবি
শিশুপালের অপরাধের হিসেব একবার স্মরণ ক'রে নিবি।
তাই বলি, হে বন্ধু! হও সাবধান! ফিরে চলো নিজ নিকেতন
আর যদি চাও বাঁচতে মুখ ফেরাও আলোর দিকে এখনি।
(লেখা ৬ই জুনে'২০২৩)

প্রবন্ধ; প্রধানমন্ত্রীর সাজেশান স্কীম।

ভোটে জিতে আসার পর সরকার গঠনের দু'মাস শেষে একটা চমক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

চমকই বটে। কিন্তু বিরোধী নিন্দুকের কাছে, ঈর্ষাকারীদের কাছে তা সস্তা চমক।


চমকটা কি?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী mygov.nic.in website-এর মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দেশের সম্যক বিকাশের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে suggestion-এর আহবান জানিয়েছেন। তাঁর এই নজিরবিহীন অভূতপূর্ব উদ্যোগকে নতমস্তকে সেলাম জানাই। মাত্র দুমাস সরকার পরিচালনার মধ্যেই এই অভিনব উদ্যোগ প্রমাণ ক'রে তাঁর সরকার পরিচালনায় সদিচ্ছার কথা। কি করলে দেশের সর্ব্বাঙ্গীণ ভালো হবে, দেশের উন্নতি হবে সেই বিষয়ে তিনি দেশের আম জনতার কাছে সুপরামর্শ চেয়েছেন। তাঁর আহবানে যথারীতি সাড়া পড়তে শুরু করেছে দ্রুতবেগে। তাঁর 'সুরাজ্য' গঠনের এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যার suggestion approve হবে তাকে ৫০০০০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথাও তিনি ঘোষনা করেছেন।
এখন দেখার এই প্রোগ্রাম কতটা সফল হয়। তাঁর জন্য সময়ের অপেক্ষা করতে হবে। সময় তার সঠিক জবাব দেবে।
কিন্তু, 'সময় সবসে বড়া বলবান' এই কথাটা সম্ভবত ভুলে যান নিন্দুকেরা, ছিদ্রান্বেষীরা। কিম্বা তাদের ঈর্ষা এতটাই প্রবল যে তাদের গায়ের চামড়া হ'য়ে যায় গন্ডারের চামড়ার মত শক্ত ও অভেদ্য।
একটা মানুষ সফল হ'তে নাই পারেন। তার সফল হ'তে না পারার পিছনে নানা পারিপার্শ্বিক, আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণ থাকে।
কিন্তু তার উদ্যোগকে ছোট ক'রে দেখা, খাটো ক'রে দেখা, তার উদ্যোগের যুক্তিহীন সমালোচনা, নিন্দা, কটুক্তি তার উদ্যোগকে সাময়িক সফল হওয়ার পথে বাধা দান ক'রে ঠিকই কিন্তু শেষ রক্ষা হয়না এবং উদ্যোগপতির তাতে সম্মানহানী ঘটে না। কিন্তু যেটা হয় সেটা ঐ প্রবাদের মত হয়,
"হাতী চলে বাজারমে, কুত্তা ভোঁকে হাজার।
সাধুয়ো কো দুর্ভাবন নেহী, যব ঘিরে সংসার"।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ প্রচার হতেই কংগ্রেস নেতা কমলনাথ নরেন্দ মোদীর প্রতি তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিতে বিন্দুমাত্র দেরী করলেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে হেয় ক'রে তাকে সস্তা চমক ও নাটকবাজী আখ্যা দিলেন। এই ঈর্ষা আজ একটা ব্যাধি হ'য়ে সমাজ জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছেয়ে গেছে।
এই ঈর্ষা প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল The greatest phenomenon of the world Sri Sri Thakur Anukulchandre-এর কথা।
বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পন্ডিত বিনোদানন্দতঝা-কে ঠাকুরের মন্ত্রশিষ্য আমেরিকান ভক্ত হাউজারম্যানদা বললেনঃ
"আপনি বিহারের Chief Minister থাকলে সুবিধা হ'ত সবার। সকলেরই ভালো হ'ত। সবাই চায় আপনাকে।
বিনোদাবাবু বললেনঃ না, তা না। ঈর্ষা করে মানুষ।
এই কথার উত্তরে শ্রী শ্রী ঠাকুর বললেনঃ ঈর্ষা করাটা একটা ব্যাধি। ঐ সব ব্যাধি। ঐসব গুলির দিকে দেখতে নেই।
বিনোদাবাবুঃ বেরিয়ে এসেছি(মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে)। দরকার হ'লে যাব।
ঠাকুরঃ দরকার হয়েই আছে। যাবেনই। রক্তের একটা মহিমা আছে তো! তা যেমন করে আর কিছুতে তেমন করে না। বংশমর্যাদার একটা ঐতিহ্য আছে তো! আপনারা যদি front-এ না যান তবে দেশ গঠন করবে কারা? আপনারা হলেন পুরোধা। আপনাদের সবার দরকার আছেই।
( লেখা ৪ই আগিষ্ট'২০১৪)




All reacto

খোলা চিঠিঃ আহশানদাকে (Ahsan Ullah Abm)

আপনার স্ট্যাটাস "দীর্ঘ সত্তর বছর গণতন্ত্র চর্চার পর ভারত আজ সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের পথে পা বাড়িয়েছে।এর শেষ কোথায়?" পড়লাম।

