Powered By Blogger

Thursday, April 23, 2026

বিচিত্রাঃ ২৬০

সৎসঙ্গী বন্ধু!চলে যাবার আগে ব'লে যাই একটা কথা।
যদি থাকে তোমার ক্ষমতা তবে তোমার ও তোমার আশেপাশের অসহায় গরীব ছোট্ট শিশুর প্রতি রেখো মমতা। 
শিশুরা লিটল অনুকূল! বাড়িয়ে তোমার হাত দিও সাথ,
দিও তাদের কুল।

প্রতিটি শিশুর মধ্যে তোমার দয়াল ঠাকুর বর্তমান। 
তাদের নিষ্পাপ সরল মুখের দিকে চেয়ে দেখো 
দেখতে পাবে সেথায় তোমার দয়ালকে। 
এসো বাকী জীবন তাদের নিয়ে আনন্দ করি।

তোমার বাড়ির ও আশেপাশের শিশুদের ভালোবেসো। 
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বর তোমায় ভালবাসবেন। 
শিশুর শৈশব চলে গেলে তুমি ঈশ্বরকে ভালোবাসার সুযোগ হারাবে।

শিশুর শৈশব চলে গেলে তা আর ফিরে পাবে না। 
শিশুরা ঈশ্বরের দূত। তাদের মধ্যে ঈশ্বর বর্তমান। 
তাদের ভালোবাসলে ঈশ্বরকে ভালোবাসা হয়।
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২০২৩)

নাম করো। কোন নাম? 
পুরুষোত্তম যখন যে নাম দিয়ে যান সেই নাম! 
পূর্বের নামের উপর দাঁড়িয়ে যুগোপযোগী পরিপুরণকারী
নূতন নাম!!
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২০১৯)

আস্তিক-ই নাস্তিক;
বাস্তবে
নাস্তিক-ই আস্তিক।
( লেখা ২৪শে এপ্রিল'২০১৭)













































Wednesday, April 22, 2026

বিচিত্রাঃ ২৫৯

আমাকে একজন যুবক জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা, কমিউনিস্ট প্রধান দেশ চীন, কিউবা, লাওস, ভিয়েতনাম এবং উত্তর কোরিয়ায় যে যা খুশী বলবে, যে যা খুশী লিখবে, যা খুশী করবে এমন বাক স্বাধীনতা, এমন গণতন্ত্র আছে? আমি বললাম, আমি জানি না। সে বিস্ময়ে আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো তারপর হতাশ য়ে চলে গেল। সে আমাকে সবজান্তা ভেবেছিল।  তাই অনেক আশা নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করেছিল। চোখে মুখে উৎসাহ ছিল। কোনও ভয় ছিল না। কিন্তু যখন আমি তাকে বললাম, আমি জানি না, তুমি কমিউনিস্টদের জিজ্ঞেস করতে পারো। তখন সে কেন জানি না কেমন জানি একটা ফ্যাকাশে বিস্ফারিত চোখমুখে নীরবে উঠে দ্রুত চলে গেল।

আপনারা আমার ফেসবুক বন্ধুরা কেউ এর উত্তরটা বলতে পারবেন? প্রবি।

Monday, April 6, 2026

প্রবন্ধঃ কি বিচিত্র এই পৃথিবী! পৃথিবীর মানুষ!!

কখনো জিন্দাবাদ, কখনো বা মুর্দাবাদ! বালখিল্য দেশ আর বালখিল্য সব দেশের জ্ঞানী, গুণী, পন্ডিতের দল।কখন যে কে কি বলছে, কেন বলছে, কাদের বলছে, কাদের পক্ষে বলছে, জনগণ না ব্যবসায়ী কাদের হ'য়ে বলছে সব ঘেঁটে ঘঁ হ'য়ে যাচ্ছে শালা! বন বন ক'রে ঘুরছে মাথা। তেলা মাথায় তেল দিচ্ছে না শুকনো মাথায় তেল দিচ্ছে এরা তা' বুঝতেই হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।

