Wednesday, April 1, 2026

কবিতাঃ নামের আলো জ্বালাও।

জীবন একটা যুদ্ধক্ষেত্র। এই যুদ্ধক্ষেত্রে তুমি একা।
এই যুদ্ধে তোমার নেই কোনও সাথী, চারপাশ ফাঁকা।
তোমার নিজের সঙ্গে তোমার যুদ্ধ, নেই কোনও প্রতিপক্ষ;
তুমিই তোমার পক্ষ, তোমার তুমিই বিপক্ষ।
যুদ্ধ তোমার ভুলের বিরুদ্ধে, তোমার অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে,
তোমার যুদ্ধ তোমার কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, ভয়, দুর্বলতার বিরুদ্ধে।
এই যুদ্ধে নেই কোনও হারজিৎ, নেই কোনও অভিযোগ,
আছে শুধু শয়তানকে খতম করার দক্ষযজ্ঞ।

বন্ধু, খোলো চোখ, তেসরা তিলে মন নিবদ্ধ করো।
দেখো, তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভুত।
ওঠো, জাগো, নাম রথে বসো চড়ে,
নামের নিশান উড়িয়ে দিয়ে নামের বিষাণ বাজাও জোরে।
এই জীবন যুদ্ধে জিততে তোমাকে হবেই,
পিছন ফিরে দেখতে যেও না তোমার সাথে এই যুদ্ধে
কে আছে আর কে নেই।
বন্ধু, যুদ্ধটা তোমার, তোমার একার,
যুদ্ধে নেই সাথে তোমার পিতামাতা,
নেই স্ত্রী, পুত্রকন্যা, ভাই বোন আত্মীয়স্বজন, পুত্রবধু, জামাতা।
আছে শুধু পুরুষোত্তম পরমপ্রেময় প্রভু পরমপিতা।
সময় নষ্ট ক’রো না, সময় নষ্ট ক'রো না বন্ধু,
নাম বাণে খতম ক’রে দাও
তোমার হতাশা, অবসাদ, অবিশ্বাস আর ভয়ংকর
মারণ রোগের জীবাণু, দিয়ে শেষ রক্তবিন্দু।

শোনো! শোনো বন্ধু! ঐ ধ্বনি শোনো,
মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ঐ ধ্বনি ভেসে আসছে,
'মাভৈ! আমি আছি তো, আমি আছি তোর সঙ্গে, তোর পাশে।
ভয় কি তোর? তুই নাম পেয়েছিস, তোর আর কিসের চিন্তা?
তুই যে নাম পেয়েছিস, আমিই তো ঐ ‘রাধাস্বামী’ নাম,
যে নামে জীব, জগত, জীবন কারণের ধাম।
আমিই তো নামস্বরূপ তোর মধ্যে আছি।
ঐ নামের আলো জ্বালাও তোমার অন্ধকার বুকে।
যতবার নাম করবি ততবার আমি জীবন্ত হ’য়ে উঠবো তোর মধ্যে,
আর জীবন্ত হ’য়ে, আলো হ’য়ে, আলোর তেজে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে
শেষ ক’রে দেবো তোর শরীরের সব রোগজীবাণু,
তা’ সে যত ভয়ংকর হ’ক না কেন।
আমার তেজে সব ধ্বংস হ’য়ে যায়।
কেউ আমার তেজের সামনে দাঁড়াতে পারে না,
রোগজীবাণু সাথে হতাশা, অবসাদ সরে গিয়ে
অন্ধকার ভেদ ক’রে জ্বলে ওঠে 
আমার নামের তেজে বিচ্ছুরিত আলো।
সেই আলোয় উদ্ভাসিত হবে নোতুন ভোর, আর
নোতুন ভোরের আলোয় আলোকিত হবে তোর জীবন।
আর, তখন নোতুন জীবন নিয়ে ছুটে যাবি দিক থেকে দিগন্তে
সবাইকে বলবি, বুক ফাটো ফাটো ক'রে বলবি,
"মরো না, মেরো না, পার তো মৃত্যুকে অবলুপ্ত করো।''

No comments:

Post a Comment