আর তাই আপনাকে এই খোলা চিঠি লিখলাম।

দাদা, বটগাছের ঝুরি থেকে যে বটগাছের জন্ম সেই গাছ বটগাছ হ'লেও বীজ থেকে জন্ম হওয়া গাছের সঙ্গে তার সামান্য হ'লেও তফাৎ থেকে যায়। যদিও কোনটা মূল গাছ তা চেনা যায় না। ভারত ভাগ হ'য়ে পাকিস্থান, বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে; ভবিষ্যতে আরও কত হবে তা ভবিষ্যতই জানে। তবুও সেই ইসলামিক দেশে যতই সাম্প্রদায়িকতা মাথা চারা দিয়ে উঠুক না কেন সামান্য হ'লেও মাঝে মাঝে দেখি সেই পাকিস্থানেও ধর্ম নিরপেক্ষতার দাবীর পক্ষে কথা হয়, সংসদে সংখ্যালঘুদের পক্ষে সওয়াল জবাব ওঠে, এই একই জিনিস দেখতে পাই বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে আজ হিন্দুদের অবস্থান কোথায় আর স্বাধীনতার পূর্বে ছিল কোথায় তা একটু ভাবলেই সহজেই ধরা যায়। এই যে ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে কমজোরি হ'লেও দুই দেশেই যে সওয়াল জবাব ওঠে তার কারণ ঐ একটাই; সেই কারণ হ'লো দুটো দেশের জন্মই ভারত মায়ের গর্ভ থেকে। নাড়ির টান কি সহজে ভোলা যায় নাকি কেউ ছিঁড়তে পেরেছে? পাকিস্থান ও বাংলাদেশকে যদি এখনও সাম্প্রদায়িকতার ভূত পুরোপুরি গ্রাস করতে না পেরে থাকে তাহ'লে যে দেশের পেট থেকে এই দুই দেশের জন্ম হয়েছে সেই দেশ ভারতে সাম্প্রদায়িকতা মাথা চাড়া দেবে, সেই দেশে গনতন্ত্র হত্যা হবে, সেই দেশে শয়তান কিলবিশ সন্ত্রাসের রুপ ধ'রে আত্মপ্রকাশ করবে এটা কি ক'রে ভাবলেন!? হয়তো শয়তান মাঝে মাঝে তার রুপ মেলে ধরতে চায় ও চাইবে কিন্তু ভারতের মাটি তো বহু অত্যাচারের জ্বলন্ত সাক্ষী আহশানদা তাতো আপনিও জানেন তাই কোনও চিন্তা নেই, এই মাটি কোনওদিনই সেই বিষবৃক্ষকে এখানে এই ভারতের মাটিতে বড় হওয়া তো দূরের কথা জন্মাতেই দেবে না, অংকুরে বিনষ্ট হ'য়ে যাবে ও যাচ্ছে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন এবং কাগজে কলমে প্রমাণ ক'রে নিন এই ভারতের বুকে ধর্মনিরপেক্ষতার প্ল্যাটফরম কতটা মজবুত। ভারতের ইতিহাস কি বলে? ভারতের ইতিহাস কোনদিনও বদলায়নি ও বদলাবে না আর কেউ বদলাতে পারবে না। মাঝে মাঝে হয়তো ভারতের আকাশে কালো মেঘের দেখা দেয় কিন্তু মাভৈ! কোনও চিন্তা নেই; ভারতের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উপর দাঁড়িয়ে আছে ভারত। ভারতের এই 'বিভিদের মাঝে মিলন মহান' কৃষ্টি ও সংস্কৃতিই ভারতের স্তম্ভ, ভারতের ভিত। এই ভিত যেদিন নড়ে যাবে ভূমিকম্পের ফলে মাটির গভীরে সমস্ত কিছু গ্রাস করার মত সেদিন ভারত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হ'য়ে আরও অনেক অনেক পাকিস্থান আর বাংলাদেশের মত দেশের জন্ম হ'য়ে তলিয়ে যাবে কালের কবলে। সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প তখনই বেশী মাথা চাড়া দেয় যখন অকৃতজ্ঞতা আর বেইমানী মানুষের রক্তের সম্পদ হ'য়ে দাঁড়ায়।