ছোটোবেলায় সরিষার তেল খেয়ে খেয়ে, গায়ে মাথায় মেখে বড় হয়েছি। পূর্বপুরুষ সর্ষের তেল খেয়ে এসেছে। শরীর তাগড়া হয়েছে, চামড়া মসৃণ হয়েছে, চুল হয়েছিল মজবুত। আজ যেমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে তেমন কোনোদিন হার্ট, লিভার খারাপ হ'তে শুনিনি, শুনিনি হাঁটুর ব্যথা।

তারপর বড় হ'য়ে হঠাৎ শুনলাম ডাক্তাররা বলছেন, সরিষার তেল হার্টের পক্ষে, পেটের পক্ষে ক্ষতিকর। বাতের পরম বন্ধু। তাই আর সরিষার তেল খাওয়া নিরাপদ নয়। তাই চালু হ'লো সাদা তেল। সূর্যমুখী তেল, রাইস বান তেল অর্থাৎ চালের তুষ থেকে তেল, বাদাম তেল, জলপাই তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি নানা রকমের তেলে তেলে তেলাপিয়ার বংশবৃদ্ধির মত ভরে গেল বাজার।

ছোটোবেলায় ডালডা দিয়ে বানানো ম' ম' সুগন্ধে ভরা বাতাসে সুস্বাদু গরম গরম লুচি খেয়েছি, কখনো বা ঘিয়ে ভাজা লুচি খেয়েছি, সর্ষের তেল দিয়ে ভাজা ডগা সহ লম্বা লম্বা বেগুন ভাজা দিয়ে লুচি খেয়েছি, সর্ষের তেল দিয়ে জম্পেশ ক'রে কষানো আর ঘি দিয়ে তৈরী মাংস দিয়ে, আলুর দম দিয়ে গরম ফুলকো ময়দার লুচি খেয়েছি।
তারপর শুনলাম ডালডা আর ঘি খেলে অবধারিত স্ট্রোক, লিভার ড্যামেজ। তাই সেটাও হ'লো খাওয়া বন্ধ। বাজার থেকে উধাও হ'লো বিখ্যাত সুস্বাদু ডালডা, ঘি-এর বাজার হ'লো মন্দা।

মাখন খেতাম পাউরুটিতে লাগিয়ে, কি তার স্বাদ! পরে শুনলাম মাখন খেলে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই মাখনের পরিবর্তে বাজারে এলো মার্জারিন। তাই পাউরুটিতে লাগিয়ে খেয়েছি কিন্তু স্বাদহীন।
একটা সময় সস্তায় পাম তেলেও বাজার চেয়ে গেছিল। সরকারীভাবে রেশনেও পাল তেল সরবরাহ হ'তো। তারপর তাও বন্ধ হয়ে গেল। কেন বন্ধ হ'য়ে গেল গরীবের ঘরের ঘি পাম তেল? কেন বন্ধ হ'য়ে গেল ডালডা, ঘিয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত পাম তেল?

তাই মানুষের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা ক'রে বুদ্ধিমান মানুষ বিকল্প হিসেবে বাজারে নিয়ে এলো ১০০% স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ তেল। তেলাপিয়ার বংশবৃদ্ধির মত বাজার ছেয়ে ফেলল নানারকম উদ্ভিজ তেল যাকে আমরা চলতি কথায় বলি সাদা তেল। সূর্যমুখী তেল, রাইস বান তেল অর্থাৎ চালের তুষ থেকে তেল, বাদাম তেল, জলপাই তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি নানা রকমের তেলে ভরে গেল বাজার।

এই উদ্ভিজ তেল অর্থাৎ সাদা তেল দিয়ে রান্না ক'রে খাও তরিতরকারি।মাছ, মাংস, ডিম রান্না করো সাদা তেল দিয়ে, লুচি, পরোটা, বেগুন ভাজা, আলু ভাজা, চপ, বেগুনি ইত্যাদি সব খাও সাদা তেলে। সাদা তেল জিন্দাবাদ। সর্ষের তেল, ঘি, ডালডা, মাখন মুর্দাবাদ।