আপনার উপরের ঐ স্ট্যাটাসে Shariful Islam তির্যক ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিলেন , যে মন্তব্য শিবশংকর ধরতে পারেননি বরং ঐ মন্তব্যকে লাইক দিয়েছেন আবার আপনার মন্তব্যের বিরোধীতাও করেছেন। সেই Shariful Islam-এর বাঁকা মন্তব্য সম্পর্কে বলতে পারি, ভারত কখনও বলেনি ভারত স্বাধীনতা এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে; কিছু মানুষ হয়তো বলতে পারে, কিছু মানুষ উপরসা ভাসা ভাসা সব দেখে কিছু মন্তব্য করলেই সেটা ভারতের মন্তব্য হয়না, হয়না ভারতের অন্তরাত্মার কথা। বরং বলা যেতে সেদিন ঠিক সেই সময়ে ভারতের অন্তরাত্মা যদি কেঁদে না উঠতো, ঠিক যখন দাঁড়াবার দরকার ঠিক সেই সঠিক সময়ে পাশে না দাঁড়াত, প্রতিবেশী দেশ ভেবে 'আমার গাঁয়ে আঁচ না লাগে ফুরিয়ে যাবে মামলা' ভেবে চোখ উলটে থাকতো তাহ'লে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের হয়তো শেষ রক্ষা হ'তো না, অকাল মৃত্যু হয়তো হ'য়ে যেত। তাই ব'লে কখনই কোনও সচেতন মানুষ, শিক্ষিত, সভ্য, ভদ্র, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভারতবাসী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অবহেলা, অপমান, অবজ্ঞা ও অস্বীকার করে না। মুক্তিযোদ্ধারা ভিতর থেকে লড়াই না চালালে কোনওদিনই দেশ স্বাধীন হ'তো না। শুধু বাইরের সাহায্যে কোনও দেশ স্বাধীন হয় না, হ'তে পারে না। আবার ভারতকেও স্বাধীন হওয়ার জন্য বাইরের সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছিল; শুধু ভিতরের লড়াই ভারতে স্বাধীনতা এনে দেয়নি, ব্রিটীশরা এমনি এমনি ২০০বছরের শাসন করা দেশটাকে ছেড়ে যায়নি। যেকোনও লড়াইয়ে, আন্দোলনে ঘরেবাইরে উভয় দিকের সাহায্য ও সহযোগীতার দরকার হয় জয়, সফলতা হাসিল করার জন্যে। ভারতেরও দরকার হয়েছিল সেই বাইরের সাহায্যের; সে সাহায্য যতটুকু সময়ের জন্য বা অসম্পূর্ণ সাহায্য হ'য়ে থাক সেই সাহায্যই ভারতের তৎকালীন পরিস্থিতি ও ইতিহাস বদলে দিয়েছিল যার ফলস্বরুপ ব্রিটিশরা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত ছেড়ে চলে যাবার; হয়তো যাবার সময় মজবুত কলকাঠি নেড়ে গিয়েছিল কিন্তু যেতে বাধ্য হয়েছিল। আর, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের গতি প্রকৃতি যেদিকে ঘুরে গিয়েছিল অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া থেকে শুরু ক'রে ঐ বছরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের আগে সেই সময় যুদ্ধ যেদিকে ঘুরে গিয়েছিল সেই পরিস্থিতি, অবস্থা বিবেচনা ক'রে বা সামনে রেখে হয়তো ভারত পাক যুদ্ধ ব'লে বর্ণনা করা হ'য়ে থাকে। যেহেতু সেদিন ভারত সরাসরি খুল্লমখুল্লা যুদ্ধে জড়িয়ে গিয়েছিল, জড়িয়ে গিয়েছিল শুধু সেই নাড়ির টানে, গর্ভ যন্ত্রণার কারণে, অন্তরাত্মার আকুল ক্রন্দনে, তাই সেই যুদ্ধকে যদি শুধু ভারত পাক যুদ্ধ ব'লে কেউ ব'লে থাকে, বর্ণনা ক'রে থাকে সেটাও যেমন একেবারে মিথ্যা বা ভুল নয় ঠিক তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধকে যদি কেউ ভারত পাক যুদ্ধের তকমার আড়ালে অস্বীকার ক'রে থাকে তাহ'লে তা' ক'রে থাকে যারা তারা মনুষ্য পদবাচ্য নয়, নয় স্বাভাবিক ও প্রকৃতিস্থ। আর বাঙ্গালির আত্মমর্যাদা বোধ কতটা প্রচন্ড, কতটা সবল ও মজবুত সেটা সারা বিশ্ব জানে।

তাই, আহশানদা, ভারতের মাটি এত কাঁচা নয় যে দু'দিনের যোগী এসে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন ক'রে দিয়ে, গণতন্ত্রকে হত্যা ক'রে, সন্ত্রাসের বিষ ছড়িয়ে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতাকে লন্ডভন্ড ক'রে দেবে, লন্ডভন্ড ক'রে দিয়ে লুটেপুটে খাবে আপনার আমার ভারতবর্ষকে। এটা ,মনে রাখবেন ভারত যেমন বিপদের দিনে, প্রয়োজনের দিনে পাকিস্থান, বাংলাদেশের হবে তেমন কোনও দেশ কোনদিনও পাকিস্তান আর বাংলাদেশের হবে না কারণ কোনদিনও অন্য কোনও দেশের পাকিস্থান আর বাংলাদেশের জন্মের গর্ভযন্ত্রণা ও নাড়ির টান ছিল না। (লেখা ৪ই আগষ্ট'২০১৮)

Thursday, August 3, 2023

প্রবন্ধঃ শ্রীশ্রীবড়দা কে!? কে তুমি বড়দা!?

সৎসঙ্গীভাইবোন,
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র হ'লেন বর্তমান বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময়! আর আমরা সৎসঙ্গীরা সেই বিস্ময়ের বিস্ময় সর্বশ্রেষ্ঠ বিস্ময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের মন্ত্রশিষ্য! আজ সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি শিষ্য সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে শ্রীশ্রীঠাকুর প্রতিষ্ঠিত দেওঘর 'সৎসঙ্গ' প্রতিষ্ঠান! সেই যে ১৯৩৮ সালে শ্রীশ্রীঠাকুরের ইচ্ছায় ঋত্বিক সংঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হ'য়েছিল ঋত্বিক, প্রতিঋত্বিক, সহপ্রতিঋত্বিক তৈরি ক'রে দীক্ষা দানের অভিযান আজ এই প্রবন্ধ লেখা পর্যন্ত ৮২ বছর শেষ হ'তে চললো দীক্ষাদানের কার্যক্রম শ্রীশ্রীঠাকুর পরবর্তী শ্রীশ্রীবড়দা ও তাঁর পরবর্তী যোগ্য ও দক্ষ চালক ঈশ্বরকোটি পুরুষ শ্রীশ্রীঅশোকদাদার নেতৃত্বে দ্রুতবেগে ছুটে চলেছে ঠাকুরের ব'লে যাওয়া অন্ততঃ ১০কোটি লক্ষ্য পূরণের জন্য। ছুটে চলেছে স্লো বাট স্টেডি মন্ত্রে! ছুটে চলেছে নীরবে, নিঃশব্দে! ছুটে চলেছে পাহাড়ের মত বি-শা-ল বিস্তৃতি নিয়ে স্তম্ভের মত নিজের শক্তিতে অটল হ'য়ে!!!!!

এইযে ছুটে চলা এই ছুটে চলা কিন্তু এত সহজে অনায়াসে হয়নি-হয়না, হচ্ছে না ও হবেও না।

বর্তমানে ‘সৎসঙ্গ’-এর নূন্যধিক পাঁচ সহস্র কেন্দ্র রয়েছে; এইগুলি সৎসঙ্গ বিহার, সৎসঙ্গ অধিবেশন কেন্দ্র, সৎসঙ্গ উপাসনা কেন্দ্র, সৎসঙ্গ মন্দির, সৎসঙ্গ উপযোজনা কেন্দ্র ও ঠাকুরবাড়ি প্রভৃতি নামে বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত। ভারতবর্ষ ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, ব্রহ্মদেশ, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমিরিকাতেও ছড়িয়ে আছে কেন্দ্রগুলো। ভারতবর্ষের প্রায় সমস্ত প্রদেশে গড়ে উঠেছে ‘সৎসঙ্গ বিহার’। চার মহানগরেই ‘সৎসঙ্গ বিহার’ স্থাপিত হয়েছে। এই বি-শা-ল কর্মকান্ড যেমন সৎসঙ্গ ফিল্যান্ত্রপি, আনন্দবাজার, সৎসঙ্গ রসৈষণা মন্দির, সৎসঙ্গ ভেষজ মন্দির, সৎসঙ্গ দ্যুতদীপ্তি হাসপাতাল, সৎসঙ্গ পাবলিশিং হাউজ, অমরদ্যুতি বেদ মন্দির ( সৎসঙ্গ লাইব্রেরী), বেদ ভবন, সৎসঙ্গ তপোবন বিদ্যালয়, সৎসঙ্গ অমরদ্যুতি মহাবিদ্যালয়, সৎসঙ্গ বীণাপানি বিদ্যামন্দির, কলাবিভাগ, অতিথি ভবন, মেমোরিয়া, যতি আশ্রম, সৎসঙ্গ প্রেস, পশুপালিনী চিড়িয়াখানা, উপাসনা (মাতৃ-মন্দির গৃহ) ইত্যাদি ঠাকুরের দেহ রাখার আগেই নীরবে, নিভৃতে গড়ে উঠেছিল দেশভাগের আগেই বর্তমান বাংলাদেশের পাবনা জেলার হিমাইয়েতপুরের পবিত্র মাটিতে ঠিক তেমনি নীরবতা ও নিঃশব্দতাকে আশ্রয় ক'রে এগিয়ে গেছে, নুতন ক'রে গড়ে উঠেছে দেওঘরের বুকে এবং এগিয়ে চলেছে ঠাকুর পরবর্তী বর্তমান কর্মকান্ড ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দেওঘরে! এই যে নীরবতা ও নিস্তব্ধতা এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে অনন্ত অসীম দুঃখ, কষ্ট, জ্বালা, যন্ত্রণা, অপমান, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, নিন্দা, কুৎসা, সমালোচনা, গালাগালি!!!!! যা প্রায় দশকোটিতে পৌঁছে যাওয়া সাধারণ শিষ্যবৃন্দের অগোচরে! কি পাহাড় প্রমাণ শারীরিক-মানসিক বাধার সম্মুখীন হ'তে ও মুখ বুঁজে সহ্য করতে হয়েছিল শ্রীশ্রীঠাকুর ও শ্রীশ্রীবড়দাকে সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই সৎসঙ্গীদের! ব্যতিক্রম নিশ্চয়ই আছে, আর তা ব্যতিক্রম! আর সেই পাহাড় প্রমাণ বাধার ট্র্যাডিশন ব'য়ে চলেছে মুখ বুঁজে দৃঢ়তার সঙ্গে কঠিন-কঠোর ও কোমল মনোভাবে সমানে ঠাকুর পরবর্তী বংশ পরম্পরা সেই তীব্র অপমান-অশ্রদ্ধার ট্রাডিশনকে আশীর্বাদস্বরূপ হাসিমুখে মাথায় নিয়ে!!!!!

ঠাকুরের জীবদ্দশায় শুরু হ'য়েছিল পরিকল্পিতভাবে শ্রীশ্রীবড়দাকে অমান্য করার গোপন ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা আর তা রূপ নিয়েছিল ভয়ঙ্করভাবে একেবারে শেষের দিকে!! কিন্তু শ্রীশ্রীবড়দা তা বুঝতে দেননি সৎসঙ্গ জগৎ তথা বিশ্ববাসীকে যার ঝলক এখনও দেখতে পায় শ্রীশ্রীঠাকুরের তৃতীয় পুরুষ আচার্যদেব শ্রীশ্রীদাদার মধ্যে এবং তা ফল্গুধারা-র মত ব'য়ে চলেছে পরবর্তী বংশধর শ্রীশ্রীঠাকুরের রেতধারা পূজ্যপাদ শ্রীশ্রীবাবাইদাদা ও শ্রীশ্রীঅবিনদাদার মধ্যে!!!!!!