এইভাবে বেশ কিছুদিন গেল। অনেক বছর ধ'রে চললো সাদা তেলের বাজার। তারপর আবার বহুদিন পর একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় শুনলাম ডাক্তাররা বলছেন, বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা ক'রে জেনেছেন সর্ষের তেল শরীরের পক্ষে উত্তম তেল, হার্টের পক্ষে উপকারী, স্বাস্থ্যকর। আবার চালু হ'লো ঘরে ঘরে সর্ষের তেলের ব্যবহার। শুরু হ'লো সর্ষের তেলের জয়ধ্বনি। ততদিনে মানুষ অভ্যস্থ হ'য়ে গেছে উদ্ভিজ তেলে অর্থাৎ সাদা তেলে। তবুও আবার মানুষ খাওয়া শুরু করলো সর্ষের তেল ডাক্তারের আশ্বাস বাণী শুনে।

কিন্তু আজ আবার শুনছি উল্টো কথা। কি বলছেন সব জ্ঞানী, পন্ডিতরা? তাঁরা বলছেন, "অতিরিক্ত সরিষার তেল খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতির কারণ। ইউরোপের সব দেশ, USA, কানাডায় নিষিদ্ধ হয়েছে সর্ষের তেল। ভিডিওতে বলা হচ্ছে যেহেতু ক্যানাডা, ইউ এস এ নিষিদ্ধ করেছে তাই ওরাই একমাত্র জ্ঞানী পন্ডিত দেশ আর আমরা বালখিল্য ঋষির দেশ। তাই খাওয়া বন্ধ করো সর্ষের তেল।
তাহ'লে কোনটা ঠিক? কারা ঠিক? আগে যারা বলেছিল সর্ষের তেল শরীরের জন্য ভালো, উপকারী তাঁরা ঠিক নাকি যারা পরে বললো সর্ষের তেল শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর, তাঁরা ঠিক? এর কিছুদিন পরে সর্ষের তেল সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের দৌলতে তার সুনাম ফিরে পেলেও আবার তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ইউরোপের সব দেশ, USA, কানাডা। এখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? কোথায় যাবো আমরা?

সাধারণ মানুষ বলছে, শালা বাঁচবোই তো গড় আয়ু অনুযায়ী ৬৪ বছর। জানি না এখন গড় আয়ু বেড়েছে নাকি আরও কমেছে। জানার ইচ্ছাও নেই। আর কলিযুগে মানুষের আয়ু নাকি নির্ধারিত হয়েছে ১০০বছর। কে নির্ধারণ করেছে জানি না, জানার ইচ্ছাও নেই। শুধু এটুকু বুঝি সব শালা আধা জ্ঞানী পোঙ্গা পন্ডিতের দল। জ্ঞানী পন্ডিতদের আজ এক কথা, কাল আর এক কথা শুনতে শুনতে চার অক্ষর মানুষ শালা puzzled হ'য়ে যাচ্ছে, সবাই আজ confused.
শালা চারপাশের ভেজাল মেশানো মারাত্মক বিষ খেতে খেতে সেটাই মানুষ হজম ক'রে নিয়ে গড় আয়ু ৬৪ বছর পার ক'রে দিচ্ছে এমনকি অনেকেই ৮০ বছর এমনকি ৯০ পার ক'রে দিব্যি বেঁচে আছে এই জ্ঞানী পন্ডিতদের দ্বারা কখনো স্বীকৃত ও ঘোষিত অমৃত আবার কখনো বা স্বীকৃত ও ঘোষিত বিষাক্ত তেল খেয়ে। আর অতীতে সর্ষের তেল খেয়ে টানটান মেদহীন চকচকে শরীরে, বিনা চশমায়, বিনা কানের মেশিনে গটগট ক'রে হেঁটে চলে ফিরে বেড়াতো ৯০ উত্তীর্ণ প্রায় সবাই।