শ্রীশ্রীবড়দা ঠাকুরের স্বপ্ন পূরণের জন্য ঠাকুরের প্রাণের প্রতিষ্ঠান 'সৎসঙ্গ'কে যে আগে রক্ষা করার দরকার সেই গ-ভী-র বোধ থেকে 'সৎসঙ্গ'কে রক্ষা করার জন্য অনন্ত-অসীম বাধার পাহাড় ঠেলে কঠিন-কঠোর ও কোমল শরীরে-মনে ও হৃদয়ে কুকুরের মত পাহারা দিয়ে গেছেন! ঠাকুর প্রতিষ্ঠা ও ঠাকুরের স্বার্থপ্রতিষ্ঠায় বড়দা ছিলেন নিষ্ঠাবান ও আপোষহীন! কোনও অবস্থায় বড়দা দুর্বল হতেন না বা নড়ে যেতেন না। ঠাকুরের বলা "নিষ্ঠা, আনুগত্য, কৃতি-সম্বেগ, ক্লেশ-সুখ-প্রিয়তা"-র মূর্ত প্রতীক হ'য়ে উঠেছিলেন শ্রীশ্রীবড়দা! যেমন শাসনে কঠিন ও কঠোর ছিলেন ঠিক তেমনি শুধু মানবদরদী ছিলেন তা নয় সৃষ্টির প্রতিটি জিনিসের প্রতি ছিল তাঁর সমান দরদ ও ভালোবাসা! তাঁর কঠিন-কঠোর মুখাবয়ব ও শান্ত গম্ভীর গলার স্বর ছিল কপট ধান্দাবাজদের কাছে একেবারে ভয়ঙ্কর বজ্রপাতের মত!!! তাই তারা তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারতো না, পিছন থেকে চালাতো ছুরি! শ্রীশ্রীঠাকুর ও তাঁর স্বার্থপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে এতটাই শ্রীশ্রীবড়দা ফ্যানাটিক ও আনকম্প্রমাইজিং ছিলেন যে সেই সময় ধান্দাবাজ, কপট সৎসঙ্গীদের সাথে সাথে অনেকেই শ্রীশ্রীবড়দাকে ভুল বুঝেছিলেন! যার রেশ এখনও ব'য়ে চলেছে! এইটাই তাদের দুর্ভাগ্য! দুর্ভাগ্য কারণ বিষধর সাপের বিষের জ্বালা যে কি ভয়ঙ্কর হ'তে পারে তা যে সেই সাপের ছোবল খায়নি সে বুঝবে না! যে ঠাকুরের আজ ভারতের প্রায় সমস্ত প্রদেশ ও গোটা বিশ্বজুড়ে পাঁচসহস্র মন্দির, প্রায় ১০কোটিতে পৌঁছে যাওয়া শিষ্য সেই ঠাকুর যে কুলীদের সঙ্গে শিয়ালদহ প্ল্যাটফর্মে রাত কাটাতেন, দিনের পর দিন না খেয়ে শুধু কলের জল খেয়ে কাটিয়েছেন, কয়লার গোলায় ঐ কয়লার ডাস্ট-এর মাঝে দিন কাটিয়েছেন, মেসের নোংরা পরিবেশে থাকা ও খাবার পাতে কফ দেখে ঘেন্নায় প্রাণ বেরিয়ে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি আরও অনেক পরিস্থিতির মোকাবিলা ক'রে জীবন অতিবাহিত করেছেন তেমন অভিজ্ঞতা কি সাধারণ সৎসঙ্গীদের আছে না হয়েছে!? কোয়ান্টিটি আর কোয়ালিটি এক নয়! কোয়ান্টিটি কখনও কোয়ালিটির মর্মব্যথা বুঝবে না, বুঝতে পারে না! ঠিক তেমনি শ্রীশ্রীবড়দাকে আজীবন অপমানিত হ'তে হয়েছে তাঁকে মেনে নিতে না পারা কপট ভক্তমণ্ডলীর কাছে। তাই শ্রীশ্রীঠাকুর একবার দুঃখ ক'রে বলেছিলেন শ্রীশ্রীবড়দাকে, "তোর একটাই দোষ তুই আমার সন্তান!" তাই শ্রীশ্রীবড়দার জীবন ও শ্রীশ্রীবড়দা কে বোঝা ঈশ্বরকোটি মানুষ ছাড়া সম্ভব নয়! আর সম্ভব সামান্য হ'লেও হ'তে পারে যদি বোঝার অন্ততঃ চেষ্টা করে! কোথায় সেই চেষ্টা!?

কেন শ্রীশ্রীঠাকুর যতবার এসেছিলেন ততবার তাঁর সঙ্গে আসা পরম ভক্ত কৃষ্টিজাত সন্তান প্রহ্লাদ, হনুমান, উপগুপ্ত, নিত্যানন্দ, বিবেকানন্দকে এবার একইসঙ্গে নিজের ঔরসজাত ও কৃষ্টিজাত সন্তান ক'রে শ্রীশ্রীবড়দারূপে এনেছিলেন!?