এখন প্রশ্ন জাগে মনে তাহ'লে আর কি প্রয়োজন এত বিষ খোঁজার? তাঁর থেকে বরং খুঁজুন না সমস্ত খাদ্যদ্রব্য, প্রসাধনী দ্রব্য ইত্যাদি সবেতেই রমরম ক'রে চলা ভেজাল কারবারীদের। সেদিকে নজর দেওয়ার কেউ নেই, নজর দেবার দরকার নেই। শুধু গোড়া কেটে আগায় জল ঢেলে গাছ বাঁচাবার মত বাজার জুড়ে কৃত্রিম বিষাক্ত নকল জিনিস প্রস্তুত কারবারীদের ছেড়ে বা তাদের বাঁচাবার জন্য প্রকৃতির দেওয়া দান অরিজিনাল জিনিসে কত বিষ লুকিয়ে আছে তাই খুঁজতেই ব্যস্ত বুদ্ধিমান মানুষ মানুষকে সাবধান করতে, সতর্ক করতে, বাঁচাতে!!!! তাদের কাছে প্রশ্ন, সর্ষের তেল কি উদ্ভিজ তেল নয়?

গোড়া কেটে আগায় বালতি বালতি জল ঢাললে গাছ বাঁচবে? ঠিক তেমনি ভেজাল তেলে, খাদ্যদ্রব্যে মারণ বিষ না খুঁজে প্রকৃতির দেওয়া জিনিসে কতটা বিষ আছে সেটা খুঁজলে ভেজাল বিষাক্ত তেলে, খাদ্যদ্রব্যের মারণ বিষে তৈরী খাবার খেয়ে মারণ রোগে আক্রান্ত মানুষ বাঁচবে????

কি বিচিত্র এই পৃথিবী! পথিবীর মানুষ!!
এই জন্যেই নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের (D.L. Roy) লেখা 'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের  
বলেছিলেন গ্রীক বীর আলেকজান্ডার, '
"সত্য সেলুকাশ কি বিচিত্র এই দেশ!!!!!"
( লেখা ৬ই এপ্রিল'২০২৫)।


Friday, April 3, 2026

বিচিত্রাঃ ২৫৮

চার অক্ষর বাঙালি সবেতেই মজা খুঁজে পায়।!!!!! 
এই জন্যেই শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, আমার সৎসঙ্গের আন্দোলন বাংলা থেকে উঠবে না। বাংলার বাইরে থেকে উঠবে। 
অভিশপ্ত বাংলা ও বাঙালি সৎসঙ্গী।
( লেখা ১লা এপ্রিল' ২০২৫)




আমার ঠাকুরও আছে সাথে আছে বৃত্তি-প্রবৃত্তি। 
বৃত্তি-প্রবৃত্তির ইশারায় উঠি, বসি আর চলি 
আর প্রতিমুহূর্তে বলছি ঠাকুর আমার সাথী!!

ঠাকুরও আছে বৃত্তি-প্রবৃত্তিও আছে 
সাথে আছে স্বাধীনতা।
যার যেমন লাগে ভালো,
যার প্রতি যার অধীনতা।

বিচিত্রাঃ ২৫৭

আবার বুদ্ধিজীবীদের হবে মিছিল! 
বিবেকের বন্ধ দরজার খুলে যাবে খিল! 
চিল চীৎকারে ভেসে যাবে শহর, 
ভেসে যাবে যত অজ্ঞতার ফসিল!
( লেখা ৩রা এপ্রিল'২০১৮)

মিলনের আকুলতা যার নেই সে ঈশ্বরপ্রেমী, 
মানবপ্রেমী বা দেশপ্রেমী হ'ক আর যাই হ'ক 
তার কাছে থেকো না, সে শয়তানের প্রতিভু।

















কবিতাঃ ভারসাম্য

কবিতা মানেই প্রেম?
প্রেম মানেই কি নারী?
কবিতা মানেই প্রতিবাদ?
বাদ মানেই ষাঁড়াষাঁড়ি?

কবিতা মানেই প্রেম?
আর প্রেম মানেই কি নারী?
কবি আনাড়ির নারী প্রেম 
এত কোথায় রাখি!!

কবিতা মানেই কি নারী?
আর নারী মানেই শরীরী?
কবি আনাড়ির নারী শরীরী
উপত্যকায় বিচরণ অকারণ!
কেমনে ভারসাম্য রাখি!?
( লেখা ২০শে জুন'২০১৭)




Wednesday, April 1, 2026

কবিতাঃ ডুবে যাও, মিশে যাও।

ধনী হও আর গরিব হও,
ক্ষমতাবান কিম্বা ক্ষমতাহীন;
কর্মফল ভোগ তোমাকে করতেই হবে
আর তা এখানেই এই পৃথিবীতেই
এই জন্মেই; তা এখন হ'ক
আর পরেই হ'ক বা মৃত্যুর আগেই।
এ সত্য, সত্য, সত্য; 
জেনো এ সত্য তিন।

তাই, চলে এসো, ছুটে এসো
এসো হরি নামে মাতাল হ'য়ে।
রাম নামে, কৃষ্ণ নামে পাগল হ'য়ে এসো
এসো এসো রাধাস্বামী রাধাস্বামী ব'লে।
ডুবে যাও, মিশে যাও নাম সাগরে।
( লেখা ১০ই ডিসেম্বর'২০২০)

কবিতাঃ আমি কার?

আমি কার?
আমি প্রভুর, প্রভু আমার প্রাণ।
আমি না হিন্দু, না মুসলিম, না জৈন, না বৌদ্ধ,
না কোনও সম্প্রদায়ের, না আমি খৃষ্টান।
আমি শক্তির তনয়, পরমপিতার সন্তান।
আমি শ্রীশ্রীরাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ, মহাপ্রভু,
রামকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সন্তান।
আমি সমস্ত অস্তিত্বের সঙ্গী, অস্তিত্বের অস্তিত্ব
পরম অস্তিত্বের সঙ্গী, আমি সৎসঙ্গী।
আমার ভিতর ও বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো প্রভু তুমি আমার সমস্ত হৃদয় জুড়ে।
( লেখা ১০ই ডিসেম্বর'২০১৭/১৮)

কবিতাঃ আমার প্রিয় গুরুভাইবোন।

দয়াল যার নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে
বিপদ কি তার কাছে আসে?
দয়াল যার দিনে রাতে প্রতি কথাতে
রোগ, শোক, গ্রহদোষ, বুদ্ধি বিপর্যয়,
দরিদ্রতা কি তাঁর জীবনে থাকে?
জীবন জুড়ে যার সকাল সন্ধ্যে রাত
থাকে শুধু ঠাকুর আর ঠাকুর,
শয়তান থাকে তার জীবন থেকে
শত হাত দূর। তাই এসো বন্ধু,
ঠাকুর নিয়ে থাকি শুধু সবাই মেতে
সৎসঙ্গ, দীক্ষা আর ইষ্টভৃতি মহাযজ্ঞে।
( লেখা ১৬ই মার্চ'২০২৬)

কবিতাঃ ডর কিস বাত কি?

ভয় কি তোর? আমি আছি তো তোর সাথে।
যত দুর্যোগ, যত আপদ বিপদ আসুক তোর মাথে।
ডর কিস বাত কি? ম্যাঁয় হুঁ না।
তেরে সাথ সাথ, তেরে দিল মে
হাম হ্যাঁয় না। ডরো মত।

ভয় কি তোর? আসবে নোতুন ভোর।
আজ কিংবা কাল, কাল কিংবা পরশু
একদিন না একদিন আসবেই আসবে
নোতুন সকাল, যদি আমি থাকি মাথায় তোর।
ডর কিস বাত কি? ডরো মত! ম্যাঁয় হুঁ না।
ম্যাঁয় তেরে সিনে মে হুঁ, প্রাণ স্বরূপ হুঁ।
হাম হ্যাঁয় না! ডরো মত।