এর আগে যতবার ঈশ্বর স্বয়ং মানুষের রূপে এসেছিলেন ততবারই তাঁর সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান তাঁর দেহ রাখার পরে পরেই ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে জড়িয়ে সংকটের মুখোমুখি হ'য়েছে আর দল উপদলের সৃষ্টি হ'য়ে পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া মারামারিতে শক্তি হারিয়ে মানুষরূপী ঈশ্বরের জয়যাত্রাকে করেছে ভীষণভাবে ব্যাহত। তাই শ্রীশ্রীবড়দা আবির্ভাবের তাৎপর্য তারাই বুঝতে পারে সে শত্রু-মিত্র যেই হ'ক না যারা সামনে দাঁড়িয়ে কোন কিছু গড়ার, রক্ষা করার, বাড়িয়ে তোলার নেতৃত্ব দিয়েছে জীবনকে বাজি রেখে আর যারা ডুবে ডুবে জল খায়, তাত্ত্বিক আমেজে ডুবে থাকে, সাজানো বাগানে ফুল তোলার বদভ্যাস বহন করে, না ক'রে পাওয়ার মানসিকতার অধিকারী, চুলকে ঘা করার অভ্যাস, পিছন থেকে ল্যাং মেরে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার অভ্যাস আর নেপোয় মারে দই খাওয়ার স্বভাবকে অবলম্বন ক'রে জীবন অতিবাহিত করে তারা ঈশ্বরকোটি পুরুষ শ্রীশ্রীবড়দাকে চিনবে তা অতি বড় মূর্খ মনে করে না!
একবার ঠাকুরকে 'আলোচনা প্রসঙ্গে'-এর অনুলেখক পরমভক্ত প্রফুল্ল দা জিজ্ঞেস করেছিলেন,
"Fanatic ( নিষ্ঠাবান) ও Uncompromising (আপোষহীন পথে) চলতেই হবে, কিন্তু তা'যে অনেক মানুষের সঙ্গে বিরোধ না বাধিয়ে উপায় নেই, তাদের অত্যন্ত রূঢ়ভাবে প্রতিরোধ করা দরকার, ওতে কিন্তু মনটায় কেমন লাগে।"
এর উত্তরে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, "Fanatic ও uncompromising-এর ( নিষ্ঠাবান ও আপোষহীনতার) সঙ্গে sweet (মধুর) কথাটাও যোগ ক'রে নাও। 'সত্যং ব্রুয়াৎ প্রিয়ং ব্রুয়াৎ'---অবশ্য সময়-সময় অন্যরকম প্রয়োজন হয়। কেষ্ট ঠাকুর যে এত কুরুক্ষেত্রের কান্ড করলেন, শিশুপাল বধ করলেন----সবাই কিন্তু তাঁর favour-এ (অনুকূলে) ছিল। প্রীতিপূর্ণ নিরোধে আপাততঃ যত বিরোধই বাধুক, ওতে পরিণামে পরস্পরের মধ্যে টান বেড়ে যায়।"

এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় শ্রীশ্রীঠাকুর আগাম কুরুক্ষেত্রের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং সেই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সেই পরিস্থিতিতে কেমনভাবে চলতে হবে! আর তাই তিনি এবার সঙ্গে ক'রে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর কৃষ্টিজাত সন্তান সেই একই বিভিন্নরূপে আবির্ভুত পরমভক্ত প্রহ্লাদ, হনুমান, অর্জুন, উপগুপ্ত, নিত্যানন্দ, বিবেকানন্দকে একই সঙ্গে ঔরসজাত ও কৃষ্টিজাত সন্তান ক'রে। নিয়ে এসেছিলেন এবার ঘোর কলিযুগ শেষে সত্য যুগে প্রবেশের ট্রানজিশনাল মুহূর্তে পিতাপুত্রের মধ্যে দিয়ে লীলা করবেন ব'লে, নেতৃত্ব দেবেন ব'লে! সেই ঔরসজাত ও কৃষ্টিজাত সন্তান হ'লেন তাঁর প্রথম সন্তান আদরের বড়খোকা, সৎসঙ্গ জগতের চোখের মণি সকল সৎসঙ্গীদের বড়ভাই শ্রীশ্রীবড়দা! আর সেই শ্রীশ্রীবড়দা প্রীতিপূর্ণ নিরোধের মধ্যে দিয়ে ঠাকুরের মিশন 'বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা'-র রথকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই প্রতিটি কঠিন মুহূর্ত ও অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া দিনগুলিতে এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত! আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি তার নমুনা! সৎসঙ্গ আজ এই অল্পসময়ের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারিপার্শ্বিক সবাইকে নিয়ে বাঁচা-বাড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা সংগঠন! আর আজকের সেই শক্তিশালী সংগঠনের ভয়ঙ্কর নীরব উপস্থিতির কারণেই বর্তমান দেশের প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ লক ডাউন ঘোষণা সংক্রান্ত ভাষণে শ্রীশ্রীঠাকুরের সেই পারিপার্শ্বিক সহ 'বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা'-র কথা দিয়ে শুরু করেন তাঁর ভরসাদীপ্ত ভাষণ; আবেগ তাড়িত কণ্ঠে তিনি দেশবাসীকে করোনা মহামারীর দুর্দিনে আশা-ভরসা দিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুরের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, "হামে মিলকর বাঁচনা হ্যায়, আগে বাড়না হ্যায়"!

তাই শ্রীশ্রীবড়দাকে চিনতে হ'লে, জানতে ও বুঝতে হ'লে, দিন শেষে উপলব্ধির ঘরে পৌঁছতে হ'লে প্রথম ও প্রধান শর্ত হ'লো ঠাকুরকে আগে চিনতে হবে, জানতে ও বুঝতে হবে, অনুভব করতে হবে কে এই অনুকূল!? তবেই চিনতে পারা সম্ভব হবে পরমপিতার সেই পরম ভক্ত প্রহ্লাদ, হনুমান ইত্যাদির নবরূপে নবকলেবরে আবির্ভুত শ্রীশ্রীবড়দাকে! অশ্রদ্ধা, অপমান, কুৎসা, নিন্দা, সমালোচনা, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, গালাগালি দিয়ে সাজানো আর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা টাট্টি কা মাফিক বাতে পরিপূর্ণ ঘৃণ্য জীবন যাই করুক ঈশ্বরকোটি পুরুষকে তো দূরের কথা নিজের ঘরের মানুষকে ও নিজেকেই চেনা যায় না!