ভয় কি তোর? তুই নাম পেয়েছিস।
তুই থাক নামময় হ'য়ে শয়নে স্বপনে
জাগরণে ভোজনে। আর, দিনের শুরুতেই
যেখানেই থাক, যেমনই থাক
ইষ্টভৃতি করবি তুই সযতনে।
কেটে যাবে সব তাফাল,
তাফালিং যাবে সব ভেগে, আমারে যে ডাকে
শয়তান পারবে না তাকে ছুঁতে,
আসবে তার জীবনে সুন্দর মনোময় এক সকাল।
ডর কিস বাত? ম্যাঁয় হুঁ না।
ডরো মত, মেরে তরফ দেখ
আউর জোরসে বোল, হাঁ দয়াল! তুম হ্যাঁয় না।

ভয় কি তোর? এই পৃথিবী কার?
তুই কার? কার ঘরে আছিস তুই?
এই পৃথিবী আমার! যে ঘরে আছিস তুই
সে ঘর আমার! তুই আমার, আমার!
ডরো মৎ! ম্যাঁয় হুঁ না!
একবার বিশোয়াসকে সাথ জোরসে বোল,
রাধাস্বামী দয়াল! তুমি আমার, তুমি আমার।

ভয় কি তোর? কিসের ভয়?
কেটে যাবে সব দুর্যোগ, হবে জয় দুর্জয়।
একবার শুধু বল চোখের জলে সব ভাসিয়ে
থাকবো না গো আর কোনোদিন তোমায় ভুলে ঘোর আঁধারে।
ডরো মাত্! ম্যাঁয় হুঁ না।
( লেখা ১৬ই মার্চ'২০২৬)।


কবিতাঃ কেটে যাবে ভয়াল রাত।

অলোক! জ্বালাও আলোক!!
নামের আগুনে উদ্ভাসিত হ'ক তোমার অন্তরলোক!
আর, নাম আগুনের তেজে জ্বলে পুড়ে খাক হ'য়ে যাক
রোগজীবাণু, প্রতি কোষে কোষে অনু পরমাণুতে
অনুভূত হ'ক দয়ালের দয়ার ঝলক।

অলোক! জ্বালাও ইষ্টের আলোক, আর
তুলে ধরো দয়ালের আলোকবর্তিকা!
ডরো মত, Move forward, ইষ্টের প্রদপ হাতে
অজ্ঞানতার ঘোর অন্ধকার ভেদ ক'রে ঘরে ঘরে
পৌঁছে দাও দয়াল প্রভুর দয়ার বার্তা।
অলোক! ডরো মাত্, প্রভু হ্যাঁয় না তুমারে সাথ।
বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে নাম আগুনে
জ্বালাও ভূ-লোক, অলোক, জ্বালাও আলোক
আর বুক ফাটিয়ে বলো, দিগন্ত কাঁপিয়ে বলো
দয়ালের দয়ার কথা, কেটে যাবে নিশ্চিত ভয়াল রাত।
অলোক, দয়াল প্রভু আমার, হ্যাঁয় না তুমারে সাথ।

অলোক! রেখে হাতে হাত নেবো শপথ দেখাবো বাঁচার পথ
আর্ত, অর্থার্থী,জ্ঞানী ও জিজ্ঞাসুদের, আর বলবো হেঁকে
নয় রেখেঢেকে বুক ফাটিয়ে, ঐ দেখা যায় দয়ালের রথ!
বাঁচতে যদি চাও, বাড়তে যদি চাও চারপাশের ঘোর
কন্টক ও দুর্যোগময় অন্ধকার গহীন নরক পরিবেশে,
পেতে চাও যদি দয়ালের অন্তহীন দয়ার পরশ
তবে এসো, ছুটে এসো, চলে এসো,
বুক ফাটো ফাটো ক'রে এসো
চলো উঠে পড়ি, চড়ে পড়ি দয়ালের ঐ বাঁচা-বাড়ার রথে
যেথা ইচ্ছা যায় যাক দয়াল রথ নরকে কিংবা স্বর্গে।।
( লেখা ১৮ই মার্চ'২০২৬)

কবিতাঃ নামের আলো জ্বালাও।

জীবন একটা যুদ্ধক্ষেত্র। এই যুদ্ধক্ষেত্রে তুমি একা।
এই যুদ্ধে তোমার নেই কোনও সাথী, চারপাশ ফাঁকা।
তোমার নিজের সঙ্গে তোমার যুদ্ধ, নেই কোনও প্রতিপক্ষ;
তুমিই তোমার পক্ষ, তোমার তুমিই বিপক্ষ।
যুদ্ধ তোমার ভুলের বিরুদ্ধে, তোমার অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে,
তোমার যুদ্ধ তোমার কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, ভয়, দুর্বলতার বিরুদ্ধে।
এই যুদ্ধে নেই কোনও হারজিৎ, নেই কোনও অভিযোগ,
আছে শুধু শয়তানকে খতম করার দক্ষযজ্ঞ।

বন্ধু, খোলো চোখ, তেসরা তিলে মন নিবদ্ধ করো।
দেখো, তমসার পার অচ্ছেদ্যবর্ণ মহান পুরুষ ইষ্টপ্রতীকে আবির্ভুত।
ওঠো, জাগো, নাম রথে বসো চড়ে,
নামের নিশান উড়িয়ে দিয়ে নামের বিষাণ বাজাও জোরে।
এই জীবন যুদ্ধে জিততে তোমাকে হবেই,
পিছন ফিরে দেখতে যেও না তোমার সাথে এই যুদ্ধে
কে আছে আর কে নেই।
বন্ধু, যুদ্ধটা তোমার, তোমার একার,
যুদ্ধে নেই সাথে তোমার পিতামাতা,
নেই স্ত্রী, পুত্রকন্যা, ভাই বোন আত্মীয়স্বজন, পুত্রবধু, জামাতা।
আছে শুধু পুরুষোত্তম পরমপ্রেময় প্রভু পরমপিতা।
সময় নষ্ট ক’রো না, সময় নষ্ট ক'রো না বন্ধু,
নাম বাণে খতম ক’রে দাও
তোমার হতাশা, অবসাদ, অবিশ্বাস আর ভয়ংকর
মারণ রোগের জীবাণু, দিয়ে শেষ রক্তবিন্দু।

শোনো! শোনো বন্ধু! ঐ ধ্বনি শোনো,
মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ঐ ধ্বনি ভেসে আসছে,
'মাভৈ! আমি আছি তো, আমি আছি তোর সঙ্গে, তোর পাশে।
ভয় কি তোর? তুই নাম পেয়েছিস, তোর আর কিসের চিন্তা?
তুই যে নাম পেয়েছিস, আমিই তো ঐ ‘রাধাস্বামী’ নাম,
যে নামে জীব, জগত, জীবন কারণের ধাম।
আমিই তো নামস্বরূপ তোর মধ্যে আছি।
ঐ নামের আলো জ্বালাও তোমার অন্ধকার বুকে।
যতবার নাম করবি ততবার আমি জীবন্ত হ’য়ে উঠবো তোর মধ্যে,
আর জীবন্ত হ’য়ে, আলো হ’য়ে, আলোর তেজে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে
শেষ ক’রে দেবো তোর শরীরের সব রোগজীবাণু,
তা’ সে যত ভয়ংকর হ’ক না কেন।
আমার তেজে সব ধ্বংস হ’য়ে যায়।
কেউ আমার তেজের সামনে দাঁড়াতে পারে না,
রোগজীবাণু সাথে হতাশা, অবসাদ সরে গিয়ে
অন্ধকার ভেদ ক’রে জ্বলে ওঠে 
আমার নামের তেজে বিচ্ছুরিত আলো।
সেই আলোয় উদ্ভাসিত হবে নোতুন ভোর, আর
নোতুন ভোরের আলোয় আলোকিত হবে তোর জীবন।
আর, তখন নোতুন জীবন নিয়ে ছুটে যাবি দিক থেকে দিগন্তে
সবাইকে বলবি, বুক ফাটো ফাটো ক'রে বলবি,
"মরো না, মেরো না, পার তো মৃত্যুকে অবলুপ্ত করো।''