এই প্রসঙ্গে 'আলোচনা' ম্যাগাজিনে প্রকাশিত পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীঠাকুরের একটা ইঙ্গিতই যথেষ্ট শ্রীশ্রীবড়দা কে? কথায় আছে, বোঝে সে, প্রাণ বোঝে যার! লীলাপুরুষের লীলা বোঝে সে যে জানে হিন্দির কাহাবত: সমঝদার কে লিয়ে ইশারা কাফি হোতা হ্যায়! সেই ইশারা কি!? সেই ইশারা হ'লো:
"একদিন ঠাকুরের পার্লারে বসে আছি। অনেকেই আছেন।
বড়দা এলেন। ঠাকুরের সঙ্গে কি একটা কথা বললেন, চলে
গেলেন। ঠাকুর বড়দার যাওয়ার পথের দিকে কিছুক্ষণ
তাকিয়ে রইলেন। তারপর কেষ্টদার দিকে ফিরে বললেন,
“বড়খােকা যখন আসে, তখন আপনাদের কিন্তু উচিত উঠে দাঁড়িয়ে ওকে সম্বর্ধনা জানানাে।”
আর একদিন কাজলদাকে বললেন—“কই, বড়খােকাকে তাে আজ প্রণাম করলি নে ?” ঠাকুর যে সেদিন বেশ ক্ষুন্ন হয়েছেন তা বলার রকমেই ধরা পড়লাে। কাজলদা সবিনয়ে বললেন—“বড়দা এখানে নেই, কলিকাতা গিয়েছেন।”ঠাকুর বললেন—“তাতে কি? তা’র আসন তাে রয়েছে,
বিছানা তাে রয়েছে, সেখানে তাে প্রণাম করতে পারতে।”
(‘আলােচনা, অগ্রহায়ণ, ১৩৭৮, পৃঃ-৪৮)।

শ্রীশ্রীবড়দা কে!? এই প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীঠাকুর অনেকবার অনেকরকম ভাবে ইঙ্গিত ও ইশারা দিয়ে গেছেন! কোনোদিনই সরাসরি তিনি কাউকে কিছু বলেননি এবং নিজের সম্পর্কেও কোনোদিন কিছু বলেননি! সমাধি অবস্থায় নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন এবং তা পূণ্যপুঁথি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু সরাসরি কখনোই ধরা দেননি! ধরা দিয়েছেন তাঁদের কাছে যারা ছিলেন ঈশ্বরকোটি পুরুষ! আর বুদ্ধিমান মানুষ, ভক্তমানুষ তাঁর ইশারা, ইঙ্গিতকে বোঝার চেষ্টা করেছেন! নামধ্যানহীন অহংকারী কথার মানুষ তর্কবাগীসদের কাছে তিনি চিরকালই অধরা থেকে যান! তিনি নানাভাবে কথা দিয়ে, আচরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন তিনি কে আর শ্রীশ্রীবড়দা-ই বা কে!? আসুন দেখে নেওয়া যাক আরও একবার!
পুরুষোত্তম শ্রীশ্রীরামচন্দ্র যখন বনবাস ও যুদ্ধ শেষে সবাইকে নিয়ে অযোধ্যায় ফিরে এলেন তখন তিনি দেশবাসী যারা তাঁকে স্বাগত জানাতে এসেছিল তাদের সঙ্গে তাঁর সঙ্গে আসা সবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। সেইসময় পরিচয় করাতে করাতে যখন হনুমানকে পরিচয় করাবার সময় এলো তখন আর কথা বলতে পারছিলেন না। হনুমানের দিকে তাকিয়ে তাঁর দু'চোখ দিয়ে ঝ'রে পড়ছিল জল! কান্নায় তাঁর গলা রুদ্ধ হ'য়ে গেছিল! কিছুতেই কিছু বলতে পারছিলেন না। শুধু অঝোর ধারায় কেঁদে চলেছিলেন! সেই দৃশ্য দেখে সবাই অভিভূত হ'য়ে গেছিল, বাকরুদ্ধ হ'য়ে গেছিল উপস্থিত দেশবাসীর! তখন অশ্রুভরা চোখে প্রভু দয়াল রামচন্দ্র হনুমানের তাকিয়ে জলভরা চোখে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "যে আমাকে ভালোবাসে সে হনুমানকেও ভালোবাসে আর যে আমাকে ভালোবাসে আর হনুমানকে ভালোবাসে না সে আমাকেও ভালোবাসে না আর আমি তার ভালোবাসা নিই না!"
ঠিক তেমনি শ্রীশ্রীরামচন্দ্রের নবরূপ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র শ্রীশ্রীবড়দা সম্পর্কে বলেছিলেন, "যে আমাকে প্রণাম করে সে বড়খোকাকেও প্রণাম করে, যে আমাকে প্রণাম ক'রে বড়খোকাকে প্রণাম করে না আমি তাঁর প্রণাম নিই না!"
আরো অনেকভাবে শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর আদরের বড়খোকা, তাঁর পরম ভক্ত শ্রীশ্রীবড়দা সম্পর্কে অনেকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ও করেছেন ইশারা!!!!!
শ্রীশ্রীঠাকুরকে চেনা যদি এতই সোজা, সহজ ও সরল হ'তো তাহ'লে সেই ভক্তের প্রাণ সোজা, সহজ ও সরল হ'তো আর জগৎ মাতিয়ে রাখতো, বক্রতা ও জটিল হ'তো না। আর ঠাকুরকে চেনা মানেই সকলকে চিনতে পারা আর সেই যে রাম রূপে যখন তিনি অর্থাৎ শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এসেছিলেন আর সঙ্গে ক'রে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর পরমপ্রিয় শ্রীশ্রীহনুমানজীকে এবার আবার তিনি সঙ্গে ক'রে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর সেই পরমভক্ত হনুমানকে শ্রীশ্রীবড়দা রূপে! সেই শ্রীশ্রীবড়দার মধ্যে যে তিনি অর্থাৎ শ্রীশ্রীঠাকুর বর্তমান তা কি জোর ক'রে কাউকে বোঝানো যায় নাকি চেনানো যায়? সবটাই গভীর উপলব্ধির ব্যাপার!!! আমার সৎসঙ্গী গুরুভাইবোন শ্রীশ্রীবড়দা বিরোধীদের সাথে এসব নিয়ে অহেতুক আলোচনায় যাবেন না। আলোচনা তার সঙ্গেই হয় যার জীবন আলোময়, রূপময়, রসময়-এর সঙ্গ লাভের মধ্যে দিয়ে আলোময়, রূপময় ও রসময় হ'য়ে উঠেছে! যার যা ইচ্ছা করুক নিজেকে অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে ঠাকুরকে কষ্ট দেবেন না ও নিজে অসুস্থ হওয়ার মহান দায়িত্ব নেবেন না। এটা জানবেন, যে বা যারা শ্রীশ্রীবড়দাকে চিনতে পারেনি তারা শ্রীশ্রীঠাকুরকে চিনতে, জানতে ও বুঝতে পারেনি অতএব সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখুন। আর সেই ভক্ত প্রহ্লাদ, হনুমান, অর্জুন, উপগুপ্ত, নিত্যানন্দ ও বিবেকানন্দকে অনুভব করুন শ্রীশ্রীবড়দার মধ্যে! সৃষ্টিকর্তা যেমন তাঁর সৃষ্ট সমস্ত জীবকুলকে রক্ষা করবার জন্য বারবার যুগোপযোগী হ'য়ে পৃথিবীর মাটিতে নেবে আসেন ঠিক তেমনি সঙ্গে নিয়ে আসেন বারবার তাঁর সেই শ্রেষ্ঠ ভক্তকে!!!!!!!! সৎসঙ্গীরা যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করতে পারবে এই অত্যাশ্চর্য সত্য ততো তাড়াতাড়ি ঠাকুরের বুকের ওপর থেকে নেবে যাবে সীমাহীন কষ্ট-যন্ত্রণার বোঝা! একথা বোঝে সেই সৎসঙ্গী, প্রাণ বোঝে যার! আসুন টাকার এপিঠ আর ওপিঠ শ্রীশ্রীঠাকুর আর তাঁর পরম ভক্ত শ্রীশ্রীবড়দার যুগল মূর্তির মধ্যে সেই বিষ্ণু-প্রহ্লাদ, রাম-হনুমান, কৃষ্ণ-অর্জুন, বুদ্ধ-উপগুপ্ত, নিমাই-নিতাই, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ কে অনুভব করি, উপলব্ধি করি আর করি উপভোগ এবারের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ লীলা পিতাপুত্রের লীলা বংশপরম্পরায় শ্রীশ্রীঠাকুর-শ্রীশ্রীবড়দা, শ্রীশ্রীবড়দা-শ্রীশ্রীঅশোকদাদা, শ্রীশ্রীঅশোকদাদা-শ্রীশ্রীবাবাইদাদা আর শ্রীশ্রীবাবাইদাদা-শ্রীশ্রীঅবিনদাদা! এমনিভাবেই রেত শরীরে সুপ্ত থেকেই পিতাপুত্রের লীলার মধ্যে দিয়ে কেটে যাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের ব'লে যাওয়া দশ হাজার বছরের মধ্যে আর না আসার ইঙ্গিত! আর আসবে সেই আকাঙ্খিত ঘোর কলিযুগ শেষে সত্যযুগ! আসুন এই রহস্যময় কলিযুগ থেকে সত্যযুগে প্রবেশের ট্রানজিশনাল পিরিয়ড অনুভব করি, উপলব্ধি করি, করি উপভোগ ৮৪লক্ষ যোনি ভ্রমণ শেষে প্রাপ্ত এই দুর্লভ মনুষ্যজীবনে যাতে পরবর্তী জীবনে আবার আসতে পারি, লাভ করতে পারি, সঙ্গ করতে পারি পুনরায় এই পিতাপুত্রের লীলাময় রহস্যময় জীবন!!!!!!!!! জয়গুরু।
প্রবি।

All


Wednesday, August 2, 2023

কবিতাঃ'গান ঠাঁই

চরণতলে হু হু--এই জীবন হু হু---
চরণতলে কি আবার এই জীবন হয় কি না হয়
কি জানি এই জনমে আবার দেখা হয়!
চরণতলে--------
পেয়েছি তোমার চরণ যুগল কি ভাগ্য আমার যে
প্রাণ ভরে দেখি তোমায় তোমার মুখের পানে চেয়ে
চরণতলে কি আবার এই জীবন হয় কি না হয়
কি জানি এই রাত দয়াল আবার হয় কি না হয়!
চরণতলে----এ---------এ
দয়া ক'রে চরণে ঠাঁই দাও প্রভু আমার
দয়া করো দয়াল প্রভু ঐ চরণে যেন আসি আবার
চোখের জলে ভাসাবো জীবন চরণে লুটিয়ে তোমার।
বুকের মাঝে প্রভু তুমি বৃষ্টি হ'য়ে ঝরো আমার!
কি জানি এই রাত দয়াল আমার হয় কি না হয়
চরণতলে কি আবার এই জীবন হয় কি না হয়
চরণতলে-------এ--------এ
জীবন খুঁজে পাবে তুমি এই জীবন মাঝে!
জীবন বীণার যদি তার কেটে যায় সুর বাজে না তাতে!
বুকের মাঝে উদাসী দুপুর হাপড় টেনে যায়
দখিনা বাতাস হ'য়ে প্রভু আমায় আদর ক'রে যায়!
চরণতলে কি আবার এই জীবন হয় কি না হয়
কি জানি এই জনমে এই রাত আবার কি হয়!
চরণতলে.........এ........এ.......এ।
(লেখা ৩রা আগষ্ট'২০১৯) (লাগ যা গলে গানের সুরে)
.